প্রেম পাগল

প্রেম পাগল

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে ঢুকেই চোক্ষুজোড়া আমার কপালে উঠে গেলো। আবির দেখি in a relationship স্টাটাস দিয়েছে। আমি একটা পাই না আর এই কাইল্লা দেখি ৬-৭ টা ক্লিয়ার করে ফেলেছে। তো যাই হোক সত্যতা জানার জন্য নক দিলাম,

=কিরে কবে শুরু করলি

=১ সপ্তাহ হলো প্রেম, জুলি জোড় করলো তাই আজ স্টাটাস দিলাম। (আবির)

=প্রেম করলি জানালি না আচ্ছা বাদ দে জানোস তো আমি সিংগেল এখন বল কেমন করে প্রেম করতে পারমু

=সিম্পল!!! এক নয়নে অনেক সময় তাকিয়ে থাকবি যখন দেখবি মেয়ে টা মুচকি হাসি দিতেছে তখন ফুল নিয়ে প্রপোজ করে ফেলবি। (আবির)

বাহ!! দারুন বুদ্ধিতো। বন্ধুর বুদ্ধি মাথায় রেখে এখন যাচ্ছি শহরের ব্যাস্ততম ফুচকার দোকানের দিকে। উদ্দেশ্য একটাই, আমাকেও প্রেম করতেই হবে। রিলেশনশিপ স্টাটাস না দিতে পারলে মনে আর শান্তি পাবো না। কিন্ত কেমন জানি ভয় হচ্ছে এর আগে প্রেম করেছিলাম ফেঁসবুকে বন্ধুর কথামত। কিন্ত যার সাথে প্রেম করেছিলাম সে শালায় ও পোলা ছিলো আমার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রায় ১৫০ টাকা মেরে পরে বল্ক মেরে দিয়েছিলো।এখন আমি সেই আকাঙ্ক্ষিত ফুচকার দোকানে।

উদ্দেশ্য মেয়ে পটানো।সিংগেল লাইফ আর ভালো লাগে না। ফুচকার দোকানে সব সময় মেয়েদের ভীড় লেগেই থাকে ভাবতেছি ভবিষ্যৎ এ ফুচকার দোকানই দিবো। দেখেশুনে একটা খোলা জায়গায় গিয়ে বসলাম, অনেকক্ষন বসে থাকার পর খেয়াল করলাম এক রমণী আমায় দেখে হাসতেছে। আমার মনে তো ঘন্টা বেজে উঠলো এই বুঝি প্রেম হয়ে গেলো। আমার খুশি দেখে কে, খুশীতে গদগদ হয়ে ২টা গোলাপ বাড়িয়ে দিলাম, আমি বড্ড প্রেমার্থ আমায় একটু প্রেম দাও। পরে সুদে আসলে ফেরত দিয়ে দেব। আয় কাছে আয়! এই বুক ভরা ভালোবাসা তোর জন্য! কাছে আয় সব দিয়ে দেব। এই তোরা কই রে! এই দিকে একটু আয় নাহ,এই পোলা বড্ড প্রেমার্থ আয় সবাই মিলে একটু প্রেম দেই। (হিজড়া)

=আও!!! একি!!! এরা দেখি সব হিজড়া। এখানে যে এত সুন্দর সুন্দর হিজড়া পাওয়া যায় তা তো শুনি নাই। আমার মত আমি উল্টো দৌড়ের উপর আছি। হাতে রয়েছে ২ টা গোলাপ। এক পর্যায়ে থামলাম স্কুলের কাছে। আমায় দেখে আমার ক্রাশ বলতেছে,

আমি জানি তুমি আমার জন্য ফুল এনেছো কিন্ত এখানে অনেক মানুষ কেও দেখে ফেলবে তুমি রাতে আমাদের বাড়ির আম গাছ তলায় এসো আমি আসবো। (ক্রাশ)

বাহ! বাহ মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। আমি তো কল্পনাও করি নাই যে ক্রাশ এমন ভাবে রাজি হয়ে যাবে। বাড়ির কাছে ফুল থাকতে আমি কাটার আঘাত খেতে কই গেছিলাম!!! রাতের অপেক্ষায় রইলাম কখন রাত হবে। এইবার বুঝি স্টাটাস দিতে পারবো সত্যিকারের। সবাই কত বাহবা দিবে ভাবতেই কেমন ব্যাঙ এর লাফ দিয়ে উঠলো ভেতরটা।

এখন আমি ক্রাশের বাড়ির আঙিনায়। কিন্ত ক্রাশ কই!!! আম গাছ তলায় কেও তো নেই। আরে ওই তো সাদা সাদা কি জেনো দেখা যায়! ক্রাশ মনে হয় অপেক্ষা করতেছে। গিয়ে ২টা গোলাপ বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, শুধু তোমার জন্য আমার এই টাটকা ২ টা তাজা গোলাপ

কিন্ত একি!! এ দেখি ক্রাশের বাবা।আমায় খপ করে ধরে ফেলেছে। এক প্রকার দস্তাদস্তির মাধ্যমে কোন মতে জান নিয়ে ফেরত এলাম।কিন্ত পেছন থেকে শুন্তে পাচ্ছি তার চিৎকার। ধর বেটারে ধর,এসেছিলাম হিসু করতে বেটা আমার ইজ্জত নিয়ে পালাচ্ছে ধর।একটা জিনিস বুঝলাম না আমিতো ফুল দিয়েছিলাম ইজ্জত নিলাম কেমন করে!!!!! মাথায় হাত দিয়ে দেখি তার সাদা লুঙি। এতক্ষনে বেপারটা বুঝতে পারলাম। পরেরদিন ক্রাশ আমায় বাশ দিয়ে চলে গেল। নাহ এই প্রেম টাও হইলো না।

আচ্ছা আমায় দিয়ে কি প্রেম হবে না???  পরেরদিন গেলাম প্রাইভেট এ।একটু পড়াশোনা করা দরকার। স্যার তার ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রি চাই বিজ্ঞাপন দিয়েছে আর সেই বিজ্ঞাপন আমাকে দেখাচ্ছে। স্যার কে বললাম আপনার তো মেয়ে আছে তাই না স্যার????

=হুম,তা হটাৎ এই কথা যে (স্যার)

=যখন পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিবেন তখন এই ঘরের ছেলের দিকে সুনজর দিয়েন।

অতঃপর স্যারের ঝাড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। আমার প্রেম করাও হবে না বিয়ে করাও হবে না দেখছি। ভাবতেছি আজীবন সিংগেল থেকে যামু।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত