বেদের জীবন

বেদের জীবন

ছোট্ট এ জীবনে একেক জনের চাওয়া একেক রকম । অনেকে নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে চাই ।গল্পটা সেরকমই একজন মানুষের ।

– কিছুদিনের মধ্যে বয়স চল্লিশ হয়ে যাবে নিলয়ের । পুরো নাম আশফাক রহমান নিলয় । মানুষের জীবনে কত ধরণেরই না ইচ্ছে শখ থাকে যার বেশির ভাগ অপূর্ণ রয়ে যায় । কিন্তু নিলয়ের কোন ইচ্ছে যেন বাদ নেই , যখন মনে যা চেয়েছে তাই করেছে সে । তাই এ বারের জন্মদিনে নিজের ইতি টানতে একাই যাবে পাহাড়ে বলে মন স্থির করল ।
জীবনের মানে খুঁজতে যাওয়া মানুষ হলেও সে পরীক্ষায় বরাবরই ফেল করে এসেছে নিলয় । মেয়াদ শেষ হওয়া প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা দিয়ে লাভ নেই এটা হয়তো কোন পাগলেও বোঝে ।

সময় মত পাহাড়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল নিলয় । বয়স বেড়েছে তবে ফিটনেস এতটুকুও কমে নি তার । বেদের জীবনে ক্লান্তি থাকতে নেই , কারন ছুটে চলায় তার নেশা । জন্মদিনের দুইদিন আগেই সে পাহাড়ে চলে আসলো । পর্যটনের সময় না হওয়াই লোক নেই বললেই চলে । পুরো দিনটা এখান থেকে ওখানে , খাওয়া দাওয়া আর আরাম করতেই যেন ফুরিয়ে গেল । বিকেলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসলে আবার উপরের চুড়ায় উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ল নিলয় । অনেক কিছু চিন্তা করতে করতে উপরে যাচ্ছিলো সে । একটা সময় ছিলো, যখন সময় ছিলো কিন্তু টাকা ছিলো না । আবার যখন টাকা হলো তখন কারও সময় ছিলো না । সে প্রতীক্ষিত কুয়াকাটা যাবার কত না বৃথা পরিকল্পনা করেছে সে জীবনে । দেশের বাইরে আসার পাঁচ বছর পরে তা সফল হয়।

এ চিন্তার শেষে পাথরের উপর বসে জিরিয়ে নিচ্ছিলো সে । তবে সবথেকে উপরে যাবার নেশা এখনও মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে । আসে পাশে নজর দিতেই চোখে আসলো নিথর পাথর আর গাছে ঘেরা । পাশের সঙ্গিনী থাকলে হয়তো কিছুটা ভাল সময় উপহার দিতে পারতো তাকে । কিন্তু সে সাহস আর কই । প্রতিটা ধাপে যেন স্মৃতি গুলো পদচারণ করছিলো সে । উচ্চ মাধ্যমিক পড়া অবস্থাতেই প্রথম প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যায় । এর পরে কারও সাথে আর ছলনা করার প্রয়োজন পড়ে নি , সবাই নিজ থেকেই ছেড়ে চলে গেছে তাকে । সন্ধ্যে নামতে তখনও ঘণ্টা খানেক দেরী । উপরের বাতাসে বেশ প্রশান্তি অনুভব করছিলো সে । গ্লুকোজের বোতল শেষ করে তাকে ছুঁড়ে ফেলতেই মনে হল ফাহিমের কথা ।

নিলয়ের বদ অভ্যেস ছিলো বাইরে বের হলেই ক্ষিদে লেগে যাওয়া । উত্তরার রাস্তায় কোকাকোলা খেতে খেতে আসছিলো । তার বান্ধবিদের নিয়ে মজা করছিলো নিলয় । রাস্তায় বোতল ফেলে দিবে এমন অবস্থায় ফাহিম হাত থেকে বোতল কেড়ে নিয়ে বলল ব্যাটা পরিষ্কার আগে নিজের অবস্থান থেকে শুরু কর । ডাস্টবিন দেখে তাতেই ফেলবি । সে এতটা পথ বোতল হাতে করে নিয়ে এসে ডাস্টবিনেই ফেলেছিলো । নিলয় উঠে গিয়ে ময়লা ফেলার যায়গা খুঁজতে লাগলো । কিছু সময় পরেই ফিরে আসলো । ধীরে ধীরে গড়িয়ে আসছিলো গৌধুলি বেলা । একা একা উপভোগ বলতে হয়তো অনুভব করাকেই বোঝায় ।

– ঠিক এরকম ভাবেই সেদিনও বসে ছিলো সমুদ্র পাড়ে একা একা । হটাত কিছুর শব্দ পেয়ে পেছন ফিরতেই দেখলো তার বন্ধুরা কেক হাতে । সেদিন অনেক মজা করেছিলো তারা , সারাটা রাত সমুদ্র পাড়েই পার হয়ে গেছিলো ।পরের দিন সন্ধ্যায় কোন এক মেয়ের গোধূলি বেলাই উড়তে থাকা চুল দেখে বিমোহিত হওয়া নিলয়ের । সময়মত লঞ্চঘাটে ফিরে যাওয়ার জন্য আর পেছন ফিরে দেখা হয়নি তার দিকে। তবে এরকম ভাবেই কাওকে ভাল লাগে ,কারন বিশেষ দেখে কারও জন্য অনুভুতি কাজ করে না ।

এভাবে কিছুক্ষণ বসে থাকার পরেই আগুন জ্বালানোর জন্য সে ডালপাতা জোগাড় করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো । ফোনে নেটওয়ার্ক নেই , আসেপাশে কেউ নেই ভাবতেই মনের ভেতর অজানা ভয়গুলো জেগে ওঠে । কিছু কিছু সময় ভয় সেটা নয় যা তোমাকে মৃত্যু শঙ্কায় ফেলে , কখনও কখনও ভয় সেটাই যা তোমাকে জবাবদিহিতায় ফেলে এমন কারও কাছে যা তুমি ঘৃণা করো ।আর ঘৃণার প্রতিচ্ছবি ঘৃণাই হবে এটা স্বাভাবিক । নিজের ডাইরিটা বের করে আরও একটি প্রশ্ন যোগ করলো । ‘ঘৃণার উৎপত্তি কোথায় জানেন?’ নিজের উত্তরে সে লিখলো ভালোবাসা থেকে । অকারনেই একা একা হসছিলো সে । এমত অবস্থায় ঘৃণার মুখগুলো সামনে আসছিলো যাদের সে খুব ভালোবাসে ।

পরের পৃষ্ঠায় , ‘ভালোবাসা পরিবর্তনশীল শুনেছিলাম , চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা কি খুব কম ! আমার ঘৃণা বা ভালোবাসা কেন কমে গেল না তাদের প্রতি?’ এসব লিখতে লিখতে পাহাড়ের নিচের দিকে চোখ গেলো । কিছু একটা আলো দেখে মনে কৌতুহলের যেন শেষ নেই । একে পাহাড়ি রাস্তা তার উপর পাথুরে পাহাড় সাথে জঙ্গল । সব মিলিয়ে মনে দ্বিধার শেষ নেই । তবে আলো এদিক ওদিক ঘোরাতে দেখে মনে হচ্ছিলো কেউ আছে সেখানে ।
শত সংকোচ অবসান করে নিচের দিকে ছুটে গেল নিলয় । প্রায় বিশ মিনিটের মধ্যে সে আলোর কাছাকাছি যেতে পারলো । গিয়ে অবাক সে । এ রাতের বেলায় পাহাড়ে মেয়ে! ভুত প্রেত নয়তো ? হাজারো প্রশ্ন তার মনে । তবুও সাহস নিয়ে এগিয়ে গেল । সামনে যেতেই মেয়েটিও ঠিক ততটাই অবাক যতটা সে ।

– পাথরে লেগে তার পা কেটে গেছে সেটা দেখাই যাচ্ছিলো । সে হয়তো কাহিনীর রক্তচোষা কোন প্রাণী মনে করে ভয় পাচ্ছিলো । যদিও নিলয় তাকে অভয় দেয়ার চেষ্টা করছিলো । নিলয় তার সাথে কথা বললেও সে উত্তর দিচ্ছিলো না । ব্যাপারটা ভেবেই সে রাগন্বিত । এত রাগের পরেও সে আবার পাহাড়ের চুড়ায় উঠে ফাস্ট এইড নিয়ে আসলো । মেয়েটাকে ইশারায় সেটা ধরে লাগাতে বললে সে নিলো কিন্তু একা লাগানো সম্ভব হয়ে উঠছিলো না । নিলয় সংকোচ ভেঙ্গে নিজেই করে দিলো সব । নিলয় তখনও অবাক , কারন মেয়েটা একটা বারের জন্যেও কথা বলেনি ।
দ্বিধা , সংকোচ একেই বলে হয়তো । না পারে ছেড়ে যেতে না পারে পাশে থাকতে । সাতপাঁচ ভেবে চলে যাবার জন্য ঘুরে দাঁড়ালো নিলয় । এতেই পেছন থেকে কেমন একটা শব্দ এলো । পাহাড়ের উপরে এমনিতেই আলোকিত থাকে , তার উপরে আবার হালকা চাঁদনি ছিলো । সে ইশারায় তাকে থাকতে বলছিলো এটা বুঝার পরেই থেমে গেলো নিলয় ।

– কিছুটা দূরে গিয়েই বসে পড়লো সে । দুজনেই চুপচাপ । নিলয় তাকে অনেক কিছুই জিজ্ঞেস করলো , কিন্তু সে তো কোন উত্তর দিলোই না , এমন একটা ভাব যেন কিছুই শোনে নি । নিলয় মনে মনে রাগ চরম সীমায় পৌছে গেল । আবার উঠতে গেলে মেয়েটি ইশারা করে তাকে । এরপর যা দেখলো তা অনেকটা অবাক করার মতই ।
মেয়েটি ইশারায় বলল সে কথা বলতে পারেনা , আর কোন কথা শুনতেও পাইনা । এরপরেই নিলয় শান্ত হয় অনেকটা । এবার বসে পড়লো সে । তার কথা চিন্তা করে মনে মনে নিজের উপর হাসছিলো । ইশারায় আবারো সে হাসির কারন জিজ্ঞেস করলো । এভাবে ভাব বুঝে বুঝে ইশারায় চলছিলো কথা । নিলয় তখনও বুঝে পাচ্ছিলো না তারা এত সহজেই কিভাবে একে অপরের ভাব বুঝতে পারছে ।

– এভাবেই কথা বলতে বলতে সকাল হয়ে আসলো । পাহাড়ের বিপজ্জনক পাশটা তারকাটা দিয়ে ঘেরা । দুজনেই সেখানে বসে বসে সূর্যোদয় দেখছিলো । প্রকৃতি কতটা সুন্দর হতে পারে যারা কাছ থেকে দেখেছে তারা জানে । সে মেয়ের কাছে থাকা খাবার খেয়ে সকালের খাবারের কোটা পূর্ণ হলো । নিলয় তাকে জিজ্ঞেস করলো সে ফিরে যাবে কি না , কিন্তু সে পাহাড়ের চূড়ার দিকে ইশারা করছিলো । তার বুঝতে বাকি রইলো না সে কি বলতে চাই ।
এরপর দুজনেই ধীরে ধীরে উপরে ওঠা শুরু করলো । প্রচণ্ড রোদ আর গরম সেদিন তাই অল্পেই হাঁপিয়ে যাচ্ছিলো তারা । এজন্য কিছু দূর ওঠার পর তার বসে পড়ছিল। তাদের মধ্যে কথা হচ্ছিলো তবে ইশারায় । নিলয় বেশ কয়েকবার তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছে তবে কেন জানি তার মুখে অস্পষ্টতা রয়েছে । প্রায় মধ্য দুপুরে চূড়ার কাছাকাছি তারা । কিন্তু এ ভর দুপুরের রোদে কেউ যেতে চাই না সেখানে । কারন সেখানে শুধুই পাথর , গাছপালা শুধু নিচের দিকেই । তবুও নিলয় গিয়ে খাবারের ব্যাগটা নিয়ে আসলো ।

মেয়েটা খাওয়া দাওয়া করেই ঘুমিয়ে পড়েছে । নিলয় তার কাজ কাজ দেখে যদিও কিছুটা অবাক তবে তার ঘুমন্ত চেহারা বাড়ি ফেরার পথ মনে করিয়ে দিচ্ছিলো । কিন্তু নিজের উদ্দেশ্যে সফল না হয়েও ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না তার । বসে বসে ডাইরির শেষ পাতা গুলো লিখছিলো নিলয় । বেলা ফুরিয়ে আসছিলো ধীরে ধীরে । সাথে যেন নিজের সময় ও কমে আসছিলো তার । বাতাসের মড় মড় শব্দে ঘুম থেকে থেকে জেগে উঠলো মেয়েটি । এরপর কাঙ্ক্ষিত সে চূড়ার উপরে দুজনেই ।

– পাহাড়ি সে বাতাসে দুজনে চোখ বন্ধ করে নিজেরদের অনুভূতির মাঝে ডুবে তখনও । বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর নিলয় তাকে জিজ্ঞেস করলো সে বাসায় ফিরে যাবে কি না । সে হাসলো , প্রথম বারের মত । শব্দহীন মুখের হাসিটা যেন আসেপাশের পুরো পাহাড়ি একালাকা মুখরিত করে তুলেছে । এতকিছুর মাঝেও তার চেহারার অস্পষ্ট ভাবটা যেন কাটেই নি । সে নিলয়কে বলল সে আত্মহত্যা করার জন্য এসেছে । এটা বুঝতে নিলয়ের সময় লাগলেও বোঝার সাথে সাথে সেও হেসে দিলো । কাল নিলয়ের জন্মদিন । শেষ কেকটা কেটেই সে আত্মহত্যা করবে । কারন তার বেঁচে থাকার কারন নেই । দুজনেই দুজনের কথা ভেবে হাসলো । কেউ কাওকে আত্মহননের কারন আর জিজ্ঞেস করলো না । রাতে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে রাত বারোটা বাজার অপেক্ষা । রাতে একসাথে জন্মদিন পালন করলো তারা ।

কিছু সময় পরে নিলয় বলল আমি তো চলে যাচ্ছি , ভাল থেকো । একটা পাথরের উপর গিয়ে দাঁড়ালো সে । মেয়েটা বসেই ছিলো । কি ভেবে যেন সেও এগিয়ে আসলো । তার পাশে দাঁড়িয়ে গেল । চেহারায় অনেকটা বিষণ্ণ ভাব । নিলয় তাকে দেখে বলল যদি তোমাকে এর আগে পেতাম তাহলে হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে নিজের জীবনের ইতিবৃত্ত অনেক পরে টানতে চাইতাম । অশ্রুসিক্ত চোখে একটু হাসির ঝলক তার মুখে । এরপর দুজনেই দুজনের হাত ধরে সেখান থেকে লাফ দিলো । ধপাস!!!! নিলয়ের আম্মা দরজা খুলতেই দেখল সে বিছানার নিচে বালিস সহ পড়ে আছে । নিলয় বেশ বিচলিত । কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না ।“ কি রে নিচে পড়ে কেন , তোর বন্ধুরা এসে গেছে, ওঠ দেখি এবার” । নিলয় কোন অবস্থানে আছে বুঝে উঠতে পারছিলো না ।

– মা , সকাল হয় গেছে ? একথা শুনেই তার মা হাসতে হাসতে বলল না , বিকেল হয়ে গেছে ।
– আচ্ছা আমার বয়স কত ? এই তুই ঠিক আছিস তো! হুম । তাহলে বয়স জিজ্ঞেস করছিস কেন , তুই জানিস না ? আরে মা বলোনা ?

-আটাশ বছর । বিয়ে করতে কত ভেজাল করে রাজি হইলি । আজ গায়ে হলুদ তোর ,এখন যদি এসব কথা বলিস তাহলে লোকে বলবে ছেলে পাগল হয়ে গেছে । ফ্রেশ হয়ে বাইরে আয় । সবাই অপেক্ষা করছে ।

– মোবাইলে আবারো সময় দেখে সে নিশ্চিত হয়ে নিলো । আয়নার সামনে নিজের মুখ আদল দেখতে সে ব্যাস্ত । এরপরই সে ফ্রেস হয়ে বাইরে আসলো । তার বন্ধুরা সবাই এসেছে । নিলয়কে দেখা মাত্রই তারা মজা শুরু করে দিলো।
– যাক বিয়ে করছিস তাহলে । কই আমাদের ভাবির ছবি টবি দেখা । আমি নিজেই এখন পর্যন্ত দেখিনি । নিলয়ের এ কথায় তারা ক্ষেপে গেল । ফাহিম তো বলেই ফেলল সালা ভাল হইলি না । এভাবে সে যখন চারিদিক দিয়ে ঘেরাও তখন তার আম্মা এসে বলল ঘটনা সত্যি । সে মেয়ের ছবি পর্যন্ত দেখে নি ।

– নিলয়ের আম্মার কথা শুনে সবাই যেন আকাশ থেকে পড়ার অবস্থা । নিলয়ের মত ছেলে এরকম ভাবে বিয়ে করছে! বন্ধুদের একটা প্রেম পর্যন্ত ঠিকভাবে করতে দেইনি সে কিন্তু নিজে মজা লুটেছে ইচ্ছামত । আর সে বিয়ে করছে মেয়েকে না দেখেই! সবাই হাততালি দেয়া শুরু করেছে । এরপরই তাদের নাস্তা করিয়ে বাগানে বসে সকলে মিলে ।টাকলা বলল ভাল মানুষ তুই যে বিয়ে করছিস তোর ওদের কাওকে বলেছিস? “ সময় মত সবাইকে দেখতে পাবি ভাই” । সিয়াম রেগে বলল ওই দেখ কুত্তা । লেজটা কি সোজা । আর এ তো নিলয়! সবাই হেসে ফেলল । বিয়ের পর যদি একটু ভাল হয় ।

এসব কিছুর মাঝেও নিলয় তার সপ্নের বিষয়টা নিয়ে বেশ চিন্তিত । কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না । অনেক আমেজের মধ্যেই সব অনুষ্ঠান হল । সবাই অনেক খুশি কারন অনেকদিন পর কারও বিয়ে হচ্ছে । আমেজ পূর্ণ পরিবেশেই সব সম্পন্ন হল । বিয়ের পিড়িতে বসে প্রথম দেখা তাদের । নিজের বউয়ের দিকে নজর পড়তেই অস্পষ্ট সপ্নের সে মেয়েটার মুখ যেন পরিষ্কার হয়ে গেল । বিয়ে করতে এসে তার হতবিহ্ববল অবস্থা । সপ্ন কিভাবে সত্যি হয়ে পারে! সে নিজে কতটা অবাক তার চেহারায় পরিষ্কার ফুটে উঠছিল ।

– বাসর রাত । সবাই মিলে অনেক মজার করার পর নিলয়কে সেখানে পাঠাল । লজ্জিত মুখটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়েছিলো নিলয় । নিলয়ের প্রথম কথায় ছিলো আমার নাম জানেন ? সে লজ্জা মুখেই উত্তর দিলো জানি , আপনি জানেন আমার নাম ? না । কেন ? কথার প্রথমেই প্রশ্ন ? তাহলে আমাকে না দেখেই বিয়ে করেছেন নিশ্চয় ? তুমি কিভাবে জানলে ?

– আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন আমার নাম জানেন না , তাহলে কিভাবে ভাববো আপনি আমাকে দেখেছেন ? তুমি কি বুদ্ধিমতি না ভান করছো ?
– ঠিক বুঝলাম না , আপনি আমাকে নিজের ইচ্ছেই বিয়ে করেছেন তো ?
– না বাবামার ইচ্ছেই করেছি । আচ্ছা আপনি আমাকে সত্যি দেখেন নি ?
– না । আর আমি সত্য বলার চেষ্টা করি । মানে আপনি মিথ্যে বলেন? হ্যা বলি তো , নাহলে প্রিয়জনদের খুশি রাখছি কিভাবে ।

– আপনি কি এরকম ভাবে ঘুরিয়ে কথা বলেন না কি অনিচ্ছায় বিয়ে করেছেন বলে এরকম করছেন । আমি কিত্নু স্বইচ্ছাই আপনাকে বিয়ে করেছি । নিলয় তার কথা শুনে হেসে ফেলল । তার বাবা মায়ের পছন্দ যে ভাল সে জানতো , কিন্তু এতটা ভাল হবে সে ভাবতেই পারেনি ।

– দেখো এভাবে কথা বললে তোমার প্রেমে পড়ে যাবো ।
– ত পড়লেন , আমি ত আপনার প্রেমে পড়েই বিয়ে করেছি ।

মানে কি! আপনার সাথে আমার দেখা হয়েছে , তবে কথা হয়নি । আর কিছু মানুষ আছে যাদের এমনিতেই ভাল লেগে যায় । কারন বলা যায় না ভালোলাগার সেরকমই কিছু । আর আপনি যে আমাদের আত্মীয় তা কয়েকদিন পড়েই জানতে পারি । তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি ।

– নিলয় তার সপ্নের ব্যাখ্যা গুলো ধীরে ধীরে আবিষ্কার করছিলো । সে অধিকাংশ কারই বুঝতে পারে । মেয়ের কথা বলতে না পারার কারন , তার চেহেরার স্পষ্টতা এসব ব্যাপার । আর একসাথে ঝাপ দেয়া পাহাড়ের উপর থেকে এর মানে হয়তো একসাথে নতুন জীবন শুরু করা ছিলো । নিজের মত করেই সাজিয়ে নিচ্ছিলো তার স্বপ্নটাকে । এইসব চিন্তা করে একা একা হাসছিলো সে । হাসছেন কেন! তার একথা শুনে সে আবারো হাসতে শুরু করলো । বিয়ের পরেও প্রেম হতে পারে শুনেছিলাম । আজ নিজেই সে অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হয়ে গেলাম এইজন্য । এভাবেই কথা বলতে বলতে তাদের সম্পর্কের শুরু হয়।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত