বাজি ধরে ভালবাসা

বাজি ধরে ভালবাসা

বাজি ধরে ভালবাসা ও যায় তা এদের দুজনকে না দেখলে বোঝা যেত নাহ। ছেলেটির নাম শিশির, অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।প্রানবন্ত,হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুদের সবসময় আড্ডাতে মাতিয়ে রাখা ছিল ছেলেটির স্বভাব৷যথারীতি প্রতিদিনের মতই শিশির বন্ধুদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিল।হঠাৎ আড্ডার মাঝে থমকে গেল সবাই।সবাই দেখল কলেজ গেট দিয়ে একটি মেয়ে ঢুকছে।শিশিরের এসব দিকে নজর নেয়।সে মেয়েদের দিক দিয়ে একটু উদাসিন।তার ওসবের দিকে খেয়াল নেয়।মেয়েটি গেট দিয়ে ঢুকতেই শিশিরের এক বন্ধু সাইম উঠে গেল মেয়েটিকে প্রপোজ করতে।

হঠাৎ ঠাসসসসসসসসসস।সবাইকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটি শিশিরের বন্ধুকে থাপ্পর দিল।সবাই থ মেরে গেল।মেয়েটি শিশিরের বন্ধুকে যা না হয় তাই বললো।সবাই তো অবাক। শিশিরের বন্ধু সাইম ফিরে এল বন্ধুদের মাঝে এসেই বলতে লাগল, কি দজ্জাল মেয়ে রে বাবা এই মেয়েকে পটানো ইম্পসিবল। হঠাৎ এই নিয়ে সবার মাঝে তর্ক শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ সাইম সবার উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বসল যে ওই মেয়েকে পটাতে পারবে তাকে ক্যাফেতে ইচ্ছেমত ট্রিট দিবে।শিশির চ্যালেঞ্জ এর ব্যাপারে সবসময় আগ্রহ দেখাত। সবাই মিলে শিশিরকে ধরল চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্ট করতে। শিশির জাস্ট বেটিং হিসেবে চ্যালেঞ্জ নিল যে,সে মেয়েটির সাথে রিলেশন করেই ছাড়বে। এদিকে সে মেয়েটির নাম ও জানে নাহ।এদিকে শিশির ওই মেয়ের এক বান্ধবী তানহার কাছ থেকে মেয়েটির ব্যাপারে জানল।

মেয়েটির নাম ছিল মারিয়া। শিশির মেয়েটিকে ঠিক ভাবে এখনো দেখে নি। জাস্ট তানহার কাছে তার ব্যাপারে শুনেছিল যে তার নাম মারিয়া।১ম বর্ষ ফিজিক্স। ঝিনাইদহ তে বাসা। যশোরে এসেছে পড়াশোনা করতে এইখানে মামার বাসায় থাকে।তানহার কাছ থেকে ডিটেইলস শোনার পর তানহা বলে উঠল, কি ভাইয়া?? ভালবাসেন নাকি??মারিয়ার সাথে রিলেশন করবেন নাকি যে এত ডিটেইলস নিচ্ছেন।হঠাৎ শিশির বলে উঠল,হ্যাঁ মেয়েটাকে ভাললাগে।তানহা বলল, বলে দিচ্ছি দাড়ান। ওইদিনকার মত সবাই যার যার বাসায় চলে গেল।শিশিরের মনে ছিল না মারিয়ার কথা।তারপরের দিন থেকে শিশির খেয়াল করল যখন ই ওরা শিশিরকে দেখে দেখলেই মারিয়া ও তার বান্ধবী তানহা গান গেয়ে ওঠে।মারিয়া মারিয়া স্যানোরিটা মারিয়া।এই বলে দেখে আর হাসে। শিশির কিছুদিন ইগনোর করল বিষয় টা কিন্তু দেখল যে গানটা তাকে উদ্দেশ্য করেই গাওয়া হচ্ছে।প্রতিদিনকার মত শিশির গেট দিয়ে বের হতেই দেখল যে আবার ও ওরা শিশিরকে উদ্দেশ্য করে গান গাচ্ছে।এমনিতেই শিশির ছিল ওদের সিনিয়র তারপর ওরা জুনিয়র হয়ে শিশিরকে ইন্সাল্ট করছে। শিশির ওদের দুজনকে ডাক দিল।

ওরা দুজন ই চুপ। শিশিরের কাছে আসল। ওদের দুজন একপ্রকার কাপছে।শিশির জিজ্ঞাসা করল হ্যাঁ এসব কি?মজা নিচ্ছ?মারিয়া প্রায় ভয়ে কাপছে শিশিরের কথা শুনে৷ আমতা আমতা করতে করতে বলল। কই আমরা তো আপনাকে দেখে গান গাচ্ছি না। আমরা নিজেদের মত এমনিতেই গান গাচ্ছি। শিশির ধমক দিয়ে বলল চুপ। যাও এখান থেকে, তোমাদের যেন আর সামনে না দেখি৷ কি ভাবছেন শিশির বেড এর ব্যাপারে ভুলে গেছে কিন্তু নাহ এটা তার চাল ছিল।শিশির ঠিক দিকেই এগোচ্ছে।মারিয়া সেদিনকার মত চলে গেল।অবশ্য শিশির ও মারিয়াকে দেখে একপ্রকার ক্রাশড।তার কথা, তার হরিনী চোখ, খোলা চুল শিশিরের ও ভাল লেগেছে। মারিয়া এদিকে শিশিরের কথা ভাবছে৷ মারিয়া তার বান্ধবী তানহার কাছে শিশিরের সম্বন্ধে জানল।এর মধ্যে তানহার সাথে শিশিরের ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়।শিশির তানহার কাছ থেকে মারিয়ার সব খোজ খবর নেয়।

একদিন তানহার সাথে মেসেঞ্জারে চ্যাট করছিল শিশির হঠাৎ শিশির বলে উঠল,আচ্ছা মারিয়ার ফেইসবুক আইডি আছে।তানহা বলল কি ব্যাপার ভাইয়া আইডি চাচ্ছেন,কাহিনী কি??শিশির বলল না এমনি চাইছি। সেদিন বেশি বাজে ব্যবহার করা হয়ে গেছে তাই সরি বলব।তানহা শিশিরকে মারিয়ার আইডির লিংক দিল। শিশির রিকুয়েস্ট দিল। প্রায় ২ ঘন্টা পর মারিয়া এক্সেপ্ট করল।শিশির মারিয়াকে নক দিল। সেদিনের ব্যবহারের জন্য সরি।এভাবে চ্যাট চলতে থাকল। এদিকে কলেজে দেখা হওয়া। মারিয়ার যেকোনো পড়াশোনার সমস্যা সবসময় শিশির সলভ করে দিত। মারিয়া একসময় শিশিরের উপড় দূর্বল হয়ে পড়ল।শিশির বুঝতে পারল যে মারিয়া দূর্বল তার উপড়। এই সুযোগটাই কাজে লাগল।

একদিন হঠাৎ কলেজে মারিয়াকে প্রপোজ করে বসল। মারিয়া ও শিশিরকে পছন্দ করে ভালবাসতে শুরু করেছিল।তাই মারিয়া এক্সেপ্ট করে নিল। শিশিরের সাথে মারিয়ার রিলেশন শুরু হয়ে গেল। শিশির বাজি জিতে নিল।সাইম ও কথামত ট্রিট দিল। ভালই চলছিল শিশির আর মারিয়ার রিলেশন।মারিয়া জানে না যে, শিশির বাজি ধরে রিলেশন করে।শিশির বাজি ধরে রিলেশনে জরায় কিন্তু সত্যি সত্যি সে মারিয়াকে ভালবেসে ফেলে।কিন্তু বিধীবাম, এত ভালবাসা শিশিরের কপালে সয়লো না। মারিয়া শিশিরের এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারল যে, শিশির তার সাথে বাজি ধরে রিলেশন করেছে। মারিয়া শিশিরকে বলল যে এটা সত্যি কিনা? শিশির স্বীকার করল এবং বলল যে, হ্যা আমি তোমার সাথে বাজি ধরে রিলেশনে গেছি কিন্তু আমি সত্যি সত্যি তোমাকে ভালবাসি।মারিয়া শিশিরের কোনো কথা শুনল না,শিশির অনেক বার মাফ চাইল।সরি বলল।কিন্তু মারিয়া রেগে ওইখান থেকে চলে গেল।

আর শিশিরকে বলে গেল যে, জীবনেও সে তার মুখ দেখতে চায় না।শিশির অনেক চেষ্টা করল তাকে মানানোর কিন্তু কাজ হলো নাহ।এদিকে শিশির মারিয়াকে সত্যি সত্যি ভালবাসে।তার পরের দিন থেকে মারিয়া কলেজ এ আসে নাহ। শিশির অপেক্ষা করল কখন সে আসবে।কিন্তু নাহ মারিয়া কলেজ গেল নাহ। এইভাবে ১ সপ্তাহ চলে গেল মারিয়া কলেজ আসে না।শিশিরের মারিয়ার সাথে যোগাযোগ করার সব চেষ্টা বিফলে গেছে কারন মারিয়ার ফোন অফ৷ফেইসবুকে আসে না।বাসায় ও নেয়। তানহা ও মারিয়ার খোজ দিতে পারে নাহ।শিশির ও আর কলেজ যায় নাহ। ঠিক মত খায় নাহ।ঘুমায় নাহ,এইভাবে কেটে গেছে পনের দিন।একসময় শিশির এতটা অসুস্থ হয়ে পড়ল যে তাকে হস্পিটালে ভর্তি করতে হলো।

উল্টোদিকে মারিয়া শিশিরের উপড় রেগে,ক্ষোভে তার নিজের বাড়ি চলে যায়।মারিয়া ভাবে যে সে তো শিশিরকে সত্যি ভালবেসেছিল।সে ভাবল শিশির তার কাছে কত বার মাফ চেয়েছে আর সরি বলেছে। হইত শিশির ও তাকে এখন সত্যিকারে ভালবাসে। মারিয়া ভাবল সে শিশিরের সাথে কথা বলবে ১৫ দিন পর মারিয়া ফিরল। এবং পরের দিন কলেজে গেল। কলেজে যেতেই শিশিরকে খুজতে শুরু করল। শিশিরকে ফোনে পাচ্ছে না আবার কলেজের কোথাও নেয়।হঠাৎ তানহার সাথে দেখা।তানহা মারিয়াকে দেখে বলে উঠল। দোস্ত কই ছিলি এত দিন?খোজ নেয়,তোর ফোন অফ কেন? মারিয়া কিছুর উত্তর না দিয়ে শিশির কোথায় জানতে চাইলো। তানহা কিছুক্ষন চুপ। মারিয়া বলল কিরে কথা বল শিশির কই? তানহা তখন সব খুলে বলল ও মারিয়া চলে যাবার পর কি কি হইছে।

মারিয়া কোনো কথা না বলে তানহাকে নিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে গেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।হাসপাতালে শিশির বেডে শুয়ে আছে।সাইম পাশে বসে আছে। মারিয়া যেতেই সাইম উঠে দাড়ালো।মারিয়া শিশিরকে অসুস্থ অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেংগে পড়ল।আর বলে উঠল শিশির আই এম সরি। আর কখনো তোমাকে ছেড়ে যাব নাহ।মারিয়া শিশিরের পাশে বসে কাদছে। মারিয়া শিশিরের হাত ধরে তার পাশে বসে পড়ল। শিশির তাকিয়ে দেখল মারিয়া কাদছে শিশির মারিয়াকে বলল সরি৷ সত্যি খুব ভালবাসি তোমাকে। কখনো ছেড়ে যাবে না তো? মারিয়া কাদছে আর বলছে নাহ ছেড়ে যাব নাহ। শিশির বলল চল তাইলে দুজন বিয়ে করে ফেলি। মারিয়া বলল আচ্ছা চলো। সাইম আর তানহাকে সাক্ষী করে শিশির ও মারিয়া কোট ম্যারেজ করে নিল।এভাবে দুটি হ্রদয় এক হয়ে বেচে থাকল।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত