পাগলির ভালোবাসা

পাগলির ভালোবাসা

কলেজের মাঠে বসে ছিলাম।ফেবুতে কারো গল্প পড়ছি অনেক মন দিয়ে।হঠাত টের পেলাম কেও যেন আমার কোলে মাথা রাখল।

___এই তুই কি করছিস?(আমি)
___অনেক ক্লান্তরে মাথা উচু করে রাখতে কষ্ট হচ্ছে তাই মাথাটা একটু নিচু করে রাখছি। (সাদিয়া)
___তাই বলে আমার কোলেই রাখতে হবে?
___তা আর কার কোলে রাখব?তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড!
___তা তুই একটা বয়ফ্রেন্ড বানাতে পারিস না? তোরে তো কতো ছেলে প্রোপজ করে তাদের কারো তা এক্সেপ্ট করে নে।তুই তো দেখতেও অনেক ভালো।
___না ওরা একটাও ভলো না।সবাই শুধু এই চেহারাকে ভালোবাসে।যেদিন এই চেহারার কিছু হয়ে যাবে তখন আর ভালোবাসবে না।

___তা তুই কি চাস?
___আমি এমন একটা ছেলে চাই যে আমার চেহারাকে নয় আমার মন কে ভালোবাসবে।
___তাহলে তোর তো অনেক বেশি অপেক্ষা করা লাগবে কারন এমন ছেলে আছে নাকি তাও আমার সন্দেহ হয়।
___তুই চিন্তা করিস না একজন আছে যে কোনো সময় মেয়েদের চেহারার দিকে ফিরেও তাকাআয় না।
___সত্যি তাহলে তো তাকে দেখতেই হয় কে সে?
___না বলবো না।
___বলনা প্লিজ আমার দুলাভাইকে আমার অনেক দেখার ইচ্ছা হচ্ছে।
___ঠাসসসসস
___আহহহ ওই তুই মারলি কেন?
___ইচ্ছা হলো তাই।
___ইচ্ছা হলেই খালি আমারে মারিস তাই না। মার মার তোর বিয়ের পরে দেখবো কিভাবে আমারে মারিস।
___ঠাসসস
___আবার মারলি কেন।
___তুইতো বললি মারতে।
___বলদ ছেলে পাইছিস তাই যা ইচ্ছা তাই করিস তাই না।মেয়েদের গায় হাত তুলি না বলে পার পেয়ে যাচ্ছিস। নইলে…
___নইলে কি করতিস?হ্যা বল বল।
___কিছু না দেখি চল ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।

বলেই উঠে আসলাম ওখান থেকে নইলে আমার আজকে খবর ছিল।ও আপনাদের তো আমার পরিচয় দেওয়া হয় নি।আমি সাকিব।ইন্টার ১ম বর্ষের ছাত্র।আর এতোক্ষন যার সাথে কথা হচ্ছিল সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সাদিয়া।আমাদের প্রথম দেখা কলেজে ক্যান্টিনে প্রায় ৩ মাস আগে। কি ভেবে যে মেয়েটার সাথে বন্ধুত্য করতে গেলাম নিজেও জানি না।এখন তার ফল পাচ্ছি।কিন্তু যতো কিছু হোক ওর মনটা অনেক ভালো।সব সময় হাসিখুসি থাকার চেষ্টা করে।কলেজ শেষ বাসায় যাচ্ছি হঠাত আমার সামনে এসে হাজির।

___ওই তুই আবার আমাকে রেখে চলে যাচ্চিস?
___সরি ভুল হয়ে গেছে।
___তোর প্রায় প্রত্যেক দিনই ভুল হয় তাই না?
___আরে আমার মাফ করে দে আমারে এবার চল।
___আচ্ছা চল।

আমি রিক্সা ডাকলাম ওর বাসা আর আমার বাসা অনেকটা কাছে।তাই আমি ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমার বাসায় যাই।ওর বাবা- মা আমাকে অনেক ভালো জানে ঠিক তেমনি আমার পরিবারের সকলেও ওকে অনেক পছন্দ করে।ও প্রায় আমার বাসায় এসে আমাকে জ্বালাতোন করে কিন্তু কেন জানি না আমার ওই জ্বালাতন অনেক ভালো লাগে। শুক্রবারের সকাল ১০ টা বাজে।আমি আমার রুমে ঘুমিয়ে আছি।হঠাত কেও আমার বুকের উপর উঠে বালিস দিয়ে আমাকে মারতে লাগল।আমার আর বুঝতে বাকি রইল না যে এটা সাদিয়ার কাজ।

___এই তুই আমার গার উপর উঠেছিস কেন? আর এতো সকাল সকাল আমার বাসায় কি করছিস?
___সকাল সকাল!১০ টা বেজে গেছে আর তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস ওঠ তারাতারি।
___না উঠব না আমার ঘুম পাচ্ছে তুই যা।
___যাবো না আমি।আমি তোর বাসায় এসেছি যে তোর কথা শুনতে হবে!
___আম্মু দেখো এই মেয়েটা সকাল সকাল আমাকে জ্বালাচ্ছে।(চিৎকার করে)
___ভালো হয়েছে আমিই তো ওকে পাঠিয়েছি তোকে উঠানোর জন্য।(আম্মু)
___আম্মু তুমি আমার সাথে এরকম করতে পারলে? (কাদো কাদো কন্ঠে)
___আচ্ছা মা আমার ছেলেটা কে ছেরে দেওয় আর ওর গায়ে পানি ঢেলে দেও।(আম্মু)
___আচ্ছা আন্টি।(সাদিয়া) বলে উঠে যাচ্ছে তখনি আমি উঠে বসে পরলাম।
___থাক আর পানি আনতে হবে না আমি উঠে গেছি।
___এইতো গুড বয়।

___যা!মুটকি একটা।(জিব্বায় কামড় দিয়ে)
___ওই তুই কি বললি আমি মুটকি দাড়া আজকে তুই শেষে।বলেই আমার চুল ছিরতে শুরু করল।
___আর বলবি আমি মুটকি?
___না না আর কখনো বলব না ছার আমার চুল প্লিজ
___মনে থাকবে তো?
___হ্যা মনে থাকবে এবার ছার।
___আচ্ছা তারাতারি রেডি হও আমরা আমার নানা বাড়ি যাব।আমি তোর ব্যাগ প্যাক করে ফেলেছি।
___তোর নানাবাড়ি আমি যাব কেন?
___তুই যাবি মানে যাবি বেশি কথা বললে আংকেল কে বলে দেব তুই আমাকে মেরেছিস।
___আমি তোকে কখন মারলাম?
___মারিসনি কিন্তু আমি বললে কি হবে ভেবে দেখেছিস?
___আমার আম্মু আমাকে যেতে দিবে না।
___আন্টি আমাকে বলেছে তুই আমার সাথে যেতে পারিস তার পরেইতো তোর ব্যাগ গুছিয়েছি।

এর পর আর কি আব্বুর ভয়ে আমি বাদ্ধ হয়ে ওর সাথে গেলাম।সেখানে আমরা ৩দিন ছিলাম। অবস্য আমার ওখানে গিয়ে অনেক ভালোই লাগল।কারন আমার গ্রাম অনেক পছন্দ।সেখানে গিয়ে পরলাম আরেক মুশকিলে।সেখানে সাদিয়ার এক বোন আমাকে প্রোপজ করে বসে।

সাদিয়াকে বলতেই ও রাগে ফোঁসফোঁস করছিল।সে তার বোনকে অনেক কথা শুনালো এবং আমাকে তার পরের দিন নিয়ে আসে।তারপর ও আমার উপর অনেক খেপেছিল।বাসায় এসে আমাকে অনেক মেরেছিল কিন্তু,আমি আসলে বুঝতে পারিনি আমি কেন মার খাচ্ছি।একদিন সাদিয়া কলেজে গিয়ে দেখে আমি যাইনি।সে ওইদিন কলেজ না করে আমার বাড়ি চলে আসে।এসে দেখে আমি অনেক অসুস্থ।আমার অনেক জ্বর।সে আমার অনেক সেবা করে।ওইদিন কেন জানিনা ওর জন্য মনে আলাদা একটা কিছু অনুভব করতে লাগলাম। সেইদিন ও আর বাসায় জায়নি।পরেরদিন সকালে আমার ঘুম ভাংতেই দেখি ও আমার পাশে বসে আমার হাতটি ধরে ঘুমাচ্ছে।তার মায়াবি মুখখানা আমার মনকে চুরি করে নিয়ে গেল।এর কিছুদিন পরে আমি কলেজ শেষে আমি ওকে একটি জায়গায় নিয়ে গেলাম। একটি নদীর পাড়।

___এই তুই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিস কেন?
___এমনি একটু ঘুরতে ইচ্ছা হচ্ছিল কেন তাই।
___জায়গাটা কিন্তু অনেক সুন্দর।
___আচ্ছা সাদিয়া তোকে কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম।
___কি কথা?
___আগে বল তুই রাগ করবি না?
___আচ্ছা রাগ করব না বল
___সত্যিতো?
___হ্যা সত্যি

আমি সাদিয়ার চোখ বেধে ওকে একটি মাঠে নিয়ে গেলাম।সেখানে গিয়ে ওর চোখ খুলে দিলাম আর মাঠের দিকে তাক করলাম।ও মাঠের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন স্থম্বিত ছিল।কারন সেখানে লেখা ছিল I love you sadiya।তারপর রেগে গিয়ে আমার বুকে কিল,ঘুসি দিতে শুরু করল।

___আরে আরে আমার লাগছেতো।আর তুই বলে ছিলিনা রাগ করবি না।
___রাগ করব না তা কি করব তুই এতোদিন লাগালি কথাটা বলতে। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে সাদিয়া কথাটা বলল।তখন আমার নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যাক্তি মনে হচ্ছিল।
___আচ্ছা তুই না কাকে জানি ভালোবাস্তিস যে অন্য মেয়েদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
___হুম
___আমাকে বললি নাতো ছেলেটা কে। সাদিয়া তার ব্যাগ হতে একটি আয়না বের করে আমাকে দিয়ে বলল।
___দেখ দেখ কেমন দেখতে আমার চয়েজ কেমন?
___মানে এসব কি হচ্ছে?
___বলদ আমার।আমি মনে হয় দেখি না তুই রাস্তায় হাটার সময় তারপর কলেজে কেমন করে থাকিস।

তোর ওই সরলতার প্রেমেই আমি পড়ে ছিলাম সেই ক্লাস ১০ এ থাকতে।কিন্তু তোর সাথে তো কথাই বলা যেত না।তাই কোনোদিন বলতে পারিনি।কিন্তু তোকে যখন আমি কলেজে দেখি তখন আমি যে কি খুসি হয়ে ছিলাম তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। বলেই আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আমিও ওকে শক্ত জড়িয়ে ধরলাম আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আমার এই পাগলিটা কে এভাবে সবসময় আগলে রাখব।আর এখান থেকে শুরু হলো একটা নতুন ভালোবাসার গল্প।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত