তোমার স্বপ্ন

তোমার স্বপ্ন

-আমার ডিবোর্স চাই।
->মানে? মজা করছো তুমি তাইনা?
-না একটুও না। তোমার সাথে আমার সংসার করার ইচ্ছা নেই আর। তোমাকে আর আমার ভাল লাগে না।

->এই হঠাৎ তোমার কি হয়েছে৷ এই কিছুদিন আগেইতো আমরা আমাদের নতুন সংসার শুরু করেছি। তুমি কেনো এইসব বলছো?(কান্না মাখা কন্ঠে)
-ধুর ওইসব নিয়ে ভেবে কি লাভ৷ আমার তোমাকে আর ভাল লাগে না। তোমার সাথে সংসার করার কোনো প্রশ্ন উঠে না। তোমার জামা কাপর গুছিয়ে নাও। তোমাকে তোমার বাড়ি দিয়ে আসবো।আর খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবে।

->তোমার কি হয়েছে বলনা। আমি কি ভুল করেছি। আমার ভুলটা আমাকে প্লিজ বল। তোমার পায়ে পরি৷(বলেই কাদতে থাকে)

-ধুর এইসব পেচাল বাদ দিয়ে গুছিয়ে নাও।

এর পর আমি নিজেই কাপর গুছিয়ে ওকে টেনে ওর বাপের বাড়ি দিয়ে। ওর বাড়িতে জোর গলায় বলে দিয়েছি যেনো এর বিরোধিতা না করে। এর পর বাসায় চলে আসি।নিজেকে হঠাৎ খুব একা লাগছে। গলাটা কেমন ভারি হয়ে আসছে। কান্নাটা মনে হয় থামাতে পারবোনা। কিন্তু কান্নার মুহুর্তে খুব জোরে জোরে হাসছি। কারন একটু আগে যাকে বাপের বাড়ি পাঠালাম সে আমার বউ মৌমিতা। আমাদের ২ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে৷ আমার খুব একা ছোট থেকে। কারন বাবা মা ছোট বেলায় মারা যান। বলা যায় এই পৃথিবীতে আমি সব থেকে বেশি আমি মৌমিতাকেই ভালবাসি৷

হ্যা ভালবাসি তাও করলাম। ও আজকে কষ্ট পেলেও সামনে শুখি হবে৷ আমার সাথে থাকলে সামনে ওর জন্য শুধু কষ্ট হবে৷ কারন– একটা মেয়ের সব থেকে বড় পাওয়া হলো মা হওয়া। মৌমিতাও একি। ওত সব সময় আমাকে বলতো যে বিয়ের পরেই ও একটা বাবু নিবে। ওর বাকি বাবুর একটা সখ৷ কিন্তু আমি চাইনি তাড়াতাড়ি সন্তান নিতে। আগে সংসার গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। তাই মৌমিতা বলেছে। ২ বছরের বেশি ও ওয়েট করবেনা। এ নিয়ে কত কথাই হতো। এই দুইটা বছর শুধু শুনেছি ওর বাবুটা এমন হবে। ও এমন করবে। এইটা কিনে দিবে ওইটা কিনে দিবে। আমিও খুশি ছিলাম। কিন্তু যখন আমিও মন ঠিক করলাম হ্যা এখন আমার একটা সন্তান নেয়া দরকার। বাড়িতে একটু বাচ্চার কান্না হৈ-হৈ-হুল্লোড় না থাকলেকি ভাল লাগে।

কিন্তু আমাদের স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল।কিছুদিন আগে আমি একটা ছোট একসিডেন্টের সিকার হই। প্রায় ১ সপ্তাহ সময় লাগে সম্পুর্ন ঠিক হতে। কিন্তু এর মাঝে আমার রিপোর্ট গুলো আনার কথা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আজকে সকালে হঠাৎ মনে হলে আমি এমনি আনতে চলে যাই৷ আর ডাক্তারের সাথে কথা বলতে যাই। কিন্তু ডাক্তার আমাকে দেখেই মুখটা কেমন করলেন। আমার মাথায় শুধু আমাদের কথাই। কারন জীবনটাইতো মৌমিতা। ওর কথা না ভাবলে কার কথা ভাববো৷ ডাক্তারের কেবিনে গেলে।আমি হাসি খুশি। কিন্তু ডাক্তার প্রায় ১০ মিনিট চুপ চাপ ছিলেন। একটু পর একটা নিশ্বাস ছেরে বলা শুরু করলেন। আমাকে চিনতেই তাই নরমালি কথা বলতে পারছিলেন না।

ডাক্তারঃ দেখ রিহাব। তুমি আমাকে কথা গুলো শুনে প্লিজ ভেঙে পরবে না। এখন আমি একটু ভয় পাচ্ছি।তার গলাটা শুনেই বুঝা যাচ্ছে। কিছুই ঠিক নেই।

আমিঃ কি হয়েছে?

ডাক্তারঃ আসলে তোমার একসিডেন্টটা বেশি বড় ছিল না। কিন্তু এর ফলে এমন কিছু যায়গায় আঘাত লেগেছিল যেগুলা ঠিক হয়েছে কিন্তু তার এফেক্টে ভিতরে এমন কিছু যখম হয়েছে। যা কখনো আর হয়তো ঠিক করা যাবে না। আমার বুকের ভিতরটা একদম ধরফর করছে।

ডাক্তারঃ আসলে তুমি আর কখনো বাবা হতে পারবেনা। কারন তোমার দেহ শুকরানু তৈরি করাই বন্ধ করে দিয়েছে। হয়তো কখনো ঠিক হবে৷ কিন্তু তার চান্স ১ পার্সেন্টের নিচে৷ আমি কথা গুলো শুনেই একদম চুপ। আমার সামনে শুধু মৌমিতার চেহারাটা ভাসছে৷ ওর হাসি মুখটা কি হবে তা ভেবেই আমার শরীরে কাটা দিচ্ছে।আর এই কষ্টটা একদিন বা কয়েকদিনের নয়৷ সারা জীবিনের।।

আমার চোখ দিয়ে হঠাৎ টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। নিজেকে একটা অলুক্ষুনে লাগছে। আমার কাছে এসে হয়তো কেউ খুশি থাকবেনা। আমাকে যে এতটা ভালবাসে। তার জীবনের এর বড় একটা স্বপ্ন আমার জন্য নষ্ট হয়ে যাবে আমি ভাবতেও পারিনি। আর ঠিক সেই সময় নিজেকে শক্ত করে আমি এই সিদ্ধান্ত নেই৷ আমার জন্য ওর জীবন নষ্ট হবে কেনো?একটা সময় একা থাকার অভ্যাস ছিল। মৌমিতাকে পেয়ে তা ভুলেই গেছিলাম।রাস্তার হাটার সময় সব ভেবে নেই। নিজের গালে কয়েকটা থাপ্পর দিয়ে নেই। যাতে ভুলেও ওর কান্না মাখা মুখটা দেখে আমি যেনো দুর্বল না হই।

হ্যা আমি শেষ পর্যন্ত পেরেছি। আমি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলাম এই একাকিত্বটাই আমার একমাত্র আপন। আমি জানি মৌমিতা আমাকে এত সহযে ভুলে যাবে না। কিন্তু ওর শুখের জন্য আমার এইসব করতেই হবে। আজকের রাতটা আমার হয়তো সেই আগের মত হবে একাকিত্ত্বের মাঝেই যাবে। রাত এখন তিনটা। চোখটা একটুও আমার আপন নয়৷ আমার কথাই শুনছেনা। পানি ফেলেই চলেছে। কিন্তু মুখটা হেসেই চলেছে। নিজেকে খুব অদ্ভুদ লাগছে। আবার ভাল লাগছে এই ভেবে যে আমার কিছু সৃতি আছে যেগুলাকে নিয়ে আমার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত থাকতে পারবো।

হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠে৷ আমি জানি কে ফোন দিয়েছে। ফোনটা হাতে নিতেই ফোনটা ন দেখি হ্যা মৌমিতার কল। একটা ছবি এড ছিল। আমার আর ওর৷ নিজের অজান্তেই হেসে দেই। কারন ছবিটা ছিল আমাদের সেদিন রিলেশন হয় সেইদিনের। বলা যায় আমাদের প্রথম ছবি। কিন্তু ফোনটা ধরিনি। এর পর অফ করে রেখে দেই৷ আজান শুনার পর নামাজ পরে বাসায় এসে ফোনটা অন করতেই সাথে সাথে কল। হয়তো এই সম্পুর্ণ সময় কল দিয়েই চলেছিল। এইবারও কেটে দেই। বার বার ফোন দিতে থাকে। একবার ধরলাম-

আমিঃ হ্যালো কেনো ফোন দিতেছ বার বার।

মৌমিতাঃ আমার ভুলটা আমাকে বলনা। আমি আর কখনো তোমায় জালাবোনা। আর মজাও করবোনা। তোমার কাছে একটু থাকতে দাও আমাকে তাহলেই হবে।

আমিঃ না। আমি অন্য একজনকে পেয়েছি। তার সাথেই নতুন সংসার করবো। তোমাকে আর লাগবেনা আমার৷ রাখ ফোন। এর পর অন্য দিকে সম্পুর্ন চুপ। আমি ফোনটা কেটে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলাম। কিন্তু ঘুম কেনো জানি এখনো আসছেনা। কিন্তু আমিতো ঘুমাতে চাই। তাহলে কিছুটা সময় হয়তো ওকে আর মনেই পরবেনা। কিন্তু চোখটা আজকে আমার সাথে পুরো বিরোধিতা করছে। ইচ্ছে করছে একটু আধার দেখতে। ইচ্ছে করছে চোখ দুটা উঠিয়ে দেই। এতে হয়তো একটু ঘুমাতে পারবো। আচ্ছা আমরা মানুষরা এমন কেনো? কি হয় একজনকে ছেরে থাকলে। কেনো পারিনা থাকতে। বিকেলে আবার কল দিলো।

মৌমিতাঃ আমাকে ছেরে যেও না। আমিনা তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। আমি এইদিকে কথা বলার অবস্থায় নাই। আমি আসলে এমনি খুব ইমোশনাল। কখনো মৌমিতার চোখের পানিটা সয্য হয় না। ও যদি বেথা পেয়ে কাদতো।কেনো জানি আমার চোখ দিয়েও পানি পরতো। আর আজকে ওর কন্ঠ শুনেই বুঝা যাচ্ছে মেয়েটা তখন থেকে একটুও কান্না থামায়নি।

কিন্তু নিজেকে সামলাতেই হবে। আজকে নাহয় ও খুশি কিন্তু একটা সময় পারবেনা। আমি জানি ও আমার জন্য মেনে নিবে৷ কিন্তু আমি জানি মা হওয়া ওর কত বড় একটা স্বপ্ন। যে মেয়ে প্রতিদিন এই একটা কথাই ভেবে গেছে। তাকে সেই সুখটা থেকে আলাদা করার আমিতো কেউ না। নাহ এইটা পালটাতেই হবে। মৌমিতা যেনো আমাকে ঘৃনা করে তার জন্য কিছু করতে হবে। পরেরদিন সকালে আমার একটা ফ্রেন্ডকে বাসায় আনি। ওকে সব বলি। আমার অবস্থা দেখে আমার ফ্রেন্ডটারও কেদে ফেলার অবস্থা। অনেক কষ্টে ওকে রাজি করাই। আমার বিশ্বাস ছিল মৌমিতা কল দিবেই। ঠিক তাই হলো। সকাল ৯ টায় কল দিলো। আমি ওকে ফোনটা দেই। ও হ্যা আমার ফ্রেন্ডটার নাম মনিরা। (পরে মনিরার থেকেই শুনেছি মৌমিতা কিভাবে কি বলেছে)

মনিরাঃ হ্যালো।

মৌমিতাঃ হ্যালো?

মনিরাঃ আপনি একটু পর কল দিয়েন। ওত ওয়াসরুমে আসলে কল দিতে বলবো।

মৌমিতাঃ আপনি কে?

মনিরাঃ আসলে আমি ওনার হবু বউ। আমাকে বললেন আজকে বাড়িটা দেখাবেন। তাই আসলাম। এর পর ফোনটা সাথে সাথে রেখে দেয়। আমি জানি এখন কি হবে। মৌমিতা এখানেই আসবে। ঠিক তাই হলো। আধা ঘন্টার মধ্যেই এখানে চলে আসে। দরজা খুলতেই –

আমিঃ তুমি এখানে? মৌমিতা কিছু না বলেই ভিতরে আসে৷ এসে দেখে মনিরা ভিতরে আমার রুমেই বসে আছে।

আমিঃও হ্যা এই হলো আমার ফিউচার ওয়াইফ মনিরা।আর ও এখন আমার সন্তানের মা হতে চলেছে। মনিরা যদিও যানতো। আমার খুব খারাপ লাগছি আমার সার্থের জন্য আমার বন্ধুটার এভাবে বলিদান দিচ্ছি। কিন্তু মৌমিতা বাচ্চাটার কথা শুনে আমার দিকে তাকিয়ে কিছুই বলে না। হয়তো বুঝতে পারে যে ওর স্বামীকে অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে৷ এর পর চুপ চাপ চলে যায়।

মনিরাঃ তুই এইসব না করলেও পারতি। কি হয় সন্তান না নিলে।

আমিঃ আমি জানি কিছুই হবে না। কিন্তু ওর এই ইচ্ছাটা পুরন করবো।

এর পর মনিরাও চলে যায়। আজকে বিকালে আর ফোন আসে না রাতেও না।একটা মেসেজ নেই। আমি বাড়িতে একা বসে বসে হাসছি। কি আর করবো। হাহা হাহ হাহা। রাতে সেই একি অবস্থা। একটুও ঘুম নেই। বুঝতে পারি যে একটা মানুষ ছিল যাকে জরিয়ে ধরে না ঘুমালে আমার ঘুম আসতোই না।

একটা কথা মনে পরে। বিয়ের পর থেকেই মৌমিতা আমাকে সব সময় জরিয়ে ধরে ঘুমাতো।আর বলতো যাতে ও বাপের বাড়ি গেলে আমিও যাই। আর তার জন্য এই অভ্যাস করাচ্ছে। আমিও হাসি দিতাম।আর এখন বুঝতে পারছি ওর কথার মানে কি ছিল। আজ সত্যি ওকে না জরিয়ে ধরে আমার ঘুম আসছেই না। আজকেও রাতটাও ঘুম হলো না। এভাবে আরো একটা দিন চলে গেল। কোনো কল নেই কোনো মেসেজ নেই। যাক মনে হয় কাজ হয়েছে। ২ দিন পর হঠাৎ আমার বিভোর্স পেপার এলো। এইগুলো আমি বানাইনি। মৌমিতাই পাঠিয়েছে। ওর বাবার জন্য এত তাড়াতাড়ি এইগুলা করা মটেও কঠিন নয়। কিন্তু আমার জন্য এই একটা উপহারই ছিল না। সাথে আরেকটা উপহার ছিল। ওর বিয়ের কার্ড। সাথে একটা ছোট চিঠি।

মৌমিতাঃ আমার জন্য ভাল পাত্র খোজা একটুও কষ্টের কাজ ছিল না বাবার। আর কার্ডটা দিয়েছে। বিয়েছে এমনিতেও আসবেনা জানি কারন নতুন বউ রেখে কি আর আসা যায়। নতুন জীবিনেও জন্য তোমাকে সুভ কামনা রইলো।

ওর বিয়েটা ৬ দিন পর। আজকে আমি অনেক খুশি। আমি জানি মৌমিতার বাবাই এইসব তাড়াতাড়ি করিয়েছেন। আমাকে দেখানোর জন্য হয়তো।কিন্তু ছেলেটাযে ভাল হবে তাও আমি জানি। কারন মৌমিতার বাবা এমনি। যাক আমার চিন্তা অরায় শেষ। যাই তাহলে এখন একটু ঘুমাই। কিন্তু না ঘুম আসছেনা। আমি জানি না কি করবো। ওর হাতের রান্নাটা অনেক মিস করছি। ওর সব কিছুই যেনো আমার ভাল লাগে। ২ বছর হয়ে গেছে কিন্তু এখনো রুটি বানালে পুরে যায়। কিন্তু আমার তা নিয়ে কখনো কমপ্লেন ছিল না। আজকে সেই পোরা রুটিটা আবার একবার খেতে পারতাম।আর কপালে জুটলোনা।

এভাবে দিন চলেই যাচ্ছে। আমার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ কারন ঘুম নেই অনেকদিন। ডাক্তারকে কারন বলিনি। কিন্তু সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে মৌমিতার সাথে এইসব হওয়ার কারন কি আমার এই কমতি কিনা। আমি কিছুই বলিনি। আসলে মৌমিতার বাড়িতে সবাই ডাক্তারকে চিনেনে। তাই সেও বিয়েরে যাবেন। আমি তাকে কিছুই বলিনি। যাস্ট নিজের জন্য কিছু ঔষধ নিয়ে চলে আসি। মনে মনে মৌমিতাকে সেই আগের মত বউয়ের সাযে দেখতে কেমন হবে তা ভাবছি৷ বাসায় এসে শুয়ে আছি। হোটেলের খারাব খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। কিন্তু এই কয়েকদিনে যে কয়বার খেয়েছে প্রতিবার বাহিরের খাবার।

ঘরে বসেই রাত হয়ে যায়। ভাবছি এই একটু পরেইতো মৌমিতার বিয়ে হয়ে যাবে৷ আর হয়তো হয়েও গেছে। যাক ও শুখি হোক ওর জীবনে। চোখ মেলার মত ক্ষমতা নেই। এই কয়েকদিনে কয়েকবার ঘুমের ঔষধ খেয়েছি।কাজ হয়নি। আজকে শরীরটা কেমন গরম হয়ে চোখ গরম হয়ে আসছে। শুয়ে আছি। চোখ বন্ধ করে। কেমন জানি সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছি। ডাক্তার সাহেব বলেছিলেন আমাকে নাকি নেশাখোরের মত লাগছে। অনেক খারাপ দেখতে নাকি আমি। তাও কেনো জানি খুশি লাগছে। যে ও শুখি হবে। আস্তে আস্তে আমাকে ভুলে একদিন ঠিক নিজেকে সামলে নেবে। একটু ওকে আবার বুকে নিতে পারতাম, একটু আবার আমার বুকে জরিয়ে ধরে ভালবাসি বলতে পারতাম। না তা আর হবে না।

আমি একটুও নরাচরা করতে পারছিনা। মনে হচ্ছে শরীররে একটুও শক্তি নেই। ভাল মত কিছুই চিন্তাও করতে পারছিনা। একটু পর আর কিছুই খেয়াল নেই। কিন্তু আমার হঠাৎ মনে হলো যে মৌনিতা আমাকে জরিয়ে ধরেছে। আমি জানরাম যে এইটা ভুল। হয়তো আমার মন আমার সাথে খেলা করছে। কিন্তু আমি না পেরে সেই মায়াটাকে জরিয়ে ধরি। চোখ খোলার মত শক্তি ছিল না। যতটা জোরে পেয়েছি ধরে রেখেছি। আমার লাগছিল সত্যি আমি মৌমিতাকেই ধরে রেখেছি। আমি বার বার বলছিলাম আমাকে ছেড়ে যেও না। আমি থাকতে পারছিনা।

কিছুই শুনতেও পারছিলাম না। একটু পর হঠাৎ হারিয়ে যাই। সকালে ঘুম ভাঙে। চোখ খোলার আগে একটু ভাল লাগে।যাক ঘুমিয়েছি।আর আরো ভাল লাগে যে আমি সেই ফিলটা পেয়েছি।জানি সেটা মনের ভুল কিন্তু আমার সত্যি লেগেছিল। যেই একটু উঠতে যাবো খেয়াল করলাম আমার কপালে যেনো কি? যখন পুরো হুশ আসলো আমি পুরাই অবাক। দেখলাম বিয়ের সাযে মৌমিতা। আর ওর কোলেই আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। মৌমিতা ঘুমিয়ে আছে। সব কিছু কেমন জানি স্বপ্ন লাগছিল। কান্না করতে করতে মেকাপ নষ্ট করে ফেলেছে। আমি উঠে বসে ওর দিকে তাকিয়ে ভাবছি কি করছে ও এইখানে?

নাকি এইটা শুধু স্বপ্ন। নিজেকে একটা চিমটি মারলাম। আরে না এতো স্বপ্ন নয়। তাহলে রাতে যা অনুভব করেছি সব সত্যি? একটু পরেই মৌমিতা উঠে আমার দিকে তাকায়। দুইজন একেবারে চুপ। কোনো কথা নেই। দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ মৌমিতা উঠে অন্য রুমে যায়। আমি কিছুই বুঝলাম না। সাথে সাথে একটা লাঠি নিয়ে এসে আমাকে মাইর শুরু। আমি কিছুই বুঝতে পারিনা হচ্ছেটাকি।

আমিঃ এই লাগছে। মারছো কেনো?

মৌমিতাঃ চুপ।

আমিঃ মারলে চুপ থাকবো কিভাবে।

মৌমিতা মেরেই চলেছে। একটু পর মারা থামিয়ে দেয়। একটু চুপ থেকে আবার কান্না শুরু করে আমাকে জরিয়ে ধরে। আমি কিছুই বুঝতেছি না ও কি করছে।

মৌমিতাঃ আমিকি এতটাই খারাপ? নাকি তোমাকে ভালবাসি না? আমার আমি মা না হতে পারি কি হয়েছে তুমি আছোনা। আমার না হওয়ার থেকেও একটা বড় স্বপ্ন আছে। আমি তোমার সাথে আমার জীবনেও শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত থাকবো। আর তুমি এই একটা কারনে আমাকে ছেরে দিলে? তোমার সাথে থাকলে আমার আর কিছুই লাগবেনা। আমি অবাক। ও কিভাবে জানলো।

মৌমিতাঃ আর একটু দেরি হলেই আমার বিয়ে যেনো। বিয়ের আগে ডাক্তার সাহেব আমার দেখা করেন। হঠাৎ সে বলেন- এই একটা কারনে তোমারে বিয়েটা ভেঙে যাবে আমি ভাবিনি। আচ্ছা যাই হোক তোমার নতুন জীবিনটা শুখেও হোক।

আমিঃ মানে?

ডাক্তারঃ মানে এইযে ও বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে।

মৌমিতাঃ কি? কি বলছেন এইসব? আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয় কারন ও আরেকটা মেয়ের সাথে নষ্টামি করে আর সেই মেয়ে এখন ওর সন্তানের মা।

ডাক্তারঃ কি বলছো এইসব? কে বলেছে তোমাকে এইসব?

এর পর সে আমাকে আমার রুনে নিয়ে এসে তোমার সব কিছু বলে। তখন আমি বুঝতে পারি তুমি কেনো এইসব করলে। আচ্ছা সন্তান ছাড়াকি জীবন চলে না? আমরা নাহয় সন্তান ছারাই জীবন কাটালাম।আমার আর কিছুই চাইনা তোমাকে ছাড়া। আর আর থাকতে পারিনি। আমিও কান্না করতে করতে ওকে জরিয়ে ধরি। এই কান্নাটা আমি অনেকদিন ধরে চেপে রেখেছিলাম।

আমিঃ তোমার এত বড় একটা স্বপ্ন আমি আমার জন্য নষ্ট হয়ে যাবে।এইটা মানতে পারিনি। তাই,,,

মৌমিতাঃ তুমি এমন কেনো হ্যা। একটু সার্থপর হতে পার না। সব সময় অন্যের চিন্তা। তোমার জন্য আমি কত কেদেছি জানো। ভেবে ছিলাম মরেই যাবো। কিন্তু কেনো জানি মরনটাও আসিনি। এর পর দুইজন কতক্ষন সেভাবে কেদেছি মনে নেই। এর পর ওকে আমার সামনে নিয়ে চোখের জল মুছে দেই-

আমিঃ ইসস কি অবস্থা করেছে চেহারার। কিন্তু ভাল কথা তুমি এখানে এলে কিভাবে?

মৌমিতাঃ আমি বিয়ে বাড়ি থেকে দৌরে চলে আসি।

এসে দেখি দরজা খোলা। তোমার দরজা লাগানোর অভ্যাস আর হলো না। তো ভিতরে এসে দেখি তোমার অবস্থা খুব খারাপ। জরে শরীর পুরে যাচ্ছে। তোমার অবস্থা দেখে আমি থাকতে না পেরে তোমাকে জরিয়ে ধরি। তুমি বার বার বলছিনে-মৌমিতা আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছিনা। প্লিজ ফিরে আস। আমি জানি এই পাগলটা আমাকে ছাড়া থাকতেই পারবেনা। কিন্তু ওইদিন মেয়েটাকে দেখে আমার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তোমাকে জরিয়ে না ধরে কখনো ঘুমিয়েছি। এই কয়েকটা দিন আমার একটুও ঘুম হয়নি। কিন্তু তোমার মাথায় জল পট্টি দিয়ে তোমাকে কোলে নিয়ে বসে ছিলাম। কখন ঘুমিয়ে যাই বুঝতেই পারিনি। এর থেকে আরামের ঘুম আমার কখনো হয়নি। এর পর মৌমিতা আমাকে আবার জরিয়ে ধরে।

মৌমিতাঃ ভুলেও যদি এর পর আবার এমন করেছো। তোমাকে সত্যি সত্যি মেরে ফেলবো। আমি খুব শক্ত করে ওকে জরিয়ে ধরি। ও তখনি ওর উত্তর পেয়ে যায়।

আমিঃ তোমাকে আবার বিয়ের সাযে খুব সুন্দর লাগছে।

মৌমিতাঃ এই দূরে যাও। যাও এখনি।

আমিঃ কি হলো হঠাৎ?

মৌমিতাঃ আরে ভুলেই গেছিলাম আমারতো আর স্বমী স্ত্রী নই। মনে নেই। আগে বিয়ে তার পর কাছে আসবে।

আমিঃ ইসস আমি এখন দূরে গেলে মরেই ‘সম্পুর্ন কথা না বলতেই মৌমিতা আমার মুখ চেপে ধরে।

মৌমিতাঃ এই একদম মরে যাওয়ার নাম নিবে না। নিজেই এসে আমাকে জরিয়ে ধরে।।

আমিঃ এই তাহলে আমরা আবার গার্ল্ফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড। তাহলে একটু দুষ্টামি করা যাক?

মৌমিতাঃ একদম না। আবার বিয়ে হোক।তার পর। আসলেই ভালবাসার মানুষটা পাশে থাকলে সব কিছু ফেলে থাকা যায়। জীবন চলার জন্য একটু ভালবাসাই যথেষ্ঠ।

The End

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত