তোতলা গার্লফ্রেন্ড

তোতলা গার্লফ্রেন্ড

করিম মিয়া বাবার বন্ধু।অবন্তী করিম মিয়ার একমাত্র মেয়ে।এবার অবন্তী পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে।আমি এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ার পড়ছি।খুব ভালো বন্ধুত্ব বাবা আর অবন্তীর বাবার মধ্যে। একদিন একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম অবন্তীদের বাড়িতে।আগে থেকেই বাবা আর করিম সাহেব মজা করেন অবন্তী আর আমার বিয়ে নিয়ে।কিন্তু সেদিন অনুষ্ঠানে অবন্তীর বাবা হঠাৎ সবার সামনে আমাকে দেখিয়ে বলে এটা আমার জামাই।শুনে আমি অবাক হয়ে যায়।কোথায় অবন্তী পঞ্চম শ্রেণী আর আমি ইন্টার।মিলে না এটা।

এটা হতে পারে না।অনেক জোরাজোরি তে রাতে ওদের বাসায় থাকতে হয়।এর মধ্যে বাবা মা,করিম সাহেব ও তার স্ত্রী সহ চারজন মিলে আমার আর অবন্তীর বিয়ে একদম পাকাপোক্ত করে ফেলেছে।এমনকি আমাকে বলা হল আমি যেন আজকের পর কোন মেয়ের দিকে নজর না দেই।আর যতটা সাদাসিধা চলতে পারি।কথাগুলো শুনে মাথা বিগড়ে গেলো জীবন যৌবন এখানেই শেষ হয়ে গেলো।যেহেতু বাবা মা এতো বড় করেছে তাই ওদের কথা শুনতেই হবে না শুনলে বেয়াদবি করা হবে।

সকালে উঠে লক্ষি ছেলের মত হবু শশুর মশাই আর শাশুড়ী নাকে সালাম করে বাবা মায়ের সাথে বাড়ি ফিরলাম।বন্ধুদের সবায়কে জানালাম সব ঘটনা।বন্ধুরা বুদ্ধি দিলো এখন থেকেই সব ব্রেকাপ করা শুরু কর।বন্ধুদের কথা মত তাই করতে লাগলাম কিন্তু হাপিয়ে যাচ্ছি শেষমেশ ফেসবুক চালানো বন্ধ করে দিলাম।

চৈত্র মাস। খুব গরম। মাথে বেয়ে ঘাম ঝরছে।কোথাও কোন বাতাস নেই।চারিদিক রোদে খাঁ খাঁ করছে।একটা গাছের নিচে মন খারাপ করে বসে আছি।অবন্তী এখন যেরকম সুন্দর বড় হলে তার থেকে দশ গুন বেশি সুন্দর হবে কিন্তু আমার দুঃখ একটাই ও বড় বড় হতে হতে আমি বুড়ো হয়ে যাবো। হঠাৎ ফোনের রিং বেজে উঠলো। একটা অপরিচিত নাম্বার।ফোন রিসিভ করেই সালাম দিলাম। সালাম দিতেই চমকে উঠলাম একটা ছোট মেয়ের কন্ঠ ওপাস থেকে।

~~অলাইকুম সালাম,আপনি কি বিপ্লব বলছেনঃ

~~জ্বী!আমি বিপ্লব বলছি, কিন্তু আপনি কে?

~~আমি অবন্তী ”

~~হ্যাঁ কি হয়েছে বলো!তুমি আমার অনেক ছোট তাই তুমি করেই বললাম সমস্যা নেই তো।

~~না, আমি আপনাকে কিতু কতা বলব মন দিয়ে শুনবেন।

~~আচ্ছা ঠিক আছে।

~~আমার আর আপনার বিয়ে ঠিক করেছে আমি জানি, এই বিয়েতে আমার কোন আপত্তি নেই, আর যদি আপনার আপত্তি থাকে সেটা আমি মানব না।

~~কেন?

~~এমনি এটা ভাববেন না কখনো।

~~আচ্ছা ঠিক আছে।আর কি বলবা!

~~আজকের পর থেকে আমি থালা আপনি অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাতে পাবেন না।

~~আর কি!

~~আম্মু আমাকে বলেতে নিজের স্বামীকে কখনো তোখের আলাল করতে হয় না।

~~এই ১ মিনিট তুমি কি তো…….

~~হ্যাঁ এতে আমাল দোষ কি আল্লাহ যদি এমন করে তবে ডাক্তাল বলেছে বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে, আগে তো আরো অনেক থিলো (ছিলো)এখন নেই।

~~আচ্ছা বুঝেছি আর কি বলো!

~~আম্মু বলেছে স্বামীকে খুব আদল(আদর) যত্ন করতে হয়।ভালবাসতে হয়।

~~আর কি……

~~আপনি থুধু (শুধু) আমাকে ভাল পাদবেন (ভালবাস বেন) আর কাউকে না।

~~আচ্ছা বুঝলাম আর কি!

~~আমি থারাদীবন (সারাজীবন) আপনার সাথে থাকতে চাই।

~~আর কি!

~~আম্মু বলেছে এখন থেকেই যেন আমি আপনাকে তোকে তোকে (চোখে চোখে) রাখি।

~~আর কি!

~~আম্মু বলেছে যে কোন ভাবে আপনাকে খুতি (খুশি) করতে।

~~তাই সত্যি বলেছে।

~~হ্যাঁ তো। কি দিয়ে খুশি করতে হবে।

~~প্রতিদিন এক প্যাকেট ব্যানশন আর একটা মদের বোতল চাই।দিবা।

~~হ্যাঁ আমি রাজি। থেলে (ছেলে)মানুষ এগুলো না খেলে সে কিসের ছেলে মানুষ।

~~ভেবেছিলাম এই সব বললে আমার পিছু ছাড়বে কিন্তু কাজ হলো না।

~~কিছু বললেন আপনি;

~~না তারপর বলেন কি বলেছে আম্মু।

~~আম্মু বলেছে আপনার পছন্দ মত জিনিস পড়তে।

~~আচ্ছা সবি তোমার আম্মু বলেছে তুমি কিছু বলবা না।

~~হ্যাঁ বলব কিন্তু থরম (শরম) করছে তো আমার।

~~আর শরম পেতে হবে না বলো।

~~সত্যি বলব

~~হ্যাঁ

~~আমি ভাল পাদি।

~~কি! এসব কি বলছো তুমি,,

~~হ্যাঁ সত্যি আমি ভালো পাদি!

~~মানে দেখো আমার সামনে যা বলেছো তা বলেছো আর কারো সামনে বলবে না। না হলে তোমার সম্মান তো যাবে সাথে তোমার পরিবার এর ও যাবে।

~~আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন না। সত্যি আমি অনেক ভাল পাদি।

~~হ্যাঁ আমি বুঝেছি তো।

~~সত্যি বুঝেছেন, তবে আপনি যে বললেন না ভাল পাদি।

~~আমি কি পাগল নাকি যে বলতে যাবো।

~~ও তার মানে আপনি আমাকে ভাল পাদেন না। শুধু আমি আপনাকে ভাল পাদি।এক তরফা ভাল পাদা দিয়ে কি আর জীবন চলে। আদ বুদলাম কেন ভাল পাদা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

~~ও এই ব্যাপার আগে বলবা তো তুমি আমাকে ভালবাসো।

~~আমি তো সেটাই বলতি (বলছি)এতক্ষন থেকে আপনি বুঝতে পারছেন না।

~~এবার বলেন আপনি আমাকে ভাল পাদেন ধ্যাত ভালবাসেন।

~~হ্যাঁ ভাল পাদি ভালবাসি।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত