সেই ছেলেটি

সেই ছেলেটি

আমি আবির পড়িবারের বড় ছেলে। তখন ক্লাস ৯ এ পড়ি আমার ছোট বোন ফারিয়া ৬ এ পড়ত, দুজন এক স্কুলে পড়ি প্রতিদিন একসাথে স্কুলে আসা যাওয়া করি। আম্মু আমাদের একই স্কুলে এডমিশন করিয়েছেন। বোনটা একটু রাগি আর জগড়াটে,যে কারো কথা শোনে না। আমাকে একটু ভয় পায়। হটাৎ একদিন স্কুলে যাচ্ছি তখন দেখতে পেলাম একটা অপরিচিত মেয়ে আমার দিকে এক নজরে থাকিয়ে আছে, সেদিন আমি নিজেও অনেকটা অবাক হয়ে গেছি। ৩ টায় স্কুল ছুটি হয় আমাদের। কিন্তুু সেদিন আমার শেষের একটা ক্লাস হয় নি, তাই বোনের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকি, স্কুলে থেকে একটু দূরে রাস্তার পাশে আমি বেস্ট ফ্রেন্ড সামির সাথে কথা বলছি, ঠিক তখনি চোখে ভেসে উঠল সেই মেয়েটা আবারও আমার দিকে থাকিয়ে সামনের দিকে হাঁটছে, আজি প্রথম দেখলাম মেয়েটাকে ,

-:সামিকে বল্লাম কে রে মেয়েটা?
-:সামি বল্ল তর ভাগ্য ভাল রে
-:কেন রে- কি হইছে?
-:বুজস না কি হইছে?
-:না খুলে বল।
-:মানে বুঝিয়ে বল।
-:শোন মেয়েটা তকে পছন্দ করে বুঝলি
-:হুম বুঝেছি,

এটা বলেই বিধায় দিয়ে চলে আসলাম বোনকে নিয়ে। বোনটা একটু জগড়াটে-রাগি সে যদি এই মেয়ের কথা শোনে তখনি রাস্তায় এই মেয়ের সাথে জগড়া বাঁধিয়ে দিবে। সারা দিন আমার পিছু লেগেই থাকে আমার ভুল ত্রুটি বের করতে অস্তাদ। এমনি করে চলছে আমার আর বোনের স্কুলে আসা যাওয়া, মেয়েটা ও প্রতিদিন আমার দিকে হা করে থাকিয়ে থাকে! সাথে একটা ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমি যে দিকে আসতাম তার উল্টো দিকে যায়। এমনি করে একটি মাস চলে গেল, হটাৎ একদিন স্কুল থেকে বের হয়ে আমি বোন ওর বান্ধবী টিনা অবশ্য আমি ওরে টিলা বলে ডাকি, আর আমার ফ্রেন্ড লাকির সঙ্গে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে কোচিং এর ব্যাপারে কথা বলতেছি, ঠিক তখনি সেই মেয়েটার আগমন।

আমার পাশে এসে দাড়িয়ে লাকিকে বলে আপু একটু শোনবেন, ওকে বলেন বলে ওরা আমার কাছ থেকে একটু দূরে চলে গেল। আমারাও তখন চলে আসলাম। পরের দুদিন জ্বরের জন্য স্কুলে আসতে পারলাম না। বোন একা একা স্কুলে যায় না। আজ স্কুলে যাব ঠিক তখন আম্মু আমার হাতে দিলেন একটা মোবাইল আর একটা সিম কার্ড, আমি পুরাই অবাক, আমিও কিছু না বলে চলে আসলাম স্কুলে সে দিন আর মেয়েটাকে রাস্তায় দেখতে পেলাম না। ক্লাসে ঢুকে বসে আছি লাকির ডাক শুনে পেছনের সিঠে গিয়ে বসলাম। আমি ত অবাক সেই মেয়ে লাকির পাশে, লাকি কথা বল ওর সাথে বলেই চলে গেল একটু দূরে, আমার নিজেকে তখন খুব অসহায় লাগছিল, জীবনের প্রথম কোন অচেনা মেয়ে আমার সামনে বসে আছে। নিরবতা বজায় করছি কোন কথা বলতে পারছিলাম না আমি। হটাৎ মেয়েটা নিজেই আমাকে বলেতে শুরু করে দিল

-:কেমন আছেন
-:হুম ভাল, আপনি
-:ভাল, আমি মিমি
-:আমি আবির
-:কিসে পড়েন
-:৯ এ,
-:ও আমিও ৯
-:জানি আমি
-:ও, আচ্ছা আপনি আমার দিকে প্রতিদিন কেমন করে থাকিয়ে থাকেন কেন?
-: ইচ্ছে করে তাই কোন সমম্যা আপনার
-: না, আমার কেমন লজ্জা লাগে
-:একটা কথা বলি
-:হুম বলেন
-:ভালবাসি আপনাকে
-:ও আচ্ছা ভালবাসা কি?

-:আমি জানি না, তবে I love u
-:বুজলাম কিন্তুু
-: কি?
-:আমি পারব না
-: কি পরবেন না
-: জানিনা
-:ও এত লজ্জা করেন কেন হুম
-:তাও জানিনা
-:ও আমাকে দেখুন কীভাবে কথা বলি মেয়ে হয়ে।
-:হুম ভাল
-:ওকে আজকে বাই
-:ওকে।

চলে গেছে মিমি, ক্লাসের সবাই আমার দিকে থাকিয়ে কি সর্বনাশ, মাথা নিচু করে বসে আছি। ছুটির শেষে বাসায় আসলাম সে দিন খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। তারপর ১০ দিন আর স্কুলে যাওয়া হল না। নানার বাড়িতে বেড়াতে চলে গেলাম। ১০ টা দিন মজা করে কাটিয়েছি। নানার বাড়ি বলে কথা এমনিতে নানার বাড়িতে আম গাছ, বেল গাছ, জাম গাছ, লিচু গাছ সব আছে। পাকা আম গাছে রেখে কি আর গাছের নিচে বসে থাকা যায়, আমি কিন্তুু আবার গাছে চড়তে অস্তাদ। সারা দিন আম গাছের ডালে এক এক বার এক এক গাছে হা হা গাছে চড়ে আম খাওয়ার মজাটাই আলাদা, সেটা কেউ মানতে রাজি হোক আর না হোক আমি মানি। নানার ডাকাডাকি করে সবসময়

-:আবির আবির আবির
-:এই রে নানা এসে গেছে অসময়ে গাছে আছি জানলে বিপদ আছে, সোজা আম্মুর কাছে বলে দিবে। আর আম্মু জানলে অগ্নি মূর্তি ধারণ করবে।
-: নানা নদীর পাড়ে খুজতে গেছে, আমিও গাছ থেকে নেমে সোজা বাড়ির ভেতরে।
-: হা হা আমাকে আর পাবে কোথায়। এমনি করে ১০ টা দিন পার করে বাসায় চলে আসলাম। পরের দিন স্কুলে গেলাম রাস্তায় মিমি আমাকে দেখে সে তার স্কুলে না গিয়ে আমার ক্লাসে ঢুকে গেল। হাই কেমন আছ

-: ভাল, আপনি
-:তুমি করে বলবা আমাকে
-:আমি পারব না
-:কেন কেন
-:আপনার সাথে কথা বলতে চাই না।
-:কি বল্লা তুমি! ট্যাং ভেঙ্গে ফেলব। অন্য কারো দিকে নজর গেছে তুমার
-:না,
-:তাহলে না করেছ কেন
-:ভয় পাই
-:কাকে ভয় পাও জানতে পারি
-:হুম, আম্মুকে
-:তুমি কি মেয়ে না কি, ছেলেদের ভয় পেতে নাই।
-:আপনি যেমন সোজা বলতে পারলেন আমাকে ভালবাসেন, ইচ্ছা করলে আমিও বলতে পারতাম
-:তো বল্লা না কেন?
-:জানেন আমার মা আমাকে অনেক বিশ্বাস করে,

মাকে কথা দিয়েছি কোন মেয়ের সাথে রিলেশন করব না স্কুল জীবনে।যে মা আমাকে দশ মাস দশ দিন পেটে ধারণ করছেন সেই মাকে দেওয়া কথা আমি ভাঙ্গব, পারব না। যে মায়ের দিকে থাকলেই সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই, হারিয়ে যাই চেনা মমতায়। আমি সেই মাকে অনেক ভালবাসি। পিতামাতাকে অনেক শ্রদ্ধা করি, তাদের কষ্ট হবে এমন কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সরি। আপনি আসতে পারেন এখন।

-:একটা কথা বলব
-:হুম চোখের পানি মুছেন, কি বলবেন বলেন
-:ভাল থেকো, চলে যাচ্ছি, আর আসব না ফিরে
-:হুম

সে দিন বলতে পারলাম না আমিও মিমি কে ভালবাসতাম , তারপর পাঁচটি বছর চলে গেল, আজো তার সাথে দেখা হয়নি। স্কুল জীবন পার করে আজ আমি অনেক দূরে। আজও সেই মায়ের পাগল ছেলে আমি ( অবুজ বালক)

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত