সারপ্রাইজ এগেইন

সারপ্রাইজ এগেইন

কুরিয়ারে আসা ব্যাগটা খোলার সাথে সাথে নাবিলা বমি করে দিলো। পাশের ঘর থেকে নাবিলার মা দৌড়ে এসে দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বলল “তুই বমি করছিস কেন? তোর এ সর্বনাশ কে করল এক্ষণ বল”?

নাবিলা তাড়াহুড়ো করে ব্যাগটা বন্ধ করে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে রুমে পারফিউম ছড়িয়ে দিতে দিতে মাকে বলল ” শুটকি খাইছি, হজম হয়নি তাই বমি বমি লাগতেছে”। নাবিলার মা এই কথা শুনে দরজার সামনে থেকে চলে গেলো।

কুরিয়ার থেকে বিশাল সাইজের ব্যাগ নিয়ে আসার পর নাবিলা খুশিতে নাচানাচি করছিল। ওর বয়ফ্রেন্ড মাঝেমাঝে ওকে না বলে কুরিয়ারে বড় বড় গিফট পাঠায়। আজকেও নাবিলা বড় গিফটের আশায় ব্যাগটা খুলেছিল। কিন্তু ব্যাগ খুলে দেখল সেখানে গিফটের বদলে রয়েছে একগাদা ময়দা কাপড়। সেই কাপড়ের গন্ধেই নাবিলা বমি করে দিয়েছিল।নাবিলা কুরিয়ারের ব্যাগের মধ্যে পাওয়া চিঠি টা বের করে পড়া শুরু করলো। কলিজার বোঁটা, আজ আমি তোমার জন্য আমার প্রিয় সব কাপড় পাঠিয়ে দিয়েছি। আশাকরি তুমি সব কাপড় নিজের ঐ কোমল হাত দিয়ে ডলে ডলে পরিষ্কার করবে। তোমার ঐ কোমল হাতের ছোঁয়ায় আমার ময়লা কাপড় হবে নতুনের মতো উজ্জ্বল ও ঝকঝকে। ইতি তোমার খরগোশ।

চিঠি পড়ে নাবিলা ওর বয়ফ্রেন্ড নাছির কে ফোন দিয়ে বলল ” ওই রামছাগল কুনহানকার, কুরিয়ারে এইসব কি পাঠাইছিস”? নাবিলার বয়ফ্রেন্ড সাথে সাথে উত্তর দিলো ” সারপ্রাইজ”! নাবিলা বলল ” আরে রাখ তোর সারপ্রাইজ। কয়মাস কাপড়চোপড় ধুতে দিস না এইডা আগে বল”? নাবিলার বয়ফ্রেন্ড আস্তে করে বলল ” মাত্র তিন মাস”।

নাবিলা বলল “তুই জানিস তোর কাপড়ের গন্ধে পাশের বাসা থেকে মানুষ এসে বিচার দিয়ে গেছে। আমাদের বাসা থেকে নাকি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ওরা নাকি সিটি কর্পোরেশনে আমাদের নামে বিচার দিবে।তারপর ভয়ে আব্বা, আম্মা, আর আমার পারফিউম তোর ময়লা কাপড়ে মেরে কোনরকমে বাসায় টিকে আছি। আর তুই ছোট ঐডা কি পাঠাইছিস! ঐডাও কেউ অন্য মানুষ দিয়ে ধুয়ে নেয়”? নাবিলার বয়ফ্রেন্ড আমতা আমতা করে বলল ” আসলে কাপড়গুলার সাথে ওটাও হয়তো ভুলে চলে গেছে। পরে মনে হয়েছে ভুলে ওটা দিয়ে ফেলেছি”। নাবিলা রেগে গিয়ে বলল “ঐ তুই ফোন রাখ”।

নাবিলাও কম চালাক না। বাসার বুয়া কে ডেকে বলল “খালা, এই কাপড় গুলা ধুয়ে দেও। কেউ কিছু কইলে বলবা তোমার ছেলের কাপড়। আর এই নেও পঞ্চাশ টাকা তোমার বকশিশ”। বুয়া খুশি মনে নাবিলার বয়ফ্রেন্ডের কাপড় গুলা নিয়ে ধুতে গেলো। কিন্তু একটু পরেই ফিরে এসে বলল “আপা কাপড়ের মধ্যে একটা কাগজ পাইলাম। আপনি তো কইছিলেন কোনো কাগজ পাইলে আপনাকে দেখিয়ে ফেলে দিতে। এই লন কাগজ টা”। নাবিলার হাতে কাগজ দিয়েই বুয়া আবার রুম থেকে বের হয়ে গেলো। নাবিলা কাগজ টা হাতে নিয়েই দেখল সেটা একটা চিঠি। অন্য কোনো মেয়ে ওর বয়ফ্রেন্ড কে দিয়েছে। চিঠিতে লিখা…

প্রিয় নাসির,

তোমার দেওয়া ময়লা কাপড় আমি নিজ হাত দিয়ে ধুয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করেছি। তোমার কাপড় ধুতে ধুতে আমার হাত ছিলে গেছে। দুপুরবেলা যখন সেই হাত দিতে খেয়ে বসেছি। এমন মরিচ হাতে ধরেছিল যে নাক ও চোখের পানি একসাথে আমার কোমল গাল বেয়ে পরেছে। পরে অবশ্য চামচ দিয়ে খেয়েছি। আসলে খিদা লেগেছিল তো।

আশাকরি তুমি আমার কাপড় ধোঁয়া পছন্দ করবে। আর হ্যাঁ তোমার ঐ ছোট কাপড় টাও আমি যত্ন করে ধুয়েছি। তুমি দেখলেই বুঝবে। ইতি তোমার কুলসুম। চিঠি পড়ে নাবিলার রাগ ১২০ ডিগ্রিতে উঠে গেলে। শালার বয়ফ্রেন্ড প্রত্যেক মাসে ওর ময়লা কাপড়চোপড় অন্য মেয়েদের থেকে ধুয়ে নেয়। দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। ঐ খালা কাপড় গুলা নিয়ে এদিকে আসো তো।

কয়েকদিন পরের ঘটনা নাবিলা বসে আছে এমন সময় ওর বয়ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলল “হ্যালো! তুমি আমার কাপড়চোপড় আলকাতরা দিয়ে ধুয়েছে কেন”? নাবিলা সাথে সাথে উত্তর দিলো ” সারপ্রাইজ”। নাবিলার বয়ফ্রেন্ড বলল ” সারপ্রাইজ মানে”? নাবিলা বলল “তুই প্রত্যেক মাসে মাসে তোর অন্য গার্লফ্রেন্ডদের থেকে কাপড় ধুয়ে নেস না”? নাবিলার বয়ফ্রেন্ড বলল ” এটা তুমি কিভাবে জানলে”? নাবিলা বলল “সারপ্রাইজ “

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত