ভালোবাসি পাগলিটাকে

ভালোবাসি পাগলিটাকে

আজ তিনদিন হলো নতুন মেসে উঠেছি। আগের মেসটা যদিও অনেক ভাল ছিল কিন্তু ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। কারন মেসের বাজেটটা একটু বেশি করেফেলছিল।আর আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না।তাই এই নতুন মেসে উঠেছি। আসলে আমাদের মত মধ্যবিত্তদের ঢাকার শহরে থেকে লেখাপড়া চালানো অনেকটা কষ্টসাধ্য।চারটা টিউশনি করে যা পেতাম তা দিয়ে লেখাপড়া,মেস ভাড়া,খাওয়া-দাওয়ার খরচ দিয়ে কিছু টাকা হাত খরচের জন্য পকেটে থেকে যেত। তবে যা থাকতোতা দিয়ে নিজের পোষাক ও অন্যান্য জিনিস আর কিনতে পারতাম না। তাই এক পোষাক দিয়েই অনেক দিন চালিয়ে নিতাম। বাড়ি থেকে যে কিছু টাকা আনবো সেরকম পরিস্থিতি ছিলনা। কারন তাদেরই চলতে কষ্ট হতো।

আমার বাবা সরকারী চাকরি করতেন।রিটায়েটের পর যে টাকা পেয়েছিলেন তা তার পিছনেই খরচ হয়ে গেছে। কারন তার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছিলো। অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে তাকে সুস্থ করার জন্য।এখন নিজেদের জমিজমা দিয়ে যে টাকাআসে তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে।তার মধ্যে আমাকে টাকা দেওয়া অসম্ভব।তবুও মা মাঝেমাঝে কিছু টাকা পাঠায়। আর তা দিয়েই আমার পোষাক,অন্যান্য জিনিস কেনাকাটা করতে হয়। এক মাস শেষ হয়ে অন্য মাস শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও টিউশনির টাকা পাইনি। চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেকবার বলছি টাকাটা আমার খুব প্রয়োজন। তবুও দিচ্ছেনা। না এভাবে চললে আর সম্ভব না। তাই আজকে যেভাবেই হোক টাকা আনতে হবে। মেস থেকে আমার টিউশনিটা বেশি দূরে না হওয়ায় হেঁটেই যাচ্ছি। বাসায় গিয়ে আমার ছাত্রীকে বললাম তার মা’কে ডাকতে। কিছুক্ষন পর তার মা আসলো,-

– কেমন আছেন আন্টি?
– ভালো।তুমি কেমন আছো, বাবা?
– হ্যাঁ আমিও ভালো আছি। আসলে একটা কথা বলার জন্য আপনাকে ডাকিয়েছি।
– হ্যাঁ বল!
– আসলে আন্টি আপনাকে তো আগেই বলছিলাম যে, মাস তো শেষ হয়ে গেছে। আর এই মাসেরও কয়েকদিন হয়ে গেল।আমার টাকাটা আসলে খুব দরকার আন্টি।

– হ্যাঁ বলছিলে তো। কিন্তু….আচ্ছা তুমি একটু বসো আমি আসছি। তারপর সে চলে গেল। কিছুক্ষন পর এসে কিছু টাকা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,-
– এই নাও।এখানে যা আছে তা রাখো।

আর বাকিটা পরের মাসে একসাথে দিয়ে দিবো। আমি আর কোনো কথা না বলে চলে আসলাম।ভাবলাম তারও হয়তো কোনো সমস্যা আছে। চারটা টিউশনির একটার টাকা সঠিক সময়ে পেয়েছিলামআর বাকি তিনটার মধ্যে আজকে দুইটা থেকে কিছুটাকা দিয়েছে। তবে পুরোটা দেয়নি। আর বাকি একটা থেকে আজকেও দেয়নি। যাইহোক,যা পেয়েছি সেটা নিয়েই সন্ধ্যায় মেসে ফিরলাম। দুপুরে বাহিরে বসে একটা রুটি আর এককাপ দুধ চা খেয়েছি।খুব ক্ষুধা লাগছে। তাই মেসে এসে নিজের বাক্স থেকে মুড়ির কৌটাটা বের করে দুমুঠো মুড়ি খেয়ে পানি খেয়ে ক্ষুধাটা কিছুটা কমিয়ে নিলাম। সারাদিন হাঁটছি দেখে খুব ক্লান্ত লাগছে। তাই শুয়ে পরলাম। রাতে আর খেতে উঠিনি। ডাকছিল কিন্তু এই ক্লান্ত শরীরে উঠতে আর ইচ্ছে হলোনা। তাই না খেয়েই ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে চোখ ঢলতে ঢলতে ঘুম থেকে উঠে যেই হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৯.১০ বেজে গেছে। তখন চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মত অবস্থা। কারন আজকে আমার পরিক্ষা আছে। খুব তাড়াহুড়ো করে বেড়িয়ে পরলাম। গিয়ে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে কোনো সমস্যা হলোনা। পরিক্ষা শেষ করে দুপুরের দিকে বাসে করে মেসে ফিরছি। বাসে প্রচন্ড ভিড়।বসার জায়গা পাচ্ছিনা। তাই পিছন দিকটায় গিয়ে একটু দাড়ালাম। এখানে তুলনামূলক একটু ফাঁকা রয়েছে। গরমে শরীর ভিজে টুপটুপ করছে।কপাল ঘেঁষে ঘাম ঝরছে। অনেকক্ষন পর বাস এসে আমার মেসের রাস্তার মাথায় থামলো। আমি নেমে পরলাম।খুব ক্লান্ত লাগছে। তাই রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করা এক গ্লাস ঠান্ডা সরবত খেয়ে নিলাম। ক্লান্তিটা কিছুটা কমেছে। তারপর মেসের দিকে হাঁটা দিলাম। এমন সময় পিছন দিয়ে কেউ একজন ডাক দিলো,-

– তানিম ভাইয়া দাড়াও।

বেশ জোড় গলায়ই ডাক দিলো। তাই বুঝতে বাকি  রইলনা যে এটা মেয়েলি কন্ঠ। পিছনে ঘুরে তাকাতেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এ আমি কি দেখছি। প্রিয়ন্তী এখানে! না ঠিকই তো দেখছি। হ্যাঁ প্রিয়ন্তীই তো! প্রিয়ন্তী ছিল আমার স্টুডেন্ট। আমি যখন কলেজে পড়ি তখন আমি প্রিয়ন্তীকে পড়াতাম। কিন্তু সেই কলেজ জীবন শেষ করে যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হলাম তারপর আর প্রিয়ন্তীর সাথে দেখা হয়নি। তবে আমাদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটছিল। আমি যখন প্রিয়ন্তীকে পড়াতাম তখন প্রিয়ন্তী আমাকে একটা লাভ লেটার দিয়েছিল। কিন্তু প্রিয়ন্তী তখন ছোট। সবেমাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে। আমি যদি তখন ওকে আশকারা দিতাম তাহলে ওর পড়াশুনায় ক্ষতি হতো।আর আমিও সেরকম ভাবে ভাবিনি। আমি শুধু ওকে পড়াতেই যেতাম। আর কোনো মতলব ছিলনা।আমি সেদিন ওকে শুধু একটা কথাই বলছিলাম,-

– তুমি যদি এরপর কখনও এরকম কোনো কাজ

করো তাহলে আমি তোমাকে আর পড়াতে আসবোনা।এখন ঠিক করো তুমি কি করবে? ও মাথা নেড়ে বলছিল আর কখনও হবেনা। এই বিষয়টা নিয়ে পরে আর আমাদের মধ্যে তেমন কোনো কথা হয়নি। তারপর আমার ইন্টার পরিক্ষা শেষ করে রেজাল্ট ভাল হওয়ায় ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে সেই যে চলে এসেছি তারপর আর প্রিয়ন্তীর সাথে দেখা হয়নি। প্রিয়ন্তী দেখতে আগের চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর হয়েছে। আগের থেকে একটু শুকিয়ে গেছে।আর সেজন্যই হয়তো সৌন্দর্যটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি প্রিয়ন্তীর দিকে এখনও আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।

– এই যে ভাইয়া।এই তানিম ভাইয়া।কি হলো কথা বলছো না কেন?
– হ্যাঁ, কেমন আছো?
– ভালো আছি।তুমি কেমন আছো?
– হ্যাঁ ভালো। তুমি এখানে?
– আমি তো এখন ঢাকায় থেকেই পড়াশুনা করি। কাছেই আমার আন্টির বাসা। আর আমি সেখানেই থাকি। আমি এদিক দিয়েই কলেজে আসা যাওয়া করি। আর আজকে আমি যখন রিক্সায় করে বাসার দিকে আসছিলাম ঠিক তখনই তোমাকে বাস থেকে নামতে দেখলাম। আর পিছন পিছন ছুটে আসলাম।

– ও আচ্ছা। তা বাসার সবাই কেমন আছে? আঙ্কেল- আন্টি সবাই ভালো আছে তো?
– হ্যাঁ ভাল আছে। তারা সবসময় তোমার কথা মনে করে।
– হ্যাঁ আমি জানি। বাড়িতে গেলে যে তাদের সাথে দেখা করবো সেই সুযোগই পাইনা।
– তুমি কি এখানেই থাকো?
– হ্যাঁ সামনেই আমার মেস। আচ্ছা চলো কিছু খেয়ে নেয়া যাক। তারপর কথা হবে।
– না ভাইয়া আমি কিছু খাবো না। আসলে আজকে এমনিতেই লেইট হয়ে গেছে। আন্টি চিন্তা করবে। তুমি বরং তোমার নাম্বারটা দাও। আমি রাতে কথা বলবো।
– আচ্ছা দিচ্ছি।

তারপর আমার নাম্বারটা প্রিয়ন্তীকে দিয়ে আমি চলে আসলাম। আমার কি রকম যেন মনে হচ্ছে। সেই ছোট প্রিয়ন্তী আজকে এতো বড় হয়ে গেছে। যে মেয়ে নিজের শহরেই একা ঘুরতে পারতো না। সেই মেয়ে আজকে ঢাকা নামক ব্যস্ত নগরীতে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজকে প্রিয়ন্তীর সাথে দেখা হওয়া কথা বলা এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। জানালার সন্নিকটে দাড়িয়ে এই কথাগুলো ভাবছি আর আকাশের তারা গুলো দেখছি। তবে একটা জিনিস ঢের টের পাচ্ছি যে, আমি প্রিয়ন্তীর ফোনের অপেক্ষা করছি।

কিন্তু কেন এসব করছি?কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমিই তো একদিন প্রিয়ন্তীকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম তাহলে আজকে কেন ওকে খুব পেতে ইচ্ছে করছে? আসলে আজকে একটা কথায় খুব বিশ্বাস হচ্ছে, মানুষের মন কখন কি চায় তা নিজেও জানেনা। আচ্ছা প্রিয়ন্তীও কি আমাকে চায়? কেনই বা চাইবে? ও দেখতে সুন্দর। এখন তো নিশ্চই ওর একটা বয়ফ্রেন্ড আছে। আসলে না চাইতে পাওয়া জিনিসগুলো কখনও দূরে ঠেলে দিতে নেই। দিলে অনেক পশ্চাতে হয়। যেমনটা আজকে আমি বুঝতে পারছি। কেনই বা আজকে ওর সাথে দেখা হতে গেল! এর আগে তো অনেক ভালোই ছিলাম। মাথায় ভিবিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অবশেষে সেই আকাঙ্খিত কলটা এসে পৌছালো। প্রিয়ন্তী ওর নাম্বারের শেষ কয়েকটা ডিজিট বলছিল।যাতে চিনতে অসুবিধা না হয়। ফোনটা বিপ বিপ করে বাজছে আর আমার হৃদয় স্পন্দনও বেড়ে চলছে। অতঃপর ফোনটা রিসিব করলাম।

– হ্যালো তানিম ভাইয়া!
– হ্যাঁ প্রিয়ন্তী বল!
– কি করছো?
– কিছুনা বসে আছি। আসলে বসে ছিলাম না। আমি তো তোমার কথাই ভাবছিলাম।কথাটা মনে মনেই ভাবলাম।সেটা আর প্রকাশ করলাম না।
– ও আচ্ছা।আজকে তোমার সাথে দেখা হওয়াটা এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে।
– হ্যাঁ আমার কাছেও। আসলে ভাবতে পারিনি আবার কখনও তোমার সাথে দেখা হবে।
– হয়তো এটাই হওয়ার ছিলো। তবে আমি কিন্তু সবসময় তোমার খবর নিয়েছি তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে।
-প্রিয়ন্তীর কথাটা শুনে কেন জানি মনে হলো ও হয়তো এখনও আমাকে ভালবাসে। তা না হলে আমার খোঁজ নিতে যাবে কেন? একটু চুপ থেকে বললাম,- আচ্ছা প্রিয়ন্তী তুমি তো এখন বড় হয়ে গেছো।এখন আর ছোট নেই।এখন অনেক কিছুই বুঝো বা বুঝার মত ক্ষমতা হয়েছে। তাই বলছি, তুমি কি কাউকে ভালবাসো নাকি?

– হঠাৎ এটা জিজ্ঞেস করলে কেন?
– না আসলে তুমি দেখতে সুন্দর কলেজে পড় এখন এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
– ভালবাসি কিনা বলতে পারবোনা। তবে ভালোবাসার কথা চিন্তা করলে একটা মানুষকে খুব মিস করি। হয়তো তাকেই ভালবাসি।
– কথাটা শুনে মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। তারপর জিজ্ঞেস করলাম,-কে সে? তোমার কলেজের কেউ?
– সেটা এখন বলতে পারবোনা। পরে বলবো। আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি কাউকে ভালবাসো?
– আরে না! আমার আবার ভালবাসা! সারাদিন টিউশনি তারপর ভার্সিটি করে ভালবাসার আবার সময় কোথায়? আর আমার মত আগোছালোকেই বা কে ভালবাসবে?

– তুমি যে কি বলোনা! দেখ তোমার প্রেমেই হয়তো অনেকে পাগল। আচ্ছা বাদ দেই। আচ্ছা ভাইয়া এখন রাখছি। পরে আবার কথা বলবো।

– আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর প্রিয়ন্তী ফোনটা কেটে দিলো। আর আমার হৃদস্পন্দনটা একটু কমলো। তারপর বেশ কয়েকদিন ধরে নিয়মিত প্রিয়ন্তীর সাথে ফোনালাপ হতে লাগলো। এই কয়দিনে বুঝতে পারলাম আমি ওর উপর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পরেছি। কিন্তু কোন মুখে আমি বলবো? আমিই তো ওকে একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।তখন আমিই কি বা করতাম? ও তো তখন স্কুলে পড়ে সবেমাত্র। যাইহোক নিজেকে এই দুর্বলতার জাল থেকে বেড়িয়ে আনতে হবে। এরকম ভিবিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবার এক পর্যায়ে ফোনটা বিপ বিপ করে কেঁপে উঠলো। তাকিয়ে দেখলাম প্রিয়ন্তীর ফোন। ফোনটা রিসিব করে বললাম,-

– হ্যাঁ প্রিয়ন্তী বল!
– ভাইয়া তুমি কি কালকে ফ্রি আছো?
– হ্যাঁ, কিন্তু কেন?
– না আসলে কালকে আমার জন্মদিন তো!

তাই সন্ধ্যায় আমার কিছু ফ্রেন্ডদের নিয়ে ছোট একটা পার্টি রাখছিলাম। তুমি যদি আসতে তাহলে ভাল লাগতো। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা। যদি অন্য কিছুর জন্য ডাকতো তাহলে হয়তো না বলে দিতাম।কিন্তু ওর জন্মদিন।

একটা খুশির দিন। আমি যদি না বলি তাহলে হয়তো মন খারাপ করবে।আর আমি তো শুধু কালকেই যাবো। আর হয়তো ওর সাথে যোগাযোগ নাও করতে পারি। তাই হ্যাঁ বলে দিলাম। পরেরদিন দোকান থেকে কিছু ফুল আর একটা গিফট কিনে সোজা পার্টিতে চলে গেলাম। বাসার দরজায় নক করতেই প্রিয়ন্তী নিজেই দরজাটা খুলে দিলো। বাসার ভিতরে ভিবিন্ন রঙ বেরঙের বাতি টিপটিপ করে জ্বলছে। অতঃপর প্রিয়ন্তী তার আন্টি ও তার বন্ধুদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলো। পার্টি শেষ হতেই প্রিয়ন্তী আমাকে ছাদে টেনে নিয়ে গেল। কিছু বুঝতে না পেরে যখন জিজ্ঞেস করতে যাবো এরকম টেনে আনার কারন কি? ঠিক তখনই লক্ষ করলাম প্রিয়ন্তীর চোখের কাজলটা চিকচিক করছে। বুঝতেবাকি রইলনা যে প্রিয়ন্তী কাঁন্না করছে। অতঃপর জিজ্ঞেস করলাম, –

– কি হয়েছে তুমি কাঁন্না করছো কেন?
– কি হলো কিছু তো বলো?
– আমি আজকে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি কিছু কথা বলার জন্য।আজকেও যদি উত্তরটা আগের মত হয় তাহলে আর কখনও জিজ্ঞেস করবোনা।
– আমি প্রিয়ন্তীর কথা শুনে বুঝতে পারছিলাম ও কি বলতে চায়। তারপরও অবুঝ থেকে জিজ্ঞেস করলাম, – কি বলবে বল?
– দেখ ভাইয়া আমি এখন পর্যাপ্ত বড় হয়েছি।

আমি এখন ছোট নেই।তখন আমি তোমাকে বলছিলাম আমি তোমাকে ভালবাসি। কিন্তু তুমি আমাকে বলছিলে আমি খুব ছোট।আর এগুলো ঠিক না। যদিও আমি তোমার কথাগুলো মেনে নিয়েছিলাম। তবে আমি প্রতিনিয়ত কষ্ট পেয়েছি। তুমি চলে আসার পর আজ পর্যন্ত তোমাকে নিয়ে ভেবেছি। তবে সেই ভাবনাটা ছিল তোমার অনুপস্থিতিতে। কিন্তু সেদিন যখন তোমাকে দেখলাম, তোমার সাথে কথা বললাম তারপর থেকে আমার ভাবনাটা আরও দ্বিগুন বেড়ে গেছে। আমি তোমাকে এখনও ঠিক আগের মতই ভালবাসি। সেদিন হয়তো আমি ছোট ছিলাম বলে তুমি আমার কথায় আশকারা দাও নি। কিন্তু আজ? আজ তুমি কি বলবে?

– আমি আসলে
– কি আসলে? তুমি যদি সত্যিই অন্যকাউকে ভালবেসে থাকো। তাহলে সেটাও আমাকে বলতে পারো।
– না! সেরকম কিছুনা।
– তাহলে?

আচ্ছা তুমি কি আমাকে একটা সুযোগ দিতে পারোনা? তোমার সাথে এক কাপ কফিতে আমার ভাগটা বসাতে পারোনা? তোমার আগোছালো জীবনটা সাঁজানোর অধিকারটা দিতে পারোনা? তোমার সাথে ল্যাম্পপোষ্টের নিয়ন আলোয় হাঁটার সুযোগটা দিতে পারোনা? তোমার সাথে রাতের আকাশে ভেঁসে বেড়ানো হাজার তারার মাঝে ঐ অর্ধচন্দ্রিমা দেখার অধিকারটা দিতে পারোনা? সূর্যদ্বয়ের সাথে অন্তরাল থেকে বেড়িয়ে আসা নতুন ভোর টা দেখার সুযোগ দিতে পারোনা?

– এই কথাগুলো শুনে আমি কি বলবো বা আমার কি বলা উচিৎ কিছুই বুঝতে পারছিনা। সবার আগে মনে যেটা আসলো সেটাই বলে দিলাম, – এখন থেকে তোমার এই ইচ্ছেগুলো পূরন করার দায়িত্ব আমার।

এখন এক কাপ কফি হবে? আজকে তো অর্ধচন্দ্রিমা আকাশের বুকে ভাঁসছে।চলো এক কাপ কফিতে দুজনে চুমুক দিয়ে এই মুহূর্তটাকে উপভোগ করি। মেয়েটা খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। কিছুক্ষন পর টের পেলাম প্রিয়ন্তীর চোখের পানিতে আমার পাঞ্জাবী ভিজে যাচ্ছে। যাক না ভিজে তাতে কি? এরকম একটা মেয়ের ভালবাসার অশ্রুতে ভিজছি এটাই তো অনেক বড় পাওয়া। ভালোবাসি আমার প্রিয়ন্তী পাগলিটাকে….!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত