দেওয়ালের ভালোবাসা

দেওয়ালের ভালোবাসা

অষ্টম শ্রেনিতে থাকা কালীন এক বড় ভাইয়ের দেখা দেখি আমি ক্লাস রুমের দেয়ালে I love u সুমি লিখেছিলাম, আর এটা আমার ক্লাসের অনেকেই দেখে ফেলে, আর নানান ভাবে আমাকে জালাত, তখন এর মানে বুঝতাম না, কিন্তু এটা লেখার পর নিজে নিজেই হাসতাম আর ভাবতাম এর মানে কি হতে পারে, কাউকে কিছু জিগ্যেস করলে সবাই বলতো বড় হও তারপর বুঝবি।

একদিন কে জানি আমার আর আমাদের ক্লাসের বাংলা ম্যম মেয়ের নাম নাম টয়লেটের দেওয়ালে লিখে রাখে, এ বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না, পরের দিন ক্লাসে ঢুকতেই পিয়ন হেড স্যারের রুমে ডাকে নিয়ে যায়, তখন হেড স্যার ইচ্ছা মত পাছায় বাড়ি মারে কিন্তু কি জন্য মারলো সেটা বললো না, শুধু এতটুকু বললো সামনে দিন থেকে যেন এমনটা না করি। পরে ক্লাসে গিয়ে জানতে পারি কে জানি আমার নাম আর ম্যাম এর মেয়ের নাম। অনেকদিন হলো তেমন কিছু আর ঘটেনি কিন্তু হঠাৎ ৩ মাস পর আবার সেম একই কাহিনী, আবার টয়লেটে কে জানি লিখে রেখেছে নীলা + সা।

তাই ভাবলাম হয়তো কেউ আমার সাথে শত্রুতা করতেছে, তাই আমার কিছু সাঙ্গ পাঙ্গ মানে বন্ধুদের মাধ্যমে খোজ লাগালাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারতেছে না। কিন্তু এবারও সেম কাহিনি, হোড স্যার ডেকে পাঠালেন, আগের বার যে রকম মাইর দিছিলো সেই ব্যাথায় তিনদিন ভালো মতো বসতে পারিনি, তাই এবার পাছার মধ্যে বই বেধে গেলাম যাতে গতবারের মত পাছায় মারলে না লাগে। কিন্তু এবার আর মারলেন না কিন্তু আঙ্গুলের মধ্যে কলম দিয়ে ইচ্ছা মত দিলেন, আর কড়া ভাবে বললেন সামনে বার যেন টয়লেটের দেওয়ালে লেখা না দেখি, আর যদি লেখ তো এর পরিনাম কিন্তু ভয়াবহ হবে, আর সরাসরি টিসি দিয়ে দিব, এটা যেন মনে থাকে।

আমিও তাহার কথায় মাথা নেড়ে হা হু করে তাহার রুম থেকে চলে এলাম। কিন্তু কে এই কাজটা করেছে তাকে যে ভাবেই হোক ধরে আচ্ছা মত ক্যালানি দিতে হবে, এজন্য ক্লাসের সময় কেউ বাহিরে গেলেই তাহার পিছু নিতাম, কে আমার সাথে এত বড় শত্রুতা করতেছে তাকে ধরার জন্য। কিন্তু কোন ভাবেই তাকে ধরেতে পারি না। আর এভাবে আমার নাম দেওয়ালে লিখে সবসময় ক্যালানী খাই, এজন্য নিয়ত করি আর কোনদিন স্কুলে যাব না, কিন্তু সামনে মাস বার্ষিক পরিক্ষার কারনে মা জোর করে পাঠিয়ে দিল, কিন্তু সেদিনই একই কাহিনি, এবার আর অন্য কারোর নামে না সরাসরি হেড স্যারের মেয়ে তৃষার নাম জুড়ে দিয়েছে। মনে মনে ভাবতেছি এবার আর রক্ষা নেই, তাই যে করেই হোক মূল আসামী কে ধরে তার শাস্তি তাকে দিতেই হবে, এজন্য হেড স্যার কে বুজিয়ে সবার হাতের লেখা নিয়ে জমা করা হলো কিন্তু কারোর হাতের লেখার সাথে ঐ লেখা মিলে না।

এজন্য আবার স্যারের হাতে ক্যালানি খেতে হলো। কিন্তু সামনে পরিক্ষা দেখে স্যার টিসি দিলেন না কিন্তু পরিক্ষার পর আমাকে আর রাখবেন না বলে দিলেন, এজন্য পরিক্ষা চলাকালিন মুল আসামি কে ধরার জন্য নেমে পড়লাম। আর ভাবতে থাকলাম কে হতে পারে, কিন্তু কিছুই মিলাতে পারতেছি না, অবশেষে মিললো মূল আসামির খোজ, যে কি না আমার পিয়ন চাচা, আমার নামে এতবড় ষড়যন্ত্র করেছে, পরে জানতে পারি তার গাছের নাড়িকেল চুড়ি করার কারনে এমন করে আমাকে শাস্তি দিলো। তাই বুইড়া চাচাকে হাতে নাততে ধরার জন্য কাউকে কিছু না বলে স্কুল খোলার আগেই গোপন ক্যামেরা সেট কররে রাখি, আর সেখানে চাচা মিয়া ধরা পড়ে জায়।

আর ছাত্র হিসাবে মোটামুটি ভালো হওয়ার কারনে বার্ষিক পরিক্ষায় স্যারের মেয়েকে সাহায্য করার কারনে তার সাথে ও ভাব জমে জায়, আর এদিকে রেজাল ও মোটামুটি ভালো হওয়ায় এখন ওয়ালে না সরাসরি হেড স্যারকে তাহার মেয়েকে নিয়ে চিঠি লিখে তাহার হাতেই ধড়িয়ে দিলাম, আর বলে এলাম এতদিন আসল আসামি কে না ধরে আমার কথা না শুনে আমায় ইচ্ছা মত কেলিয়েছেন, এখন নিজের মেয়ের ভালো না চাইলে গায়ে হাত দিয়েন।

তখন টের পাবেন মজা কারে কয়, আর আগুনে হাত দিলে তার পরিনাম কেমন ভয়াবহ হতে পারে। স্যার এ কথা শুনার পর শুধু মুখ হা করেরে তাকিয়ে ছিলেন আর কিছু বলেনি, শুধু তাহার মেয়ের সাথে আমার প্রেম করতে দেখা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। আর স্কুলের সবাই আমার দেখা দেখি সবাই যে যার মত করে করে সারা স্কুলের দেওয়ালে + যুক্ত করে রাখে। দেওয়ালে আর রং করার ও লাগে না।

স্যার অসহায়দের মত চাইয়া চাইয়া দেখেনে, আর একদিন ডেকে বলে বাবাজি যা হবার হয়েগেছে, তুমি ভুলে যাও সেসব কথা, তুমি আমার একমাত্র মেয়ে কে ভুলে যাও, আর দেওয়ালে নতুন ভাবে রং করে দিতেছি তুমি যত পার সেখানে লিখ। স্যার শুনের আপনি আমার ভবিষ্যৎ শশুর মশাই, লেখা লেখি ছেড়ে দিয়েছি এখন আর গোপনে না সরাসরি করি, তাই মাফ করবেন আপনার এমন কথা রাখতে পারলাম না, আর যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন তো আপনার মেয়েকে নিয়ে ভেগে যাব তখন বুজবেন কেমন লাগে। আমাকে মারার সময় আপনার মনে ছিল না।

এখন মেয়ের সুখ চাইলে তাড়াতাড়ি আমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন, আর না পাঠাতে পারলে আমাকে বলেন আমি বাড়িতে বলে দিব আপনার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে বলবো। আর আপনার অমত থাকলেও কিছু করার নাই, বিয়ে তো আপনার মেয়ের সাথেই হবে। আর কোন চালাকি করলে এর ফলাফল ভালো হবে না, এটা মনে রাইখেন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু হবু শশুর আব্বা, আসি পড়ে দেখা হবে। আপনার মেয়ে আমার জন্য ওয়েট করতেছে দেরি হলে আবার রাগ করবে ,আর যদি জানতে পারে আপনার জন্য দেরি হয়েছে তো বুঝতেই পারতেছেন আপনার উপর কেমন ঝড় আসতে পারে। এটা বলে চলে আসলাম।এখন দিবি তাহার মেয়ের সাথে প্রেম করতেছি আর ভবিষ্যৎ প্লানিং করতেছি, আমার যত পোলা হবে সাবাইকে এমন করে নাম লিখে প্রেম করতে বলবো, অত কষ্ট করে প্রেম পত্র না লিখে দেওয়ালে প্লাস লিখবা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত