আমার পরীর গল্প

আমার পরীর গল্প

রেডি হচ্ছি বিয়েতে যাবো বলে,, মা ডাকছে…
-কিরে তোর আর কতখন….?তোর কি কোনো দিন বোধ হবে নারে ঘুম থেকে উঠতে ১১ টা বাজালি এখন আবার এত দেরি করছিস!আচ্ছা আমি তো জানতাম মেয়েদের রেডি হতে দেরি হয়। কিন্তুু এখন তো দেখছি উলটো…….
-আরে মা বোনের বিয়ে বলে কথা একটু টিপটপ হবো না?
-যখন তোর বিয়ে হবে তখন টিপটপ হইস এখন চলতো….
-হ্যা মা চলো….
বিয়ে বাড়িতে এসে পৌছালাম।অনেক লোকজন।মনে হচ্ছে হারিয়ে যাবো।যাই বোনটাকে একটু দেখে আসি…..
-কিরে পেত্নী,,ভাই এর আগে বিয়ে কেনো করছিস রে তুই সেলফিস!
-দেখ সিয়াম তুই আমাকে পেত্নী বলবি না।
-যদি বলি কি করবি রে পেত্নী?
-হা হা হা আমার অনেক বান্ধবীরা আসবে তখন তোকে মজা বুঝাবো দেখিস….
-হ্যা হ্যা তোর ছাগলের মত বান্ধবীরা আমার কি করবে রে?
-আসলেই বুঝবি……
-ওকে আমার বন্ধু রাও আছে কিন্তুু,,
-তোর গাধার মত বন্ধুু রা কিছুই করতে পারবে না……
আমার খালাতো বোন ওর আর আমার ঝগড়া টা লেগেই থাকে কিন্তুু ভালোও বাসি অনেক আজ ওর বিয়ে ওর অনেক বান্ধবীরা আসবে মজা নেওয়া যাবে…….ঐ যে বলতে না বলতেই পেত্নী গুলা এসে গেছে…এইবার আমার পেত্নী বোনটা কি যে করবে আমার সাথে তা আল্লাহ জানে….
-এই সিয়াম পালাচ্ছিস কোথায় এদিকে আয়?(বোন)
-কই পালাচ্ছি না তো……
-হ্যা বুঝি চল পরিচয় করিয়ে দেই ওদের সাথে…..ও জুই,ও রিয়া,ও বাঁধন,ও লাবন্য,আর ওকে তো চিনিস ই বর্ষা…
-বাধন মেয়েটার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলাম আমি,,ওকে দেখে আমার মনে হয়েছিল আমি যেনো কোন আকাশ থেকে নেমে আসা পরী কে দেখছি..বর্ষার সাথে দাড়িয়ে ছিল বাধন,,আমি শুধু বাধনকে দেখ ছিলাম,, ঐশীর বান্ধবীরা আমায় নিয়ে অনেক ঠাট্টা করছিল(ঐশী আমার বোন)আমি কিছুই বলছিলাম না ওদের শুধু তাকিয়ে আছি বাধনের দিকে,,ওর থেকে অনেক সুন্দর মেয়ে আমি দেখেছি কিন্তুু এই মুহুর্তে আমার মনে হচ্ছে বাধন পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মেয়ে…. দেখতে দেখতেই ঐশীর বিয়ে শেষ বাধন ওর বাড়ি চলে যাচ্ছে আর এদিকে আমি ওকে কিছুই বলতে পানি নি ওর নাম টা ছাড়া আর কিছুই জানি না আমি….চলে গেল বাধন,, ঐশীও চলে গেল ওর শশুর বাড়িতে….বাধন চলে গেলো ঐশীর বিয়ে শেষ হওয়ার পর। আমি তাকে কিছুই বলতে পারি নি,,তার নাম টা ছাড়া আর কিছুই জানতাম না ওর সর্ম্পকে,,আমি বাধনকে প্রথম দেখাতেই অনেক ভালোবেসে ছিলাম,,অপেহ্মায় ছিলাম যদি বাধন এর সাথে আচমকা দেখা হয়ে যায় সেদিন বলে দেবো,,কিন্তুু না দিনের পর দিন গেলো ওর সাথে দেখা হলো না আমার,,হঠাৎ একদিন আমার মাথায় আসলো,,বর্ষার সাথে যোগাযোগ করলে বা ঐশীর সাথে কথা বললে আমি ওকে খুজে পেতে পারি,, কিন্তুু আমার কপাল খারাপ ঐশী পেত্নী টা ওর বর কে নিয়ে ঘুরতে গেছে ওকে বিরক্ত করাটা ঠিক হবে না,,বাকি রইলো বর্ষার। বর্ষার স্কুলটা আমি চিনতাম আমি প্রতিদিন বর্ষার স্কুলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতাম কিন্তুু কপাল মন্দ বর্ষার দেখা নাই…..কথায় বলে বিপদের সময় কাউকে পাশে পাওয়া যায় না আমিও কাউকে পেলাম না।এখন ঐশীর ফেরা অবধি অয়েট করতে হবে,,করতে থাকলাম অয়েট,, একদিন বিকেলে সব চিন্তা বাদ দিয়ে আমার fb আইডি টায় ঢুকলাম। বন্ধুু দের সাথে চ্যাট করছিলাম,, একটা মেয়ে নক দিল আমায়……
-হাই….
-হ্যালো
-কি নাম আপনার?
-সিয়াম।আপনার?
-হিয়া।আপনার বাসা কোথায়?
-নবাবগঞ্জ। আপনার?
-আমারো…আচ্ছা আপনি কি পড়া রেখা করেন?
-হুম।আপনি?
-হুম।কোন ক্লাস?
-১০।আপনি?
-ইন্টান ১ম
-আপনি কোন স্কুলে পড়েন?
-Agla J.M.high scl…..
-ওহ!ঐ স্কুলে আমার একটা ফ্রেন্ড পড়ে।
-কি নাম?
-বর্ষা।ক্লাস ১০
-হ্যা চিনি…..
-ও স্কুলে আসে না?
-না,, ও একসিডেন্ট হইছে!
-কবে কিভাবে?
-আমি ঠিক জানি না…..
-আচ্ছা আপনি আমার একটা হেল্প করবেন?
-কি হেল্প?
-বর্ষা আমার বোনের বিয়েতে গেছিল,,ওর সাথে একটা মেয়ে ছিল নাম বাধন,, বর্ষা স্কুলে আসলে ওর কাছথেকে আমাকে একটু মেয়ে টার ঠিকানাটা এনে দিবেন?
-ওকে।কিন্তুু কেনো?
-আমি ঐ মেয়েটা বিয়ে বাড়িতে প্রথম দেখেছি আর অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তুু আমি ওর নাম টা ছাড়া আর কিছুই জানি না….
-আচ্ছা আমি চেষ্টা করবো আপনাকে হেল্প করার…

-প্লিজ হেল্প মী….আমাকে আপনি বাধন এর ঠিকানা টা এনে দেন বর্ষার কাছ থেকে…
-আচ্ছা আমি চেষ্টা করবো…..
-ধন্যবাদ….. 
(হিয়া স্কুলে যাওয়ার পর)
-এই আনিকা… বর্ষার শরীর কি ঠিক হয়নি?
-হ্যা হইয়েছে কিছুটা এখন আগের থেকে ভালো….
-স্কুলে আসবে কবে থেকে?
-জানি না রে….
-ও!আচ্ছা বর্ষা কি ফেইসবুক চালায় নাকি রে?
-হ্যা চালায় তো! কিন্তুু কেনো?
-না এমনি। ওর আইডির নামটা কি?
-(Borsha Rahman)
-আচ্ছা ঠিক আছে যাই রে এখন,,
(স্কুল থেকে ফিরে বর্ষাকে add দিলো হিয়া)
add accepted…..
-হাই
-হ্যালো…
-তুমি কি বর্ষা?
– হুম কেনো?
-আমি হিয়া,,
-ওহ! কেমন অাছো?
-ভালো,,তোমার কি অবস্থা?
-হুম এখন একটু ভালো….
-বর্ষা তোমার সাথে একটু কথা ছিলো…
-হ্যা বলো….
-তুমি ঐশী নামের একটা মেয়ের বিয়েতে গেছিলা?
-হুম। কেনো?
-আমাকে ঐশী র ভাই বললো তোমার সাথে নাকি একটা মেয়ে ছিলো… নাম বাধন?
-এখন ঐ বান্দরটার কি হইছে?
-ও নাকি ওকে অনেক লাভ করে,, অনেক খুজেছে ওকে কিন্তুু পায় নি… এখন আমাকে বলছে তোমার কাছ থেকে ওর নাম্বার বা বাসার ঠিকানা টা নিয়ে দিতে…..
-কিন্তুু ওর তো বিয়ে হইয়ে গেছে…..
-কিহ!আল্লাহ কিন্তুু ছেলাটা তো ওকে অনেক লাভ করে…..
-হুম আর কিছু দিন আগে বললে হয়তো বিয়েটা আটকানো যেতো…..
-হ্যা ও তোমাকে অনেক খুজেছে,, প্রতিদিন স্কুলে আসতো কিন্তুু তোমাকে পায় নি…
-কিন্তুু এখন তো আর কিছু করার নেই,, ওকে সত্যিটা বলে দিও…..
(হিয়া সবটা খুলে বললো আমাকে)
-কিহ! ওর বিয়ে হয়ে গেছে!(কিছুটা অবাক হয়ে বললাম)
-হ্যা,,আর তোমাকে সত্যিটা মেনে নিতে হবে…
-না পারবো না,, বিশ্বাস করি না আমি…
-এতে করে সত্যিটা মিথ্যে হয়ে যাবে না…
-হুম আচ্ছা আর একটা হেল্প করবা আমাকে?
-হুম বলো?
-আমাকে বাধনের আইডি আর ওর একটা ছবি এনে দিতে পারবা?
-আচ্ছা রাতে বর্ষার থেকে এনে দিবো….

#রাতে……….
-হাই
-হুম বলছো সব ওকে?
-হ্যা বললাম তো….ও অনেক কষ্ট পেয়েছে,,আর হ্যা ও বলেছে বাধনের একটা ছবি আর ওর আইডি টা দিতে?
-ওর আইডির নাম#Trisa Tanjim(মায়ার বাঁধন)(ছবি টাও দিলো……)
হিয়া আমাকে ওর আইডিটা আর ছবিটা দিলো!কিন্তুু আমি ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম না…..পওর প্রফাইল দেখেই প্রতিটা রাত কেটে যায়……
“সমাপ্ত”

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত