কি বলব

কি বলব

ক্যাম্পাসে বট গাছের তলায় বসে মোবাইলের ওয়েভ ক্যামেরা নিজের মুখ দেখতাছি। আর ভাবতাছি আহা কি সুন্দর চেহারা তা শালা একটা মেয়ে আমার প্রেমে পড়ল না। (মন খারাপের ইমু) হঠাৎ কে যেন আমার দিবাস্বপ্নেরর ব্যাঘাত ঘটাতে চিল্লানি দিয়ে উঠল আর আমি ও মা বলে এক লাফ দিলাম! (এক বালতি ভয় নিয়ে) এসে গেছে আমাকে জালাতে, আমার একমাত্র বাবার বন্ধুর মেয়ে। আমার দুই ইয়ার জুনিয়ার তবুও সবসময় আমার পিছে পড়ে থাকে। (আর ভাললাগেনা) দেখ কি কান্ড! এখনও আমার পরিচয় দিলাম না। আমি নীল। বাবা মায়ের একমাত্র বজ্জাত ছেলে। পড়ি অনার্স ৩য় বর্সে। আর ওনি হচ্ছেন অপরাজিতা। আমাদের একই এলাকায় বাড়ি। মনে হয় আমার পিছে না লাগলে ওনার পেটের ভাত হজম হয় না।

অপরাজিতা : হি. হি. হি. — ভয় পাইছে?

আমি : ভ-ও-য় পাব আ আ আমি! না

=: তা ভয় না পেলে তোতলামি করতাছেন কেন..?
+: হা হা আমি আর তোতলামি দুটি আলাদা বিষয়।
=: হুম, বাদ দেও। তা এখানে বসে বসে কি ভাবা হচ্ছে শুনি..? হনুমান (আসতে করে)
+: যা ভাবি তাতে তোমার কি টেপি।
=: ওই তুমি আমাকে টেপি বললে কোন সাহসে? টেপা
+: তা কি বলব ময়দা সুন্দরী..?
=: নীল ভাল হচ্ছে না কিন্তু। আর আমি মটেও ময়দা মাখি না.. হুম
+: আমি তো জানি জানি না.. হা হা ময়দা সুন্দরি
=: জানলে ভাল। আচ্ছা নীল তুমি কি আমাকে কিছু বলবা?
+: আমি? কি বলব?
=: আরে বলো না আমি কিছু মনে করব না.?
+: কি বলব? বলো তুমি
=: কিছু কি বলার নাই?
+: না? ওহ আছে তো..?
=: বলো না প্লিজ…? ( উৎসাহ নিয়ে)
+: ময়দা মেখে আর বাপের টাকা নষ্ট করিস না ছেরি..? হা হা
=: (নিরাবতা পালন করছে)

মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি রক্তবর্ন ধারন করছে আর দাত কটমট কটমট করতাছে। (মনে হচ্ছে আমাকে কাচা গিলে খাবে তাও জল ছাড়া) আর আমি আস্তে করে ব্যাগটা নিয়ে “ময়দা সুন্দরি ” বলে এক দৌড়ে মামার চায়ের দোকানে হাজির হলাম। মনে আজকে বেঁচে গেলাম আর জিতেও গেলাম। আনন্দ হচ্ছে খুব। মামাকে চা দিতে বললাম, আর সাথ টা তাও দিতে বললাম।

আচ্ছা অপরাজিতা কি শুনতে চায়? গত তিন মাস ধরে আমাকে বলেই যাচ্ছে তুমি কি কিছু বলবা, তুমি কি কিছু বলবা? আর এ বাবা যদি কিছু না বলো আমি কি করে কি বলব। চা আর সিগারেট চলে এলো.. চা সিগারেট খেতে খেতে আবার ভাবতে লাগলাম  মেয়েটা সুন্দর শুধু সুন্দর না অপূর্ব সুন্দর। টানা টানা চোখ, গোলগাল মুখ (দেখলেই আমার টানতে ইচ্ছা করে) আর সবচেয়ে ভাল লাগে অপরাজিতার জোড়া ব্রু। আর চোখের কথা কি বলব? মায়ায় ভরা.. ওর চোখের দিকে তাকালেই কেমন যেন মায়ায় মহিহিত করে তোলে। চমকে উঠলাম হাতে আগুনের আঁচ লাগছে বলে। না ওকে নিয়ে বেশি ভাবা যাবে না আর ভাবলে প্রমে পড়ে যাব নির্ঘাত। বিল দিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসলাম। এসে দেখি মহারানি আমাদের বাসায়। টেবিলের ওপর বসে পা দুলিয়ে দুলিয়ে আপেল খাচ্ছে আর আমাকে দেখে হাসছে। তখনই মা এসে বকতে লাগল—

মা: তুই মেয়েটাকে কি বলছিস?

আমি : কই মা কিছু বলি নি তো! (অবাক হয়ে)

অপরাজিতা: না, মা ও বলছে।

আমি: না, মা আমি কিছু বলি নি। ও আরও আমাকে বলছে..

অপরাজিতা : না, মা ও বলছে

আমি : না, মা ও বলছে।

মা: থামবি তোরা(একটু জোরে)। আর নীল ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিল এ আয়?

আমি: ওকে বলে ফ্রেস হতে চলে এলাম।

খাবার টেবিলে গিয়ে দেখি বাবা, অপরাজিতা আগে থেকে চেয়ারে বসে আছে। আমি যেয়ে বসে পড়লাম।ওমা একি দেখি মহারানি খাবার পরিবেশনা করছে। মনে হচ্ছে এ বাড়ির বউ আবার বাবা কেও বাবা বলে ডাকছে। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে চুপচাপ খেয়ে আমার রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। এটা কি হলো কিছুই তো বুঝলাম না, আমার বাবা কে বাবা বলে ডাকা মাকে মা বলে ডাকছে কেন অপরাজিতা। ও কি আমাকে ভালবাসে, না আমি ওকে ভালবাসি। নাকি আমি ওর প্রেম এ গেছি। একটু পড়ে মহারানীর আগমন আমার রুমে। এসই বলল–

=: আমাকে কি কিছু বলবে? আমি: কি বলব?
=: কচি খোকা কিচ্ছু বোঝে না. মাথা মোটা।
+: কি.. আমি মাথা মোটা, আর তুমি তো উঁকুন বিবি..
=: চুপ করো। আমি বাড়ি যাচ্ছি তাই বলতে আসচ্ছিলাম..
+: ওকে যাও… উঁকুন বিবি।
=: যাচ্ছি বলে, মুখ ভেংচি কেটে চলে গেল।

আমি আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম। আজ পাঁচদিন পর সকালে বাড়ি থেকে বের হলাম। তাও এক পুরানো বান্ধবী আসছে বিদেশ থেকে তাই। দুজনে রিক্সায় ঘুরে দুপুরে বাড়ি আসলাম। আর এসে দেখি আত্নীয়-সুজন, বন্ধুরা মিলে হৈ-চৈ করছে। আমি বাবাকে বললাম এত লোকজন কেন?

বাবা: এত কিছু না বলে তোর রুমে গিয়ে রেডি হয়ে নে?

আমি: কিন্তু কেন?

খালাত বোন: আজ তোর বিয়ে?

আমি: কি!? (অবাক হয়ে)

মা: যা রেডি হয়ে নে? (ধমকের সুরে)

বন্ধুরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাঞ্জাবী পড়িয়ে, মেকাপ করিয়ে, গাড়িতে করে নিয়ে একেবারে কমিনিউট সেন্টার গিয়ে হলো। বিয়ে হয়ে গেল আমার। কবুল বলার আগে মেয়েটার নাম ও ঠিক মত শুনতে পেলাম না। সন্ধ্যায় বৌকে নিয়ে বাড়ি এলাম। দেখতে দেখতে ১১ টা বেজে গেল, সবাই বিদায় নিল। আজ আবার আমার বাসর রাত। কিন্তু আমি তো অপরাজিতাকে ভালবাসি। বারান্দায় গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আছি মন খারাপ করে। হঠাৎ আমার ঘাড়ে কারও হাতের ছোয়া পেয়ে ফিরে তাকালাম। দেখি অপরাজিতা।

আমি: তুমি এখানে? অপরাজিতা: হ্যা আমি! অন্য কাউকে আশা করছিলা নাকি?

+: না কিন্তু এখানে তো আমার বউকে থাকার কথা!
=: আরে গাধা, আমিই তো তোমার বউ।
+: সত্যি?(খুশি হয়ে)
=: হ্যা। তিন সত্যি
+: থ্যাংকস গড..কিন্তু কি করে করলে এসব?
=:আজ সকালে তোমাকে অন্য মেয়ের সাথে দেখে, আমি কান্নাকাটি করে মা-বাবা কে বলছি আজ বিয়ে না দিলে আমি মারা যাব। তারপর তো তুমি সব জানো।
+: ওরে বাবা কি বুদ্ধি তোমার..?
=: হুম… এখন তো বলো..?
+: কি বলবো?
=:যেটা এখনও বলো নি?
+: কি সেটা বলবা তো? তুমি বলো (মুচকি হেসে)
=:প্লিজ তুমি বলো? এখন তো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে.. প্লিজ..?
+: ওক! কি বলব ? “ভালবাসি তো”
=: আমিও (জড়িয়ে ধরে)

আমি তখন বলতে লাগলাম- তুমি শূন্যতাকে পূর্ণ করে অব্যক্ত হৃদয়ের মাঝে- ভালবাসবে আমাকে।। তুমি রৌদ্রের উজ্জালতা নিয়ে আমার কাছে আসবে, চন্দ্রের সৌন্দর্য নিয়ে আমার পাশে থাকবে, তুমি স্রোতের প্রখারতা নিয়ে আমার হাত ধরে দাঁড়াবে। আর তোমার অন্তরের শুদ্ধতা নিয়ে আমাকে ভালবাসবে। শুধু তুমি, শুধু তুমি, শুধু তুমি।।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত