দুষ্টু মিষ্ট ভালবাসা

দুষ্টু মিষ্ট ভালবাসা

পড়া বাদ দিয়ে কী করা হচ্ছে?(মিষ্টি) – শুয়ে থেকে চ্যাটিং করা হচ্ছে। – কাল না তোমার পরীক্ষা?? – তুমি তো আছোই – কাল কিন্তু আমি দেখাতে পারবো না। – হু,,,বল্লেই হলো!! কাল একদম তোমার কোলে বসে পরীক্ষা দিব। – দেখা যাবে! – দেখা যাবে কী?আজকেই কোলে বসবো কিন্তু! – ওই,,সরো।নিজে পড়বে না, শুধু আমার উপর ভরসা করে যাবে!! – তুমিই তো আমার সবকিছু। – হইছে থাক। উঠে পড়তে বসবা এখনই…. – আজ শরীরটা ভাল লাগছে না রে,, তুমি পড়ো। – চুপ।।উঠো বলছি….. ~ কী আর করার!! উঠে বই নিয়ে খাটের উপর পড়তে বসলাম।অন্যদিকে,মিষ্টি টেবিলে বসে পড়াশোনা করছে।কী ভাগ্য আমার! এইটাকে কী খারাপ বলবো, নাকি ভাল বলবো,কিছুই বুঝতেছি না।।

একদিন বিকাল বেলা মিষ্টির সাথে রিক্সা করে ঘুরতেছিলাম।আর সেই সময় আব্বু আমাদের দেখে ফেলে। যখন রাতে বাসায় ফিরলাম তখন……. – কই থেকে আসলে?(আব্বু) – কেনো আব্বু? আমি তো কোচিং এ গেছিলাম। – আজকে সবগুলো ক্লাস করছো? – হ্যাঁ আব্বু।একদম পাক্কা তিনটা ক্লাস করেছি। – মেয়েটাকে সামনে সপ্তাহে, আমার একদম নিজের মেয়ে করে নিয়ে আসবো। – আব্বু এর মাঝে মেয়েটা আবার কে??[ মাথা চুলকাতে চুলকাতে বল্লাম….] – মেয়েটার নাম মিষ্টি। – [ হায় আল্লাহ্!! আব্বু দেখি এক-এক করে সব বলে দিচ্ছে] – মেয়েটার সাথে তোমার সম্পর্ক কতদিনের? – না আব্বু মানে……চার মাসের মতো হবে। – হুম। তুমি শুধু ভালো করে পড়াশোনা করো। – হ্যাঁ আব্বু ~ আব্বুর সাথে কথা বলা শেষ করে দৌড় দিলাম আমার রুমে।এইডা কিছু হইলো!!!

আব্বুর কাছে ধরা খেয়ে গেলাম।তারপরেও আব্বু আমাকে অনেক ভালোবাসে। একটা মাত্র ছেলে বলে কথা! আব্বু আমার মনের কথা গুলো, তাঁর কাছে বলার আগেই সেইটা পূরণ করে দেয়। আমাকে কখোনই বকা দিয়ে কথা বলে না। হাজার ভুল করলেও তাঁর কাছে সব মাফ। লাভ ইউ আব্বু।অনেক ভালোবাসি তোমায়।। ~ হ্যাঁ,, সত্ত্যি এক সপ্তাহ পর, আমাদের ফ্যামিলি ম্বেবারে আর একজন নতুন যোগ হয়,,সেটা আর কেউ না, সেটা হচ্ছে মিষ্টি। আব্বু পেয়েছে, তাঁর নতুন একটা মেয়ে।আর আমি পেয়েছি আমার ভালবাসার মানুষটিকে।মিষ্টি আমাদের বাড়িতে আসার পর থেকে সবার মাঝে খুশি ভাবটা অনেক গুনে বেড়ে গিয়েছে। মিষ্টিকে নিজের মেয়ের মত ভালবাসে আব্বু। কারণ,আমার নিজের কোন বোন নাই।

এই মিষ্টি আসার পর থেকে আব্বুর ভালবাসার মধ্যে ভাগ বসাইছে মিষ্টি।আমার চাহিদা গুলোর মতই, মিষ্টির সব চাহিদা আব্বু পূরন করতো। আব্বু কখনই মিষ্টিকে বৌ মা বলে ডাকতো না।সব সময় নিজের ছোট মেয়ের মতো নাম ধরে ডাকত। ~ তো সে যাইহোক,মিষ্টি এখন আমার বিয়ে করে বউ।আমরা দুইজনই এইবার অর্নাস ফাইনাল ইয়ারে আছি,,তাও আবার একই ডির্পামেন্ট রসায়নে। পড়াশোনা ঠিক ঠাক মত করি না।মিষ্টি আবার সব সময় পড়াশোনা করে।মেয়ে মানুষ বলে কথা!! . – ওই তুমি আবার মোবাইল হাতে নিছো? – কই না তো! – আমি দেখছি।মিথ্যা বলো না? – হুমম। এই নাও মোবাইল। [ মোবাইল টা মিষ্টির কাছে জমা দিয়ে দিলাম ] – এইতো গুড বয়। এখন লক্ষী ছেলের মত একটু পড়ো। – কাল কয়টায় পরীক্ষা,মিষ্টি?? – সকাল ৯ টায়। – এ বাবা! তাইলে, তো এখন আমার ঘুমাতে হবে।

নয়তো সকাল বেলা উঠতে পারবো না। – ঢ়ং করতে হবে না।আর একটু পড়ো। . ছোট বাচ্চাদের মতো সব সমময় পড়ার জন্য শাসন করবে। সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকো। মোবাইল হাতে নেওয়া যাবে না। আমার আব্বুও হয়তো এতো বার বলে না পড়ার জন্য। অবশ্য, ভালই লাগে ওর শাসন গুলো,ওর সাথে ঝগড়া করতে। পড়ার জন্য সারাক্ষণ বকা খাই মিষ্টির কাছে,,তারপরেও পড়ি না….. . মিষ্টির কথায় আবাও একটু বই নিয়ে বসে আছি। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতেছি,,হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম,মিষ্টি টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। – মিষ্টি কী ঘুমিয়ে গেছো? – না,,,একটু ঘুম পাইছে,,, – তোমার কী শরীর খারাপ লাগতেছে? – ওই না। হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়ছি….. – হুম,ঠিক আছে। অনেক পড়ছো, এবার ঘুমাও। রাত ১ টা বাজে তো!! – ওরে বাব্বাহ্! নিজের ঘুম পাইছে সেটা বলো। – সব সময় খালি ঝগড়া করো কেনো আমার সাথে?? – তুমি বুঝছো ঢ়ং করার দিক দিয়ে নাম্বার ওয়ান।

>> চিন্তায় আছি মিষ্টির সাথে একটু রাগ- অভিমান করে ঘুমিয়ে পড়বো।নয়তো, আজ সারারাত ও আমাকে ঘুমাতে দিবে না। যতক্ষণ মহারাণী পড়াশোনা করবে,ততক্ষণ অামাকেও পড়তে হবে। উফফফ, কী যে প্যাইন এইটা!!!! – তোমার সাথে আর কোন কথা নাই। – আবারও ঢ়ং? – হু, আমি তো সব সময়য় তোমার সাথে ঢ়ং করি! – বুঝছি,,ঘুমানোর নতুন একটা পদ্ধতি এইটা। – মানে??? – ওতো মানে আমি বুঝাতে পারবো না।বুঝে নাও…. আমি আর কিছু না বলে শুয়ে পড়লাম। তখনই মিষ্টি আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সেইইইই কী মাইর রে ভাই…!! – মারতেছো কেনো আমাকে? – উঠ বলছি?? – আমি কিন্তু এখন আম্মুকে বলে দিবো? – যাহ্ গিয়ে বলে দে  আম্মুর কথা বলতেই তো আম্মু দরজায় এসে হাজির। কি মজা,কি মজা…” – কী রে মিষ্টি কী হইছে? (আম্মু) – আম্মু দেখোতো তোমার ছেলে আমাকে মারতেছে! [ এইডা কী হল!! দিনে দুপুরে ডাকাতি! ]

– মারতেছে কেনো? – আমি তোমার ছেলেকে পড়তে বলছি তাই। – দরজা টা খোল তো মিষ্টি?? – না না অাম্মু ঠিক আছে, তুমি যাও শুয়ে পড়ো। ( এইবার ঠিক হইছে। আম্মুকে আসতে দাও।দেখে যাক তাঁর ছেলের কী অবস্থা!!!”) – আম্মু দাঁড়াও দরজা খুলতেছি…. (আমি বললাম) – ওই না। চুপচাপ শুয়ে পড়ো।তোমার নাকি ঘুম পাইছে? – কই ঘুম? আম্মুকে দেখে আমার ঘুম চলে গেছে। – আম্মু এমনি মজা করে বলছিলাম।তুমি যাও, কিছু হয় নি। (মিষ্টি) – হি হি হি হি (মিষ্টির অবস্থা দেখে হাসিই লাগতেছিল) – হাসার বেলায় ঠিক আছে। পড়ার বেলায় গোল্লা! (মুখ ভেংচি দিয়ে বলল মিষ্টি) . মিষ্টির সাথে ঝগড়া করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও ঠিক মত জানি না। হঠাৎ ফজরের আজানে ঘুম টা ভেঙ্গে গেল।

বুকের উপর এতো চাপ অনুভব করতেছি কেনো?? আমার বুকের উপর কী তুলে দিয়েছে!! চোখ ঠিক ভাবে খুলে দেখি, কম্বল মুড়ি দিয়ে আমার বুকের উপর মিষ্টির মাথা। সর্বনাশ! পড়ার ঠেলায় হয়তো এইটাকেই বালিস ভেবে নিয়েছে! ” এইটা কী বালিস নাকি?” . হঠাৎ করেই মিষ্টির উপর ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে গেল। না জানি কত্তো রাত পর্যন্ত বেচারী পড়াশোনা করেছে! না…মিষ্টিকে এখন জাগানো ঠিক হবে না।তাই, আস্তে করে মিষ্টির মাথাটা আমার বুকের উপর থেকে নামিয়ে রাখতেই – এই কই যাও? – নামাজে যাবো। (আস্তে করে বললাম) – এই দিকে আসো না?? – এ এ কী করতেছো? জড়িয়ে ধরলে কেনো? ছাড়ো – তোমার কোথাও যাওয়া নাই। জানি, মিষ্টি ঘুমের মধ্যেই এইসব করতেছে। মেয়েটা পড়তে পড়তে পাগলী হয়ে যাবে।কখন যে কী করে!! আমি স্পষ্ট দেখতেছি, মিষ্টি এখনও জাগা পায় নি।কিন্তু, আমাকে যে ভাবে জড়িয়ে ধরেছে,আজ মনে হয় আর নামাজে যাওয়া হবে না।

অনেক কষ্টে ওর হাতটা ছাড়িয়ে নামাজ পড়তে গেলাম। নামাজ থেকে এসে দেখি মেয়েটা এখনও ঘুমাচ্ছে। আহারে! কতোই না মায়াবী লাগতেছে আমার নীল পরী কে” রাতে যতটুকু পড়েছি, এবার একটু রিভিশন দেওয়া যাক। আবার খেয়াল হয়ে গেল,এখন এই রুমের লাইট জ্বালিয়ে পড়লে,মিষ্টির হয়তো ঘুমাতে সমস্যা হবে।মেয়েটা ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। আমি অন্য রুমে গিয়ে পড়ি। – ওই তুমি এইখানে?(মিষ্টি) – তুমি কখন উঠলে? – তোমাকে আমি পুরো বাড়ি খুঁজতেছি। – আহারে কেনো? – আমি বুঝি তোমাকে খুঁজতে পারি না?? – ইশ! কী সুরটাই না মারতেছে! (আস্তে করে বল্লাম) – তুমি কিছু বলল্লে?? – না তো, কই?যাও পরীক্ষা দিতে যাইতে হবে তো? – হুম,,মনে অাছে। মিষ্টিকে এই বাড়িতে কোন কাজ করতে হয় না।

আব্বু-আম্মু আমাদের দুইজনকেই তাঁদের ছেলে মেয়ের মতো ভালবাসে।মিষ্টির কাজ শুধু পড়াশোনা করা আর আমাকে ছোট বাচ্চাদের মত পড়ার জন্য শাসন করা। অবশ্য এই পারমিশন আব্বুই দিয়েছে মিষ্টিকে। . খাওয়া-দাওয়া শেষ করে দুইজনেই কলেজে গেলাম পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষার হলে ঢুকতেই দেখি আমার সেই প্রিয় স্যার আজ অামাদের রুমে গার্ডে আছে। স্যারকে দেখেই তো মনটা খুশি হয়ে গেল। “স্যার আর আমার মাঝে অালাদা একটা টান আছে,আমাকে অনেক ভালবাসে স্যার”। স্যার জানে,আমি পড়াশোনা খুব একটা করি না।তারপরেও,সে আমাকে খুব ভালবাসে।। . তারপর,স্যারকে একটা সালাম দিয়ে নিজের সিটে গিয়ে বসলাম।মিষ্টিও আমার সাথে’।

আমাদের দেখে স্যার কেমন জানি হাসতেছে! কাহীনি কী??স্যার কী দেখলো, এইরকম মুচকি মেরে হাসে কেনো? . তবে,আমি আর মিষ্টি যখন কলেজে ভর্তি হইছিলাম, তখন একসাথে ভর্তি হইছিলাম।তাই, আমাদের সীট টা পাশাপাশি।মানে, সামনে পিছনে। সামনে মিষ্টি আর পিছনে আমি। – মিষ্টি তোমার খাতাটা দাও তো? – খাতা কী করবে? – খাতা দেখে আমি লিখবো। – চুপ করো। সামনে স্যারকে দেখছো না? – আরেহ্,,স্যার কিছু বলবে না,,,,,, মিষ্টির কাছ থেকে ওর মেইন খাতা নিয়ে লেখা শুরু করলাম। মিষ্টি অতিরিক্ত পৃষ্টায় লিখতেছে,,,,,,,,একটু পর স্যার আমাকে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে দিল। স্যার মনে হয়, খাতাটা দেখে ফেলছে,,এবার একটু মজা নিবে।

– তোর কাছে দুইটা খাতা কেনো?? – স্যার বাসা থেকে একটা নিয়ে আসছি। – কেনো? বাসা থেকে নিয়ে আসবি কেনো?? – গতদিন ভুলে একটা খাতা বাসায় নিয়ে গেছিলাম,আজ সেটা ফেরত দিবো বলে,নিয়ে আসছি। – আচ্ছা,,,বস। মিষ্টি আমার সামনে চুপচাপ বসে আছে।ভয় পাচ্ছে মনে হয় মেয়েটা। স্যার আমার কাছে এসে বলল – অন্যের খাতা দেখে আর কয়দিন লিখবি?? – স্যার বউয়ের খাতা দেখে লিখা কী পাপ? – কসসস্ কী?? মিষ্টি তোর বউ হল কবে থেকে? – এইতো কিছু দিন স্যার। – আমাকে জানাস নি কেনো?? – পরে সব জানাবো স্যার, এখন আমার সময় নষ্ট করবেন না। – এহহহহহহ,,,,দেখো, মনে হয় সব নিজের জ্ঞানে লিখতেছে!! – না স্যার,,,বউয়ের জ্ঞানে লিখতেছি’ কথাটা শুনেই মিষ্টি সামনে থেকে হেসে দিল।আমার আর স্যারের কাহিনী গুলো দেখতেছে মিষ্টি’। – চুপ কর।

পরীক্ষা শেষে আমার সাথে দেখা করিস? – আচ্ছা স্যার। স্যারের সাথে দেখা করা মানে মানিব্যাগ থেকে কিছু টাকা কমে যাওয়া। এর আগেও স্যারের সাথে দেখা করে আমার মানিব্যাগ খালি করে অন্যর খাতা দেখে লিখেছি। . পরীক্ষা শেষ করে, স্যারের সাথে দেখা করে,আমি আর মিষ্টি বাসায় ফিরলাম। সামনের পরীক্ষা টা ২ দিন পর। তাই মাথার মধ্যে কিছু দুষ্টামি চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু রাতের বেলা মিষ্টির পড়াশোনা দেখে মনে হচ্ছে ওর ২ ঘন্টা পর পরীক্ষা। মিষ্টির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম,,,,, – আজ তোমার পড়াশোনা বন্ধ। – কী বলছো এইসব?? ( কথাটা শেষ করতেই মিষ্টিকে কোলে তুলে নিলাম) – কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? – চোখ বন্ধ করো, আর একদম চুপ করে থাকো। আব্বু আম্মু যেনো জাগা না পায়। “আমার কথায় মিষ্টি চোখ বন্ধ করল। আমি ওকে ছাদে নিয়ে গেলাম কোলে করে। এখনও মিষ্টি চোখ বন্ধ করে আছে।

এক দুই মিনিট ছাদে মিষ্টিকে কোলে নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর মিষ্টিকে নিয়ে আবার রুমে চলে আসলাম।’মিষ্টি এতোক্ষণে হয়তো আমার মনের কথা বুঝে গেছে।” – এই একদম দুষ্টামি করবে না। বাবু চলে আসবে কিন্তু! – আমি তো ওইটাই চাই। তাহলে,আমার একটা সার্পোটার বাড়বে। – এই বোকা ছেলে “আমাদের এখন বাবু চলে আসলে,সামনে পরীক্ষা গুলোতে তুমি কার দেখে লিখবা?তখন তো আমি আর কলেজেও যাইতে পারবো না,,বুঝছো গাঁধুরাম??” – হু,,,, বুঝছি। ( চার বালতি মন খারাপ হয়ে গেল লেখক সাহেবের) . অতঃপর, মাথা চুলকাতে চুলকাতে মিষ্টিকে ছেড়ে দিয়ে এসে একা একা বিছানায় শুয়ে পড়লাম।আর ভাবতেছি “কবে আমাদের অর্নাস টা শেষ হব্বে

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত