না বলা গল্প

না বলা গল্প

দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক হাবীবের। প্রেম করে বিয়েও করে নিলো। সোনায় সোহাগা সুখের সংসার। আর আমি কেবল সদ্য চাকরিতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ অনেক দিন পর হাবীবের সাথে দেখা।বাসায় নিয়ে গেলো। চা খেতে দিলো হাবীবের স্ত্রী অনন্যা। সত্তিই অনেক সুন্দর। চোখে মুখে একটা মায়াময় ভাব আছে। অন্যন্যার চোখের দিকে যে তাকাঁবে দীঘল চোখের মায়ায় পড়তে বাধ্য হবে। যে মায়ায় একটা অলীক সুখের তৃপ্তি আছে।

“জানিস দীপু, বিয়ের চেয়ে দৃঢ কোন সম্পর্ক হয় না। ভালোবাসাময় এ সম্পর্ক কেউ ভাঙতে পারে না। বিনি সুতার বাধন অনেক মজবুত। আর কতকাল ছন্নছাড়ার মতো ঘুরবি। চাকরি পেয়েছিস বিয়ে করে নে এবার” আমি জোরে হেসে বলেছিলাম “ ভাবী! হাবীবের মতো তুমিও কি মানো বিনি সুতার টান অনেক শক্ত? সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়” “মানবো না ক্যান? এটাই তো সত্যি দেওরা” চা খেয়ে উঠলাম, হাবীব-অনন্যা বললো মাঝে মাঝে যেনো তার বাসায় আসি। বাড়িতে এসে খুব ভাবলাম,আসলে কি তাই কেউ ভাঙতে পারে না। সেই থেকে তাদের বাড়িতে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলাম।

হঠাৎ মনে হলো হাবীবের বাড়িতে ওয়াইফাই কানেক্ট করেছিলাম। তাদের বাড়িতে গিয়ে আইপি এড্রেস হ্যাক করে দুইজনের মোবাইলে স্প্যাম ছড়িয়ে দিলাম। দুইজনের মোবাইল আমার কন্ট্রোলে। নিজের বাড়িতে এসে ক্যামেরার উপর কন্ট্রোল নিয়ে অনন্যার গোপন ভিডিও বানিয়ে ফেললাম। হাবীবের অফিস সহকর্মীর সাথে ঢলাঢলি করার ভিডিও রেকর্ড করে ফেললাম। এরপর বহুবার অনন্যাকে ব্ল্যাকমেইল করেছি। অনন্যার শরীরের গন্ধে পাশবিক সুখ পেয়েছি। হাবীবের কাছ থেকে ব্যাংক ব্যালেন্স ভারী করেছি। অনন্যার প্রতি আর শারীরিক মোহ কাজ করে না। হাবীবের প্রতিও একটা বন্ধুত্বের দায়িত্ব কাজ করে। আমার বন্ধু খারাপ হতে পারে, তাই বলে নষ্টা মেয়ের সাথে সংসার করবে? এটা আমি হতে দিতে পারি না। ফেক ফেসবুক একাউন্ট খুলে দুই জনের মোবাইলে আমার করা গোপন ভিডিও পাঠিয়ে দিলাম। তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলো। অনেক কষ্ট হয়েছিলো বন্ধু আর বন্ধুর স্ত্রীর জন্য। সারারাত ঘুমাতে পারি নি। আমার বন্ধুর ফোন দিয়ে কি কান্না। কষ্টতো আমারো হয়েছিলো, বন্ধুকে বলেছিলাম “ঘুমের ঔষুধ খা, কষ্ট কিছুটা হালকা হবে।“ সেই যে ঘুমালো আর উঠলো না।

দীঘল চোখের অনন্যা গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করলো। বন্ধু হাবীবের কাছে আমি পরাজিত হয়েছি। আসলেই বিনি সুতোর বাধন ছিন্ন হয় না। মরার পর তারা আবার এক হয়েছে। ক্ষমা করে দিস তোরা। বিশ্বাস কর আমি শুধু ছোট্ট একটা পরিক্ষাই করেছি কেবল। তোমরা একবার এসে দেখো, তোমাদের জন্য কেঁদে কেঁদে আমি বিছানা ভিজিয়ে ফেলেছি। জানি তোমরা আর আসবে না, নিজেকে শান্তনা দিয়ে মন শক্ত করে নিয়েছি।

বন্ধু ফিরোজ বলেছিলো, ফাহমিদা শুধু আমায় ভালোবাসে অন্য কাউকে নয়।আমায় ছেড়ে কখনো যাবে না। অন্য কেউ তার মন বদলাতে পারবে না। বন্ধু ফিরোজ আজ কান্না করে আমায় বলছে “সব মেয়ে শয়তান, কেউ কথা রাখে না। ফিরোজের প্রেমিকা ফাহমিদা খুন হয়েছে। বন্ধুর যে কি দুঃখ! দুই পেগ বাংলা মাল বানিয়ে বন্ধুকে দিলাম। খেয়ে নে বন্ধু, আর দুঃখ থাকবে না। “তুই জানিস না দীপু, হৃদয়ে! বুকের বাম পাসে কত ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছি। তোকে বলে বোঝাতে পারবো না।“ কষ্টে ভরা হৃদয় নিয়ে বাড়ি চলে গেলো বন্ধু। ফাহমিদার সাথে রাজশাহীতে আমার ১ম দেখা। বন্ধুর প্রেমিকা হিসেবে অনেক কথাই হয়েছিলো।

“ফাহমিদা ফিরোজকে কতটা ভালোবাসো তুমি” “আমার দুই চোখে যে দুই সমুদ্র জল আছে তা দিয়ে লিখেও শেষ হবে না” আমি ফিরোজকে বলতে পারিনি, আমি শুধু দুই সমুদ্র চোখের জল দেখার জন্যই সায়ানাইড মোবাইলের স্ক্রিনে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ফোন টাচ করে মুখে আঙ্গুল দেয়ায় মরে গেলো বেচারি। চোখ দুটো খুটিয়ে দেখেও দুই সমুদ্র পানির মধ্যে সিকি অংশও পাই নি। ফিরোজ দোস্ত ক্ষমা করে দিস তোর প্রেমিকা চরম মিথ্যাবাদী । অফিসের টপ সুন্দরী মেয়ে সৃজিতা৷ কাউকে পাত্তা দেয় না। জেদ চেপে গেলো। অনেক খাটনির পর সৃজিতা এখন আমার। আমায় খুব ভালোবাসে।

সৃজিতা বলেছিলো “তুমি আমাকে ভালোবেসে কিছু রান্না করে খাওয়াও না, যেনো আমার ভালোবাসা তোমার প্রতি আরো বেড়ে যায়। সবসময় কি আমিই রান্না করে খাওয়াবো তোমায়” আমি ভাবিনি কখনো আমার বন্ধু ফিরোজকে আমায় মারতে হবে। আমার বন্ধুর বাম পাশে যে হৃদয় তাতেই তো ভালোবাসা ভরা। আমার কাছে মনে হয়েছে এর চেয়ে ভালো রেসিপি আর হতে পারে না। বন্ধু ফিরোজের কলিজা আর হার্ট বের করে নিয়ে, লাসটা মাটি চাপা দিয়েছি। কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না বন্ধু হারানো কতটা যন্ত্রণার।। এ যন্ত্রণা আমি ছাড়া কেউ বোঝে না। তবে একটা ভালোবাসা কাছে পেতে অন্যটা তো হারাতেই হয়।

রান্না করে সৃজিতাকে খাওয়ালাম। আমার বন্ধু এক বিন্দু মিথ্যে বলে নি। তার হৃদয় ভরা ভালোবাসার রেসিপি খেয়ে সৃজিতা এখন আমায় অনেক ভালোবাসে। ভালোবাসার পরিণতি হিসেবে বিয়ে করে নিয়েছি। শরীরটা কয়েকদিন থেকে খারাপ যাচ্ছে। সৃজিতা আমায় ঔষধ দিয়ে বললো আমি মারা গেলে কেমন করে থাকবা। এত বড় হয়েছো নিজের যত্ন নিতে পারো না। সারাদিন চিন্তা করলাম সৃজিতা মারা গেলে সত্যিই আমি কেমন থাকবো। শেষ রাতের বেলা উঠে ফাঁকা সিরিজ সৃজিতার শিরায় পুষ করে দিলাম।

ব্যাচারি অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেলো। আমি এত অক্ষম ছিলাম যে শুধু সৃজিতার মৃত্যু দেখছিলাম। আমার কিচ্ছু করার ছিলো না। মৃত সৃজিতার পাশে আবার ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে পুলিশকে ফোন করলাম।লাস পরিক্ষা করার জন্য নিয়ে গেলো। আঘাতের কোন চিহ্ন পেলো না। রিপোর্টে দেখালো হার্ট স্টোক। সৃজিতা মারা যাওয়ার পর সত্তিই আমি অগোছালো হয়ে গেলাম। সৃজিতার কথা মনে হলে এখন খুব কষ্ট হয়। যে কষ্ট আমি আজো বুকে চেঁপে রেখে আছি কেউ সে খবর কেউ জানে না।। বলা হয় নি “সৃজিতা! তুমি ছাড়া আমি সত্তিই একা”

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত