দেখা

দেখা

প্রতিরাতে একটা করে নারী ভোগ করা ছাড়া আমার রাত কাটে না। প্রচন্ড মাত্রায় নারীর দেহের প্রতি আকর্ষন আমার। রাত হলে যেনো আমি হিংস্র পশুদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ি।

তবে নারী ভোগ করতে আমার বেশ্যালয়ে যেতে হয় না। আমার অফিসের ম্যানেজার সিদ্দিক-কে আগেই বলে রেখেছিলাম। তিনিই এনে দেন এদেরকে। তবে কোনো গরিব অশিক্ষিত মেয়েদের আমি কখনো ভোগ করি না। সমাজের শিক্ষিত,এডুকেটেড ভালো ফ্যামিলির মেয়েদেরকেই শুধু ভোগ করি। এদের রুপ পালটানো দেখে আমার খুব মজা লাগে। দিনে ভদ্র পরিবারের শিক্ষিত মেয়ে,আর রাত হলেই হাই ক্লাস বেশ্যা।টাকার জন্য এদের রুপ পাল্টানোর দৃশ্যটা নিতান্তই উপভোগ্য।

মদ আর নারী এই দুইটা ছাড়া রাত কাটানো আমার কাছে প্রায়ই অসম্ভব। আজকে অফিস শেষ করে জামালখান-প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আরেকটা মেয়েকে সংগ্রহ করবো। আসলে আমি জামাল খান যাচ্ছি একজন ব্যাক্তি র থেকে কিছু পাওনা টাকা নিতে। তাই সিদ্দিক সাহেবকে বলেছিলাম,মেয়েটাকে জামালখান প্রেস ক্লাবের সামনেই থাকতে। ইতিমধ্যে আমি গাড়ি নিয়ে জামালখান প্রেসক্লাবের সামনে চলে আসছি। আমি আবার দেখেই বলে দিতে পারি কোনটা বেশ্যা আর কোনটা সাধারন নারী। তো মেয়েটাকে ডাকলাম বললাম গাড়ির ভিতরে এসে বসতে। যথারীতি মেয়েটা ভিতরে এসে বসলো।

মেয়েটার মুখে নিকাব দেওয়া ছিলো,চেহারাটা দেখা যাচ্ছিলো না। ১৫/১৬ মিনিট হয়ে গেলো,মেয়েটা কোনো কথাই বলছে না। আমার কাছে কেমন জানি অদ্ভুত মনে হলো ব্যাপার টা। কারন এর আগে যতো মেয়ে এসেছিলো,সবাই নানা কথা বলতো,কেউ পেইমেন্ট নিয়ে কথা বলতো। কিন্তু এই মেয়েটা কোনোই কথা বলছে না।ব্যাপারটা ঠিক হজম হলো না আমার। তাই আমি বললাম,আইস্ক্রিম খাবেন??

সে বললো:-না.!

এরপর আর কিছু বলিনি। বাসায় নিয়ে আসলাম তাকে।রুমে ঢুকলাম তাকে নিয়ে। তাকে বললাম,আমি ফ্রেশ হয়ে আসি তুমি টিভি দেখো। এবারো সে হ্যা বা হুম কোনো জবাব দিলো না। চুপ করে বসেই রইলো। আমি গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে এসে বসলাম। সাথে একটু একটু করে মদ খাচ্ছি। মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করলাম,তোমার নাম কি??

সে বললো:-সুলতানা..!

নামটা শুনেই কেমন জানি পেটের নাড়ি মোচড় দিয়ে উঠলো। আজ থেকে ১০/১১ বছর আগের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। অনেকটা নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। চোখের মধ্যে কিছুটা পানিও এসছিলো,সেগুলো কে চোখের ভিতরেই আটকে রেখে ছিলাম। নামটা শোনার পর তার চেহারাটা দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগলো।কারন এই নামটার সাথেই একটা অতীত আছে আমার  তাই তাকে বললাম নিকাবটা খুলে ফেলো। আমার কথা মতো যখন সে নিকাবটা খুলে ফেললো,তখন একটা বড় ধাক্কা খেয়েছিলাম আমি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতেই পারছিলাম না যে এটা আর অন্যকেউ নয়,এই মেয়েটাই তো আমার জীবনের প্রথম ও শেষ ভালোবাসা।

আমাদের গল্পটার শুরু আজ থেকে ১০/১১ বছর আগে।আমি তখন সদ্য Ssc পরিক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থী।,আর সে ছিলো নিউ-টেন ক্লাসের শিক্ষার্থী।আমার বয়স ১৭ ছিলো আর তার ১৫/১৬ ছিলো। তখন থেকেই আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম। সম্পর্কের প্রায় দুই বছরের মাথায় সুলতানার সাথে আমার ব্রেকাপ হয়ে যায়। খুব একটা বড় কারনে নয়,আবার খুব ছোট কারনে নয়। সুলতানার সাথে ব্রেকাপের পর কখনো ফোন করে অথবা রাস্তঘাটে তাকে ডিস্টার্ব করিনি। তবে খুব মেসেজ দিয়ে তাকে বলতাম আমাকে একটা সুযোগ দিতে,আমাকে ছেড়ে না যেতে। সে একটিবারও আমার কথা মানলোই না।

কিছুদিন পরই শুনেছিলাম সুলতানা অন্য একজনের সাথে প্রেম করছে। শোনার পর থেকে আমি আর এসব বিষয়ে আর কখনো কোনো খোজ নেওয়ার চেষ্টা করিনি। সে যতো খুশিতে আনন্দে দিন কাটাতো,আমি ততোটাই নিসঙ্গতায় দিন কাটাতাম। এভাবে একদিন-দুদিন যেতে যেতে প্রায় ১ বছর কেটে গেলো। হটাত আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। নিজেকে শক্ত করে তুললাম।নিজের ক্যারিয়ার আর টাকার পিছনে ছুটলাম। এতোটাই অর্থ অর্জনের দিকে ঝুকে গেছিলাম,যার ফলে সুলতানার কথা আমার মনেই পড়তো না। মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম আর কোনো মেয়েকে ভালোবাসবো না।আর তখন থেকেই আমি মদ আর নারীর দেহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি।

আজ আমার বয়স ২৮ বছর। একটা কোম্পানির মালিক আমি। জীবনে টাকা-পয়সা,গাড়ি-বাড়ি কোনো কিছুর কমতি নেই। কমতি আছে শুধু একজন ভালোবাসার মানুষের। কিন্ত আজকে আমার মধ্যে বিন্দুমাত্র যৌনক্ষুদা নেই। মন চাচ্ছে সুলতানাকে সারারাত জেগে দুই নয়নে দেখে যাই। হাত ছুয়ে দেখি,তাকে জড়িয়ে ধরি। এই রাত টা যাতে কখনো শেষ না হয়। কারন শেষ হয়েই গেলে যে সে চলে যাবে। এগুলো ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে পানি অনবরত পড়েই যাচ্ছে। অনেক বছর পর মনে হলো আমি কাঁদছি। হটাত সুলতানা বললো,এখনো ভালোবাসো?? এতোটা পাগল তুমি আমার প্রতি?? আমি বললাম,কোনো সন্দেহ আছে নাকি?? আর তুমি এসব কাজে জড়ালে কবে থেকে??

সে বললো,”তোমার সাথে ব্রেকাপের পর রিহানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হয়েছিলো। এক পর্যায়ে সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। এরপর থেকেই আর কোনো কিছু না বলেই আমাকে একা ফেলে চলে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কারো সাথে সম্পর্কে জড়াইনি.মা-বাবা এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে আজ ৩ বছর হলো।
এতোদিন চাকরি করতাম,হটাত চাকরিটা চলে যায় আমার। ১ মাস ধরে আমি বেকার। বাধ্য হয়েই আমি এই পেশাটাকে বেছে নিছি। আজ প্রথম দিন এই পেশার আমার। ভাবিনি প্রথম দিনেই তোমার সাথে দেখা হয়ে যাবে। একটানা এই কথা গুলো সুলতানা বলার পর, তাকে আমি বললাম,আরেকটা বার আমার হাতটা ধরে পথচলা শুরু করা যায় না?? নিজেদের অতীত ভুলে,একসাথে নতুন সম্পর্কে জড়ালে ক্ষতি কোথায়??? সে কোনো উত্তরই দিলো না। শুধু তার একটা ছোট্ট মুচকি হাসি দেখতে পেলাম। ব্যাস আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না কিছুই।

হটাত একটা চুম্বন করলাম,মনে হচ্ছিলো অনেক দিন পর মন থেকে ভালোবেসে কাউকে চুম্বন করছি..!!একটা অদ্ভুত আনন্দ কাজ করছিলো মনের মধ্যে। মনে মনে ভাবছিলাম,আজকে রাত থেকে আমার আর মদ খাওয়া লাগবে না। এবং মনে মনে ঠিক করে নিয়েছি পরশুদিন সৌদি আরব যাবো,কিছুদিন সেখানেই থাকবো। হজের মৌসুম শুরু হলে দুইজনে একসাথে হজ করে নিবো। জীবনে করা পাপ গুলোর জন্য একবার ক্ষমা চাইতে। বাকি জীবনের পথটা না হয় দুইজনেই ভালোবেসে পাশে থেকে ভাল-মন্দ দেখে শুনে কাটিয়ে দিবো!!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত