তোমার ভালোবাসা

তোমার ভালোবাসা

-ওই, শুনো আজকে জলদি বাসায় আসবা!(তানিয়া)
-কেনো, আজকে কি বিশেষ দরকার আছে কোনো!(তুষার)
-কেনো কি? আসতে বলছি আসবা, নাকি অফিসে তোমার আরেকটা বউ আছে যে, তাকে সময় দিয়া আাসতে দেরি হবে!

-না, এমন কথা বইলো না তো, তুমি বলছো, আমি আসবো নি, কারণটা জানলে ভালো হতো না আমার!
-জানা লাগবো না তোমার, যদি আসতে বেশী রাত হয় তাহলে তোমার সংসার আমি আর করবো না,মনে রাইখো!
-আচ্ছা, আমি বলছিতো আসবো!
-যাও আমার মুখের দিকে না তাকাইয়া থেকে অফিসে যাও এখন!
-যাচ্ছি বায়!
-বায়!

তানিয়ার বায় কথাটা শুনেই বেরিয়ে গেলাম অফিসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মাথার মধ্যে আজকে একটা টেনশন রয়েই গেলো যে, আজকে ওর অনেক রাগ হয়েছে।কিন্তু কেনো যে হয়েছে জানি না। গতকাল রাত থেকেই রাগ করে আছে। কোনো কথা বললেই আরো রেগে যাচ্ছে।

তবুও আমি ওর রাগ দেখে কিছু বলতেও পারলাম না। ভয় লাগে যদি রাগের বসে কিছু করে ফেলে আমার উপর। তাই কিছু বলি নি আজও রাগ উঠলে। রাগ থামাতে চেষ্টা করলেই উল্টা বকা খাওয়া লাগে অনেক ওর হাতেই। তাই আজকে অফিস থেকে সন্ধ্যা নামার আগেই চলে গেলাম বাসায়। বাসায় যেতে যতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে অবশ্য। বাসায় পৌছে দেখি দরজা খোলা। আমি বাসায় ডুকে অনেক বার তানিয়াকে ডাকলেও কোনো সারা,শব্দ পেলাম না।আমার একটা দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে গেলো। তানিয়া কই গেলো হঠাৎ করে, আমাকে বললো তারাতারি আসতে,আর ওর তো খবর নাই। ওর কিছু হলো নাতো আবার। বেডরুমে ডুকে দেখি বিছানায় একটা কাগজের উপর একটা গোলাপ ফুল রাখা। কাগজে খেয়াল করলাম কি যেনো লেখা।নিয়ে পড়ে বুঝলাম।আজকে আমার জন্য সারপ্রাইজ আছে। ছাদে যেতে বলছে আমাকে। আমিও ছাদে গিয়ে দেখি, ছাদের এক কোনায় তানিয়া দাড়িয়ে রয়েছে। আর বার বার চোখের জল মুছতেছে। দেখে মনে হচ্ছে কাদছে। আমি গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম:

-এই তো আমি এসেছি, তুমি বলছো তারাতারি আসতে আমি এসে গেছি,কিন্তু তুমি কাদছো কেনো বলোতো, আমি কি তোমাকে কষ্ট দেই অনেক!
-না,তা না, আচ্ছা আমার যদি কিছু হয়, থাকতে পারবে তুমি!
-কি বলছো আবোল তাবোল তুমি, কিছ হবে কেনো আমি তোমাকে ছাড়া চলতেই পারি না আর তুমি!
-আচ্ছা বাদ দাও, মন খারাপ করো না, আমার কিছু হবে না, এমনি বললাম, আজকে তোমাকে দুইটা সারপ্রাইজ দিবো তোমাকে!

-কি, কি, জলদি দাও সারপ্রাইজ আমাকে, আমি আর দেরি করতে পারছি না গো দাও জলদি!
-শোনো প্রথমটা হলো আমি মা হতে যাচ্ছি আর তুমি বাবা! এই কথা শুনে আমি অনেক খুশিতে তানিয়াকে কোলে উঠিয়ে ঘুরাতো শুরু করলাম। তখন ও বললো:

-নামাও আমাকে, এমন করে ঘুরালে সমস্যা হবে না, পাগল একটা! আমি নামিয়ে দিলাম ওকে। পড়ে বললাম:

-আরেকটা কি সারপ্রাইজ গো, বউ!
-আজকে তোমার জন্মজন্মদিন ভুলে গেছো নাকি!
-ওওও,তুমি থাকতে আমি মনে রাখবো কেনো!
-আমি না থাকলে এসব মনে রাখবে কে!
-তুমি থাকবানা মানে, তুমি না থাকলে আমিও থাকবো না, তুমি যেখানে যাবা আমি চলে যাবো তোমার পিছু পিছু!

এই কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিয়ে তানিয়া নিচে গেলো। আর যাওয়ার আগে বললো নিচে আসতে তারাতারি।আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে চলে গেলাম নিচে! তখন আমার মেয়েটা বললো:

-বাবা তুমি কাদছো কেনো!(বাকীয়া)
-এমনিরে রে সোনামনি!(তুষার)
-মার কথা মনে পড়ছে বুঝি বাবা তোমার!
-হ্যা’রে, পাকনা বুড়ি একটা, মায়ের মতো হইছে আমার সব মনের কথাই ধরে ফেলে!

বাকীয়াকা আমাকে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললো। “বাবা আমি আছিতো তোমার পাশে সবসময়, তুমি কখনো কাদবা না, তোমার কষ্ট সহ্য হয়না, তাছাড়া আজ না তোমার জন্মদিন!” ছোট মেয়ের মুখে এইসব কথা শুনে আর কাদতে পারলাম না।একটু হেসে উঠলাম। তখন আমার ছোট্ট মেয়েটা আমাকে পায়েশ খাইয়ে দিলো আর বললো: “বাবা তোমার জন্য, তোমার পাশে আমি থাকবো সবসময় এখন আর কেদো না তুমি, এখন তুমি যেহেতু কেদেই ফেলেছো জরিমানা হিসাবে অনেক গুলা কিস দিবা গালে আমার বুঝছো!”

এভাবে আমার ৩৫ তম জন্মদিন পার হয়ে গেলো। তুমি আমাকে ১০ বছর আগে একটা করে দিয়ে চলে গেছো। আমি তোমাকে বেশী সময় ও গুরুত্ব দিতে পারি নি কখনো। আজ বুঝতেছে তুমি ছাড়া কেউ বুঝতো না আমায়, এতটাও ভালোবাসতো আমায় তুমি ছাড়া। আর আজ তোমার আমার মেয়ে বাকীয়া। আমাকে কোনোরকম তোমার কষ্ট আমাকে বুঝতেই দেয় না। আসলে মেয়ে জাতিটাই এরকম “সারাজীবন বুকের মাঝে কষ্ট গুলোকে চেপে রাখে আর সবসময় অন্যকে সুখে রাখে!” তুমিও আমার যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য রেখে গেছো তোমার আমার মেয়েটাকে!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত