বাবুতা

বাবুতা

কৃষিশিক্ষা আর ইতিহাসে ফেইল করে সারাদিন রুমের মধ্যে বসে ছিলাম। ভয়ে ফেসবুকেও আসিনি।সন্ধ্যার দিকে ফিল্টার মেসেজ চেক করতে গিয়ে দেখি একটা অপরিচিত মেয়ে আইডি থেকে মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে।
“সুহাসিনী,আমার রেজাল্ট দিয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছি।” চিনি না,জানি না অপরিচিত মেয়েটা আমাকে মেসেজ রিকোয়েস্ট দিয়েছে, তাও রেজাল্টের খবর দিয়ে। আইডি টা চেক করতে গিয়ে দেখি আমার প্রাক্তণের সাথে তার “ইন এ ওপেন রিলেশনশিপ” দেওয়া। তার মানে ওইটা আমার প্রাক্তণের বর্তমান প্রেমিকা।সেই প্রাক্তণের বর্তমান প্রেমিকা এইচএসসি তে জিপিএ ৫ পেয়ে আমার কাটা ঘায়ে নুন দিতে এসেছে। জিপিএ ৫ পেয়ে কেউ আমাকে ভাব দেখাবে,সেটা মেনে নেওয়া যায় না।মেসেজ এক্সেপ্ট করে রিপ্লাই দিলাম,

~ভাল করেছ। কিন্তু,আরেকটু ভাল করতে পারতে।আমিও জিপিএ ৬ পেয়েছি। একটু আগে ঢাকা ভার্সিটির ডিন আমাকে কল দিয়েছেন, আমি যেন ওনাদের ভার্সিটিতেই ভর্তি হয়। যদিও,অক্সফোর্ড থেকে দেখলাম একটা মেইল এসেছে,ওটা এখনো ওপেন করিনি। সে কয়েকটা হাসির ইমোজি দিয়ে রিপ্লাই দিলো আমি জানি,তুমি দুই সাব্জেক্টে ফেইল করেছ।আমি তোমার ক্লাসেরই তোমার এক সুন্দরী ক্লাসমেট। চিন্তা কোরো না, পরেরবার চেষ্টা করলে পাশ করতে পারবা। ছ্যাচড়ার প্রেমিকাটাও ওর মত ছ্যাচড়ী হয়েছে। এসব নিশ্চয় আমার প্রাক্তণ প্রেমিকের উস্কানি। কয়েকটা গালাগালি টাইপ করেও ডিলেট করে দিলাম। কিছুক্ষণ টাইপিং দেখে সে নিজেই লিখল,

~আমাদের জন্য দুয়া রেখো।
~শিওর।অনেক দূর এগিয়ে যাও তোমরা।তোমাদের প্রেম ধানমন্ডির লেক পার করে সংসদ ভবন ছেড়ে টিএসসি চত্বর অতিক্রম করে কক্সবাজার ধরে মায়ানমারের দিকে অগ্রসর হোক। দয়া করে, দক্ষিণ বঙ্গে ঝড় তুলো না। আমার টেক্সট দেখে তার মনে কি হলো কে জানে! কয়েকটা চোখ উল্টানো স্টিকার দিয়ে রিপ্লাই দিলো,

~আসলে ঝড় তুলার উদ্দেশ্য আমার কোনোদিনই ছিলোনা।কিন্তু,উ পকূলীয় পরিবেশ টা ঝড়ের অনুকূলে ছিলো রে কপিলা।
~একদম কপিলা উপাধি দিবে না। কপিলা তো তুমি।আমার কুবের কে নিয়ে ভেগেছ তুমি।আর আমি খোড়া মালার মত ফেইল করে পড়ে আছি। কুবের রে নিয়ে সুখে থাক।
~ওর সাথে আমার ক্লাস সিক্স থেকে মারিয়ান ট্রেঞ্চ খাদের মত গভীর প্রেম। তুমি তো আইলা সেদিন মাত্র।
~ক্লাস সিক্স.? ও যে বলত, ও জীবনে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকেই তাকায়নি।
~ধুর গাধা, ওইটা তো আমার জন্যেই প্রেম করেছে। আসলে,আমার রেজাল্টের পিছনে তোমার অনেক অবদান রয়েছে। তাই আজকে তোমাকে রেজাল্ট টা না জানিয়ে পারলাম না। মেয়েটার কথায় আমার রেজাল্টের চিন্তা স্মৃতিশক্তি থেকে হারিয়ে গেলো।আমার প্রাক্তণ আমার চোখ ছুঁয়ে প্রমিস করেছিল,

~আমি ছাড়া তার জীবনে দ্বিতীয় কোনো মেয়ে নেই।আমি যদি তার লাইফে না থাকি,তবে প্রেম তো দূরে থাক,কোনো মেয়ের দিকেও সে আর তাকাতে পারবে না।সে আর পাচ টা ছেলের মত না। মেয়েটা এতক্ষণ কি জানি টাইপ করছিল। আমি ওর ইনবক্সেই আতসী কাচ নিয়ে রহস্য উদঘাটনের জন্যে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছি। একটু পরেই টুং করে আওয়াজ এলো।মেসেজে সে লিখেছে,

~ আমি স্টুডেন্ট টা অতোটা ভালো না।একটু ন্যাবা টাইপ। তেমন পড়াশোনাও পারতাম না।কিন্তু, মারাত্নক সুন্দরী।আর তুমি তো জানো,সুন্দরী মেয়েরা একটু পড়াশোনা কম করে।পড়াশোনা কি করা উচিত,তাও জানতাম না। আমার প্রেমিক বুদ্ধি করে তোমার সাথে প্রেম শুরু করলো।তারপর ওই যে,তোমাকে জিজ্ঞাসা করত, আমাল বাবুতা কি কলে? তুমি উত্তর দিতে, ‘ইংলিশ শিট পলে।’ সে লিখত, ‘কি পড়ে আমাল বাবুতা?একটু পিক তুলে দেখাও তো।’ আর তুমি কি সুন্দর বিউটিক্যাম দিয়ে শিটের পিকচার তুলে দিতে। আর ও সেগুলো আমাকে দিয়ে দিত পড়ার জন্য। তুমি তখন ওর জানু,মনু,সোনা,ম না চ্যাটে পাগল হয়ে পড়াশোনা শিকেয় তুলে রাখতে। ”

~ছি,তোমরা এইটা করতে পারলে?জিপিএ ৫ পেয়েও জীবনে শান্তি পাবে না।ও আমার চোখের ওয়াদা করেছিল। এখন আমি কি করবো.!! সে আরো কয়েকটা হাসির ইমুজি দিয়ে রিপ্লাই দিলো,

~আবার পড়াশোনা করো,আর জিপিএ ৬ পাও। ও আরেকটা কথা, “পরেরবার আমার ছোটবোন ও এক্সাম দিবে। ” ভাল থেকো বাবুতা আমাকে আর কিছু প্রশ্ন করার আগেই সে আমাকে ব্লক করে দিলো। আমাল বাবুতা এইভাবে নোট ম্যানেজ করে? কি অদ্ভুত! উফফ! আম্মা, আমার চোখে কেমন জানি ব্যাথা করে! আমাল বাবুতাল বাবুতা যে এসে গেছে….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত