গুন্ডি মেয়ের নিরব ভালোবাসা

গুন্ডি মেয়ের নিরব ভালোবাসা

বাসার কলিং বেল এর শব্দে আমার সাধের ঘুম টা হারাম হল,আম্মু ও দরজা খোলে না,তাই বাদ্ধ হয়ে আমার ই খুলতে হল। দরজা খুলে দেখি আম্মুর বেষ্টফ্রেন্ড আর তার মেয়ে।

:-আসসালামু আলাইকুম। আন্টি কেমন আছেন??
:-অলাইকুম আসসালাম। ভালো বাবা তুমি কেমন আছ?
:-ভালো আন্টি। এখন মনে হয় আর ভালো থাকা হইবো না। আন্টি এই পেত্নী টারে আনছেন কেনো। এখন একটুও শান্তি তে থাকতে দেবে না।
:-ওই ছেমরা তুই কি কি কইলি। আমি পেত্নী দারা তোর খবর আছে।

আমি কি আর ওখানে থাকি সোজা রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দেই। যে গুন্ডি মাইয়া আমারে মাইরা ফেলতো।
ও আপনাদের আমার পরিচয় টা দিয়ে নেই। আমি রাফসান ইসলাম সাইদুল।অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। মা বাবার একমাত্র আদরের বাদর ছেলে। আর যার জন্য রুমের দরজা আটকালাম সে হলো আমার বেষ্টফ্রেন্ড, নুসরাত ফারিয়া।

দুজন একই সাথে পড়ালেখা করি।আমার আম্মু আর ফারিয়ার আম্মু বেষ্টফ্রেন্ড এখন আমি আর ফারিয়া বেস্টফ্রেন্ড। সারাদিন আমার সাথে ঝগরা করে আমি কিছু বলতে পারি না। কিছু বললেই আম্মুর কাছে নালিশ করে আর আম্মু আমাকে সু মধুর কিছু বানি সুনিয়ে দেয়। ওই হাদারাম তুই রুম দিয়া বাহির হবি না। একবার বাহির হও তোরে দেইখা নিমু।

:-ওই তুই আমার বাড়ি আইছো কেন? আইসা শুধু গুন্ডমি করে গুন্ডা মাইয়া:-কি আমি গুন্ডা। আর তোর বাড়িতে আমি আসি নাই আমার আন্টির বাসায় আইছি।তাতে তোর কি রে কয়দিন পর আমার বাড়ি হইয়া যাইবো তোরে মাইরা। এখন দরজা খোল তা না হলে ভার্সিটি যাবি না। আর দেরি করা যাইবো না তা না হলে ভার্সিটি গেলে কি করে আল্লাহ ভালো যানে। দরজা খোলার সাথে সাথে আমার সার্টের কলার ধইরা ফেলছে। আমি তো শেষ ভয়ে হাত পা কাপা কাপি শুরু কইরা দিছে। দোস্ত এই বারের মতো মাফ কইরাদে। প্লিজ প্লিজ।

:-দিতে পারি এক শর্তে।
:-আবার শর্ত বল রাখমু আর কিছু করার ও নাই।
:-আজকে সারাদিন আমাকে নিয়া ঘুরতে হবে।

ফুসকা,আইসক্রিম, চকলেট, সব খাওয়াইতে হবে। খইছে আমারে আজ আমার পকেট ফাকা করবে।কি করার মাইর খাওয়ার চাইতে পকেট ফাকা করাও ভালো। হুম যা রেডি হয়ে আস নিয়া যামু। সত্যি আমার কালদুটো টান দিয়ে চলে গেল। আমিও বেচে গেলাম।আমিও রেডি হয়ে আম্মুর কাছে গেলাম। দেখি দুই বান্ধবী এখনো কথা বলতেছে। মেয়ে রা এত কথা বলে কি ভাবে একমাত্র আল্লাহ ই যানে।
আন্টি আপনি তো কতো ভালো আর আপনার মেয়ে ডা হইছে একটা গুন্ডা দেখেন এই মাত্র থ্রেড দিয়া গেলো। তারে নিয়া ঘুরতে যাইতে হইবো। বলেন আমি বেকার মানুষ ওরে নিয়া ঘুতে গেলে কতো খরচ হইবো, আম্মু ওই সোজা কইরা বলতে পারছ না মা টাকা লাগবো খালি খালি ফারিয়ার নামে বদনাম করোছ। এই নে টাকা। ওমা এদি মেঘ না চাইতে বৃস্টি। যে আম্মু মাসিক হাত খরচ ছাড়া টাকা দেয় না সেই আম্মু আজ ফারিয়াকে নিয়া ঘুরতে যাওয়ার জন্য ১০হাজার টাকা দিছে। এইখানে কোনো সমেস্যা আছে। যাই হোক টাকা তো পাইছি যাওয়া যাক। সারাদিন ওনেক ঘুরলাম ওর যেগুলা মন চাইছে সব করছে।

দিনটি চলে গেলো দুজন দুজনার বাসায় চলে গেলাম।আমরা শুধু ফ্রেন্ড এর বাহিরে কিছু নয়। ফারিয়া একটু মর্ডান মেয়ে। আমার মর্ডান মেয়েকে লাভার বানানোর তেমন ইচ্ছে নেই তাই ওর দিকে অন্য নজরে তাকাই নি একজন ভালো বন্ধু। ফারিয়া দেখতে সেই রকম সুন্দরি। সারাদিন ক্লাস আড্ডা ঘুরা ঘুরি এভাবে কেটে যেতে লাগলো আমাদের দিনগুলি। আজকে একটা ক্লাস হবে না। তাই ব্যাগ টা ক্লাস এ থুয়ে ৫মিনিটের জন্য বাহিরে বের হয়েছিলাম।তারপর চলে যাই আড্ডা দিতে। দিনটা ভালোই কাটলো বাসায় পৌছে দেখি আমার ডাইরি টা নেই। আমার মাথায় আকাশ ভেজ্ঞে পরলো। কি করবো এখন আমার ভালো লাগা না লাগা সব কথা বার্তা লেখা এতে কিছু আসে যায় না আমার ডাইরি টায় আমার অনেক স্মৃতি বহন করে রয়েছে। ডাইরিটা আমার একটা দোস্ত দোস্ত বললে ভুল হবে কলিজা ছিলো ও উপহার দিছিলো।

সে অনেক আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছে। ওর শেষ স্মৃতি হিসাবে ডাইরি টা ছিলো। তখন ফারিয়া ফোন দেয় অনেক কষ্ট পেয়েছি তাই ওর সাথে সব কথা সেয়ার করি। ওর কাছে সব বলতে বলতে কান্না করে দিছিলাম। ফারিয়া আমাকে বুঝায় বলে কাল ভার্সিটি এসে আমার ডাইরি খুজে দিবে।কোনো রকম রাতটা কেটে গেল ভার্সিটি পৌছে পাগলের মতো খুজছি পাইনি যেই ক্লাস এ গেলাম দেখি আমি যেই বেঞ্চ এ বসতাম তার উপরে ডাইরি টা রাখা।ডইরি টা পেয়ে অনেক খুসি হলাম। ফারিয়ার কাছে বলতেই ট্রিট চাইলো আমিও মানা করলাম না। ওর প্রিয় খাবার ফুসকা খাবো। কিন্তু আজ ও আইসক্রিম খাবে আমার ফেভারেট খাবার। দুজনে অনেক হাসি আনন্দে দিন টা কাটালাম। বাসায় চলে আসি আজ মনে অনেক খুসি অনেক কিছু ফিরে পেলাম আম্মু আমার খুসি আর বেসি সময় থাকতে দিলো না। ৪৪০ ভোল্টেজ এর কথা সুনালো।

আম্মু:-রাফসান শোন তোর আব্বু তো ব্যবসায়ের কাজে প্রায় সময় ই বাহিরে থাকে তাই ভাপতে ছি তোকে বিয়ে দিয়ে দিবো।

আম্মুর কথা শুনে আমি অজ্ঞান যখন চোখ মেলি তখন দেখি আম্মু আর ফারিয়া আমার পাশে বসে আছে। আম্মু আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না আমার মনের মতো মেয়ে এখোনো খুজে পাই নি। আম্মু কিছু বলে না। আমিও কিছু বলি নি। কয়েক দিন কেটে গেল সুস্ত হয়ে ভার্সিটি গেলাম। আজকে ফারিয়া এখোনো আসেনি। তাই বটতলায় বসে আছি। তখনি দেখি গেট দিয়ে একটা নিল পরি ডুকতেছে আগে তো কখোনো দেখি নি। প্রথম দেখাতেই ক্রাশ। আহ কি সুন্দর লাগতে ছে। নিল ড্রেস চোখে কাজল কপালে টিপ হৃদয় টা ছুয়ে গেল। একেই তো আমি এতোদিন খজতেছি।দেখি নিল পরি আমার দিকেই আসতে ছে।একটু কাছে আসতেই কেমন যেন চেনা চেনা মুখটা না এ হতে পারে না এতো ফারিয়া। আমার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছি না। রাফসান নিজেকে কন্ট্রোল কর ওকে বুজতে দেওয়া যাবে না ওই ওর ওপর ফিদা হয়ে গেছো। ভালোবাসা কাউকে বলে আসে না তা আজ বিশ্বাস হলো। যে ফারিয়ার সাথে ৩টি বছর রয়েছি কখোনো এই রকম সাজতে দেখি নি। মনে হয় আজকেই ওকে প্রথম দেখতেছি। নাহ ওকেই ভালোবেসে ফেলেছি। লাভ এট ফাস্ট সাইড।ফারিয়ার কথায় কল্পনার জগোথ থেকে ফিরে এলাম।

:-কিরে কি ভাবতেছো?
:-নাহ কিছু না।
:-দেখ আজ আমাকে কেমন দেখাইতে ছে?
:-(একদম পরির মতো মনে মনে) একেবারে পেত্নীর মতো হি হি হি।
:-কি পেত্নীর মতো যাহ তোর সাথে কথা বলবো না। তুই আমার সাথে কথা বলবি না যার জন্য এতো সুন্দর করে সেজে আসলাম সেই কিনা বলে পেত্নীরর মতো লাগে আগেই ভালোছিলাম প্যান্ট সার্ট পরে আসলে তুমমি তো তাকাইতা এখন তো তাও তাকাও না। তুমি না একটা ইডিয়ট।

:-(ওমা একেবারে তুমি তে চলে আসছে আগে তো তুমি করে বলে নাই কোনো প্রবলেম আছে) কি আমার জন্য সাইজা আইছোচ তা তো জানি না।আর শোন তোকে না একদম পরির মতো লাগদে ছে।তোরে রাগানোর জন্য ওই টুকু বলছিলাম।

:-সত্যি
:-হুম।
:-তোমাকে না আজ একটা কথা বলি আজ যদি না বলতে পারি তাহলে আর কখোনো বলতে পারবো না।
:-হুম কি বলবি বল।
:-আমি না আমি তোমাকে ভালোবাসি।
:-কিহ কবে থেকে(ওর কথা শুনে মনের মধ্যে লাড্ডু ফুটছে যারে দেইখা ৫মিনিট আগে ক্রাশ খাইছি সে এখন ভালোবাসার কথা বলতেছে)

:-যেদিন ভার্সিটিতে তোমাকে প্রথম দেখি তখন ই। মেয়ে বলে কিছু বলতে পারি নি।যখন জানলাম তুমি আমার আম্মুর বান্ধুবির ছেলে তখন অনেক খুসি হয়ে ছিলাম তোমার সাথে বন্ধুক্ত করি। যখন তুমি অন্য মেয়েদের সাথে কথা বল তখন আমার হৃদয় টা ছিরে যায় মনে হয় তুমি আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছো। ভাবছিলাম তুমি আমাকে বলবে কিন্তু না এখন আমারই বলতে হয়েছে।

:-কিন্তু আমি তো তোকে ভালোবাসতে পরবো না বিয়ে করার আগে ভালোবাসা ঠিক না। তাই ভাবছি যাকে বিয়ে করবো তাকে ভালোবাসবো। যাইরে অন্য কারো উপর ট্রাই কর,বলতে দেরি হয়েছে আমার সার্টের কলার ধরে ফেলতে দেরি করে নাই।

:-ওই মাইয়া পালডাইতে পারি ক্যারেক্টার কিন্তু আগের ফারিয়া ই আছে আর তোর বউরে ভালোবাসবি না চল। আমার সার্টের কলার ধরে টানতে টানতে বাসায় নিয়া আসলো। আমার রুমে আমাকে আটকে রাখা হলো কিছুই বুজতে পারছি না সন্ধা হয়ে এল কেউ আমাকে খেতেও দিল না। হঠাৎ আম্মু কিছু কাপর আর কিছু পোশাক নিয়ে এল। খাবার খেয়ে পোশাক গুলো পরে নে।

:-কেনো??

আজ তোর বিয়ে ফারিয়ার সাথে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল। পড়লাম মহা বিপদে। এতে আমারই ভালো হলো। একদিকে যার উপর আজ ক্রাশ খাইলাম তাকে বিয়ে করতে পারবো। অন্য দিকে এমন গুন্ডা মাইয়ার সাথে বিয়া হইলে জীবন শেষ হইয়া যাইবো। এখন তো আর কিছু করার নাই জীবন তো শেষ। তাই এখানেই শেষ করলাম বিয়ের এক্সপিরিয়াঞ্চ নাই তো তাই আর কিছু লেখলাম না।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত