তোমার পিছু পিছু

তোমার পিছু পিছু

প্রতিদিনের মতো আজও সকাল থেকে দাড়িয়ে আছি নীরার জন্য। আমি আর রিফাত সেই সকাল থেকে একভাবে দাড়িয়ে আছি নীরার জন্য, কিন্তু অনেকটা সময় পার হতে চলল কিন্তু নীরা আসছে না। এদিকে রিফাত তো আমার উপর অনেকটা রেগে আছে। আর আমি রিফাতকে শান্ত করার চেষ্টা করছি।

— ধুর আর দাড়িয়ে থাকতে পারছি না এই রায়হান নীরা কি আদও আসবে। ভাই তুই আমারে ছাইড়া দে। দাড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পাটাই ব্যথা হয়ে গেছে ।

— ভাই এতো অধৈর্য হোস না আর একটু অপেক্ষা করি।

রিফাত তখন আমার দিকে তাকিয়ে অনেকটা রাগি কন্ঠে বলল; আজ যদি তুই ওর সাথে কথা না বলেছিস তাহলে তোর নাক ফাটিয়ে দিব। মনে মনে ভাবতে থাকলাম, আজ তো আমি শেষ। রায়হান ওই দেখ নীরা আসতেছে, আজ কিন্তু নীরাকে প্রোপস করতেই হবে (রিফাত)।

— ভাই আমার খুব ভয় করতেছে,

— ভয় পেলে তো হবে না, আজ যদি তুই ওকে প্রোপস না করিস তাহলে তোর সাথে বন্ধুত্ব আমার এখানেই শেষ,,,,

বাসা থেকে বের হতেই বৃষ্টি শুরু হয়, তবে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার ঠান্ডা লাগে। তাই বৃষ্টি থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে সেভ রাখি। কিন্তু আজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতাটাও সঙ্গে করে আনিনি। এভাবে রাস্তার মাঝে দাড়িয়ে থাকলে তো একদম ভিজে যাবো। কি করি এখন। আর আসে পাশেও কোন দোকানপাট নেই যে কোন একটা দোকানে গিয়ে বসব। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতেই রাস্তার পাশে একটা গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির পরিমানটাও বাড়তেছে। এই গাছের নিচেও দাড়িয়ে থাকলে ভেজা থেকে আমার কোন রেহাই নেই। আজ রাতেই আমাকে জ্বর বাবাজি জাপটে ধরবে। কথা গুলো মনে মনে বলতেছি আর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা আনার কথা খেয়াল ছিলো না বলে নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছিল আমার। আর তখনই পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে ছাতা হাতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে, আহা কি মায়াবী চেহারা। আমি তো এক ভাবে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি।

— এই যে মিস্টার এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন।

মেয়েটার কথায় আমার ঘোর কাটল;

— না মানে কোই তাকিয়ে আছি। মেয়েটা তখন একটু রাগিভাব নিয়ে বলল;

— তাকিয়ে আছেন আবার বলছেন কৈ তাকিয়ে আছি। মেয়ে দেখলেই শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তাই না।

মেয়েটার কথাগুলো শুনে আমার খুব অস্বস্তি হতে থাকে। আমিও ভাবছি আমি কেন মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি। আমি তখন আমতা আমতা করে বললাম;

— দুঃখিত,

— ঠিক আছে ঠিক আছে, আচ্ছা কলেজে যাচ্ছেন বুঝি।

— জ্বি, কিন্তু বৃষ্টির জন্য আটকে গেলাম। আর ছাতাটাও সঙ্গে আনিনি। তখন মেয়েটা আমাকে বলল;

— আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তো আপনি ভিজে যাবেন বরং এই ছাতাটা ধরুন। আমি তখন একটু ভাব নিয়ে বললাম;

— অপরিচিত কারো দেওয়া কোন জিনিস আমি নেই না। আমার কথা শুনে মেয়েটা অনেকটা রাগ নিয়ে বলল;

—আপনি না একটা বিটকেল। একটা মেয়ে নিজে থেকে আপনাকে ছাতা দিতে চাচ্ছে, আর আপনি সেটা না নিয়ে উল্টো ভাব নিচ্ছন। এতোটা ভাব ভালো না বুজছেন।

কথাগুলো বলেই মেয়েটা চলে গেল। আমি তখন মাথাটা চুলকাতে চুলকাতে ভাবলাম; কি মেয়েরে বাবা যতটা সুন্দর ঠিক ততটাই রাগি।  বৃষ্টিটা একটু থামতেই আমি কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ক্যাম্পাসে এসে দেখি রিফাত ক্যাম্পাসে নেই। হারামজাদা আমাকে এভাবে ক্যাম্পাসে ফোন দিয়ে ডেকে এনে। নিজেই এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পৌছায়নি। আমার তখন খুব রাগ হচ্ছিল ওর উপর। আজ কলেজে আসার কোন ইচ্ছে আমার ছিল না। ওর জন্যেই এসেছি। রিফাতের নাম্বারে ফোন দিলাম কিন্তু ওর নাম্বার বন্ধ। আমি তখন মনে মনে ওকে ইচ্ছে মতো গালি দিতে থাকি। আর তখনই রিফাতের আগমন,

— আরে বন্ধু তুমি দেখি আমার আগেই পৌছে গেছ। আসলে বৃষ্টির জন্য একটু দেরি হয়ে গেল। আমি তখন অনেকটা রাগ নিয়ে বললাম;

— একদম অযুহাত দিবি না সালা, এই তোর ক্যাম্পাসে জরুরি কাজ,।

— আরে আমার কি দোষ ওই তন্ময় তো আমাকে ফোন দিয়ে বলল।

— তা তন্ময় কোথায় ওকে তো দেখতে পাচ্ছি না।

— ওই তন্ময়ের বাচ্চা নিশ্চয়ই আমাদেরকে বোকা বানানোর জন্য এই কাজটা করেছে। ওকে একবার হাতের কাছে পাই, তার পর ওকে দেখে নিব।

— আচ্ছা বাদ দে জানিস আজ তো কলেজে আসার সময় একটা ঘটনা ঘটে গেছে।

— কি ঘটনা ঘটছেরে? আমি তখন রিফাতকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললাম।

— বলিস কি মামা একটা অপরিচিত মেয়ে এসে তোর সাথে এভাবে কথা বলল। আর তোকে নিজের ছাতাটাও দিতে চেয়েছিল। তার উপর তুই ছাতা নিসনি বলে তোকে বিটকেলও বলেছে। আচ্ছা তা তুই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলি কেন।

— আরে আমার পাশে এসে দাঁড়ালো তাই তো মেয়েটার দিকে একটু তাকিয়ে ছিলাম।

— কুছ তো গারবার হে। আমি এখনে রহস্যের ঘ্রাণ পাচ্ছি। আচ্ছা মেয়েটা দেখতে কেমন।

— মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর, আমি তো প্রেমে পড়ে গিয়েছি মেয়েটার।

— বলিস কি এতো তাড়াতাড়ি প্রেমে পড়ে গেলি। তাও যে কিনা তোর সাথে ঝাড়ি দিয়ে কথা বলেছে। তোর কপালে খুব কষ্ট আছে। আর আমার মনে হয় ওই মেয়েটা বেশি সুবিধার না ওর থেকে যতটা দূরে থাকবি ততই তোর জন্য মঙ্গল।

— ধুর সালা তোকে বলাটাই আমার ভুল হয়েছে। সবকিছু নেগেটিভ ভাবোস। আর আমি জানি মেয়েটা খুব ভালো, যদিও মেয়েটার সাথে একটু কথা বলেই বুঝতে পেরেছি যে মেয়েটা একটু রাগি। তবে রাগি মেয়েরাই কিন্তু বেশি ভালোবাসতে পারে। এক বার শুধু ওর মনে জায়গা করে নিতে পারি তো লাইফ জিংগালালা। এর পর কলেজে থেকে বাসায় ফিরে আসি।

— কি রে এতো দেরি হলো কেন, কলেজ তো দুইটার সময়ই ছুটি দিয়ে দেয়। আর এখন বাজে বিকাল চারটা (মা)। কলেজ থেকে বাসায় ফিরতেই মা কথাগুলো বলল।

— আসলে মা বাসায় ফেরার পথে দেখলাম পাড়ার ছেলেরা ফুটবল খেলছিল। তাই আমিও ওদের সাথে ফুটবল খেলি।

— তাই বলে বাসায় ফেরা বাদ দিয়ে তুই ফুটবল খেলবি। তুই জানোস তোর জন্য কতো চিন্তা হচ্ছিল আমার।

— সরি মা এই কান ধরলাম আর কখনো এমনটা হবে না। খুব খিদে পেয়েছে এবার কিছু খেতে দাও।

— আচ্ছা ঠিক আছে যা ড্রেস চেঞ্জ করে, ফ্রেস হয়ে আয়, আমি ততক্ষণে টেবিলে তোর খাবার বারছি।

তার পর খেয়েদেয়ে বেলকুনিতে এসে বসে আছি। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে কি অদ্ভুত মুগ্ধতা। আমি বৃষ্টি দেখেছি আর ভাবছি; আজ সকালটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটা দিন।  মেয়েটার চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া আছে। আর মেয়েটার ঠোটের নিচের তিলটা। এক অদ্ভুত সুন্দর, নাহ অদ্ভুত সুন্দর না ভয়ঙ্কর সুন্দর। মেয়েটার নজরকাড়া চাহনি তো আমার মনে একদম ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। এই মেয়েটাকে আমার করে পেতেই হবে। নাহলে যে আমার চোখের ঘুমটাই হারাম হয়ে যাবে। আর মেয়েটার ভয়েসটাও মাশাল্লাহ।  তবে তখন ছাতাটা কাছে না থেকে ভালোই হয়েছিল। ছাতাটা কাছে ছিল না বলেই তো মেয়েটার দেখা পেলাম। কাল যেখানটায় দাড়িয়ে ছিলাম, আজ ঠিক সেখানটায় দাড়িয়ে আছি। প্রায় আধঘন্টা হতে চলল দাড়িয়ে আছি। একটা নীল ছাতা হাতে। কারণ বলাতো যায় না কখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাবছি, মেয়েটা কি আদও এখান দিয়ে আসবে। কাল তো এখান থেকেই মেয়েটার সাথে দেখা হয়। তার মানে এই আসে পাশেই মেয়েটার বাসা।

ভাবতেই ভাবতেই দেখি সেই মেয়েটা, যাকে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গিয়েছি।  আর আমি ছাতা হাতে দাড়িয়ে। মেয়েটার সাথে আরেকটা মেয়ে। মেয়েটা ওর সাথে থাকা মেয়েটার সাথে হেসে কথা বলছে। আহা কি সুন্দর মিষ্টি হাসি। মেয়েটা আমার কাছাকাছি আসতেই আমি ছাতাটা বন্ধ করে ফেলি। মেয়েটা আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। কিন্তু একটা বার আমার দিকে তাকালো না। আমি কিছুটা হতাশ হলাম। আমি তখন মেয়েটার পিছু নিলাম। তবে অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে মেয়েটাকে ফলো করতে থাকি। কিন্তু কিছু দূর যেতেই মেয়েটা কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছুটা হতাশ মনে বাসায় ফিরে আসি। বাসায় ফরতেই দেখি রিফাত সোফায় বসে আছে।

— কি রে রিফাত তুই কখন আসলি,

— এই তো কছুখন হলো। তা কোথায় গিয়েছিলি এই শুকনো আবহাওয়ায় নীল ছাতা হাতে।

— আরে কোথাও না। আর এখন তো বর্ষা কাল তাই সবসময় কাছে ছাতা রাখাটাই বেটার। কারণ এখনকার আবহাওয়ার মতিগতি পাল্টাতে সময় লাগে না।

— কিন্তু আমি জানি তুমি কোথায় গিয়েছিলে। ওই মেয়েটার সাথে দেখা করতে রাইট।

— ধুর কি যে বলিস তুই, আমি কেন ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে যাবো। আমি তো বাজারে গিয়েছিলাম।

— তা তোমার বাজার কি রফিক চাচার বাসার সামনের আম গাছটার নিচে।

— মানে?

— মানে খুব সহজ বন্ধু, আমি তোমার বাসায় আসার সময় দেখেছি, তুমি নীল ছাতা হাতে দাড়িয়ে আছো। তা তার দেখা কি পেয়েছ।

— হুম পেয়েছিলাম, কিন্তু মেয়েটা আমার দিকে ফিরেও তাকাই নি। মেয়েটার পিছুও নিয়ে ছিলাম। কিন্তু কিছু দূর যেতেই মেয়েটা কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যায়।

— আহারে কি কষ্ট, হবে এমন টাই হবে সুন্দরী মেয়েদের কাছে পাত্তা পাওয়া এতো সহজ না । তবে চেষ্টা চালিয়ে যাও বন্ধু, যদিও জানি মেয়েটা তোমাকে কখনো পাত্তা দিবে না। কারন তোমার এই রোদে পোড়া রোমিও চেহারার ছেলেকে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ে পাত্তা দেয়নি আর কোন দিন দেবেও না। আমি তখন রিফাতকে উদ্দেশ্য করে বললাম;

— এই দোস্ত আমার একটা উপকার করবি। যদি উপকারটা করতে পারিস তাহলে বিকেলে তোকে রেস্টুরেন্ট নিয়ে গিয়ে তুই যা খেতে চাইবি তোকে তাই খাওয়াবো।

— আচ্ছা ঠিক তা বল তোর জন্য কি করতে পারি।

— দোস্ত ওই মেয়েটার খোঁজ এনে দিবি আমাকে প্লিজ। রিফাত তখন মুখ বাকিয়ে বলল;

— প্রেমে পড়ছো তুমি, আর মেয়েটার খোঁজ নিতে বলছো আমাকে।

— বন্ধু প্লিজ এই একটা উপকার আমার কর।

— আচ্ছা ঠিক আছে তবে হা রেস্টুরেন্টের বিষটা যেন খেয়াল থেকে।

আমি দুপুরে বিছানায় হেলান দিয়ে অডিও প্লেয়ারে গান শুনছি আর একটা উপন্যাস পড়ছিলাম। আর তখনই ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি রিফাত ফোন দিয়েছে। ফোনটা রিসিভ করলাম;

— হ্যালো রিফাত বল।

— বন্ধু ইউরেকা মেয়েটার খোঁজ পেয়ে গেছি। আমি তখন কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বললাম।

— সত্যি

— আরে হ্যাঁ মেয়েটার নাম নীরা। আমাদের এলাকায় নতুন এসেছে।

— কিন্তু তুই এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে মেয়েটার খোঁজ নিলি।

— বন্ধু আমি হলাম রিফাত, অসম্ভব কে সম্ভব করাই আমার কাজ। তাহলে বিকেলে ট্রিট দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যাও।

— আচ্ছা ঠিক আছে বিকেল ফোন দিস।

ফোনটা রেখে দেওয়ার পর, আমার এতোটা ভালো লাগছিল। আমার মনে হচ্ছিল এই খবরটা আমার জীবনে সবচেয়ে খুশির। আর নীরা আহা কি মিষ্টি একটা নাম। রায়হান নীরা, নীরা রায়হান। আমার তখন মনে হচ্ছিল এই নামটা বুঝি আমার যুগ যুগ ধরে একটা পরিচিত নাম। শুরু হয় নীরার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আর নীরার পিছু নেওয়ার মিশন। দুই দিন তিন পর পর ওর বাসার নিচে এসে দাঁড়ি থাকি। নীরা যেই বারান্দায় এসে দাঁড়ায় আমি অমনি লুকিয়ে যাই। নীরা যখন রাস্তা দিয়ে যেত আমি ওর পিছু নিতাম। কিন্তু অনেকটা দূরত্ব বজায় রাখতাম। একা একা ভয় করতো বলে রিফাতকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতাম। আর এভাবেই একটা মাস হতে চলল। আমি নীরাকে অনুসরণ করি। কিন্তু ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহস পাই না। আর নীরাও আমাদের সামনে দিয়ে যায় কিন্তু একটা বারের জন্য আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় না। এই বিষয়টা আমার খুব খারাপ লাগতো।

প্রতিদিনের মতো আজও সকাল থেকে দাড়িয়ে আছি, আমি আর রিফাত সেই সকাল থেকে একভাবে দাড়িয়ে আছি নীরার জন্য, কিন্তু অনেকটা সময় পার হতে চলল কিন্তু নীরা আসছে না। এদিকে রিফাত তো আমার উপর অনেকটা রেগে আছে। আর আমি রিফাতকে শান্ত করার চেষ্টা করছি।

— ধুর আর দাড়িয়ে থাকতে পারছি না এই রায়হান নীরা কি আদও আসবে। ভাই তুই আমারে ছাইড়া দে। দাড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার পাটাই ব্যথা হয়ে গেছে ।

— ভাই এতো অধৈর্য হোস না আর একটু অপেক্ষা করি। রিফাত তখন আমার দিকে তাকিয়ে অনেকটা রাগি কন্ঠে বলল; আজ যদি তুই ওর সাথে কথা না বলেছিস তাহলে তোর নাক ফাটিয়ে দিব। মনে মনে ভাবতে থাকলাম, আজ তো আমি শেষ। রায়হান ওই দেখ নীরা আসতেছে, আজ কিন্তু নীরাকে প্রোপস করতেই হবে (রিফাত)।

— ভাই আমার খুব ভয় করতেছে,

— ভয় পেলে তো হবে না, আজ যদি তুই ওকে প্রোপস না করিস তাহলে তোর সাথে বন্ধুত্ব এখানেই শেষ,,,,নীরা আমাদের কাছে আসতেই রিফাত আমাকে কথাটা বললো;

— না আমি প্রোপস করতে পারবো না। আমার কেমন কেমন যেন লাগতেছে।যদি আমার গালে চর বসিয়ে দেয়।

— তুই যদি আজ ওর সাথে কথা বলতে না পারিস। তাহলে আমি তোরে মাইরা আলু ভর্তা করে ফেলবো। আমরা দুইজন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ধস্তাধস্তি করছি।

— আচ্ছা ঠিক আছে আমি নীরার সাথে কথা বলছি। তার পর ভয়ে ভয়ে নীরাকে ডাক দিলাম;

— এই নীরা শোন আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই,

নীরা আমার ডাক শুনে অনেক রাগি চাহনিতে আমাদের দিকে তাকালো। আর এতো গুলো দিন পর এই প্রথম নীরা আমাদের দিকে মানে আমার দিকে তাকালো। নীরার ওই ভয়াত রাগি চাহনি দেখে তো ভয়তে আমার হাটু কাঁপতে থাকে। নীরা তখন আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল। তার পর রাগি ভাব নিয়ে বলল;

— এখানে আর কতো দিন দাড়িয়ে থাকবেন, আর কত দিনই বা আমার পিছু নিবেন। আপনি জানেন না মেয়েদের পিছু নেওয়া ঠিক না।

আমি তখন মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবছি তাহলে কি নীরা আমাদের দিকে খেয়াল করতো। কিন্তু নীরা কথাগুলো অনেকটা রেগে রেগেই বলছিল। ভয়তে আমার গলা দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিল না। আর আমি তো তখন দৌড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছলাম। আর তখনই অপ্রত্যাশিত ভাবে নীরা আমার হাতটা ধরে বলল;

— কি মিস্টার ভাবগতি দেখে তো মনে হচ্ছে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু পালালে তো হবে না চলুন আমার সাথে। আমি তখন একটু ভিতু গলায় বললাম;

— কো কো কোথায় যাবো?

— কোথায় আবার আমি যেখানে যাবো সেখানেই যাবেন। অনেক তো আমার পিছু নিলেন এখন থেকে না হয় আমার পাশে আমার সাথে সাথেই হাটবেন। বলেই নীরা একটা মিষ্টি হাসি দিল।

আমার তখনো কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছিল না, এটা কি সপ্ন না কি বাস্তব। তখন নিজেই নিজের হাতে একটা চিমটি দিলাম। নাহ এইটা তো বাস্তব। তার মানে নীরার মনে আমার জায়গা হয়েছে। ইয়াহু অবশেষে নীরার পাশে হাটার সুযোগটা আমি পেলাম।  আমি তখন পাশ ফিরে রিফাতের দিকে তাকাই দেখি রিফাত চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হয় তো রিফাতও ভাবতে পারেনি যে ঘটনাটা এমন ঘটবে। আমি তখন একটা হাসি দিয়ে রিফাত কে উদ্দেশ্য করে বললাম;

— সেদিন তো বলে ছিলে যে আমার মতো রোদে পোড়া রোমিও চেহারার ছেলেকে কোন দিন কোন মেয়ে পাত্তা দিবে না। কিন্তু সেই রোদে পোড়া রোমিও চেহারার ছেলেটাই আজ একটা সুন্দরী গালফ্রেন্ড পেয়ে গেল। রিফাতের মুখ দিয়ে তখন কোন কথা বের হচ্ছিল না। যদিও রিফাতের জন্যেই নীরার সাথে কথা বলার সাহস পেয়েছি। এর জন্য রিফাতকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

— বুঝছো বন্ধু উপরআলা যাব দেতাহে সাব ভারকে দেতাহে (আমি)।
পকেটে থেকে পাঁচ টাকা বের করে ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম;

— বন্ধু তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না। আর তোমাকে দাড়িয়ে থাকতে হবে না। আমার প্রেমটা অবশেষে হয়েই গেল। এই ধর পাচ টাকা একটা ললিপপ কিনে খেতে খেতে বাসায় চলে যাও টাটা বায় বায়।

আমি আর নীরা পাশাপাশি হাটছি। ফাকা রাস্তায় শুধু আমি আর নীরা। আমি তখন নীরার হাতটা ধরলাম। নীরা তখন আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। আর আমি সেই হাসির মাঝে খুজে পেলাম আমার ভালবাসা। তবে এই হাতটা আর ছাড়ছি না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নীরার এই হাত ধরে থাকব। যুক যুক ধরে পাশাপাশি হেটে যাবো দুজন ভালোবাসার এই রাস্তায়,,,

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত