লাভ অফ নন গ্রাজুয়েট

লাভ অফ নন গ্রাজুয়েট

>>শোনো চাকরি পাইছি ২ মাস হয়ে গেছে।মায়ের মতি-গতি সুবিধার না।যেকোন সময় ধরে বিয়ে দিয়ে দিতে পারে।(রাহাত)
>>অারেহ অাজব তো!!তুমি কী মেয়ে নাকি যে ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে তোমার অমতেই।(তুলি)
>>অামি অাজব?? তাইলে তুমি কী??সারাজীবন দেখে অাসলাম মেয়েরা ছেলের জন্য অপেক্ষা করে।অার অামি কি না চাকরি পাওয়ার পরও তোমাকে বিয়ে করার জন্য অপেক্ষা করছি।(রাহাত)

>>অামার গ্রাজুয়েশন শেষ করেই তবে তোমাকে বিয়ে করবো।বিয়ে হয়ে গেলে গ্রাজুয়েশন কম্প্লিট হবে না সেটা ভালো করেই জানি।(তুলি)
>>অাচ্ছা অাম্মা যে অামাকে বার বার জিজ্ঞেস করতেছে যে কোন পছন্দ অাছে কী না অামি তো বলতেও পারছি না তোমার জন্য।(রাহাত)
>>ভুলেও বলবা না।তোমার অাম্মুরে অামি চিনি না মনে করছো।যদি খালি একবার বলো যে অামারে পছন্দ তাইলে দেখবা অাজই বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।অার অামার অাব্বু তো নাচতে নাচতে রাজি হয়ে যাবে বিয়ের প্রস্তাব অাসলে।অার যদি জানে যে অামি তোমাকে পছন্দ করি তাহলে তো কোন কথাই নেই।(তুলি)

>>অামি যদি বলি পছন্দ নাই তাইলে তো অাম্মা মেয়ে দেখবেই।
>>দেখুক মেয়ে সমস্যা কী।তুমি বলবে পছন্দ হয় নাই।
>>হায় রে কপাল।অামি এখন ছেলে হয়ে নিজের বিয়ে নিজে ভেঙে বেড়াবো।
>>হে তাই করবা।তুমি না অামাকে ভালোবাসো??
অামার জন্য এইটুকু করতে পারবে না।
>>অামি বিয়ে ভাঙতে পারবো অার তুমি তোমার পড়াশোনা অার ক্যারিয়ার ছাড়তে পারবা না অামার জন্য??তাইলে তুমি তো অামাকে ভালোবাসো না।

>>শোনো বেশি কথা বলবা না।বিয়ের পর কী অামি তোমার টাকায় চলবো নাকি।
>>না না তুমি কেনো অামার টাকায় চলবে।অামি দরকার হলে তোমার টাকায় চললাম বিয়ের পর।অার অামার টাকা পয়সা সব দান করে দিলাম। অার একটা কাজ করলে কেমন হয়??তুমি চাকরি করলে অার অামি ঘরের কাজ করলাম বিয়ের পর।
>>খুব একটা খারাপ হয় না কিন্তু।
>>কেনো যে তোমারে ভালোবাসতে গেলাম অামি।এখন অাফসোস হচ্ছে।তোমারে ভালো না বাসলে এতোদিনে অামার বিয়েটা হয়ে যেতো।
>>দেখছো এখনি খোঁটা দিচ্ছো।অার বিয়ের পর কী করবে।এইজন্যই অামিও অাগে নিজের পায়ে দাঁড়াবো তারপর বিয়ে।

>>রাহাত কালকে অফিস থেকে ফেরার পথে এয়ারপোর্ট হয়ে অাসিস।(রাহাতের মা)
>>কেনো মা কী হইছে??(রাহাত)
>>তোরে জুথির কথা বলেছিলাম না।(রাহাতের মা)
>>কোন জুথি??
>>অারে ঐ যে অামার বান্ধবির মেয়ে।অাগামীকাল লন্ডন থেকে অাসবে।সন্ধ্যার সময় পৌঁছানোর কথা।তোকে অানতে হবে।অার ও অামাদের বাসায় থাকবে ১ সপ্তাহ।
>>অামিই কেনো মা??জুথির কী কোন অাত্মীয়-স্বজন নেই অার দেশে??
>>চুপ থাক বেয়াদব ছেলে।যা করতে বলছি করবি। অার শোন অফিস থেকে ছুটি নিবি ৩-৪ দিন।ওকে ঢাকা শহরটা ঘুরিয়ে দেখাবি।
>>অাম্মা চাকরি পাইছি ২ মাসও ঠিকমতো হয় নাই এখনই কী অামাকে ছুটি দিবে তাও ৩-৪ দিন।অার অাজকাল কী কোনকিছু সরেজমিনে দেখা লাগে নাকি। গুগল বা ইন্টারনেটেই পুরো ঢাকা দেখতে পারবে।
>>শোন তোর এসব ফালতু কথা শোনার অামার সময় নাই।যা বলেছি করবি এটাই শেষ কথা। পরেরদিন সন্ধ্যায় এয়ারপোর্টে…

>>হায় অাপনি রাহাত??(জুথি)
>>জ্বি।অাপনি জুথি।(রাহাত)
>>হুম।কেমন অাছেন।(জুথি)
>>অাছি অারকি কোনরকম।অাপনি?(রাহাত)
>>অামি তো ভীষণ ভালো।পাশাপাশি খুবই এক্সাইটেড। অারও প্রায় ৬-৭ বছর অাগে এসেছিলাম বাংলাদেশে।কী কী পরিবর্তন হলো দেখতে খুবই ইচ্ছে করছে।(জুথি)
>>চলুন তাহলে যাওয়া যাক।
>>তোমার হাতে কী এটা??(তুলি)
>>ছুটির দরখাস্ত।(রাহাত)
>>তুমি ছুটি নিবা কেনো?(তুলি)
>>অামার অাম্মার হুকুম। তার বান্ধবীর মেয়েকে ঢাকা ঘুরিয়ে দেখাতে হবে।(রাহাত)
>>তুমি দেখাবা মানে। সে কী অন্ধ নাকি??

শোন কোন ছুটি নিতে হবে না তোমার।অার তোমার অাম্মার বান্ধবীর মেয়েকে তোমার কেনো ঢাকা দেখাতে হবে??

>>সেটা অাম্মাই ভালো বলতে পারে।তবে অামার কী মনে হচ্ছে জানো? অাম্মা সম্ভবত অামাকে এই মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার প্লান করছে।
>>তোমাকে কী তোমার অাম্মু বলেছে এই কথা? তোমারই তো দেখছি বিয়ের অাগ্রহ বেশি।এইজন্যই তো তোমার ফোন এখন ব্যস্ত থাকে।
>>অামি কিচ্ছু জানি না।এবারে যদি অাম্মা বিয়ের কথা বলে অামি অার না করতে পারবো না।তাছাড়া অাম্মার যে মতি-গতি তাতে না করলেও খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না।
>>তুমি অামার চোখের সামনে থেকে দূর হও বলছি।
>>হুম যাচ্ছি।দেখি জুথিকে ঢাকা শহরটা ঘুরিয়ে দেখাই।

অফিস থেকে মাত্র ২ দিন ছুটি নিয়েছি দেখে অাম্মা এমন ভাবে তাকিয়ে অাছে যেনো রাহাত বিশেষ কোন অপরাধ করে ফেলেছে।

>>২ দিনে তুই মেয়েটাকে কী দেখাবি ঢাকা??
>>অারে মা অামি ইন্টারনেটে ২ দিনে ঢাকা ঘুরবার উপায় শিখে নিয়েছি।কোন সমস্যা নেই।
>>চাকরি শুরু করার পরও ফাইযলামি টা ছাড়তে পারলি না এখনও।দাঁড়া দ্রুত তোর বিয়ে দেবার ব্যবস্থা করছি।

জুথির সাথে অাজকে ঢাকার বেশ কয়েকটা জায়গায় ঘুরেছে রাহাত।মেয়েটা খুব হাসিখুশি অার অনেক ফ্রেন্ডলি।হয়তো বিদেশে বড় হয়েছে বলেই। এদিকে তুলি বিষয়টা জানতে পেরে রাগে গজগজ করছে।তুলি রাহাতকে প্রচন্ড রকমের ভালোবাসে সেটা রাহাত জানে।রাহাতও তুলিকে প্রচন্ড ভালোবাসে বলেই তার সব অাবদার মেনে নেয়। অবশেষে রাহাতের ধারণাই সত্য হলো।রাহাতের মা তাকে বিয়ে করানোর উদ্দেশ্যেই জুথি কে দেশে এনেছে।জুথিও বিষয়টা অাগে থেকেই কিছুটা জানতো। রাহাত কী যে করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।তার কোন পছন্দ অাছে কী না তাকে বারবার জিজ্ঞেস করেছে অাম্মা।সে না বলেছে বলেই তো জুথিকে অাসতে বলা হয়েছে।এখন অাম্মাকে কী বলবে রাহাত? এতোবার না করার পর তুলির কথাই বা এখন বলে কী করে অাম্মাকে।অার তুলি ছাড়া কাউকে বিয়ে করা তো রাহাতের পক্ষে অসম্ভব।

হঠাৎ করেই রাহাতের কাছে তুলি ফোন করলো।সে সব কথা খুলে বললো তুলিকে।কিন্তু তবুও তুলি তার গ্রাজুয়েশন নিয়ে পাগলামিটা চালিয়েই গেলো।রাহাত রাগে ক্ষোভে তুলির সাথে যোগাযোগই বন্ধ করে দিলো। যেখানে ২-৩ জন মানুষের জীবন নির্ভর করছে সেটা নিয়েও তুলির একগুঁয়েমি রাহাতের মোটেও ভালো লাগে নি। রাহাত সিদ্ধান্ত নিলো জুথির সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলা যায়।তাকে হয়তো বোঝানো যাবে বিষয়টা। জুথিও বুঝতে পেরেছে বিষয়টা যে রাহাতের কারো সাথে সম্পর্ক অাছে।সে রাহাতকে সাহায্য করার অাশ্বাস দিলো।অাসলেই মেয়েটা খুবই ভালো।

১ সপ্তাহ পর জুথি লন্ডন ফিরে গেলো।রাহাত মাকে অনেক বলেছে যে জুথিকে বিয়ে করতে পারবে না।কিন্তু মা তো নাছোড়বান্দা।রাহাতের কথা সে মানবে কেনো??অবশেষে জুথিই তাকে সাহায্য করলো।জুথি তার মাকে কী যেনো বুঝিয়েছে মাও অার কিছু বলছে না।এদিকে রাহাত এখনো তুলির সাথে রাগ করে অাছে। কোন যোগাযোগ করছে না। কয়েকদিন পর… অাজকে ছুটির দিন তাই রাহাত ১০টা বেজে যাওয়ার পরও ঘুমাচ্ছে।ঘুম থেকে উঠে যেনো ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো রাহাত।তুলি এই বাসায় কী করছে!! অারে! ড্রয়িং রুমে তুলির বাবা বসে রয়েছে।তার সাথে রাহাতের বাবা-মা কথা বলছে।

>>কী ব্যাপার এসব কী হচ্ছে?(রাহাত)
>>অামাদের বিয়ের কথা হচ্ছে।(তুলি)
>>সিরিয়াসলি নাকি??(রাহাত)
>>হুম।(তুলি)
>>তাইলে তোমার গ্রাজুয়েশন??

>>নিকুচি করি অামার গ্রাজুয়েশনের।অামি গ্রাজুয়েশন কম্প্লিট করবো অার অাপনি অাপনার সুন্দরী কলিগ অার অাপনার অাম্মার বান্ধবীর মেয়েদের সাথে ঘুরে বেড়াবেন তা তো হতে দিবো না।
>>অামি তোমাকে বিয়ে করবো কে বললো তোমাকে?? অামি কোন নন গ্রাজুয়েট মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না।
>>তুমি বিয়ে করবে না মানে তোমার ঘাঁড় করবে।অার খবরদার পরেরবার যদি অামারে ইগনোর করছো তো তোমার খবর অাছে।
>>গ্রাজুয়েটদের ইগনোর করা যায়।কিন্তু নন গ্রাজুয়েটদের ইগনোর করার কোন প্রশ্নই উঠে না।

তুলি হাসছে।গ্রাজুয়েট অার নন গ্রাজুয়েট নিয়ে এই খুঁনসুটি চলার মাঝেই অারো একটি ভালোবাসার গল্প পূর্ণতা পেতে চলেছে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত