ভালোবাসার মায়া

ভালোবাসার মায়া

এ গ্রামে আমি নতুন এসেছি আমার ভার্সিটি থেকে প্রায় কাছাকাছি গ্রাম… বাসা থেকে অনেক দূর বলে

এই গ্রামে থেকে ক্লাস করতে হচ্ছে…. ক্লাস না করলে আবার প্রবলেম কারন কিছু বিষয় বেশ জটিল ছিল….

এক বড় ভাইয়া আমার ব্যাপার টা জানতো!! তার দৌলতে একটা টিউশনি পেয়ে যায়!! মাসে ৪ হাজার একটা ৪ মেয়েকে অংক করাতে হবে!!

সেটা ১:৩০ মিনিটস মতো!! আমিও রাজি হয়ে গেলাম!! বড়লোক বাড়ি আর সবায় জব করেন!! টাকার কোন অভাব নেই!!

যাদের টাকা আছে তারা আরও টাকা টাকা করে!! আর যাদের নেই তারাও টাকা টাকা করে!! আসলে মানুষ টাকার পিছনেই পড়ে থাকে….

কারন বেচে থাকতে টাকার প্রয়োজন। আমার প্রতিদিন কাজ/
—-
ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হওয়া!! তারপর খাবার খেয়ে ক্লাসে যাওয়া!! এরপরে ১টাই বাসায় এসে গোসল করে খেয়ে ৩ টা থেকে ঘুম!!

তারপর ৪;৩০ এ পড়াতে যাওয়া!! এসে পড়তে বসা… তারপর অনলাইন এসব নিয়েই কেটে যায়!! আমার তেমন কোন ভাল বন্ধু নেই!!

আসলে আমি প্রচুর বন্ধুসুলভ হলেও সবার সাথে মিশিনা…..
—–
ক্যাম্পাসে একটা মেয়েকে দেখতাম সবায় কে হাসিয়ে মাতিয়ে রাখতো!! একটু কাল কিন্তু খুব হাসতে পারতো!!

আমাদের ডিপার্টমেন্টে ছিল বলে দেখতে পেতাম! মেয়েটি গান গেতে পারতো তবে সেই গান শেষ হতোনা!!

বা গান শুরুর মাঝে আরেকটা গান যুক্ত হয়ে যেতো!! কণ্ঠ ভালোনা কিন্তু মেয়ে ছারার বান্দা না…..!!
—–
আমি হেটেই ক্লাস করি!! মাত্র ক’মিনিটস আমাকে হেটে ক্লাসে যেতে হয়!! পড়াতে গেলেও আমাকে হেটে দেখানে যেতে হয়…

আমি মেঘ সাদামাটা একটা ছেলে নিজের ভেতর তেমন কোন রংচঙ নেই!!! একদিন হঠাৎ আমার চোখ আটকে যায় একটা দৃশ্য দেখে….!↓↓

আমি কফি খাওয়ার জন্য একটা দোকানের ভেতর বসেছি দোকানে তেমন ভির নেই!!

আমি ঐপাশে বসে কফির কাপে চুমুক দিয়েছি আমার চোখ পড়লো কিছু দূরে একটা বারান্দায় সেখানে একটা মেয়ে দারিয়ে আছে….

বেশ সুন্দর বাতাসে ওর শ্যাম্পু করা চুলগুলো খুব উড়ছে কানে হেডফোন গুজে সে গান শুনছে আর মাঝেমাঝে কাপে চুমুক দিচ্ছে!!

গোলাপি রঙের একটা জামা পড়েছে!! আমি ক্যাম্পাসে হোক বা বাইরে হোক অনেক সুন্দরি মেয়ে দেখেছি কিন্তু কোনদিন মিষ্টি মায়াবী

মুখ দেখিনি আজ আমি প্রথম দেখলাম!! মেয়েটা খুব সুন্দরি নাহ!! তবে সুন্দর আছে…. আজকালকার মেয়েরে ভাবে মেকাপ করতে পারলেই সব!!

আসলে কিন্তু তা না!! কাছের চুড়ি আর হাল্কা কাজল নিলে একটা ছেলে পাগল হবেই!! ৫-৭ কেজি ময়দা নেওয়া লাগেনা…
—–
সেদিনের মতো আমি চলে গেলাম…. তারপর যখন বাড়ি ফিরলাম তখন ঐ যাইগা এলেই আমার চোখ ঐ বাড়ান্দায় চলে যায়….

একটা গান মনে পড়ে হাসি পেল- তোমার বাড়ির ফুলগাছটার মায়াই পড়েছি!! এমন গান…
——
বাসায় এসে বাসার ছাদে গেলাম… আজকে চাঁদনী রাত সবকিছু চকচক করছে!! চাদনী রাতে সবায় তার প্রিয় মানুষ কে আশা করে!!

একটা মেয়ের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হবার মতো অনেক কিছুই আছে!! তবে চুল বড় মেয়েকে আমার বেশিই ভাললাগে…

সেই চুলে আমি হাত বুলিয়ে দিবো!! মিষ্টি মিয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বলবে- বাবু তুমি আমাকে এতো ভালোবাস??
মেয়েটির চোখদুটো খুব মায়াবী!! যে চোখ শতশত কবিতা বলতে পারবে… মেয়েটির হাত টা আমি ছুঁয়ে দিবো শুনেছি মেয়েদের হাত নরম হয়

এটা প্রমাণ করে দেখিনি…. আসলে বন্ধু না থাকলে যা হয়….
—-
মেয়েটিকে দেখার জন্য আমার একটা অন্যপ্রকার অনুভূতি কাজ হচ্ছিল…. প্রতিদিন কফি খেতে বসে যেতাম দোকানে

তারপর বারবার তাকিয়ে দেখতাম মেয়েটিকে… আমার দিকেও চোখাচোখি হতো… কি মায়াবী সেই চাহনী…

ঠোটের কোনে এক চিল্টে হাসি যেন সবসময় লেপ্টে থাকে… অদ্ভুত এক মিষ্টি মেয়ে!!!

দোকানদারের সাথে এখন বেশ আলাপ হয়েছে…..
আমি– আচ্ছা মামা একটা কথা বলবা??
দোনাকি– কি বলেন মামা….
আমি– ঐ যে একটা মেয়ে প্রতিদিন তাকিয়ে থাকে দারিয়ে থাকে ঐ মেয়েটা আসলে কে??
— মামা উনার নাম মায়া!! সে কথা বলতে পারেনা… এজন্য তার কোন বন্ধু নেই! সবসময় ওখানেই দারিয়ে থাকে…

 

ওর বড় ভাইয়া খুব ভাল মানুষ!! আমাকে প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন…. মায়া কে অনেক ভালোবাসেন উনি….
আমি– কথা বলতে পারেনা?? এতো মিষ্টি একটা মেয়ে অথছ কথা বলতে পারেনা?? আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো মায়া কখন বাইরে বেড় হয়…??
— মামা উনি প্রতি শুক্রবারে উনার বাবার কবর জিয়ারত করতে যায় একা… তখন কথা বলতে পারবেন…. কিন্তু লিখে বলতে হবে…
আমি— আচ্ছা মামা…..
—–
সেদিন ছাত্র কে পড়াচ্ছিলাম কিন্তু আমার মন কেমন কেমন যেন করছিল!! একটা মেয়েকে

আমি ভালোবাসতে শিখেছি আর সেকিনা কথা বলতে পারেনা??? আমার কোপাল টায় আসলে খারাপ….

এসব সাতপাঁচ ভেবেভেবে বাসার দিকে পা বাড়ালাম…. আজকেও সেদিকে তাকালাম কিন্তু একটা চাপা মন খারাপ নিয়ে!!

আজকের চাহনিতে বেশ দুঃখ ছিল…..
—-
যেদিন শুক্রবার ছিল! আমি সকালে দেখানে দারিয়ে ছিলাম!! হ্যা সত্যি আমার স্বপ্নের নায়িকা এলো!! পড়নে সাদা জামা…

হিজাব পড়া শুধু মুখটা কাছ থেকে দেখেই আমি স্থব্ধ হয়ে দারিয়ে আছি… মায়া আমার দিকে তাকিয়ে একটু বিচলিত হলো….

কারন আমি দোকানে বসে কেবল তার দিকেই তাকিয়ে থাকতাম… আর এজন্য মায়ার আমাকে চিনতে দেরি হয়নি….

যখন সে বেড় হলো তার সামনে আমি গেলাম… তারপর মুখে ছোট্ট হাসি দিয়ে তার হাতে একটা চিরকুট দিলাম….

মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো!! তারপর চলে গেলো…. আমি আর কিছুই বললাম নাহ….. সেদিন বাসায় এলাম…

বাসায় আসার পর আমি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যায়… যা সারতে ৪ দিন লেগে যায়… তারপর যখন পড়াতে যায় তখন বারান্দায় চোখ পড়লো!!

কিন্তু কিছুই দেখালাম নাহ… মন টা হাল্কা খারাপ হলো…. তারপর পড়াতে গেলাম… ফেরার পথে মামাকে জিগ্যাসা করলামঃ
আমি– মামা আজ মায়াকে দেখছিনা কেন??
— মামা উনারা তো এই বাসা ছেড়ে চলে গেছে গতকাল কেন আপনি জানেননা??
আমি– কই না!! আমি অসুস্থ ছিলাম মামা…
—- আচ্ছা মায়া আপু আপনার জন্য একটা গিফট দিয়েছে…..
আমি– কই দাও দাও এখুনি…..
—-
তারপর মুখে হাল্কা হাসি নিয়েই সেটা খুললাম… সেখানে একটা ডাইরি লিখা ছিল… আমি ডাইরি টা পড়তে শুরু করলাম…
“” কি প্রতিদিন আমাদের বারান্দায় তাকিয়ে থাকা হয় কেন হুম?? মামার থেকে আমার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে কেন??

আমরা চলে যাচ্ছি এ বাসা ছেড়ে… তবে তোমার জন্য রেখে গেলাম এই ডাইরিটা… তো মাষ্টার মসায় এরপরে তাকিয়ে কি দেখবেন??

আমি অপারেশন এর জন্য বিদেশ যাব সামনের মাসে… ফিরে এসে যেন এই ডাইরির উওর পায়…. আর তোমাকেও যেন আমি পায়।।”

পড়তে পড়তে কখন যে কান্না করে দিছি মনে হয়… তারপর মায়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম আরও…

আসলে মামা জানে আমি মামা কে ভালোবাসি এই প্রথম দেখাতে….
—–
তারপর আমি ঐ টিউশনি টা ছেরে দিয়েছিলাম কারন ঐ দিকে গেলেই আমার কান্না আসত… প্রায় ২ বছর কেটে যায় মায়া আর আসেনি…

আমি সেই কবে ডাইরি টা লিখা রেখে এসেছি কিন্তু মায়া আর আসেনি… অপেক্ষা করতে করতে আমি আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম নাহ….
—–
দু’বছর পর একদিন আমি রুম থেকে বেড় হচ্ছি!! দেখি সেই মামা আর একটা সুন্দরি মেয়ে আমার বাসার সামনে দারিয়ে আছে… মামাকে বললামঃ
আমি– তুমি এখানে মামা??
মামা– হ্যা আমিই তো!! আর তোমার কষ্ট দিবোনা ভেবে দেখো কাকে এনেছি!!
আমি– কাকে এনেছ?? উনি কে??
মামা– উনি কে জানিনা তবে উনার নাম মায়া সেই দুইবছর আগের মায়া…. আমি আসছি

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি মায়ার দিকে… বেশ পরিবর্তন হয়েছে মেয়েটা!! আগের থেকেও সুন্দরি হয়েছে মেয়েটা…

আমি তাকিয়ে থেকেই কান্না করে দিছি… তারপর আমার ডাইরি হাতে নিয়ে বললঃ
মায়া– আমাকে তুমি এতো ভালোবাস???
আমি– তোমার থেকেও বেশি…
মায়া– এজন্য আমি কথা বলতে শিখেছি তোমার ভালোবাসা আমাকে বাচতে শিখিয়েছে!! আজ আমি জীবনের সেরা সুখি মানুষ…..
আমি কোন কথা না বলে জড়িয়ে ধরলাম খুব শক্ত করে… মায়াও আমাকে জড়িয়ে নিল তার বুকে,….
মায়া কান্না করছিল… এ কান্না সুখের!! এ কান্না অপেক্ষার পর পূর্ণতা পাবার কান্না….. তারপর আমাদের ভালোবাসা বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়ে গেলো…

তারপর সবসময় ঝগড়া আর মিষ্টি অভিমান আমাদের ভালোবাসা শতগুনে বাড়িয়ে দিয়েছিল……
ভালোবাসি মায়া…. ভালোবাসি অনেক বেশি……

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত