ভালোবাসি

ভালোবাসি

আজ পাঁচ দিন হল ছাগলনাইয়ায় নতুন বাসায় উঠেছি শুধু আমি না। আমার কিছু বন্ধুও আছে। বাসার মালিকটা মহিলা। নাম সালিমা খাতুন। খুবই ঝগড়াটে টাইপের। একটা কিছু হলেই হল। যেনো ঘূর্নিঝড় রোয়ানু ছুটেছে। আমার নাম মনে হয় মুরাদ। মনে হয় বলছি কারন একজন এক নামে ডাকে তাই। গ্রামে থেকেই এইচএসসি শেষ করেছি। বর্তমানে ছাগলনাইয়া আছি। ফ্যামিলি স্টাটাস তেমন আপ লেভেলের না যে বড় বড় শহরে গিয়ে পড়ালেখা চালাবো। আজ প্রথমদিন কলেজে গেলাম। কারো সাথে তেমন আন্ডারস্টান্ডিং হলনা। পুনরায় কলেজ শেষে বাসার উদ্দেশ্যে চললাম।

রাতে সবাই মিলে খাবার চিবুচ্ছি।সালিমা খাতুন সরি আন্টিদের কাজের বুয়াটা এসে রান্না করে দিয়ে যায়। এখনো নতুনতো তাই মোটামুটি ভালোই খাওয়া চলে। এখানে পাঁচ দিন ওভার হল। মোটামুটি ছোট্ট শহরটার সবকিছুই চিনে ফেলেছি। তবে আমাদের বাসার একটা লোককে এখনো চিনতেই পারিনি। কলেজে আসা যাওয়ার সময় সিড়িতে না হয় গেটের সামনে দেখা হয়। ওর যায়গায় অন্যকেউ হলে দেখাতো দুরের কথা তাকাতামই না। এর দিকে তাকাই কারন প্রথম কথা হলো লোকটি হচ্ছে মেয়ে। দ্বিতীয় কথার কথা আর কি বলবো। রুপে গুণে চাল চলনে একশোতে একশো। কিন্তু কে এই মেয়ে? আন্টিকে জিজ্ঞেস করবো? ওরে বাবা আন্টিকে জিজ্ঞেস করা যাবেনা। যে ধরনের মহিলা আস্ত খেয়ে ফেলবে।

-কিরে কি ভাবছিস? (জুয়েল)
-নারে কিছুতো ভাবছিনা।তবে…
-তবে কি রে?
-মেয়েটাকে দেখেছিস?
-কোন মেয়েরে?
-আরে কয়েকদিন ধরে আন্টিদের বাসায় একটা মেয়ে দেখছি
-আরে ওইটাতো এই বাসাতেই থাকে।
-মামাহহহ, একটু….
-না না আমি পারমুনা।
-পারবি মামু পারবি
-নারে! ওই জল্লাদ মার্কা সালিমা খাতুন আমারে মাইরা ফালাইবো
-ধুর, কি বলস এগুলা কিচ্ছু হবে না তোর। আরে আমি আছিনা!
-মামারেহ, কি ভেজালে টানতাছস!
-কিচ্ছু হবেনা ব্যাটা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

জানুয়ারি মাস চলছে। আজ পুরো একটি মাস কেটে গেলো। এখনো মেয়েটিকে বলতে পারলাম না। এখনো তাকে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রত্যেকদিন ফলো করি। কালকে যদি বলে দিই কেমন হয়। হুম জুয়েলের সাথে আলাপ করতে হবে। ধুর কালতো শুক্রবার! ছাদে দাড়িয়ে কথা গুলো ভাবছি। হঠাৎ মনে হলো কে যেন ছাদে আসছে। ভাবলাম জুয়েল হবে। তাই সে দিকে না তাকিয়েই তাকে বললাম

-তোর সাথে কিছু কথা ছিলো।
-এই আপনি আমাকে তুই করে বলেছেন কেনো?
-আরে তুমি? (পিছনে ঘুরে)
-আমি নইতো কে? আপনি আমাকে তুই করে বললেন
কেনো?দাড়ান আমার আন্টিকে ডাকছি
-(মেয়ের রাগ দেখছেন! পুরাই তার আন্টির মত) এএএই আন্টিকে ডেকোনা প্লিজ। আমি জুয়েল ভেবে তোমাকে তুই করে বলে ফেলেছি। তুমি প্লীজ তোমার আন্টিকে ডেকো না।
-আমারর চেহারা কি আপনার বন্ধুর মত ক্ষ্যাত নাকি?
-না না তা হতে যাবে কেনো, তুমি পরীদের চেয়ে ও সুন্দর
-কে বলেছে? (রাগটা মনে হয় কিছুটা কমেছে)
-আমি বলছি। বায় দ্যা ওয়ে,তোমার নামটা কি জানতে পারি?
-কেনো,নাম দিয়ে কি করবেন?
-তাবিজ করে রোজ তিনবার পানিতে চুবিয়ে খাবো
-ফাজলামো করতে পারেন অনেক
-আরো অনেক কিছু করতে পারি।নামটা বলে দেখো
-জান্নাতুন নওরিন।
-বাহ খুব খুব সুন্দর নাম। আমি….
-নওরিন
-জ্বী আন্টি আসছি ওরে পইন্নি সালিমা খাতুন। নামটাও শুনতে দিলোনা। কেমন মহিলা দেখছেন? যাইহোক আজ কিন্তুু উরাদুরা খুশি। নওরিনের সাথে কথা বললাম না! কৌশলে নামটাও জেনে গেলাম।

-দোস্ত ভাবতেছি নওরিনকে কালকেই প্রপোজ করবো
-কয় তারিখ ওইদিন?
-২৮তারিখ। তারিখ দিয়া কি করবি?
-অন্যদিন বলিস। যেমন বিশেষ কোনো দিন আসুক
-ওই তুই মরচস না কেন। তুই মইরা যা বন্ধু
-কিরে মরতে বলস কেনো?
-বলবোনা! তোর মরা উপলক্ষে তাকে প্রপোজ করবো। অন্যদিন করবো কেনো?
-যা তু ওইদিনই করিস। তাও বদদোয়া দিসনা
-উকে। একাডেমি রোড চল।
-কেনো?এখন ওখানে গিয়ে কি করবি?
-আরে শনিবার ওইখান দিয়ে একাডেমি যাবে না!

শুক্রবার সকাল ১০:০০ টা। বর্তমানে একডেমি রোডে আছি। নাহ ডিউটি না। কাল নওরিনকে প্রপোজ করবো তো তাই একটু রিহার্সেল করছি।। শত্রুর মত বন্ধুটা ও আছে। শনিবার সকাল ৮:৩০

-যা দোস্ত যা। ও আসতেছে
-যাবো?
-আরে যা না! দাড়িয়ে আছিস কেনো? (ধাক্কা দিয়ে)
-নওরিন, একটু দাড়াবে?
-কিছু বলবেন?
-হুম,তোমাকে কিছু বলার ছিলো।
-আচ্ছা তাড়াতাড়ি বলেন । আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
-তোমাদের প্রিন্সীপাল স্যার কয়টা বাজে আসেন? (হায়
হায় কি বলেছি এইটা)
-কেনো, স্যারের বাসার সামনে গিয়ে তার মেয়ের সাথে টাংকি পাংকি মারবেন?
-(বদের বদ, যেমন আন্টি তেমন ভাগ্নি)আমি যাই বন্ধু আমার অপেক্ষা করছে
-এইটা বলার জন্যই আসছিলেন?
-না, স্যারের মেয়েকে লাভ লেটার দিতে।
-যাহ, ফাজলামি শুধু(রেগে গিয়ে) মেয়েটা স্যারের।

মেয়ের কথা শুনে হঠাৎ রেগে গেলো কেনো? যাওয়ার সময় এমন লুক দেয়ার কারনটা কি? কুছ তো গড়বড় হ্যায়। নাহি লাড্ডু তো পাড গায়ি ক্যায়া? বিকালে ছাদে রেলিংএ বসে ফেবু চালাচ্ছি। হঠাৎই আমার ফোনটা ম্যাজিক(উদাও) হয়ে গেলো। সাথে সাথেই খুজে ফেলাম নওরিনের হাতেই আমার মোবাইলটা।

-আপনাকে এতক্ষন ধরে ডাকছি শুনতে পাচ্ছেন না? (রাগে ফোঁস ফোঁস করছে)
-কই ডাকলা (ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছি। দশম শ্রেনীতে এক মেয়ের কড়া চড় খেয়েছিলাম।সে থেকেই মেয়েদের ভয় পাই।)
-অনেকবার ডেকেছি। শুনতেই পাচ্ছেন না।
-কেমন আছো তুমি( রাগ কমানোর জন্য)
-ভালো খারাপ পরে। আগে বলেন রাস্তায় দাড় করিয়ে কি বলতে চেয়েছিলেন?
-না, এমনি ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তো.
-একই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কোথায় যান?
-তোমাদের স্কুলের রাস্তাটা খুব ভালো আার পরিবেশটাও অন্যতম। তাই ব্যায়াম করতে যাই ওখানে।
-তার মানে সত্য কথাটা বলবেন না?

-(আমাকে আার কোনো কথা বললতে না দিয়ে সে চলে যাচ্ছে)…
-দাড়াও নওরিন তাও থামছেনা। এবার হাত ধরেই থামাতে হল।
-ভালোবাসি
-(কোনো কথা নেই) ছাদের কোনে থাকা ফুলের টব থেকে তিনটা ফুল এনে….
-এটা(ফুল), ওইদিন না বলার জন্য। এটা মিথ্যা বলারজন্যা। আর এইটা শুধু তোমাকে ভালোবাসার জন্য। (সবগুলো ফুল হাটু গেড়ে একে একে দিলাম।)
-(চোখে পানি)
-ভালোবাসি-ভালোবাসিতো।
-আমিও (জড়িয়ে ধরে) চলুক আজীবন জড়াজড়ি করে

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত