কেয়ারলেস

কেয়ারলেস

শীতের সকালের রোদটা খুব মিষ্টি লাগে। ভোর সাতটায় ঘুমের ঘোরে খেয়াল করলাম কেউ একজন জানালার পর্দা সরিয়ে দিচ্ছে।

আর রোদ এসে পড়ছে আমার গায়ে। মধুর কন্ঠে বলছে, – তাহসিন সাহেব এবার উঠুন।
ঘুমের ঘোরে কল্পনা করলাম, স্বপ্ন নয়তো! স্বপ্ন হলে চোখ খুলা যাবে না। আরো কিছুক্ষন দেখা যাক।
হঠাৎ আমার বাম পেশীতে কারো নরম হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম। আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখি আতিকা। আজ তাকে অপরূপ লাগছে।

চোখে কাজল দিয়েছে, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক চুলগুলো এখনো ভেজা। আমি মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম। আতিকা ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে।

মনে হচ্ছে এই প্রথম কেউ তাকে দেখছে।

– ফ্রেশ হয়ে আসুন। নাস্তা রেডি।
– আমাকে ধরে ফ্রেশ রুমে নিয়ে যাও।
– আপনি কি ছোট?
– হু।
আতিকা কিছুটা অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমার ডান হাতের পেশীসহ ধরে ফ্রেশ রুমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আমি হাতটা সরিয়ে ওর কাঁধের উপর রাখলাম। আতিকা আমার হাতের ভরে কিছুটা নিচু হয়েছে। আমি ওর ভেজা চুলের ঘ্রাণ নিচ্ছি।

সে মুচকি হাসছে। এখন আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে ওর গাল ছুঁয়ে দিতে।
.
আজকের নাস্তাটা অনেক স্পেশাল। কেন জানি সবকিছু স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে। বিয়ের আগে আমি এরকম সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখতাম।

এখন স্বপ্ন দেখার প্রয়োজন নেই। স্বপ্ন এখন সকালের এক চিলতি রোদে আর রাতের ভরা জোৎস্নায় আমার কাছে ধরা দেয়।

বালিকার ওষ্ঠদ্বয়ের কোনে যে মৃদ্যু হাসি আর আর মায়াভরা চোখের যে চাহনি তাতেই আমার নেশা হয়।
.
.
অফিসে আমার ব্রেক হয় ১২টায়। তখন আমি সাধারণত পত্রিকা পড়ি। আজ ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা খুলতেই

একজন মনোবিজ্ঞানীর লেখায় চোখ আটকে গেল! সেখানে লেখা, ‘আপনার প্রিয় মানুষটির জন্মদিনে তার পছন্দের কিছু জিনিস

উপহার দিন, পছন্দের রেস্তোরায় যান, পছন্দের খাবার খান ইত্যাদি ইত্যাদি।’ এমন সময় হঠাৎ মনে পড়লো আজ ১২তারিখ!

আজকে তো আতিকার জন্মদিন।
নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। বিয়ের প্রথম বছরেই ওর জন্মদিনের উইশটা ঠিক সময়ে করতে পারলাম না। অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত!
.
দুপুর ১টার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে একটা জুয়েলার্সের দোকানে গেলাম। আতিকার পায়েল খুব পছন্দ।

মাঝেমধ্যে ও খুব আগ্রহ নিয়ে পায়েল পরে। তখন ওর চলনে একটা ছন্দ থাকে। সেই ছন্দ আমার হার্টবিট বাড়িয়ে দেয়।
বাসায় যেতেই আতিকা বলে উঠলো, – আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলেন কেন? শরীর খারাপ করছে? দেখি জ্বর আসছে কিনা।
বলেই আতিকা আমার কপালে হাত ভুলিয়ে দিলো। আমি ওকে উইশ করিনি তাতে ওর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। অন্য কোনো মেয়ে হলে এতোক্ষণে….!
নিজের মধ্যে অপরাধীর ভাব অঙ্কন করে বললাম, – সরি আতিকা।
– কেন?
– ফর লেইট।
– ইটস ওকে।
উইশ করে যখন বললাম, তোমার পা টা দেখি। তখন সে হকচকিয়ে গেল। আমি পকেট থেকে পায়েলটা বের করে পরিয়ে দিলাম।

লক্ষ করলাম আতিকার চোখে আনন্দের জল ছলছল করছে। চোখের পাতা এক করলেই দুফোঁটা জল মাটিতে পড়ে যাবে।

মনে মনে ভাবলাম এই জল মাটিতে পড়তে দেওয়া যাবে না। যখন পড়তে যাবে তখনই হাত দিয়ে ধরে ফেলতে হবে।
.
– আতিকা…..!
– হু।
– আমি খুব কেয়ারলেস, তাই না?
– হু।
– সরি। 🙁
– সরি কেন! এই কেয়ারলেস’টাই আমার ভালো লাগে। সবার মত রাত ১২টায় আয়োজন করে উইশ করা, ভ্যালেন্টাইনে ঘুরতে যাওয়া,

বিবাহ বার্ষিকীতে দামি গিফট! এসব তো সবাই করে।
আমি চাই, তোমার কিছু মনে থাকবে না। যখন মনে পড়বে তখন হুট করে ইউশ করে দিবে অথবা রাত্রে ঘুমানোর আগে আমি বলে উঠবো,

‘ভুলে গেছো? আজকে তো আমাদের এ্যানিভার্সারি!’ তখন তুমি আমাকে খুশি করার জন্য কি না করবে! আর আমি মুখ লুকিয়ে মিটিমিটি হাসবো

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত