ভালোবাসা

ভালোবাসা

প্রথম দিন….

-হাই আপু!
–Seen But No Reply…
-আপুকী চোখে কম দেখেন??
–কে আপনি ?আর কী বলতে চাচ্ছেন আপনি??
-কিছুনা।ম্যাসেজ সিন বাট রিপ্লাই আসলোনা।তাই ভাবলাম আপনি মনে হয় চোখে কম দেখেন!
–ভদ্রভাবে কথা বলবেন।আর আপনার সাথে আমার আজাইরা কথা বলার কোন সময় নাই বুঝছেন।আরো পরবর্তীতে ম্যাসেজ দিলে কিন্তু সোজা ব্লক লিষ্টে ঝুলে থাকবেন!বাই।
-ওকে।তবে ভবিষ্যতে আবার ম্যাসেজ যাবে আপনি এটা শিওর থাকতে পারেন।

দ্বিতীয় দিন…

-কেমন আছেন?
–Seen But No Reply…
-আপু কথা বললে কী খুব দোষ হবে?
–আপনার মতো অভদ্র ছেলেদের সাথে

কথা বলার আমার কোন ইচ্ছা নেই!আর আমার বয়ফ্রেন্ড আছে তাই আর ডিষ্টার্ব করার চেষ্টা করবেননা ভবিষ্যতে।তাহলে কিন্তু সত্যিই ব্লক খাবেন।

-ও ঠিক আছে। তবে বয়ফ্রেন্ডের নামটা কী বলা যাবে?
–“Active 2 minute ago”

তৃতীয় দিন…….

-কালকের উত্তরটা কিন্তু দিলেননা আপু?
–কিসের উত্তর?
-আপনার বয়ফ্রেন্ড এর নামটা যে শুনতে চেয়েছিলাম?
–নাম শুনে আপনার লাভ কী হবে শুনি?
-না এমনি শুনতে চাইলাম আরকি।তবে আপনি ইচ্ছুক না থাকলে বলার দরকার নাই।
–হুম আমি ইচ্ছুক নই আপনাকে বলতে। অতএব আপনি আমাকে আর ম্যাসেজ দিয়েননা। বিরক্তিকর লোক একটা!

-এটা ঠিক।কিন্তু আপনার চোখ দুটোনা খুবই সুন্দর!তাই যখনই আপনাকে অনলাইনে দেখি তখনই আর ম্যাসেজ না দিয়ে আর পারিনা।তবে আপনি যখন এতই বিরক্ত হচ্ছেন তাই ভবিষ্যতে আর ম্যাসেজ না দেওয়ার জন্য যখা সম্ভব চেষ্টা করবো!

–হুম।সেটাই বেটার.!
-হুম।কিন্তু আমার খুব কষ্ট হবে যে?
–তাই আমি কী করবো কাঁদবো নাকি?আজাইরা ফালতু কথা বার্তা যত্তসব.!
-এত ভাব দেখান কেন আপু?
–তা কী আপনার পিছনে সারাদিন পরে
থাকবো নাকী?যত্তসব ফালতু কথাবার্তা! বাই আমার ম্যসেজ দিবেন না!
-বাই।

চতুর্থ দিন……

-হাই।কেমন আছেন??
–Seen But No Reply..
-প্লিজ রিপ্লাইদেন।আপনার সাথে কথা না বললে আমার ভালোলাগেনা।
–Seen But No Reply…

-কী শান্তা ম্যাম রিপ্লে দেবেন না?
–কে আপনি বলুনতো!আর আমার নাম জানলেন কীভাবে আপনি?
-হুম!বলুনতো কে আমি?
–আমি জানবো কীভাবে আজবতো?
-হয়তো আপনার পরিচিত কেউ একজন।
অনুমান করুনতো দেখি পারেন কিনা?
-আমি ওতো অনুমান করতে পারিনা বলুন আপনি?
-তবুও..বলেন দেখি দু একজনের নাম?
–আমি বলতে পারবোনা।আপনি বলেন?
-Sent a photo.

–ঐ কুত্তা মাহমুদ!তুই আমার সাথে এমন করলি।তোর সাথে আর কোনদিন কথা বলবোনা যা ।
-ওই কুত্তি জানিসনা, তোকে কতবার বলেছি, বাঙ্গালী মেয়েদের স্বামীর নাম মুখে আনতে নেই?
–ওই কুত্তা।তুই আমার কোন দিনকার স্বামীরে?
-হইনি এখনো, তবে হবো তো একদিন?
–কুত্তা শালা।আমি মরে যাবো,তবুও তোর মত লুজারকে বিয়ে করবোনা কোনিদিন।
-তুইনা না করলি।আমার শ্বশুর শ্বাশুরী তোকে বিয়ে দিবে আমার সাথে।
–আমি না করলে।তারা কীভাবে দিবে হুম বল??
-জোড় করে দিবে!
–তাহলে আমি বাসায় থেকে পালাবো!
-বিয়ের দুইদিন আগে শ্বাশুরী আম্মাকে বলবো,তোকে ঘরে আটকে রাখতে,তখন কীভাবে পালাবি?
–রাতের বেলায় জানালা দিয়ে বের হবো?
-রাতে আমি তোদের বাসার নিচে দাড়িয়ে থাকবো।দেখি কীভাবে পালাস?

–তাহলে আত্নহত্যা করবো আমি।তবুও তোকে বিয়ে করবোনা বুঝলি!তখন তুই কী করবি বল??
-জানিনা,তবে মনেহয় আমিও চলে যাবো পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে!
–তাতে আমার কী?
-সত্যিই তোর কিছুনা?
–না।
-তাহলে থাক গুড বাই।
–কই যাস?
-তোর কাছ থেকে অনেকদূরে। যেখানে গেলে আমাকে আর দেখবিনা!
–তাহলে, আমি বাঁচবো কী করে?
-তাতে তোরকী!তুইতো আমাকে আর ভালোবাসিসনা?আর আমি মরে গেলেও তো তোর কিছুই হবেনা,একটু আগেইতো বললি?

–চুপ কর!
-কেন চুপ করবো কেন?
–জানিনা!
-শান্তা তুই আমাকে আর এত অবেহেলা
করিসনা।তাহলে কিন্তু সত্যিই একদিন এ পৃথিবীতে আর আমার অস্তিত্ব খুজে পাবিনা।
–এতো অভিমান কেনরে তোর?
-জানিনা!তবে কেন জানি আপন মানুষের করা অবহেলাটা সহ্য করতে পারিনা!
–সারা জীবন এভাবে ভালোবাসতে পারবিতো?
-জানিনা,তবে এটা বলতে জীবন থাকতে কোনদিন তোকে কষ্ট পেতে দিবোনা।গুড বাই,ভালো থাকিস!
–কই যাস?
-চিন্তা করিসনা এখন ঘুমাবো, মরবোনা!
–আরেকবার মরার কথা বললে কিন্তু আমি কেঁদে দিবো।
-কেন?তুইতো আমাকে ভালোবাসিসনা?আর আমি মরলেতো তোর কিছু যায় আসেনা?
–তুইনা খুব খারাপ!

-হুম জানি,খারাপ দেখেইতো তুই আমাকে ভালোবাসিসনা!
–তুইওনা শুধু আমাকে কষ্ট দিস।আর বুঝতেও চেষ্টা করিসনা কোনদিন আমার মনটা কী চায়?
-তোর মন কী চায়?
–জানিনা।তবে কেন যেন তোকে ছাড়া জীবনটা কল্পনা করতে পারিনা!
-এতই যখন ভালোবাসিস তবে কষ্ট দিশ কেন??
–তোকে কষ্ট দিতে কেন যেন খুব ভালোলাগে।আবার পরে মনে হলে কেন য়েন বুকটা ফেটে আসে।
-এত ভালোবাসিস তবে বলিসনি কেন?আর আমি যদি সত্যিই হারিয়ে যেতাম!
–এ কথা আর কথনো মুখে আনবিনা। তাহলে আমি কিন্তু সত্যিই কেঁদে দিবো।
-আর বলবোনা কখনো কথা দিলাম।এখন বাই সকালে আমার অফিস আছে।আর ভালো থাকিস,কালকে আমি তোর শ্বশুর শ্বাশুরীকে পাঠাবো তোদের বাড়িতে রেডি থাকিস।

–এই আমি তোকে বিয়ে করতে পারবোনা।
-কী বললি?
–হি হি হি। ভালোবাসি খুব!
-হা হা হা।আমিও খুব। বাসর রাত,বউ বসে আছে ঘোমটা দিয়ে…

–ঐ তুই আমার কাছে আসার চেষ্টা করবিনা!
-কেন?
–জানিনা! কাছে আসলে কিন্তু খুব খারাপ হবে। আমি চিৎকার করবো।
-তাহলে আমি কোথায় ঘুমাবো?
–ফ্লোরে ঘুমা।
-তা তুই আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলি কেনো বললেই হতো আগে।শুধু শুধু এখন আমাকে কষ্ট দিচ্ছিস কেন বিয়ে করে?

–জানিনা যা বলছি তাই কর তারাতারি ফ্লোরে বিছানা কর!
-না থাক তা আর লাগবেনা,আমি চলে যাচ্ছি এখান থেকে, আর আমায় দেখবিনা কোথাও কোথাও!
–এ বাবা আমার বর দেখি মেয়েদের মতো কাঁদছে!
-চুপ কর!
–জানিস বিয়ের আগে বাসর রাত নিয়ে, তোকে নিয়ে আমার একটা স্বপ্ন ছিলো?
-কী স্বপ্ন।আমাকে কষ্ট দিবি?
–না!বাসর রাতে তোর সাথে আমি ফ্লোরে ঘুমাবো,হিহিহি।তুই দেখি আমার সেই স্বপ্নটাও পূরণ করতে দিবিনা।
-ওহহ.!
–হুম!এখন একটু আদর কর আমারে।
-থাম আগে ফ্লোরে বিছানা টাতো পারি।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত