বউ এর শাসন

বউ এর শাসন

চোখ খুলেই দেখি,পাশে আমার মেয়ে ফাহা শুয়ে আছে।নরম গালটা দেখে,লোভ সামলাতে না পেরে চুমু খেতেই,মেয়ে চোখ মেলে কাদতে কাদতে মায়ের কাছে চলে গেল।গিয়েই বলতে লাগলো,আম্মু পচা আব্বু আমাকে মুখ না ধুয়ে চুমু খাইছে।পাশের রুমে শুয়ে মেয়ের মুখে এই কথা শুনে আধা কেজি অবাক আর তিন সটাক আশ্চর্য হলাম।বউ আমার মিসেস লিজা বেগম,এমনেই নাচুনি বুড়ি তার উপর পাইছে ঢলে বাড়ি!ও মেয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বলে উঠল,কি!!বাবার এত বড় সাহুস,আমার মেয়ের গালে মুখ না ধুয়ে চুমা খাইছে,চল আম্মু তোর আব্বুর একদিন ত আমাদের যে কয়দিন লাগে!! চলুন এই সুযোগে ভয়ে ভয়ে আপনাদের আমার পরিচয় টা দিয়ে দেই,আমি ফয়সাল,ডিপ্লোমা পাশ করে ছোট খাট একটা চাকরিরত মানুষ।আর যারা আমার বিচার করতে আসছে তাহারা আমার বউ লিজা আর মেয়ে ফাহা

অবশেষ বউ মেয়ে এসে জেরা শুর করল,,আমি ত পুরা অবাক।এই তুমি আমার মেয়ের গালে চুমু খাইস কেন??(লিজা) যা বাবা!! মেয়ের গালে চুমা খাইছি তাই বলে কি অন্যায় হয়ে গেছে??(আমি) হুম হইছে ত!তুমি মুখ না ধুয়ে চুমা খাইস কেন?(লিজা) মুখ না ধুয়ে চুমা খাইলে কি হয়???(আমি) মুখ না ধুয়ে খেলে তিন বেলার খাবার বন্ধ হয়ে যায়।(লিজা) যা বাবা!এ কেমন বিচার??বউ এর গালে ঘুম থেকে উঠে চুমা না খাইলে সকালের নাস্তা বন্ধ।অফিসে যাওয়ার আগে চুমা না খাইলে দুপুরের লান্স বন্ধ। আর এখন মেয়ের গালে মুখ না ধুয়ে চুমা খাইলে বুঝি তিন বেলার খাবার বন্ধ!!(আমি) ঐ ফাজিল!মেয়ের সামনে এসব কি বল?লজ্জা শরম এর মাথা খাইস নাকি?(লিজা) ও!!এখন সত্য কথা বলাতে আমি ফাজিল হয়ে গেলাম বুজি??(আমি) থাম তোমরা!! তোমাদের বিচার আমার লাগবে না,আমার বিচার করতে এসে,নিজেরাই চুমা নিয়ে ঝগড়া শুর করে দিস।(ফাহা)

ও সরি মামনি,,বল তুমি কি শাস্তি দিতে চাও বাবাকে?(লিজা) বাবা আজ তোমাকে আমাদের নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে!!(ফাহা) কিইইই!!সকালে একটা চুমার জন্য এত বড় শাস্তি,অফডেতে ঘুম বন্ধ করে এখন ঘুরতে যেতে হবে।(আমি) হুম,,যেতে হবে!(ফাহা) না,যাব না। (আমি) কিইইই!!যাবা না, আচ্ছা এর জন্য প্রস্তাতে হবে বলে দিলাম(লিজা) আম্মু চল তামান্না আন্টির কাছে যাই,তিন জনে মিলে আজ বাবাকে শায়েস্তা করব।(ফাহা) যাও যাও,যানা আছে তোমার দর কত টুকু!!বলেই আবার একটু ঘুম দিলাম।কিন্ত সালার প্রকৃতিক দুর্যোগ এর ডাকে সাধের ঘুম বেশি ক্ষন হল না।অবশেষে লোটা হাতে ছোট ঘরে দিকে দৌড় লাগালাম।আহ!!!কাজ শেষ করে সিটাকানি খুলে বের হতে যাব,,,হায় হায় দরজা দেখি খুলে না।কারনটা কি দরজা লেগে গেল কিভাবে?? ধাক্কাধাক্কি করে কাজ হচ্ছে না। হঠাত ডায়নি মার্কা হাসির সাথে কেউ বলে উঠল,যতই টানাটানি করেন কোন লাভ নাই। কন্ঠ শুনে বুজতে বাকি নাই,,এটা আমার ছোট বোন পেত্নী(মানে তামান্না) মায়ার সুরে বলে উঠলাম, এমন কেন করস বোন?(আমি)

তখন কচি গলায় আমার মেয়ে ফাহা বলে উঠল,বাবা আমাদের দাবি মেনে না নিলে বন্ধ দরজা খুলবে না।(ফাহা)
আমি তখন গর্জে উঠে বললাম,মরে গেলেও আমি এই অন্যায় দাবি মানব না।(আমি) অবশেষে আধা ঘন্টা টয়লেট বসে ছিলাম।পরে আমার বউ এর প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ার প্রযোজন পরতেই দরজা খুলে দিয়ে বলল,এই বের হও তাড়াতাড়ি!!(লিজা) না বের হব না,,আমাকে আধা ঘন্টা আটকে রাখস,আমিও এখন বের হব না(আমি) দেখ!মেজাজ খারাপ কর না বের হও,,আমার ওয়াস রুমে যেতে হবে।(লিজা) জি না!! লক্ষিটি আমি ত বের হব না।আগে তোমরা তিন জন কান ধর তারপর বের হব।(আমি) অবশেষে বউ অবস্থার বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে বাকি দুই সংগী কে নিয়ে কান ধরাতে বের হলাম। যাক এভারের মত জয় আমার হইছে।

বউ আমার রেগে কিপ্টুস জামাই বলে ওয়াস রুমে চলে গেল।বের হয়ে হাতে লম্বা বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিল।লিস্ট দেখেই মাথা নষ্ট,, এত কিছু আনতে হবে। কি আর করার খেতে হলে যেতে হবে,,তাই বাজারে দিকে হাটা দিলাম। বাজারে গিয়ে ত পুরা অবাক,যাই কিনি দোকানদার মুশকি মুশকি হাসে আর দুই টাকা করে কম রাখে, ঘটনা মাথার উপর দিয়ে গেল।অবশেষ ঘটনা বুজতে না পেরে শরিলে তল্লাশি দিতে লাগলাম,বজ্জাত গুলা নিশ্চয় কিছু করছে,যা ভাবছি তাই পিঠে সাইন বোর্ড ঝুলাই দিছে।তাতে বড় বড় করে লেখা,, আমি মিস্টার কিপ্পুস আলী।গত ছয় মাস যাবত অর্থের অভাবে বউ মেয়ে আর আদরের ছোট বোন তামান্নাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে পারছি না,,আপনারা আমাকে দুই টাকা করে সাহায্য করেন আমি সেই জমানো টাকা নিয়ে বউ মেয়ে বোন নিয়ে শিশু পার্কে যেতে চাই।

কাগজ পরে মাথা নষ্ট তার মানে বজ্জাত গুলা সকালের প্রতিশোধ নিছে।বাড়ি ফিরে সব গুলাকে ইচ্ছা মত বকা দিলাম।বকা খেয়ে আমার মেয়েটা কাদতে কাঁদতে ঘরে চলে গেল।আমিও পিছু পিছু গিয়ে দেখি মেয়েটা আমার গাল ফুলিয়ে কাঁদছে,, আমি গিয়ে বললাম আমি ঘুরতে নিয়ে যাব।এক শর্তে কথাটা শুনেই ফাহা মুক্ত ঝরা হাসি দিয়ে বলল,কি শর্ত বাবা!! আমি বললাম,আমাকে একটা চুমা দিতে হবে!!কথা শুনেই মেয়ে গালে এত জোরে চুমা দিল মনে হয় পারলে গালটা খেয়ে ফেলত!

অবশেষ আমি,লিজা, ফাহা, আর ছোট বোন তামান্না এখন পার্কে ঘুরছি!হঠাত একটা সুন্দরি মেয়ে দেখে আড় চোখে তাকাতেই দেখি লিজা আমার দিকে রক্ত চক্ষু করে তাকিয়ে আছে।যাক পরিস্থিতি ঠিক করতে সবাইকে কোন আইসস্ক্রিম কিনে দিলাম।সন্ধায় ক্লান্ত শরিল নিয়ে বাসায় আসতেই আমার উপর পুরুষ নির্যাতন শুর করে দিল ফাহা,তামান্না আর অভিমানী বউ লিজা।সবার মার সহ্য করতে না পেরে দৌড় দিয়ে টয়লেট গিয়ে আশ্রয় নিলাম।কিন্ত একটু পর সব শান্ত হতেই বের হতে গিয়ে দেখি সিটকানি লাগানো।আর বাইরে থেকে আবার তিন ডায়নি উচ্চস্বর বলে উঠল,আজ টয়লেটে থাকেন।হায় হায় এক চুমা দিয়ে সকালে আধা ঘন্টা টয়লেটে বন্ধী থেকে তিন জনকে নিয়ে পার্কে গিয়ে মানিব্যাগ খালি করছি।আবার আরেক মাইয়ার দিকে তাকিয়ে এখন টয়লেটে রাত্রি যাপন করছি। সবি কপাল!!!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত