এক্স গার্লফ্রেন্ড

এক্স গার্লফ্রেন্ড

রাত তখন ১টা বেজে ৩৯ মিনিট, হঠাৎ মেসেন্জারে এসএমএস আসার শব্দ হল, সিন করতেই দেখলাম একটা ছবি,  সাথে সাথে আরেকটা এসএমএস, “এটার নাম কি”? একটু অবাক হলাম, এত রাতে এটা কিসের ছবি দিল, আবার ছবির বস্তুটার নাম জানতে চাচ্ছে। এতটা অবাক হতাম না, যদি আগে কখনো কথা হত। ছবিটাই ত প্রথম এসএমএস, এর আগে ত আর কথা হয় নি ওনার সাথে। আইডির নামটা দেখলাম,  নাম দেখে যতটা বুঝতে পারলাম এটা কোনো মেয়ের আইডি। কিন্তু এত রাতে, একটা মেয়ে এসএমএস করল তাও একটা অদ্ভুত রকমের ছবি দিয়ে তার নাম জানতে চাইল। অনেক কিছু ভেবে রিপ্লাই দিলাম কে আপনি?

-আগে যা জানতে চাইছি তা বুলুন
-কি বলব?
-ঐ যে ছবিটা দিলাম, কি এটা বলেন?

এবার আর ভেবে পাচ্ছি না ঠিক কি হচ্ছে আমার সাথে, অনেক ভেবে উত্তর দিলাম, ছবিটর জিনিসটা ঘর সাজানোর কোনো বস্তু হবে, দেখে ত তুলার তৈরি ডিম মনে হচ্ছে।

-হয় নাই, অন্য কিছু বলেন।
-সরি, আমি আর বলতে পারতেছি না, এবার আপনার পরিচয়টা দেন।
-মজা করলাম আপনার সাথে, এটা আসলে স্পন্জ, আমরা মেকআপ করার সময় ব্যবহার করি।
-এসব ব্যবহার করি না, তাই কোনো ধারনা নাই। এবার আপনার পরিচয়টা দিন।
-আমি মিম, বাসা ” অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, ” সরকারি কলেজ।
-সরি চিনতে পারলাম না আপনাকে,
-চিনতে না পারারই কথা,
-তাহলে এত রাতে নক করলেন যে, কয়টা বাজে দেখছেন?
– হুম দেখছি মাত্র আড়াইটা বাজে,
– কি! রাত আড়াইটা আপনার কাছে মাত্র মনে হচ্ছে?
-হ্যা, যার সাথে সারা রাত কথা বলতাম, তার সাথে আইড়াইটা ত কোনো রাত ই না।।
– কি বলতেছেন এইসব?
-হ্যা ঠিক ই ত বলতেছি।।।।।।

পরপর ২টা স্কিনসট আসল, আমার সাথে কি হচ্ছে, আর কি হতে যাচ্ছে কিছুই বুঝতেছি না। স্কিনসট গুলো দেখলাম, নাহ কিছুই বুঝতে পারলাম না, বিন্দু মাত্র ধারনা করতে পারতেছি না কে এই মিম, আর এত রাতে কেনই বা আমাকে নক করল।

-সরি আমি আপনাকে চিনতে পারতেছি না,
– হ্যা চিনতে না পারারই, কথা। তবে এত তারাতারি ভুলে যাবা ভাবি নি।

এবার ত আমার অবস্থা আরো খারাপ, এখন দেখি আমাকে তুমি করে বলা শুরু করল, আল্লাহ রক্ষা কর আমাকে। এমনিতেই এত রাতে কারো সাথে বিশেষ কোনো দরকার ছাড়া কথা বলি না, তার মধ্যে অপরিচিত কোনো মেয়ে তুমি করে বলতেছে। সব কিছু ভাবতে ভাবতে রিপ্লাই দিলাম-

-দেখুন কে আপনি, আমি ঠিক চিনতে পারতেছি না। কোনো দরকার থাকলে বলুন। আর পরিচিত কেউ হলে সঠিক পরিচয় দেন।
-এই কয়দিন কথা বলিনি বলে, তোমার এসএমএসের রিপ্লাই দেইনি বলে তুমি থেকে আপনি হয়ে গেলাম?
-আমি আপনাকে চিনতে পারিনাই এখনো, আর অপরিচতদের আপনি করেই বলি।
-এত তারাতারি কেউ কারো এক্স গার্লফ্রেন্ডকে ভুলে যায়? এবার আমি বড় ধরনের সক্ড খাইলাম, সে এক্স হইছে এখনো ১বছর হয়নি। কিন্তু ওর ত আমাকে নক করার কথা না, কারন যা হইছে ত ওর জন্যই হইছে ওনিজেই ব্রেক করেছে। তাহলে আজ এত রাতে-

-আসলে দেখুন আপনার এই আইডিটা আমার কাছে পরিচিত মনে হচ্ছে না, আর নামটাও
-তুমি এত তারাতারি কি করে ভুলে গেলা আমাকে? শুনেছি মানুষ কখনোই তার এক্স গার্লফ্রেন্ডকে ভুলে না। আর তুমি,

-দেখুন আমি আপনাকে চিনতে পারতেছি না, আর আপনি আমার এক্স গার্লফ্রেন্ড হবেন কিভাবে, এটা ত কখনোই সম্ভব না।
-থাক, আর চিনতে হবে না। এই কয়দিনে তুমি আমাকে এতটা দূরে সরিয়ে দিবা ভাবিনি। বাদ দেও আমাকে আর চিনতে হবে না, এবার বল তোমার গার্লফ্রেন্ডের কি অবস্থা? রিপ্লাই দেওয়ার মত কিছু খুজে পেলামনা এবার, তাই নিরব থাকলাম কিছুক্ষন।।

-কি হল, বলবা না তোমার বর্তমানের কথা? আরে বয় নাই বলতে পার, আমি আবার বেক করব না তোমার লাইফে। এবার মনে হচ্ছে মেয়েটা আমার মাথা নষ্ট করে ছাড়বে, রাত প্রায় ৩টা বাজে, আর এমন সব কথা বলতেছে, নেট অফ করেও শান্তি পাব না এর শেষটুকু না বুঝে। এবার একটু বুন্ধি কাটিয়ে জিজ্ঞেস করলাম –

-তুমি কি সত্যি আমার এক্স বলতেছ? প্লিজ সত্যি করে বল।
-হ্যা, তোমার কি আমার কথা বিশ্বাস হয় না?
-হ্যা এবার কিছুটা বিশ্বাস হচ্ছে, আচ্ছা তোমার কি মনে আছে ব্রেকআপের আগে শেষ বার যখন ভালোভাবে কথা বলেছিলাম কি কি বলে ছিলাম সেই রাতে?

-হ্যা মনে ত আছেই, তোমার প্রতিটি কথাই আমার মাথায় এখনো ঘুরে। তোসার সাথে ব্রেকআপ করে আমি ভুল করেছি, সেটা এখন বুঝতে পারতেছি।

-তাই, আচ্ছা চল না আজ রাতেও আমরা সেই রোমান্টিক কথা গুলো বলি, তোমার মাথায় ত কথা গুলো ঘুরতেছে তাই তুমিই শুরু কর, আগে ত সব সময় আমি শুরু করতাম। নীরবতা, ১মিনিট, ২মিনিট, ৩মিনিট

-কি হলো চুপ কেন, বল না। এত দিন পর তুমি ফিরে এসেছ, তোমার মুখ থেকে খুব শুনতে ইচ্ছে করতেছে কথা গুলো।।।।
-ভাই আমাকে মাফ করেন,
-ওমা, আগে আমি আপনি ডাকতাম বলে তুমি রাগ করছিলা, কত সুন্দর করে তুমি ডাকতেছিলা। এখন আমি তোমাকে তুমি ডাকতেছি কিছু শুনতে চাচ্ছি এবার ভাই ডাকতেছ কেন? এক্স বয়ফ্রেন্ড কি কখনো ভাই হয়?

– সরি ভাই মাফ করেন আমাকে।
-তুমি সরি বলতেছ কেন, আর মাফ চাওয়ার কি আছে, যা শুনতে চাচ্ছি তা ত আমরা আগে নিয়মিতই বলতাম।
-সরি ভাই, আমি আপনার এক্স গার্লফ্রেন্ড না। আর ওনার সাথে যা বলতে তা আমি আপনার সাথে বলতে পারব না কখনোই।

-এটা কি হল, তুমি আমাকে আপনি করে বলতেছ কেন? দেখ আমি ত চিনতে পারছি তোমাকে।
– হ্যা আমি বুঝতেছি আপনি খুব ভালো করেই চিনতে পারছেন আমি আপনার এক্স গার্লফ্রেন্ড না। আমি আপনার সাথে মজা করছি, মাফ করেন এবার।
-এত রাতে মজা, তাও আবার আমার এক্স গার্লফ্রেন্ড সেজে?
– আসলে হঠাৎ করে দেড়টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেছে, আর নেটে ডুকে দেখি আপনি একা এক্টিভ, তাই ভাবলাম একটু মজা করি। কিন্তু এভাবে ধরা খেয়ে যাব বুঝিনি।

-হুম বুঝতে পারলাম, তবে একটা কথা বলে রাখি, সব ছেলেদের ক্ষেত্রে এমনটা কি না জানি না, তবে আমার এক্সের কিছু জিনিস মাথায় এমন ভাবে সেট হয়ে আছে যা কখনোও অন্য কেউ মিলাতে পারবে না, পারবে না সেই কাজ গুলো ঠিক তার মত করে করতে, তাই যতই চেষ্টা করা হোক না কেন কেউ ওর পরিচয় দিয়ে ধরা না খেয়ে রক্ষা পাবে না।

-এত রাতে বিরক্ত করার জন্য সরি, আসলে আমি মজা করতে চাচ্ছিলাম, আর দেখলাম প্রথমে আপনি পিছু হাটতেছেন, তাই আরো বেশি মজা করার মত সাহস পাচ্ছিলাম, কিন্তু কখনো ভাবিনি এভাবে পিছু হেটে নিজের অবস্থানটা শক্ত করে তার পর আমাকে এভাবে ধরবেন।

-সরি, আমি পিছু হাটিনি, সব অপরিচিতদের সাথেই এভাবে কথা বলি। আপনাকেও পরিচিত মনে হয় নি তাই এভাবে কথা বলছি। অনেক রাত হইছে, আশা করি অনেক মজা পাইছেন, আপনি ত আমার এক্স গার্লফ্রেন্ড হতে চাইছিলেন, কিন্তু আমার বর্তমান যদি জানি আমি আপনার সাথে এত রাত জেগে কথা বলছি তাহলে কি হবে আল্লাহ জানেন।

-তার মানে আপনার বর্তমান আছে, প্লিজ ওনার সম্পর্কে একটু কথা বলি, এক্স সম্পর্কে ত জানলাম।
-আমাকে মাফ করেন, কারন এখন ওর সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে দেখা যাবে সকাল হয়ে গেছে, আর তখন দেখব সে আমার এক্স হয়ে গেছে, তখন কিন্তু আপনাকেই আমার বর্তমান হতে হবে। এক্স গার্লফ্রেন্ডের অভিনয় করতে গিয়ে বর্তমান হতে না চাইলে এবার বিদায় হোন।।।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত