মিস্টার এন্ড মিসেস

মিস্টার এন্ড মিসেস

অফিসে যাবো বলে আয়নার সামনে দাড়িয়ে টাই বাধার ব্যর্থ চেষ্টা করছি। কারন এই টাই তো সব সময় আমার বউ মিষ্টি আমায় বেধেঁ দেয়।তবে এখন পাগলীটা ঘুমিয়ে আছে যার কারনে ওরে ডাকতেও পারছি না আর টাইও বাধঁতে পারছি না। এখন প্রায় সকাল সাড়ে নয়টা বাজতে চলল আর পাগলীটা ঘুমাচ্ছে।কারন হলো কাল রাতে ২টার সময় আমাকে ঘুম থেকে তুলে ছাদে নিয়ে গিয়ে ছিল। পরে বলে ওর নাকি চাদঁ দেখতে খুব ইচ্ছা করছে। আচ্ছা এতো রাতে পাগলামী করার কোন মানে হয় বুঝি। একটু তো পাগলামী কম করলেও পারে।

আমার পাশে বসে প্রায় রাত চারটা পর্যন্ত চাদঁ দেখল। তবে একটা কথাও বলল না। আমার কাধেঁ মাথা রেখে চুপটি করে চাদঁ দেখল। হঠাৎ ৪ টা বাজে খেয়াল করলাম ও ঘুমিয়ে গেছে, পরে ওকে কোলে করে রুমে নিয়ে আসি। আর এখন বার বার ওর মুখটার দিকে তাকিয়ে দেখছি। চুপ করে থাকলে পাগলীটাকে তেমন ভাল লাগে না তবে ঘুমিয়ে থাকলে খুব মায়াবী লাগে। মনে হয় আলত করে ওরে ছুয়ে দেই। হঠাৎ ও এসে আমার টাইয়ে হাত দিলো আর আমারও ঘোর কাটলো….

— এই যে মিষ্টার এতো সকাল হয়ে গেল তবু ডাক দেন নি কেন?
— তুমি তো ঘুমিয়ে ছিলে?
— তাই বলে টাই বাধাঁর জন্য তো ডাকতে পারতে। জানো না বিয়ের প্রথম দিনই বলছি এই টাই বাধার অধিকার শুধু আমার। এমন কি তোমারও না।
— তুমি যে দিন থেকে এই টাই বাধাঁর অধিকার নিয়েছ তখন থেকে আমি নিজে থেকেই তো টাই বাধাঁ ভুলে গেছি।
— হুমম ভাল করছ নয়ত চিমটি দিয়ে সব ভুলিয়ে দিতাম।
— পাগলী একটা।
— চলো নাস্তা করবে চলো?
— কি বলো? তুমি এখন নাস্তা বানাবে তারপর আমি খাবো আর পরে অফিস যাবো। এটা কি সম্ভব।
— আরে আগে খাবার টেবিলে চলো তো।

আমাকে টেনে খাবার টেবিলে নিয়ে আসলো। আর আমি তো সব দেখে পুরো অবাক। কারন সকালের নাস্তা রেডি করে টেবিলে ঢাকনা দিয়ে রেখে দিয়েছে। সত্যি পাগলী মেয়েটাকে আমি আজও বুঝে উঠতে পারলাম না। আর কেউ বা আমায় এতো ভালবাসবে তাও জানা ছিল না।

— এইসব কি?
— চুপ করে খেতে বসো তো।
— তুমি কি ভোরে উঠে রান্না করে ছিলে?
— হুমম, আমার দশটা না পাচটা না একটা মাত্র বর। ওরে কি আমি না খাওয়াইয়ে অফিসে পাঠাতে পারি।
— কি?
— কিছু না, হা করো তো।

পাগলীটা আমায় খাওয়াই দিতে লাগলো । আর আমি শুধু অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আচ্ছা মেয়েটা আমায় এতো ভালবাসে কেন? আমাদের বিয়ের তো প্রায় কয়েক মাস পার হয়ে গেল কিন্তু আমাদের ভালবাসার কোন কমতি রইলো না। আজ পর্যন্ত ও আমার কাছে দামী কিছুই চায় নি বরং কাচের চুড়ি আর ফুল ছাড়া। আজ কেন জানি অফিস যেতে ইচ্ছা করছে না। ওর সাথে সাড়াটা দিন পার করতে মন চাইছে। খাওয়ানো শেষ করে আমার মুখ মুছে দিল। পরে আমার অফিস ব্যাগটাও আমার কাছে এনে দিলো।

— এই যে আমার মিসেস পাগলী।
— বলেন আমার মিস্টার পাগল।
— আজ অফিসে কি না গেলেই নয়?
— হঠাৎ মনে হয় ভালবাসা জেগে উঠছে আমার মিস্টারের।
— হুমম
— চুপচাপ অফিস যাও আর পৌছেঁই আমায় একটা ফোন করবে কেমন?
— না যাই।
— যেতে বলছি না ( খুব রেগে)
— ওকে যাচ্ছি তো।( দরজা থেকে বার হলাম)
— এই শুনো?
— কী?
–কাছে এসো? ( ওর কাছে যেতেই ও আমার এক গালে পাপ্পি দিলো)
— এই শুনো কিস আর চড় এক গালে দিতে নাই পাপ হয়।
— ওই যাও তো ফাজিল।
— ওকে টা টা

একটা রিকশা নিয়ে অফিসে চলে আসলাম। আর ওরেও ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম। আমি জানি ও এখন বোরিং ফিল করবে আর সাড়া দিন বাড়ির কাজ করবে। তবে আমায় ম্যাসেজ করতে ভুলবে না। বিয়ের কত দিন হলো কিন্তু ওর মাঝে কোন পরিবর্তনই দেখি নি। বরং ভালবাসা আরো বেশি হতে লাগল। ওর সাথে আমার বিয়েটা বলতে গেলে লাভ ম্যারেজই ছিল। তবে আমাদের প্রথম দেখাটা খুব মজার ছিল। প্রায় দেড় বছর আগের কথা। আমি তখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। আর হা আমার নাম আবীর।ভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র বলে সাড়া ভার্সিটি তে দুষ্টামী করে বেড়াতাম কারন চলেই তো যাবো এক বছর পর। যেহেতু আর এক বছর আছি ভার্সিটি তে তাই ইচ্ছা মত মজা করেই নেই।

একদিন আমি আমাদের সিভিল ভবনের সামনে বন্ধুরা মিলে ঘুড়ি উড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার ঘুড়ি কেটে যায়। তাই আমি আর আমার বন্ধু মিলে ঘুড়িটা ধরতে দৌড়াতে লাগলাম। যেহেতু ঘুড়িটা বেশি উপরে ছিল না তাই মনে হয় ঘুড়িটা ভার্সিটি এড়িয়ার মাঝেই থাকবে। তাই আমরা ঘুড়িটার দিকে লক্ষ রেখে দৌড়াতে লাগলাম। আর শেষ পর্যন্ত দৌড়াতে দৌড়াতে আসলাম কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টে। হঠাৎ দেখি ঘুড়িটা একটা মেয়ে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি মেয়েদের খানিকটা ভয় পাই বলে সামনে যেতে চাই ছিলাম না। আর আমার পাশের বন্ধু তো যাবেই না। আমি যাবো না যাবো করে মেয়েটার সামনে গেলাম। আর সম্মান সহিত বললাম ঘুড়িটা দিতে।

— আপু এটা আমার ঘুড়ি। দিয়ে দেন?
— ঘুড়ি তে তো কোন নাম দেখতে পাচ্ছি না।
— নাম থাকা কি অতীব জরুরী?
— চিনতে গেলে তো নামটা জানা আবশ্যক আর তাই ঘুড়িতে নাম থাকা দরকার।
— তাই কিন্তু আমি যে জানতাম না।
— আপনি কোন ইয়ারের ছাত্র শুনি?
— আপু আমি প্রথম বর্ষে পড়ি। ( যদি বলি ফাইনাল ইয়ার তাহলে হয়ত ঘুড়িটা দিবে না তাই ১ম বর্ষ বললাম)
— ও তাহলে আমি তোমার বড়। আমি ২য় বর্ষে পড়ি।
— ওকে এবার ঘুড়িটা দিয়ে দেন।
— এই নাও আমি ঘুড়িটা নিয়ে একটা মৃদু হাসি দিলাম আর মেয়েটা আমার দিকে কৌতুহল বশত তাকালো।
— হাসছো কেন?
— না কিছু না। আপনার নামটা কি আপু?
— মিষ্টি ইসলাম মৌ। আর তোমার নামটা? আমি কিছু বলার আগেই পাশে দিয়ে একটা ছেলে এসে আমায় সালাম দিলো আর বলল…

— আরে আবীর ভাই আপনি কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টে কি করেন? কোন কাজ থাকলে আমাকেই তো ফোন করে বলতে পারতেন।
— না তেমন কিছু না। তুই যা।
— ওকে ভাই তাহলে আমি আসি। দরকার হলে মনে করবেন কেমন? বলেই ছেলেটি চলে গেল। আর মিষ্টি আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
— কি হলো এতো অবাক হওয়ার কি হলো?
— আপনি কে বলেন তো। ৩য় বর্ষের ছাত্র আপনায় সালাম দেয় আর আপনি করে বলে।
— আমি আবীর, এবার সিভিলের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।
— ইশশ এতোখন ছোট ভেবে আপনার সাথে ভাব নিচ্ছিলাম।
— সমস্যা নাই আমি আসি। ভাল থাকবেন।
— ওকে।

বলেই ঘুড়িটা নিয়ে পিছন দিকে ঘুরে হাসতে হাসতে চলে আসলাম। আর ভাবলাম মন্দ হয় নি পরিচয় গোপন করাটা। হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েটা আবার ডাক দিলো…..

— এই যে মিস্টার আবীর?
— ( আমি ওর দিকে ফিরে তাকালাম)
— দেখতে আপনি মন্দ না। আর এমন কিউট মুখ দেখলে কেউ বড় ভাই বলবেও না।

আমি মেয়েটির কথা শুনে বোকা হয়ে গেলাম আর মেয়েটি হাসতে হাসতে চলে গেল। এরপর কতগুলো দিন চলে। ওর সাথে আর তেমন দেখা হয় নি। তবে ওরে ভুলে যাই নি। মাঝে মাঝে দেখা হতো আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। হয়ত এই থেকে ওর জন্য আমার মনে একটা ভাল লাগার তৈরি হয়ে যায়। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি মিষ্টির ফোন। তার মানে এতখন ওরে নিয়ে ভাবতে ছিলাম। তাই আর দেরি না করে ওর ফোনটা ধরলাম।

— এই যে মিস্টার আর কত কাজ করবেন। রাত যে ৮ টা বেজেঁ গেছে এইটার দিকে খেয়াল আছে।
— না তবে আমি এখনই আসছি।
— হুমম তবে চকলেট আর ফুল আনতে যেন মিস না হয়।
— যথা আগ্গা আমার মিসেস।

বলেই ফোনটা রেখে দিলো। ইশশ পাগলীটাকে ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেল কখন মনেই ছিল না। তাই আর লেট না করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। রাস্তার পাশে দোকান থেকে ফুল আর একটা চকলেট বক্স কিনে নিলাম। বাড়ির নিচে এসে কলিং বেল চাপ দিতেই পাগলীটা তারাতারি এসে দরজা খুলল।

— এই তোমার ফুল আর চকলেট।
— যাক বাবা আমার মিস্টার কিছু ভুলে নাই।
— কি করে ভুলব বলো তো। দশটা না পাচটা না একটা মাত্র বউ তুমি আমার।
— কি??
— না কিছু না।
— ওকে তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি খাবার দেই।
— ওকে

আর কথা না বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে চলে আসলাম। ও আমার জন্য বসে আছে। ও আমায় খাবার বেড়ে দিলো।

— নেন মিস্টার খেয়ে নেন?
— মা বাবা খেয়েছে?
— হুমম
— তুমি খেয়েছো?
— ( ও মাথা নাড়িয়ে না করলো)
–কাছে এসে বসো।

পরে ওকে আমি খাওয়াই দিতে লাগলাম। আর ও আমায় খাওয়াই দিলো। তারপর খাওয়া শেষ করে আমি রুমে গিয়ে ল্যাপটপে কাজ করতে ছিলাম। হঠাৎ ও এসে আমার মাথায় হাত ভুলাতে লাগল।

— কিছু বলবে?
— হুমম
— বলো?
— চলো না ছাদে যাই।
— ছাদে কেন?
— চাদঁ দেখতে খুব ইচ্ছা করছে।
— কাজটা শেষ করে নেই তারপরে না হয় যাওয়া যাবে।

ও কিছু না বলেই চুপ করে ঘর থেকে চলে গেল। আমি বুঝতে পারছি ও এখন রাগ করেছে। কারন ওর প্রতিটা নিশ্বাঃসের খবর আমি রাখি। তাই কাজটা রেখে আমার পাগলীটার রাগ ভাঙ্গাতে ছাদে গেলাম। দেখি ও চোখ বন্ধ করে আছে।

— তুমি তো বললা চাদঁ দেখবে কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে আছো কেন?
— চাদঁ দেখতে তো একটা সঙ্গীর দরকার হয় কিন্তু আমি তো এখন একা তাই চোখ বন্ধ করে সেই সঙ্গীকে অনুভব করি।
— আচ্ছা চাদঁ দেখতে সঙ্গী লাগে কেন?
— তার কাধেঁ মাথা রেখে স্বপ্ন দেখার জন্য।
— ওকে নাও রাখো ও আমার কাধেঁ মাথা রেখে আমার হাতটা শক্ত করে ধরল।
— আচ্ছা আমাদের প্রেমের শুরু কোথায় হয়েছিল তোমার মনে আছে?
— হুমম খুব মনে আছে।

সেই দিন ছিল শুক্রবার, দুপুর ২টা বাজে। আমার তখন ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। তাই রুম থেকে তেমন বার হই না আর রুমে বসে পরতে ছিলাম। হঠাৎ একটা ক্রিকেট বল আমার রুমে এসে পরলো। পরে রাগে বলটা নিয়ে বাইরে বের হই আর দেখি রাস্তায় ছোটরা খেলছে।

— কিরে দুপুরে কি তোদের ঘুম নেই?
— ঘুম আছে কিন্তু ঘুমাই নি?
— কেন? তোদের মত থাকতে তো দুপুরে ঘুমাইতাম আর বিকেলে খেলতাম।
— ভাই মানুষ বড় হয়ে গেলে ছোটদের সামনে অনেক বকবকই করে। আমার আব্বুর কাছে শুনছি আপনি নাকি ছোট থাকতে একটা বান্দর ছিলেন। বল দিয়ে নাকি মানুষের বাড়িতে ঢিল মারতেন। আর দৌড়ে পালিয়ে যেতেন।
— চুপ বেয়াদপ! যা মাঠে গিয়ে খেল।
— ছোট থাকতে তো আর শান্তি দেন নি এখন তো বড় হয়ে সিভিল বাহিনীরা মাঠে ঘাটে বিল্ডিং বানাচ্ছে তাই খেলব কোথায়? তার থেকে ভাল রাস্তায় খেলি।
— দ্বারা তোদের খেলাছি।

বলেই বলটা জোরে অন্য দিকে ঢিল মারলাম যেন হারায় যায়। কিন্তু আপসোস বল গিয়ে পড়ল এক মেয়ের উপর। ইশশ এবার কি হবে? আর সব বিচ্ছুর দল এবার মেয়েটার দিকে যাচ্ছে আমায় দেখিয়ে দিতে। আমি দূর থেকে মেয়েটাকে খেয়াল করতে পারি নি। মেয়েটা বল নিয়ে আমার কাছে আসতে লাগল। আমি ভয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম।

— ওই আমায় বল দিয়ে ঢিল মারলেন কেন?
— ( কিছু বলতে যাবো তখন মেয়েটার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম কারন এই ছিল মিষ্টি। যার সাথে ভার্সিটিতে ঘুড়ি নিয়ে কাহিনী হয়ে ছিল)
— কি হলো চুপ করে আছেন কেন?
— আসলে আমি দেখে দেই নি।
— হুম আপনার যে মিথ্যা বলার স্বভাব আছে এটা আমি খুব ভাল জানি।
— ওকে সরি।
— কান ধরেন?
— এই ছোটদের সামনে…
— হুমমম
— না ধরলে হয় না।

— না। যখনই কান ধরতে যাবো তখনই ও আমার হাতটা ধরে ফেলল আর বলল..
— আমার সব কথা বুঝি শুনতে হবে।
— হুমম
— কেন?
— জানি না।
— কেন জানেন না?
— হয়ত….
— হয়ত কী?
— কিছু না আপনি এই এলাকায় কি করছেন?
— আসলে আমরা একাকায় নতুন এসেছি কিন্তু আপনি এখানে কেন?
— এই যে এটাই আমার বাড়ি।
— ও ভাল কাছাকাছি হয়ে গেল ভবিষ্যতের জন্য।
— মানে?
— না কিছু না।

বলেই মিষ্টি চলে গেল আর আমিও ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর ভাবতে লাগলাম আমি তো পাগল হয়ে যাবো এই মায়াবতীর জন্য, কী আছে এই মেয়ের মাঝে। এভাবে ওকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আর দিন গুলো ভালই যাচ্ছিল। আর এর মাঝে পরীক্ষাও শেষ হয়ে যায়। এর মাঝে আমিও একটা ভাল চাকরীর খুজঁ করতে লাগলাম। তবে ওরে দেখতে আমি ভার্সিটিতে যেতাম। ও শুধু আমায় দেখলে আড় চোখে তাকাতো আর একটা মুচকি হাসি দিতো। আমার কপাল খুব ভাল থাকায় নিজ জেলায় খুব তারাতারি একটা চাকরী হয়ে যায়। এখন আমি অফিস যাওয়াও শুরু করে দিছি। তবে ওর ভার্সিটি হয়ে এখন অফিস যাই। সব মিস হয়ে গেলেও ওরে দেখা আমার মিস হয় না। ও হয়ত সব এখন বুঝে গেছে। একদিন আমি ওর ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে আছি কিন্তু ওরে দেখতে পাচ্ছি না। হঠাৎ কে যেন আমার পিছন থেকে ডাক দিলো। আমি তো পিছনে তাকিয়ে কি বলব বুঝতে পারছি না।

— প্রতিদিন ভার্সিটির সামনে কি হুমম??
— তুমি?
— মানে?
— মানে তোমাকেই দেখতে এখানে আসি। ( সাহস করে বলেই দিলাম, এবার যা আছে কপালে)
— কেন আসেন আমায় দেখতে?
— জানি না।
— জানেন না, নাকি কিছু লুকিয়ে যাচ্ছেন।
— হুমম আছে তো অনেক কিছু বলার। যদি আমার সামনের মেয়েটির শোনার সময় হয়।
— বললেই সময় হবে।
— ভালবাসি তোমায়। ( ও কেমন যেন একটা লুক নিয়ে গভীর ভাবে আমার দিকে তাকালো)
— ভাল বাসি খুব তোমায়।( আবার বললাম)
— কতটা ভালবাসেন?
— এই দুই হাত বাড়ালে যতটা ভালবাসা যায় তার থেকে বেশি ভালবাসি।
— বাব্বা কি ডায়লগ।
— আপনার উত্তর টা?
— বলব না, বুঝে নিতে হবে।
— বুঝে নিয়েছি।
— কি বুঝলেন?
— বলব না তবে খুব ভালবাসি এটা বলতে পারি।

এই থেকেই শুরু হয়ে যায় আমাদের পথ চলা। এইভাবে দিন গুলো খুব ভালই যাচ্ছিল। ওর ফোনের আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙ্গতো আর ওর সাথে রাতে কথা বলেই ঘুমাতে যেতাম। ও সব সময় আমার অনেক কেয়ার নিতো।
হঠাৎ ও একদিন সকালে ফোন দিয়ে বলল ওর সাথে এখনই দেখা করতাম তাই তারাতারি ওর বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে দাড়িয়ে রইলাম। ও আমার কাছে এসে কাদঁতে কাদঁতে আমায় জড়িয়ে ধরলো। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

— এই কি করছ?
— (ও শুধু কাদঁছে)
— কি হলো বলবে তো আমায়?
— বাবা আমায় বিয়ে ঠিক করেছে। এবার তুমি কিছু করো।
— এতে কাদাঁর কি হলো বুঝতে পারছি না। আমি আজ যাবো তোমার বাবার কাছে আমার বাবা মাকে নিয়ে।
— সত্যি।
— হুমম এবার কান্না থামাও।

পরে ওকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেই আর আমিও বাড়িতে গিয়ে সব বলি। প্রথমে বাবা অনেক রেগে যায় তবে ওনি জানে ওনার ছেলে কোন খারাপ কাজ করতেই পারে না। আর ওনি খুশি হয়েছে যে আমি সরাসরি ওনাকে সব বলায়। তবে যখন ওনি মিষ্টির বাবার নামটা শুনলেন তখন আর কিছু বললেন না। কারন বাবা আর মিষ্টির বাবা নাকি আগে এক সাথে কাজ করত।খুব ভাল বন্ধুও ছিল ওরা দুইজন। কিন্তু মিষ্টির বাবা বদলি হওয়ায় আর তেমন কথা হয় না ওদের মাঝে।

আমি, মা আর বাবা মিষ্টিদের বাড়িতে বসে আছি। বাবা যখন মিষ্টির বাবা সাথে দেখা করল। তখন দুইজনেই দুইজনকে কত কথা বলতে শুরু করল আর কোলাকুলি করলো। যে আজ ওদের পুরনো সম্পদ ফিরে পেয়েছে।
পরে আমাকে আর মিষ্টিকে ছাদে পাঠিয়ে দিয়ে এটা নিয়ে ওরা গবেষনা শুরু করলো। তবে আমি তেমন ভয় পাচ্ছি না কারন আমি জানি আমার বাবা আমার জন্য এটা ঠিক করবে। তাছাড়া ওনি যা ভাল বুঝবে তাই করবে। তবে মিষ্টিকে দেখে মনে হচ্ছে আজ ওর পরীক্ষার রেজাল্ট দিবো। তবে কি বলো আমরা দুইজনই দুইজনকে বড্ড ভালবেসে ফেলেছি। হঠাৎ আমাদের নিচে ডাকা হলো। আমি আর মিষ্টি ওদের সামনে চুপ করে দাড়িয়ে আছি।

— তোমাদের সাহস কি করে হলো এইসব করার? (মিষ্টির বাবা)
— (আমাদের দুইজনেই চুপ করে)
— তোমাদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে। আর তা হলো তোমাদের আলাদা থাকতে হবে।
— (মিষ্টির চোখে পানি)
— তবে যতদিন না তোমাদের বিয়ে হয়।

আমরা যখন এটা শুনলাম তখন কি করব কল্পনাও করতে পারতে ছিলাম না। দুইজনেই দুইজনের দিকে তাকিয়ে আছি আর মিষ্টি কাদঁছে। পরে আগামী শুক্রবারে আমাদের বিয়েটা হয়ে যায়। আর শুরু হয় জীবনের আরেকটা মোড়। এখন আমাদের বিয়ের প্রায় ৩ মাস হয়ে আসল কিন্তু ওর ভালবাসার কমতি নেই। ওর দিকে তাকিয়ে দেখি পাগলীটা কাহিনী শুনতে শুনতে ঘুমিয়েই গেল। পাগলী একটা বড্ড ভালবাসে আমায়। এখন ওকে কোলে করে ঘরে নিয়ে আসলাম।যাক ঘুমিয়ে থাক নয়ত ঘুম ভাঙ্গলেই পাগলামী শুরু করবে। এই ভাবে চলতে থাকে দুইটা জীবন।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত