গল্পটি ভালোবাসার

গল্পটি ভালোবাসার

আমিঃরেহানা তুমি তোমার বাবার বিরুদ্ধে যাবানা আমি আমার বিরুদ্ধে কিভাবে যাই বল??(হাত ধরে)

রেহানাঃআমি জানিনা সামিত!(কেঁদেই চলেছে)

আমিঃতুমি জানোনা তাহলে ঠিক আছে আংকেলকে লাস্ট বার বলব তবুও যদি কিছু হয়। বিশ্বাস কর পারবোনা আমি। আমি প্রেমিক না ওটা এখন দেহেরও হওয়া যায় আমি তোমার শুধুই শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে হয়েছি যেটাকে আমি বৈধ সম্পর্কে নির্মান করবই আমার শেষ নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত,রেহেনা!

রেহানাঃআমাকে মাফ করে দাও(কেঁদে একাকার)

আমিঃ এই চোখের জলেই আমাকে কুপোকাত করে ফেলার শক্তি যেদিন চলে যাবে সেদিন কি করবে রেহানা?

তোমার নোনতা জল আর আমায় ভাবাবেনা আর হয়ত কষ্ট দিবেনা কিন্তু সেটাও হতে দিচ্ছি কই?

রেহেনাঃআমি যাচ্ছি আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে সামিত বাড়িতে ছেলেপক্ষ এসেছে!

আমিঃযাও। রেহেনা যেতে লাগল মাথা নিচু করে।

আমিঃএই দাড়াও।(কাছে গিয়ে)

রেহেনাঃবেশি কাঁদবানা হ্যাঁ?আমি দেখি কি করা যায়।

রেহানাঃপার্কের মাঝেই শেষ মুহূর্তের প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরল সে, এটাই প্রথম আর শেষ পরস সামিতকে দেওয়া।

আমিঃছাড়ো কি করছ?যাও। শুনো কপালে একটা টিপ দিও ছেলে চোখই ফেরাতে পারবেনা যানো ওইটাটে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে!(কাঁদতে কাঁদতে) রেহানা আর কিছু বলতে পারছেনা এই ক্ষিণ সময়েও তার অনেক ভালোলাগা আর খারাপ লাগা মনের মাঝে খেলছে।একদিকে সামিতকে প্রথম এত কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ আর অন্যদিকে এরপর থেকে দূর থেকেও দেখার সুযোগ হবেনা। সামিত জানে সে আজ শক্ত না হলে রেহানা নিজেকে সামলাতে পারবেনা।

আমিঃযাও বলছি কি করতেছো??(ছাড়িয়ে নিয়ে,মনের বিরুদ্ধে)

রেহানাঃআমি যাই সামিত মাফ করে দিও (এক প্রকার দৌড়ানির মাঝে চলে গেল রেহানা)

রেহানার বাড়িতে তেমন কিছু হয়নি শুধু খাবার দাবারের আয়োজন ছেলেপক্ষের ছেলেটা বারবার রেহানাকে খেয়াল করছে। রেহানা ভেবে পাচ্ছেনা যত খারাপ করে সাজা যায় সে সেজেছে তবুও ওইভাবে ছেলেটা তাকাচ্ছে কেন ভেবে সব গুলিয়ে ফেলছে সে। ছেলেপক্ষরা চলে গেল আর বলে গেল ছেলে মত দিতে শরম পাচ্ছে আমরা পেয়ে গেলেই শিঘ্রই আগাবো আপনাদের মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে! এরপরে কিছুদিন সব কেমনযানি হারিয়ে যাওয়ার মত হয়ে গেল কিন্তু একটা ফোন কল রেহানাকে চমকে দিল!

রেহানাঃ(কল পিক করে)আসসালামুআলাইকুম কে আপনি?

সজীবঃআমি সজীব বলছিলাম।

রেহানাঃ(দেখতে আসার দিন ছেলের মা নামটা উচ্চারণ করেছিল)ওহ জিহ বলেন?

সজীবঃআমি দেখা করতে চাই একটা গিফট আছে।

রেহানাঃ(কোনভাবে কাটিয়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে পারছেনা)জিহ আসলে,

সজীবঃবলতে না দিয়ে,আজ বিকেল চারটায় হাতিরঝিল এ চলে আসবেন তারপরে কল দিবেন। আশা করি আসবেন কারণ আসলে জীবনের সব থেকে ভালো জিনিসটা পাবেন আপনি আমার মনে হয়!

রেহানাঃ(কেটে গেল ওইপাশ থেকে)  কিন্তু রেহানা ভাবছে কি সেই জিনিস? অনেকবার ভেবেও যখন কুল কিনারা তাকে দেখা দিলনা সে আর না ভেবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বিকেলে রেহানা শুধু সিম্পেলভাবে হেযাব আর একটা বোরকা পড়ে চলে গেল। গিয়ে দেখতে পেল সজীবকে একটা কর্ণারে,

রেহানাঃবলুন(কাছে গিয়ে)

সজীবঃআসলে আমি সামিতের বেস্ট ফ্রেন্ড কিন্তু কিছুদিন আগে যে আপনার বাড়িতেই যাচ্ছি সেটা আমি জানতাম না কারণ আমি পাত্রীর পিক দেখিনি আগে আর তারপরেই এরকম কিন্তু আসলে আমি ভাবছি যে বিয়েটা করে নেন সামিতকে।তারপর নাহয় অন্যকিছু করিয়েন আমি আপনার বাড়ি থেকে এসে ওর কাছেই গিয়েছি এইটুকু সময়েই তাকে আমি চিনতে পারিনি।ভাবতে অবাক লাগে হাসিমুখর মুখটা আমি দেখতে ব্যর্থ ছিলাম!

রেহানাঃদেখুন আমি পরিবারের কথা ভেবেই এরকম করছি কারণটা আমার বাবা তিনি মরে যাবেন আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে যদি তিনি এই প্রতিদান না পান তাহলে আমি কি দিতে পারি তাকে?

সজীবঃআংকেলকে আমি বুঝিয়ে বলব।

সেইদিন এইটুকুই ছিল কিন্তু সজীব বুঝাতে গিয়ে আরো আপমানিত হয়ে গেল কিন্তু সে ত বিয়েই দিবে সামিত সেকে?হ্যাঁ সে তার ভাই না তারও বেশি। অতীতের প্রতিফলিত কণাগুলো আজো মনে আছে, সজীবেরা কিছুই ছিলনা সামিতের কারণে তারা উঠে দাড়িয়েছে আজ তার ই এরকম হচ্ছে?কেন?সে ত লুকিয়েই রেখেছে দেখতে চায় কি হয় কিন্তু আর না।  সজীব মনে একটা নীলনকশা এঁকে নিল। শনিবার ছিল রাতটা, রেহানার বাবা বাড়ি ফিরেনি আর এইদিকে রেহানাও বাইরে গেল হটাৎ কি হচ্ছে তার মা কিছুই বুঝঝেন না শুধু ভাবছেন আর ত অধীর অপেক্ষা! সজীব রেহানার বাবাকে ঘরে তার একটা ভাড়া করা বাড়িতে আটকে রেখেছে আর রেহানাকে পরের ঘরে কিন্তু আজব হল দুঘরের মধ্যে ঝড় হলেও বুঝা যায়না অন্যটায়!  সজীব রেহানার বাবাকে দিয়ে রেহানার ফোনে কল দিল কল্টা পিক হল সেখানে সজীবের এক ফ্রেন্ড আছে।

সজীবঃআংকেল মেয়েকে দেখেন ভিডিও কলিং এ অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।  রেহানার বাবা রাইহানঃতুমি কি চাও?(উত্তেজীত হয়ে)

সজীবঃআমি কিছুই চাইনা আপনার মেয়েকে আমার ফ্রেন্ডের সাথে বিয়ে দিতে হবে বুঝলেন।

রাইহানঃহোয়াট রাবিস?জোক পাইছো?দাড়াও তুমি সেই ছেলেনা যে রেহানাকে দেখতে এসেছিল তখন ত এতটা খারাপ মনে হয়নি?(চিহারা দেখে)

সজীবঃকিন্তু তখন জানতাম না যে সামিতের রেহানা সে।এখন আপনি বিয়ে করতে বলবেন আপনার মেয়েকে আমার ফ্রেন্ডের সাথে নাহলে কিন্তু তাকে শেষ করে দিব।রনি?

রনিঃহুম(ভিডিও কলিং এ)

সজীবঃছুরিটা গলায় ধর।(রাইহান ভেবে পাচ্ছেন না)

রাইহানঃবাবা ওকে ছেড়ে দাও আমি তোমাকে অনেক টাকা দিব।

সজীবঃআপনার কত লাগবে?(ওয়াহ তিনি ত পুরোই অবাক তাকেই পালটা প্রশ্ন, যিনি শহরের নামি দামি ব্যবসায়ী!)

রাইহানঃবাবা ইয়ারকি করনা কত লাগবে বল?আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও।

সজীবঃটাকা জিনিসটাই খারাপ আসলে কেন জানেন?এটাই মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত এসব তৈরি করেছে সমাজে।আমি ত টাকা চাইনা আপনি চান তাইত সামিতকে অবহেলা করছেন কিন্তু আপনি জানেন কি?সামিতের বাবার কম্পানীর পার্টনার আমার বাবা আর সেটা আগে কিন্তু ছিলনা আমি ছিলাম একজন মধ্যবিত্ত! একটা কথায় বলতে হত যে থাক লাগবেনা হাহা কত সহজ কিন্তু এখন বলি কত লাগবে?কারণটা জানেন?সামিত সে তার অভিজাত্য না আমাকে, আমার পরিবারকে ভালোবেসেছে তাকে তার বাবা প্রতিদিন অগনিত টাকা দেন কিন্তু সেগুলো যায় কোথায়?তার নামের এতিমখানায় যেখানে প্রতিনিয়ত ১০০বাচ্চারা বেড়ে উঠছে কোন অভাব ছাড়াই!

রাইহানঃকি বলছো এসব?(বিশ্বাস করছেন না)

সজীবঃবিশ্বাস হয়না?ওর পুরো নামটা জানেন ত?ইবনে সামিত চৌধুরী, চৌধুরী গুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক।

রাইহানঃঠিক আছে তার সঙে রেহানার বিয়ে হবে (বুঝতে পেরে কিন্তু তিনি অপমানের বদলাও নিবেন)

সজীবঃএইত বুঝেছেন কিন্তু আপনি জানতে পেরেছেন সামিতকে বলা যাবেনা কারণ সে তার বাবার খারাপ হওয়ার কারণ টাকাটাকে খুব খারাপভাবে ঘৃণা করে তাই সাধারণ জীবনে পার করে দিন।

সজীবঃএই নিন কল দিয়েছি বলেন,

রাইহানঃহ্যালো,সামিত বলছো?

সামিতঃজী কে?

রাইহানঃআমি রেহানার বাবা। মেয়েটা অনেক কষ্ট পাচ্ছে তাই ঠিক করলাম ওর দায়িত্বটা তোমার হাতেই দিব নিতে  পারবেনা?

সামিতঃ(ভাবছে স্বপ্ন নাকি?নাহ) জি জি আমি নিতে রাজি আপনি টেনসান করবেন না। আমি জলদিই খুব ভালো একটা চাকরী পেয়ে যাব।(খুশি হয়ে)

রাইহানঃহুম সেটাই ভাল। বিয়েটা কিন্তু ১৫ তারিখে মনে রেখো শুধু পারিবারিকভাবেই হবে(সজীব এখানে বুঝলোনা)

সামিতঃআচ্ছা আংকেল বিয়ে হয়ে গেলে চাকরি পেলে আমিই ধুমধুম করে অনুষ্ঠান করব।

রাইহানঃআচ্ছা রাখি বাবা। কেটে গেল।

সজীবঃপারিবারিকভাবে কেন?

রাইহানঃআজব ত তোমার সব কথায় ত শুনলাম কিন্তু তুমি সামিতের পরিচয় গোপন রাখতে বললে তাহলে পারিবারিকভাবে না দিলে মানুষকে ত জবাবদিহি করতে হবে। এরপরে রাইহান চলে গেলেন রেহানা কে নিয়ে। রেহেনা কিছু বুঝতেই পারেনি।  ১৫ তারিখ, রেহানা ঘরে রেডি হচ্ছে কিন্তু ভাবছে বিয়েটা কার সাথে সে ত জানেনা কি হতে যাচ্ছে?আমি অন্যকারো হতে চেলেছি কিন্তু সামিত সে ত আমারই রয়ে গেল মনের গহীনটাতে! টুপ করে একফোটা জল গড়িয়ে পড়ল গ্রিল ধরে দাড়িয়ে থাকা রেহানার হাতে,

রেহানাঃকে?

অহনাঃমা আমি রে।তুই জানিস আজ তোর কার সাথে বিয়ে?সামিতের সাথে হ্যাঁ তোর সামিতের সাথেই কিন্তু সব হয়েও হলনা রে তোর বাবা কি করেছে যানিস?

রেহানাঃকিহ(জড়িয়ে ধরে মাকে, খুশিতে) কিন্তু কি মা?

অহনাঃতোর বাবা সামিতকে রাস্তা থেকে সড়ানোর প্লান করছে আমি নিজের কানে শুনছি ধানমণ্ডি রোড দিয়ে আসার সময় তাকে নিজের লোক দিয়ে মেরে ফেলবে মা।(কাঁদছেন তার মা)

রেহানাঃ(সে কিছু ভাবতে পারছেনা শুধু বুঝতে পারল পায়ের নিচে মাটিটা নেই)নাহ আমি হতে দিবনাহ এটা।তার সামনে দুটো পথ একটা বাবা আর একটা সামিত আজ বাবা তাকে টানছেনা! সত্তিই সে সামিতের দিকে প্রবলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

রেহানাঃ(যেতে লাগল) কিন্তু,সামিত(বলেই অজ্ঞান হয়ে গেল)

রাইহানঃরেহানা রেহানা(কাধ ধরে নাড়াচ্ছেন আর সে আস্তে আস্তে চোখ খুলছে)

রেহানাঃসামিত তার কি হয়েছে, তুমি কি করেছ বাবা?(নিজেকে আবিষ্কার করল নিজের ঘরে)বল?(সে মনে করেছে অনেক্ষন সে অজ্ঞান ছিল তাই সে নিজেকে শেষ করে দিবে ভাবল) রাইহান কথার উত্তর না দিয়ে রেহানার মাকে খাবার আনতে বললেন। রেহানার পাশেই রয়েছে একটা সাইডটেবিল আর সেখানে ফল আর ফল কাটার ছুড়ি।তার চোখ গুলো সব বুঝে নিল!

রাইহানঃশান্ত হ মা। হটাৎ সে একমুহূর্তেই ছুড়িটা নিয়ে বাম হাতে ইচ্ছেমত রগের উপরে কোপ দিল।

রেহানাঃআমি তোমার মতকেই বেছে নিয়েছিলাম কিন্তু তুমি এটা ঠিক করনি।

রাইহানঃমা কি করেছিস এটা?(কেঁদে)আমি সব ঠিক করছি সামিতের সাথেই বিয়ে হবে দাড়া।(মেয়েকে কোলে নিয়ে যাচ্ছেন নিচে গাড়িতে রক্ত পড়ছে খুব!হসপিটালে যাবেন)(ফোন দিয়ে নিজের লোকগুলোকে কল দিলেন)

রাইহানঃহ্যাঁ হ্যাঁ হ্যালো শুনছিস পবন?ছেলেটাকে মারিসনা।

পবনঃবস ওদের গাড়িটাকে ত উড়িয়ে দিয়েছি।

রাইহানঃকিহ (ফোনটা পড়ে গেল হাত থেকে)

রেহানাঃকি হয়েছে বাবা?বাবা বাবা?সামিতের কি হয়েছে?বলনা?

রেহানা তার ফোনটা কেড়ে নিল সামিতের ফোনে কল দিচ্ছে আর তার বাবা গাড়ি চালাচ্ছে মেয়েকে পড়ে বোঝাবেন আগে তাকে বাঁচাতে হবে। সামিত কল ধরেছে দেখে রেহানা খুশি হয়ে গেল কিন্তু পরক্ষনেই সে তার কষ্টের অন্তীম সীমায় পৌছে গেল!

সামিতঃরেহানা খুব কষ্ট হচ্ছে কেনযেন তোমাকে পেয়েও পেলাম না রে রেহানা আমার জীবন তোমার মনের ভিতরে থাকবে আমি সেখানেই জীবিত থাকবো মাফ করে দিও।(সে আর পৃথিবীতে নেই)

রেহানাঃসামিত (এটাও তার শেষ উচ্চারিত বাক্যই ছিল)

রাইহানঃমা মা কি হল তোর। আমি ভুল করেছি মা?(আর সময় নেই ভুল সঠিক করার)

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত