রাগি মেয়ের ভালবাসা

রাগি মেয়ের ভালবাসা

এই ছেলে তোমার সমস্যা কি?

-আমার কোনো সমস্যা নাই, সমস্যা তো তোমার?
-আমার আবার কি সমস্যা?
-তুমি এতো সুন্দর কেনো?
-আজ প্রথম শুনলাম সুন্দর হওয়া টা একটা সমস্যা।
-হুম।
-এসব সুন্দর বললেও লাভ নাই,আমাকে পটাতে
পারবা না
-আহারে তারমানে তুমি মেনেই নিচো তুমি সুন্দর?
-হুম তুমি তো সুন্দর বললা।
-আমি তো মিথ্যা বলছি?
-কি?
-তাহলে আমি কি?
-পেত্নী???
-কিইইই?

-ওই এভাবে ফুলছো কেনো?
-কি আমি ফুলছি?
-হুম।তোমাকে রাগ করলে না পেত্নীর মতো লাগে?
-তোকে আমি?
-বিয়ে ছাড়া আর কিছুই করতেই পারবা না।
-তোকে করবো আমি?
-তা নাহলে কি অন্য কাঊকে?
-হুম।
-কিইইই
-জি!!!
-নাম কি তার,হাত পা ভেঙ্গে হাতে ধরাই দিবো তোমার…
-কি তুমি আমার বিএফ কে.
-বালিকা যে ছেলের জন্য এতো ড়িএক্ট করছো গিয়ে দেখ সে এখন অন্য কাউকে নিয়ে ব্যাস্ত।তার থেকে ভালো আমাকে..

-এতো বড় সাহস,
-কার বিএফ দেখতে হবে না
– কি তোমার জিএফ আছে
-এমন ভাবে বলছো তুমি আমার বর্তমান জিএফ আর ও আমার এক্স।
-না তা না।
-বালিকা মুখে যাই বলো আমি বুঝি তোমার মনে কি চলে….
-আমার মন তোমার মনের মতো না,
-দুজনের মন আলাদা হলো কবে থেকে
-এক হলো কবে থেকে?
-যখন থেকে তোমার মায়াবী মুখ আমার চোখে পড়লো,
-আল্লাহ ওই সময় তোমার চোখ দুইটা অন্ধ হইলো না ক্যান?
-কি এতো বড় কথা,ওকে বিয়েটা একবার হোক তারপর আমি বুঝাবো সাঈদ কে অপমান করা কি জিনিস।
-যেমন ভাবে বলছো মনে হচ্ছে বিয়েটা কাল।
-তোমার মত থাকলে কাল ও করতে পারি…
-তুমি তো সেই টাইপের চ্যাছড়া,
-শুধু তোমার জন্য?
-কি

-না শুধু তোমার জন্য মুভিটার কথা ব লছি,সেই রোমান্টিক একটা ফ্লিম।
-আমি দেখিনা ওইসব ফ্লিম,
-তাইতো বলি মেয়ে এতো আন রোমান্টিক ক্যান।
-কি?
-সারাদিন কি কি ছাড়া আর কিছু জানো না পেত্নী…
-জানি তো
-কি জানো।
-গালি দিতে,
-আল্লা তুমি বড় মহান, বালিকা হলেও উনাকে দিয়েছো গালি দেওয়ার যতযত সম্মান
-ওই অফ।আমার বাসা এসে গেছে,এবার আর পিছে পিছে না ঘুরে নিজের বাসায় যান।
-এভাবে বলছো কেনো,একদিন তো এই বাসাটায় আমার শ্বশুড় বাড়ি হবে.
-তাই বুঝি,
-হুম।
-ওই যাবি নাকি
-তোমাকে রাগ করলে..
-তবে রে…

বালিকা আমারে সেই দোড়ানি দিলো। যাক বাবা ধরতে পারলে আজ, আরে আপনারা আবার অন্যকিছু করতো ভাবিয়েন না,আমাকে পিটাতো। আচ্ছা আমি যে আপনাদের সাথে বক বক করছি আমি কে তাইতো বললাম।আমি ধ্রুব। আর উনি?আপনার লজ্জা করে না,আমার উনার পরিচয় খুজচ্ছেন, উনি তাসমিনা রহমান চৈতি,আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে,কিন্তু উনি এই চরম সত্য এখনো জানে না,কারন উনি আমাকে কখনো দেখে নি,আর তার থেকে আরো একটা চরম সত্য উনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক আছে সেই ছোটবেলা থেকে, আর আব্বু যখন বিয়ের জন্য বললো তখন আমি আব্বুর কাছ থেকে কিছু সময় নিলাম,দেখি মেয়েটার মনে আমার জন্য কিছু আছে কিনা, তাই এই মিশন। কিন্তু তার অনুভুতি জানার জন্য ফেবুতে ফেইক আইডি দিয়ে উনার ফ্রেন্ড হইছে, রাতে ফেবুতে ডুকলাম…

-হ্যালো চৈতি আন্টি?(আমি)
-ও কুত্তা আমি কি তোর আন্টি লাগি,
-বাব্বাহ আজ মেজাজ এতো গরম কারন টা কি?
-ওই কুত্তা টার জন্য?
-কোন কুত্তার জন্য?
-দুর সালা আরিয়ান এর জন্য?
-কি আমি কুত্তা।
-তুই কুত্তা থে যাবি ক্যান?
-ও তাইতো আমি কেন কুত্তা হবো?
-হুম।
-তা কি বল্লো আজ
-(বিকালে যা বললাম তাই বললো)
-দোস্ত ওই ছেলে মে বি তোকে অনেক লাভ করে..
-সালা তুই ওর শুপারিশ …দুর হ.(অনলাইন থেকে চলে গেলো) আল্লা এটা কোন মাইয়া দিলা আমার কপালে,একবারে ঝাল মরিচ। আল্লাই জানে আমার প্লান জানতে পারলে আমাকে কি করে? যাক তখন কিছু করতে পারবে না,কারন আমার বউ হবে তখন। সকালে উনার ভার্সিটি যাওয়ার রাস্তায় গিয়ে দাড়ালাম..

-এই মামা যাবেন?(চৈতি)
-হুম কয় যাবেন?(রিক্সাওয়ালা)
-ভার্সিটি..
-হুম চলেন এই মামা আমিও যাবো চলো(আমি-,ওকে কিছু বলতে না দিয়ে ওর পাশে বসে পড়লাম,)
-এইটা কি হলো?
-যা আমার আজকের রুটিনে ছিলো,
-কি সুন্দর রুটিন,মেয়েদের পিছনে ঘুরাও রুটিন।আজব
-হুম শুধু তোমার জন্য!
-ওই আগে নাম।
-এতক্ষন তুমি করে বলছিলা কতো ভালো ছিলো,আবার সেই পেত্নী রুপ…
-আমি পেত্নী..
-ও আল্লাহ গো(আমারে রিক্সা থেকে ধাক্কা দিছে) আজ আমার হাত গেছে, ও তাড়াতাড়ি নেমে এলো,তারপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো.

-আল্লাহ বিয়ের আগে আমার হাত ভেঙ্গে দিলো বিয়ের পর..
-ওই হাতের এই অবস্তা আর তুমি আছো বিয়ে,বিয়ে ছাড়া আর কিছু নাই,
-আছে তো
-কি
-বিয়ে তারপর বাসার রাত,তারপর বাচ্চা,তারপর..
-হারামী এতোদুর দাড়া তোর অন্য হাত আমি আজ.. আমি দোড় দিলাম, আরেক টা হাত ও না হলে ভেঙ্গে দিতো। রাতে ফেবুতে…

-হ্যালো চৈতি(আমি)
-হুম বল ?(চৈতি)
-তোর কি মন খারাপ..
-হুম
-ক্যান
-আজ ওই ছেলের হাত ভেঙ্গে গেছে আমার জন্য,
-তো কষ্ট হচ্ছে
-হুম
-তারমানে তুই ওই ছেলেকে ..
-আরে না ওটা সম্ভব না,আমি অন্য আরেকজন কে ভালোবাসি,
-মানে কাকে?
-আমার বাবার বন্ধুর ছেলে,যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা আছে,
-তুই কি সেই ছেলেকেই ভালোবাসিস,
-হুম যখন থেকে আমি জানতে পারি আমার সাথে ওর বিয়ে তখন থেকে?
-এতোদিন এসব বলিস নাই ক্যান?
-তোকে বলে কি হবে এসব তাই
-অনেক কিছু হবে তাই..

বলে আইডি ডিএক্টিভেট করে দিলাম। তারপর কিছুদিন ওর সামনেও গেলাম।৫ দিন পর আব্বুকে নিয়ে ওর বাসায় গেলাম। বিয়ের প্রস্তাব যদিও বিয়ে আগে থেকে ঠিক করা,আমি ওকে সারপ্রাইজ দিতে চাইলাম তাই, কিছুক্ষন পর ওকে আনা হলো– কিন্তু ও আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো কোনো কথা ছাড়া ও বলে উঠলো আমি ছেলের সাথে আলাদা কথা বলতে চাই..

-এই তুই এখানে ক্যান?(চৈতি)
-তোমাকে বিয়ে করবো তাই..
-কি?তুমি আঙ্কেলের ছেলে বলো নি ক্যান?
-জানতে চাইছিলাম তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা
-হুম আমি তোমাকে ভালোবাসি না,
-কি?
-জি
-তাহলে কাল বললে যে ফেবুতে?
-ওইটা তুমি?
-হুম।
-তোমাকে দাড়াও আবার দোড়ে চলে আসলাম, আসার পর ও আমার সাথে আসলো চৈতির বাবা জিজ্ঞেস করলো…

-তা বাবা তোমার হাত কিভাবে ভাঙ্গছে..
-ক্রিকেট খেলতে গিয়ে,(আর ছোট করে বললাম একটা পেত্নীরর জন্য) ও আমার দিকে লাল চোখে তাকালো বালিকা একবার বিয়ে হোক তারপর বুঝাবো লাল চোখ কেমনে করো..

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত