গুন্ডি বউ

গুন্ডি বউ

তুমি কি বাথরুম থেকে বের হবা? (বৃষ্টি)

– না হবো না ? (আমি)
– ওই তুই কি বাথরুম থেকে বের হবি? না বাথরুমের দরজা ভেংগে ফেলব??
– না আগে বলো আর মারবে না??
– আচ্ছা বাবা আচ্ছা! আর মারব না এবার আসো??
– নিজের স্বামীকে কেউ বাবা বলে নাকি?
– আরে ওটা তো কথার কথা বললাম। আমায় এতো ভয় করো কেন??
– তোমার মতো গুন্ডি মেয়েকে আমি না যেকেউ ভয় করবে।
– কি বল্লি তুই আমি গুন্ডি? তুই খালি বের হও বাথরুম থেকে আজ তোর একদিন কি আমার একদিন??
– কি করবা বের হলে?
– কিচ্ছু করবনা শুধু একটু আদর করব ব্যাস?? আসো বাইরে?
– না আসব না? তুমি মারবে?
– উফফফফফ সত্যি বলছি মারব না এবার আসো??
– প্রোমিস!
– হ্যা প্রোমিস

তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসলাম। কি মেয়ে রে বাবা। আজকে ওর সবচেয়ে অপছন্দের গানটা শুনছিলা ব্যাস খেল খতম হাতে ছুরি নিয়ে মারতে আসলো। তাই বাথরুমের ভিতর গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম তখন ধরতে পারলে জানিনা কি করতো হয় আলু টমেটোর মতো কেটে ফেলতো। এতো রাগ যে কোথায় পায় কিচ্ছু জানিনা। বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ঘরে শুয়ে আছি ওমনি আমার গুন্ডি বউ মানে বৃষ্টির আগমন

– খাবার রেডি আছে আসো খাবে??
– আমার খেতে ইচ্ছে করছে না তুমি খেয়ে নাও???
– খেতে ইচ্ছে করছে না মানে কি? সেই কখন খেয়েছো।
– আমার ক্ষুদা নেই???
– ওই তুই আসবি না খুন করে ফেলব তোকে??? (রেগে গেলে তুই করে বলে)
– হ্যা হ্যা হ্যা আসতেছিতো!
– এই তো গুড বয়।

অতপর খেতে গেলাম না খেয়েও রক্ষা নেই। ও যা বলবে তাই করতে হবে একটু এদিক ওদিক হলেই শেষ

– এই কি ব্যাপার খাচ্ছ না কেনো? (বৃষ্টি)
– তুমি খাইয়ে দাও না? (আমি)
– কেনো তোমার হাত নেই তুমি খেতে পারো না?
– কোথায় হাত নেই তো (হাত দুটো পিছনে নিয়ে বললাম)
– হয়েছে আর ঢং করতে হবে না নাও হা কর খাওয়া শেষ করে আমি আর গুন্ডিটা শুয়ে আছি আমি বললাম…
– জানো পাশের বাসার ভাবিটা না অনেক ভালো।
– আর আমি খারাপ তাই না??
– তুমিতো গুন্ডি।।।
– কিইইইইইইইইইইইই
– ওরে বাবা রে গেলাম রে। কেউ বাচাও আমারে আমি শেষ এই গুন্ডিটা আমারে মেরে ফেলবে মনে হচ্ছে। এই তুমি আমারে এতো কিল ঘুসি মারলে কি আমি বাচব নাকি? (আমি)

– তোরে আমি শেষ করে ফেলব আজ।
– কেন আমি কি করলাম? আমিতো একটু ভাবির প্রশংসা করলাম।
– শয়তান, হনুমান, বান্দর বাসায় বউ থাকতে অন্য মেয়ের কথা বলা হচ্ছে? আজ তুই গেলি।
– এই গুন্ডি থু থু থুক্কু লক্ষীটি আমার ভুল হয়ে গেছে আমার। আর কিল ঘুসি মেরো না নাহলে মরেই জাবো তো।
– আজ তোকে মেরেই ফেলব। তোর এই বিছানায় থাকার কোন অধিকার নাই নাম এখান থেকে? ( বলেই ধাক্কা মেরে বিছানা থেকে ধপাস করে মেঝোতে ফেলে দিলো)

– এই বৃষ্টি সোনা আমার। আমার ভুল হয়ে গেছে আর জিবনেও ওই ভাবির কথা বলব না। এবার বিছানায় যাই??
– না তুই বিছানায় আসতে পারবি না।
– এই লক্ষীটি এই শীতের দিনে আমি মেঝোতে থাকব কি করে? যদি ঠান্ডা লেগে জায়?
– আর একটা কথা বললে মেঝোতেও জায়গা হবে না। রুমে থেকেই বের করে দিবো এই বলে দিলাম!
– আচ্ছা ঠিক আছে মেঝোতেই থাকছি কিন্তু….
– কিন্তু কি?
– একটা বালিস আর কম্বল তো দাও?
– না কিচ্ছু হবে বালিশ ও না কম্বল ও না। পাশের বাসার ভাবি অনেক ভালো তাই না এখন বুঝো ঠ্যালা।
– আচ্ছা ঠিক আছে বালিস কম্বল ছাড়াই ঘুমাচ্ছি!!

অতপর শান’ত ছেলের মতো মেঝেতেই শুয়ে পরলাম। কেমন মেয়ে রে ভাই নিজের স্বামীকে কেউ এমন করে। কোন অলক্ষনে যে এই গুন্ডিটার সাথে বিয়ে হয়ে তা ঈশ্বরইই জানেন।কিন্তু গুন্ডিটা তো আমার বুকে মাথা রেখে ছাড়া একটি রাত ও ঘুমাতে পারে না তাহলে আজ কিভাবে ঘুমাবে। আর আমারো তো ওকে ছাড়া ঘুম আসবে না ধুর আর ভাল্লাগেনা। রাত ১ টা বাজে আমার এখন ও ঘুম আসতেছেনা আর আসবেই বা কেমন করে, আমি সিউর গুন্ডিটাও এখনও ঘুমাও নি।

– এই উঠো ? (বৃষ্টি)
– উমমমমমমমম, (আমি)
– উঠো বিছানায় আসো?
– কি হচ্ছে কি আমাকে কি শান্তিতে ঘুমাতেও দিবে না?
– আমার একা একা ঘুম আসতেছেনা চলো বিছানায় গিয়ে ঘুমাবে?
– আমি কেন বিছানায় জাবো? তুমিই তো আমাকে বিছানা থেকে ধপাস করে মেঝেতে ফেলে দিলা। আর বল্লা বিছানায় যেন না ঘুমাই? তুমি যাও তো আমাকে ঘুমোতে দাও।

– তখন রাগের মাথায় ওসব বলে ফেলেছি।
– তো এখন কি রাগ টা আছে না কমেছে? কি ব্যাপার কাঁদছ কেনো?
– বাব্বা গুন্ডিরা আবার কাদতেও জানে দেখছি।
– আরে আজব তো কান্নার গতি বেড়েই জাচ্ছে দেখছি? ওই পাগলি কান্না টা থামাও বলছি? না এসবে কাজ হবেনা তাই ওকে কোলে করে বিছানায় গিয়ে আবার শুয়ে পরলাম এতক্ষনে একটু কান্না টা বন্ধ হলো। কি মেয়ে রে ভাই নিজেই বিছানা থেকে ফেলে দিলো আবার নিজেই কাঁদছে কখন যে কি করে কিচ্ছুই বুঝিনা! তারপরের দিন বিকেলে গুন্ডিটা অনেক জোরে ডাকছে…

– মৃনাললললললললল?
– কিইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই?
– ঐ শয়তান তোকে এত্ত জোরে চিল্লাইতে কে বলছে?
– আসলে তুমিও তো জোরে জিল্লাইলা তাই ভাবলাম আমিও (কথাটা শেষ না করতেই)
– ঠাসসসসসসসাসস তোরে না বলছি ওই ভাবির সাথে কোন কথা বলবি না? তাও কেন আজ কথা বলছিস তুই?
– আরে সারাদিন খালি, কিল ঘুসি, ঠাসসস ঠাসসস, করে মারতেই থাকো। একটু কথা বলছি বলে এমন করে মারবা?
– হ্যা মারব কারন এত্ত মাইর খেয়ে যখন সোজা হস না তখন মারতেই হবে।
– হা হা হা আমি তো সোজাই আছি তোমার চোখের সমস্যা হইছে ডাক্তারের কাছে জাইতে হবে।
– কি বল্লি তুই আমার চোখের সমস্যা। দাড়া বলছি?
– ভাই দাড়াইলে শেষ তাই দিলাম দৌড়।
– গুন্ডিটা উপর থেকে চিল্লায়ে বলতেছে রাতে বাসায় আসবি না তখন দেখব তোরে বাচায় সেটা কে হু।

ভাই আমি এক কপাল পোড়া কিচ্ছু কইতে পারি না গুন্ডিটার ওপর কারন ওর বাপে থানার ওসি। বিয়ের আগে অনেক ভালো ভালো আর মিস্টি মিস্টি কথা বলতো এখন বুঝতেছি আমার কতো একটা কিউটের ডিব্বারে বিয়ে করেছে কেনো। ধুর বাইরে ভালো ও লাগতেছেনা রাত ১২ টা বাজে ।

– হ্যালো কে কইতেছেন?
– চুপ শয়তান, ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায় চলে আসবি নাহলে তোরে… টুট টুট টুট
– বাসায় এসে দেখি বউ আমার পুরাই পরি। হাতে চুরি, নীল শাড়ি পরেছে জাকে বলে নীল পরী। আমি হা করে তাকায়ে আছি ওর দিকে।

– এই যে এমন হা করে তাকিয়ে না থেকে আসেন খেতে আসেন? আপনাকে তো আবার খাইয়ে না দিলে হয় না।
কি ব্যাপার রে ভাই বউ আমার হঠাত এতো ভালো হয়ে গেল কি করে কোন মতলব আছে নাকি। জাগগে বউয়ের হাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম দুজোনে।

– এই তারাতারি রেডি হয়ে নাও ঘুরতে জাবো?
– আচ্ছা ঘুরতে জাবো ঠিক আছে কিন্তু বলো আজকে আর কোন মাইর দিবে না। কালকের থাপ্পরের ব্যাথা এখন ও আছে।
– আচ্ছা ঠিক আছে আজ কোন মাইর দিবো না!
– সত্তিই তো?
– হুম!!!

সারাদিন ঘুরলাম গুন্ডিটার সাথে অনেক ঘুরলাম। আর অনেক দুস্টুমি করেছি কিন্তু আজ একটুকুও মাইর দেয় নাই। তাই সুজোগ বুঝে ওর গালে অনেক গুলো পাপ্পি বসে দিয়েছিলাম তাও কিচ্ছু বলেনি

– আচ্ছা তোমার কাঁধে একটু মাথা রাখি?
– হুম রাখো।
– জাক বাবা আজ হঠাত এতো ভদ্র হয়ে আছে ক্যানো।
– ঐ এমন করে কি দেখা হচ্ছে হু?
– পরী কে দেখছি। আমার গুন্ডি নীল পরী।
– হইছে আর পাম দিতে হবে না।
– আচ্ছা আজকে একটুকুও রাগলে না কেনো?
– এমনি!
– এমন করে থাকবা সব সময়।

তারপর বাসায় চলে আসলাম বউ টাকে আজ অসম্ভব সুন্দরী লাগছে তাই আবার একটা দিলাম পাপ্পি। আর তখনই একটা শব্দ হলো ঠাসসসসসস মনে হচ্ছে আবার মাইর দিছে। না আর এমন অত্যাচার সহ্য হচ্ছে না তাই রাগ করে ছাঁদে চলে গেলাম। কি পাইছে আমারে আমি কি মাইর খাওয়ার মেশিন নাকি যে সব সময় এমন ভাবে মাইর দিবে। কিচুক্ষন পর দেখলাম গুন্ডিটাও ছাদে আসতেছে আমায় ডাকলো কিন্তু আমি গেলাম না

– এই তুই আসবি নাকি নাকি আবার…
– আবার কি হুম আবার কি? আবার মারবে তাই না। এই যে কাছে আসলাম নাও মারো আমাকে মারো। আরে আমিতো মানুষ না আমিতো রোবট মারলেও লাগে না আমার। আমি জানি আমি একটু দুস্টুমি করি তাই বলে..
কি হলো নাও মারো দাড়িয়ে আছো কেনো। বলেই রুমে চলে আসলাম। রুমে শুয়ে আছি ওমনি

– এই উঠো চলো খাবে। আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
– না আমার খিদে নেই। তুমি খেয়ে নাও?
– চলো না প্লিজ
– বল্লাম না আমি খাবো না। আর কালকেই আমি চলে যাব!
– কই জাবে তুমি হু?
– জানিনা কোথায় জাবো। জেদিকে দুচোখ জায় সেদিকে জাবো। কাল থেকে কেউ আর তোমাকে এতো জ্বালাবে না আর ডিস্টার্ব করবে না। ওমনি বুকে জরাই ধরে বলতেছে…

– তোমাকে আমি অনেক মারছি তাই সোনা। প্লিজ তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেও না। তুমি না থাকলে আমি মরেই জাবো। আর কখন ও মারব না প্রোমিস
– থাকতে পারি একটা শর্ত আছে?
– কি?
– তুমি এতদিন জত মাইর দিছো এখন থেকে প্রতিদিন ততগুলা পাপ্পি দিবা। আর না দিলে আমি গেলাম।
– এই না না জেও না প্লিজ এই নাও উম্মাহহহহ ভাই আপনারা এবার আসুন গুন্ডিটার পাপ্পির নেশা পাইছে

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত