প্রকৃত ভালবাসা

প্রকৃত ভালবাসা

আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আমার একটা ফ্রেন্ড ছিল । তার এক মেব (মেয়ে বন্ধু) ছিল । আমার বন্ধুটার আসল একটা নাম আছে কিন্তু সেই নামটা আড়ালে পড়ে গেছে । সবাই এখন তাকে বিড়াল বলেই ডাকে। আর তার মেব হচ্ছে বিড়ালিনী। আসলে মানুষ অপেক্ষা পশুপাখির ভালবাসা অধিক নিঃস্বার্থ ও নির্লোভ। আমার সেই বন্ধুর মতো নিঃস্বার্থ ভাবে একটি ছেলে আর মেয়ে পরস্পরকে ভালবাসত। ছেলেটার নাম ছিল সাগর আর মেয়েটার নাম নদী। তাদের ভালবাসাও ছিল সাগর -নদীর অনুরূপ । সাগর ছাড়া নদীর যেমন অস্তিত্ব নেই তেমনই নদী ছাড়া সাগর শাখা প্রশাখা বিহীন। তাঁরাও তেমনি সাগর – নদীর মতো ছিল । তবে তাদের মধ্যে যে কীরূপ সম্পর্ক ছিল তা পরে বলছি । এখনকার সমাজে কথায় অনেকে বলে আমি তোমাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি কিন্তু বিপদের সময় বলে আপনি বাঁচলে বাপের নাম।

সাগর আর নদী কোন দিন কথায় প্রকাশ না করলেও একজনের জন্য অন্যজন জীবন বাজি রাখতেও রাজি ছিল । তাদের ভালবাসার মধ্যেও তারা তাদের মা – বাবাকে সন্তানের ভালবাসা থেকে বন্চিত করেনি। আমি আকাশ । ঢাকায় একটা চাকরি করি । ঈদের ছুটিতে দেশের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলাম। ফেরি পারাপারের সময় দেখি একটা মেয়ে ফেরি থেকে কীভাবে যেন পানিতে পড়ে গেছে । তখনই দেখি একটা ছেলেও পানিতে লাফ দিলো। কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারলাম না। তারপর দেখি ছেলেটাকে মেয়েটা জড়িয়ে ধরেছে আর দু জনেই ডুবে যাওয়ার ভাব । তখন তাদের বাঁচাতে আমি ফেরিতে থাকা লাইফ জ্যাকেট পড়ে পানিতে ঝাপ দিলাম অনেককক কষ্টে দুজন কে নিয়ে ডাঙায় উঠলাম।তারপর তাদেরকে পাশের হটেলে নিয়ে গেলাম।

তারপর জামা কাপড় বদলানোর পর তাদের কাছ থেকে সবটা জানতে চাইলাম। জানতে পারলাম যে তাদের একজনের নাম সাগর অপর জনের নাম নদী । তাদের ভালবাসার কথা জানাল তারা । কিন্তু তাদের ভালবাসাটা কীরূপ ছিল তা বলল না। যাই হোক সাগর বলল যে তারা বাস থেকে ফেরিতে নেমে দাঁড়িয়েছিল এমন সময় হঠাত্ নাকি নদী পানিতে পড়ে যায়। এদিকে নদী সাঁতার জানে না। তাই সাগর নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়ল নদী কে বাঁচাতে ।কিন্তু নদী সাগর কে জড়িয়ে ধরায় সে ও সাঁতার কাটতে পারছিল না। আমি নিয়ে না আসলে হয়তো ওরা। তো যাই হোক তোমরা যখন এতোই ভালবাস দুজন কে তাহলে না হয় আমি তোমাদের মা বাবার সাথে কথা বলে তোমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করি।আমার কথা শুনে দুজন একসঙ্গে বলে উঠল না।

আমি চমকে উঠলাম কী বলে এরা? একে অপরকে এত ভালবাসে তো বিয়ে করতে চায় না কেন । নদী বলল আমাদের ভালবাসা ভাই বোনের মতো। আমি তো এবারে আকাশ থেকে পড়লাম। মনে মনে বললাম এক মায়ের পেটে না জন্মেও ছেলে আর মেয়ে ভাই বোনের মত ভালবাসতে পারে, এ ও কী সম্ভব? এরকম ভাই বোনের মতো ভালবাসা সারা জীবন কাছ থেকে দেখার খুব ইচ্ছা হলো। আমরা তিন ভাই বোন। আমার ছোট ভাই সূর্য এমএ পাশ করে কয়েক দিন হলো চাকরিতে ডুকেছে আর আমার ছোট বোন পাখি এখন বিএ পড়ছে। আমার মনে হলো আচ্ছা সাগর আর নদীর মতো ভালো মনের মানুষের সাথে আমার ভাই বোনের বিয়ে হলে কেমন হয়?

তাহলে সাগর আর নদীর ভাই বোনের সম্পর্ক ও টিকে থাকবে আবার আমি কাছ থেকে এমন ভাই বোনের ভালবাসা দেখতে পাব। আমি সাগর আর নদীর কাছে মতামত চাইলাম যে তারা আমার ভাই বোনের সঙ্গে বিয়ে করতে রাজি আছে কিনা। তারা বলল আপনিই তো কিছুক্ষণ আগে আমাদের জীবন বাঁচালেন আপনার ভাই বোনের সঙ্গে বিয়ে করতে আমাদের আপত্তি নেই। এদিকে আমি ও জানি যে আমার ভাই বোন আমার মতেই চলবে এবং আমার বাবা মা আমার কথায় দ্বিমত পোষণ করবেন না।

সাগরের বাবার কাছে সাগরের সাথে পাখির বিয়ের প্রস্তাব দিলাম।অন্যদিকে নদীর বাবার কাছে নদীর সাথে সূর্যের বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। যাক দু জনেই রাজি হলো। অবশেষে ভাল দিন দেখে এক বিকালে একই সাথে সাগরের সাথে পাখির আর নদীর সাথে সূর্যের বিয়ে হলো। দুই ভাই বোনের সঙ্গে দু ভাই বোনের বিয়ে । এমনি করে জীবনের প্রতি মূহূর্তে ভাই বোনকে আর বোন ভাইকে ভালবাসে নিজের জীবনকে সার্থক করে তুলেছে । আর এটাই প্রকৃত ভালবাসা ।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত