দিবসহীন ভালবাসা

দিবসহীন ভালবাসা

-“Happy mother’s day my dear,sweet mom !!!!”

-“ওমা!!!! মায়ের ভালবাসার আবার দিবস-ও আছে নাকি রে?”

-“আছে আছে মা।সব ভালবাসার-ই দিবস আছে।তাই আমি আজকে ভেবেছি তুমি আজকে যা বলবে,আমি তাই শুনব।আজকে কলেজে যাবনা।”

-“ওরে আমার লক্ষী মেয়ে রে!!!! তাই এতো সকাল সকাল উঠার কারণ তাইনা?ঠিক আছে,তাহলে আজ সারাদিনের সংসারের সব কাজকর্ম,রান্না তুই করবি আর আমি তোর নানুর বাসায় যাব কেমন?আসব রাতে।আজকের দিনটা আমার জন্য ছুটি।
কি?রাজি তো?”

-“১০০% পারব মা।তুমি নিশ্চিন্তে থাক।”

-“তোর বাবা,ছোট ভাইকে দেখে রাখতে পারবি তো?”

-“অবশ্যই পারব।এগুলো তো একদম সহজ কাজ।”

-“ঠিক আছে।তাহলে এখন আমি তোর বাবাকে বলে বের হই।তুই নাশতা বানা।আমি তোর নানুর বাসায় গিয়ে নাশতা করব।সাবধানে কাজ করিস।আর নিজের খেয়াল রাখিস।”

-“আচ্ছা ঠিক আছে মা।”

এতক্ষণ কথা হচ্ছিল আদিবা আর তার মায়ের সাথে।আদিবা,তার মা,বাবা আর ছোট ভাইকে নিয়ে ছোট্ট সুখের সংসার তাদের।আদিবা বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করে।আজ ‘বিশ্ব মা দিবস’।তাই আদিবা কাল রাত থেকেই ঠিক করে রেখেছে আজ তার মা যা বলবে সে তাই শুনবে,তাই করবে।

– feeling excited

আম্মুর সব কাজ আজ আমি করব। নতুন অভিজ্ঞতা হবে। রাতে সবার সাথে শেয়ার করব। এখন বাই। আদিবা ফেবুতে এই লেখা পোস্ট করার পরই কাজ শুরু করে দেয়।

-“আম্মু প্রতিদিন রুটি,আলু ভাজি আর ডিম পোচ করে।আটা কোথায়?হুম পেয়েছি।কিন্তু রুটি বানায় কিভাবে?ইশশশ!!! এখন কি করি?আম্মুকে কল দিব?না থাক,আম্মু এখন রাস্তায় আছে।হুম ইউটিউব-এ দেখি।গুড আইডিয়া।” আদিবা এভাবে রুটি বানানো শিখল আস্তে আস্তে।রুটি ভেজে হটপটে রেখে দিল।এখন আলু ভাজি করবে।

-“ছুরি দেখেইতো ভয় করছে।যদি হাত কেটে যায়?নাহ্,খুব সাবধানে করতে হবে।”

আলু ভাজি কাটতে গিয়ে আদিবা আঙুলের সামান্য কিছু অংশ কেটে ফেলল।এখন কি করবে সে?এইদিকে তার বাবারও অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।ক্ষতস্থানে টুথপেষ্ট লাগিয়ে কাপড়ের টুকরো পেঁচিয়ে আবার কাজ শুরু করল।

এভাবে সে সকালের নাস্তা তৈরি করল।তার বাবা নাস্তা করে অফিসে গেল।নাস্তা করার সময় আদিবার অনেক প্রশংসা করল।আদিবা শুনেতো মহাখুশি।সে তার ছোট ভাইকে খাইয়ে,রেডি করে স্কুলে পাঠাল।আদিবার ছোট ভাই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে তাই সবকিছু গুছিয়ে দিতে হয়।স্কুল বাস আসে তাই আদিবাকে নিয়ে যেতে হলনা।

-“নাস্তা করলাম।এখন ঘর গোছাতে হবে।ইশশশ!!!!! ঘরের কি অবস্থা।মা যে কিভাবে সব সামলায় এখন হারে হারে টের পাচ্ছি।” আদিবা ঘর গুছিয়ে ঘর ঝাড়ু দিতে লাগল।ঝাড়ু দেয়ার সময় সারা শরীরে আ্যালার্জি হয়ে তার অবস্থা খারাপ।কি আর করার?ঘর মুছতে হবে তারপর দুপুরের জন্য রান্না করতে হবে তারপর গোসল করতে পারবে। ঘর মুছতে গিয়ে আদিবা যেন আর দাঁড়াতে পারেনা।হাঁটু ব্যাথায় পা যেন ভেঙে পড়তে চাচ্ছে।

-“এখন রান্না করতে হবে।উফফফ!!!! কত কাজ থাকে যে সংসারে।মা যে কত কষ্ট করে প্রতিদিন এখন বুঝতে পারছি।” আদিবা ইউটিউব থেকে রান্না করার সব কাজ শিখে নিল।ভাত,পেঁপে ভাজি,কৈ মাছ টমেটো দিয়ে আর ডাল রান্না করল।

-“গোসল করতে যাই।ঘেমে ভিজে গেছি একদম।ওহো,আবিদের তো স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। বাসায় আসার সময় হয়ে গেছে।ধ্যাৎ,কখন যে গোসল করব খাব আর ভাল লাগছেনা।এইদিকে কত কাপড় জমে আছে।সেগুলো ধুতে হবে।” আদিবার ভাই স্কুল থেকে আসার পর আদিবা ওকে গোসল করিয়ে,খাইয়ে,ঘুম পাড়িয়ে তারপর জমানো সব কাপড় ধুয়ে গোসল করে ভাত খেল।আদিবার ভাত খেতে খেতে বিকেল হয়ে গেল।

আদিবা যখন একটু ঘুমোতে যাবে তখন আদিবার বাবা আসল।আদিবা চা বানিয়ে দিল।আদিবার বাবা বলল ছাদে গিয়ে গাছে পানি দিতে আর কবুতরদের খাবার দিতে।আদিবা বেচারি না পারছে সহ্য করতে আর না পারছে কিছু বলতে।কাজ তো করতেই হবে। সব কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।এখন সন্ধ্যার নাস্তা তৈরি করতে হবে।আদিবার যেন আর হাত পা চলছেনা।শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে কখন তার মা আসবে। আদিবা নুডুলস রান্না করল।তার ভাইকে ক্লাসের হোমওয়ার্ক করিয়ে দিল।তার একটু পরেই তার মা চলে আসল।আদিবা তার মাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল।

-“এই আদিবা কাঁদছিস কেন মা?কি হয়েছে বল?”

-“তুমি আমাদের জন্য কত কষ্ট কর মা।আমি আজ খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছি।সারাক্ষণ শুধু তোমাকে মিস করেছি মা।”

-“তাহলে বোঝ মায়েরা কত কষ্ট করে তার সংসার,সন্তানদের জন্য।তুই একদিনে অসুস্থ হয়ে গেছিস।আর আমাদের অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজ করতে হয়।শুধুমাত্র তোদের সুখের জন্য।মা,বাবা দিবস আছে।সন্তানের কোনো দিবস আছে বল?ভালবাসতে কোনো দিবস লাগেনারে মা।প্রতিদিন ভালবাসা যায়।শুধু ভালবাসতে একটি ভাল মনের দরকার হয়।বুঝলি রে পাগলি?”

-“বুঝেছি মা।আমি এখন থেকে যতটুকু সম্ভব তোমাকে সাহায্য করব।”

-“এইতো আমার লক্ষী মেয়ের মতো কথা।এখন খেয়ে ঘুমা।সারাদিন অনেক কষ্ট করেছিস মা।তার জন্য সরি।”

-“ছিঃ মা!!! তুমি সরি বলছ কেন?বরং আমার জন্য ভালই হয়েছে।অভিজ্ঞতা তো হল।” আদিবা রাতে খাওয়া-দাওয়া করে অবশেষে ঘুমানোর সুযোগ পেল।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত