জাস্ট ফ্রেন্ড

জাস্ট ফ্রেন্ড

– কিরে শ্রাবণ? কী করিস এখানে?
– ও জান্নাত, তুই এসেছিস তাহলে?
– হুম, কিছু বলবি নাকি?
– হ্যাঁ।
– বল।
– তুই কিন্তু কোনো রিয়েক্ট করতে পারবি না।
– আচ্ছা করবো না।
– সত্যি তো?
– হ্যাঁ সত্যি, এবার বল।
– দেখ জান্নাত আমি তোকে ভালোবাসি। আমি অন্যকারো মতো ইনিয়ে বিনিয়ে এই কথাটি বলতে পারবো না। তাই সরাসরিই বলে দিলাম।

শ্রাবণের কথা শুনে জান্নাত হাসতে থাকলো। শ্রাবণ জান্নাতের হাসির কারণ জানে না। সে বললো

– কিরে হাসছিস কেন?
– তোর কথা শুনে।
– আমি কী কোনো হাসির কথা বলেছি?
– না, তবে…
– তবে কী?
– কিছু না।
– ভালোবাসিস আমাকে?
– হ্যাঁ বাসি তো!
– সিরিয়াসলি বল।
– সিরিয়াসলিই বলছিরে গাঁধা।
– সত্যি?

– হুম, সত্যি। জান্নাত সত্যি বলতেই শ্রাবণ তাকে জড়িয়ে ধরলো।
– এই ছাড়, ছাড়। সবাই দেখছে কিন্তু!
– তাতে আমার কী? আমি আমার প্রেয়সীকে জড়িয়ে ধরেছি, অন্যকাউকে তো আর ধরিনি।
– শ্রাবণ ছাড় বলছি। বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু?
– আরেকটু জড়িয়ে ধরে থাকি না! জান্নাত এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো, তোকে যে আমি ভালোবাসি, এটা কে বললো তোকে?
– কেন? তুই তো বললি।
– থাপ্পড় চিনিস হারামজাদা? আমি মজা করে বলেছি। আর তুই কিনা আমাকে জড়িয়ে ধরেছিস? শালা লুইচ্চা।
– জান্নাত…
– একটা কথাও আর বলবি না।
– জান্নাত শোন, জান্নাত…

জান্নাত চলে গেলো ক্যাম্পাস থেকে। শ্রাবণ নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। এই মেয়েটাকে সে গত দুই বছর ধরে ভালোবেসে আসছে। কিন্তু কখনও তা বলার সাহস হয়ে ওঠেনি। আজ সে প্রতিজ্ঞা করেছিলো, যেমন করেই হোক আজ সে জান্নাতকে প্রপোজ করবেই করবে। কিন্তু কে জানতো এমনটা ঘটবে।
শ্রাবণ জান্নাতের মধ্যে কখনও রাগের ছিটেফোঁটাও দেখেনি। কিন্তু আজ এই ছোট্ট একটা কারণে সে তার রাগের সম্মুখিন হলো।

সন্ধ্যা সাতটা বাজে। শ্রাবণ কফি হাতে বেলকনিতে গিয়ে জান্নাতকে কল করলো। রিং হচ্ছে, কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। কয়েকবার কল করতেই শ্রাবণ শুনতে পেলো “এই নাম্বারটি এখন ব্যস্ত আছে।” পর পর কয়েকবার কল করার পরেও একই উত্তর ভেসে আসতে থাকলো। জান্নাত তার নাম্বার ব্লাকলিস্ট করে রেখেছে। সে ভেবে পাচ্ছে না, জান্নাত এই সামান্য একটা প্রপোজের জন্য তার সাথে এমনটা করতে পারলো কিভাবে! পরে শ্রাবণ তার রুমমেটের ফোন দিয়ে জান্নাতকে কল করতেই রিসিভ হয়ে গেলো।

– হ্যালো কে বলছেন?
– জান্নাত আমি শ্রা..
– শ্রাবণ দেখ তুই আর আমাকে কল দিবি না। তোকে আমি একটা ভালো বন্ধু ভাবতাম শুধু। আর তুই কিনা আমাকে? ছিঃ শ্রাবণ ছিঃ।
– জান্নাত বিশ্বাস কর, আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসিরে।
– রাখ তোর ভালোবাসা। কোনোদিন আর কল দিবি না। তোর সাথে বন্ধুত্ব এখানেই শেষ।
– জান্নাত, জান্নাত শোন শো….

লাইন কেটে গেলো। নিরব ফোনটা কানে ধরেই দাঁড়িয়ে রইলো। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে তার।

– কিরে বেটা কার সাথে কথা বলিস? সৌরভের ডাকে ধচমচিয়ে উঠে পড়ে সে। তাহলে কী সে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলো? যাক ভালোই হলো। ভাগ্যেস এটা স্বপ্ন ছিলো। তা না হলে যে সে তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবীটাকে হারিয়ে ফেলতো।

– কিরে কার সাথে কথা বলছিলি ঘুমের ঘোরে? রাতে মাল টাল খেয়েছিলি নাকি?
– ধুর শালা চুপ কর। সর এখান থেকে।

শ্রাবণ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হতে বাথরুমে ঢুকলো। কিছুক্ষণ যেতেই বাইরে থেকে সে সৌরভের গলার আওয়াজ শুনতে পেলো।

– দোস্ত তোর ফোন এসেছে। শ্রাবণ বাথরুম থেকেই বললো,
– দেখতো কে?
– জান্নাত।
– কী? জান্নাত!
– হ্যাঁ।

অতি তাড়াতাড়ি সে ফ্রেস হয়ে এসে মোবাইলটা হাতে করতেই দেখে জান্নাতের অনেকগুলো মিসডকল। সে কল ব্যাক করতেই রিসিভ হয়ে গেলো।

– কিরে কই তুই?
– বাসায়।
– কয়টা বাজে দেখেছিস?
– হ্যাঁ।
– তবে ভার্সিটিতে আসিসনি কেন?
– ওরে কানা, ভার্সিটি কিরে? বল কলেজ, কলেজ বল। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিগুলো সব কলেজ।
– ঐ হলো একটা।
– কেন হবে? যেটা সঠিক সেটা বলবি।
– আচ্ছা বলবো, এখন তুই দ্রুত ভার্সিটিতে আয়।
– আবার ভার্সিটি?
– ও সরি, কলেজ।
– হ্যাঁ, এবার হয়েছে। একটু অপেক্ষা কর আমি আসছি।
– দ্রুত আসিস।
– জুরুরী কোনো কথা আছে নাকি?
– হ্যাঁ।
– বল তবে।
– আগে আয়, তারপর বলবো।

শ্রাবণ ক্যাম্পাসে যেতেই জান্নাত তাকে ডাক দিয়ে বললো, আজকে হঠাৎ পাঞ্জাবি পড়েছিস যে?

– এই একই প্রশ্ন কিন্তু আমিও করতে পারি।
– কেন?
– এই যে তুই আজ শাড়ি পড়েছিস?
– মন চায়ছে তাই পড়েছি।
– আমারও মন চেয়েছে তাই পড়েছি।
– শ্রাবণ একটা কথা বলবো।
– বল।
– কিছু মনে করবি না তো?
– কী মনে করবো?
– বলি তাহলে?
– হ্যাঁ বল, এতো লজ্জা পাওয়ার কী অাছে?

– শ্রাবণ আমি তোকে
– তুই আমাকে?
– আমি তোকে
– কী বল, তুই আমাকে কী? ভালোবাসিস?
– ধুর শালা, একটু মিষ্টি করে কথা বললেই ভেবে নিস ভালোবাসার কথা বলবো।
– তুই যেভাবে বলছিলি, তা শুনে আমার এটাই মনে হয়েছিলো। আচ্ছা যাই হোক, বল কী করবি এখন?
– কী করবো?
– ক্লাস করবি? নাকি ক্যান্টিনে যাবি নাস্তা করতে?
– না, কোনোটাই করবো না। তোর সাথে একটু ঘুরে বেড়াবো। তুই আমার হাত ধরে হাঁটবি জনমানবপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত দিয়ে।
– জান্নাত তোর মাথা ঠিক আছে? কী বলছিস এসব?
– হ্যাঁ, ঠিকই বলছি। হাঁটবি কিনা বল। না হাঁটলে আমি যাই দেখি কোনো ছেলেকে পাই কিনা!
– না না, আমিই যাচ্ছি। চল

কী থেকে কী হলো কিছুই মাথায় আসছে না শ্রাবণের। সে স্বপ্নে কী দেখলো। আর বাস্তবে কী দেখছে। লোকে বলে, স্বপ্ন নাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্য হয়। কিন্তু সে কথা যে লোকে ভুল বলে, তা আজ প্রমাণিত হলো।

– জান্নাত আমার কেমন যেন লাগছে। (শ্রাবণ)
– কেমন?
– এতো মানুষ চারিদিকে, এর মধ্যে আমি তোর হাত ধরে আছি। এটা বেমানান নয় কী?
– ধুর শালা চুপ কর।
– জান্নাত একটা কথা বলি।
– বল।
– তুই এতো সুন্দর কেন বলতো?
– এটা কোনো প্রশ্ন হলো?
– হ্যাঁ হলো, এবার বল।
– হয়তো তোর জন্য।
– আমার জন্য মানে?
– শ্রাবণ আমি তোর গল্পের নায়িকা হতে চাই, আমি তোর কবিতার চরণ হতে চাই, আমি তোর গানের সুর হতে চাই।

– ওয়েট ওয়েট, এগুলো কী প্রপোজ ছিলো?
– তোর মাথা ছিলো হারামী।
– জান্নাত, তুই কী আমাকে ভালোবাসিস?
– না তো!
– ও, তাহলে ঠিক আছে।
– কী ঠিক আছে?
– শ্রেয়া আমাকে প্রপোজ করেছিলো গতকাল। ভাবছি একচেপ করে নিবো।
– কী?
– হ্যাঁ।
– শালা তুই একচেপ করেই দেখ না, তোর কী হাল করি আমি। ঠ্যাং ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে দেবো।
– তোর জ্বলে কেন?
– কেন জ্বলে বুঝিস না?
– না, বুঝি না।
– বুঝিস না?
– না।

তৎক্ষণাৎ জান্নাত শ্রাববণকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকলো।

– কিরে পাগলী কাঁদছিস কেন?
– তাতে তোর কী?
– লোকজন তো দেখছে।
– দেখুক না, তাতে আমার কী যায় আসে।
– ভালোবাসিস?
– না।
– তবে জড়িয়ে ধরে আছিস কেন? ছাড় আমাকে।
– ছাড়বো না।
– কেন?
– এমনিই
– ভালোও বাসিস না, জড়িয়েও ধরে থাকবি। এ কেমন কথারে পাগলী?
– আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড, অন্যকিছু না। ওকে?
– জাস্ট ফ্রেন্ডেই এমন? না জানি গার্লফ্রেন্ড হলে কী করতি এতক্ষণ?

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত