ম্যাডাম এর উপরে ক্রাস

ম্যাডাম এর উপরে ক্রাস

ক্লাসে বসে বসে ব্রেঞ্চ বাজাইতেছি আর গান গাইতেছিলাম। হঠাৎ এক সর্গের পরীরর আগমনে গানটা বন্ধ হয়ে গেল। আমি কী আজ কাল কম দেখছি নাকি এটা তো সেই ট্রেনের মেয়েটা, যাকে ২ মাষ আগে প্রথম দেখাতেই প্রপোজ করেবসেছিলাম। আর বিনিময়ে ফ্রি তে একটা চর খাইছিলাম আর সাথে অনেক গুলা বকা। আমি গালে হাত দিয়া সব সুনছিলাম।জীবনে ও ভাবিনাই ওটাই আমার ক্লাস টিচার মানে আমার ম্যাডাম হইব। এখন কী করি ম্যাডাম ঢুকতেই সবাই সালাম দিল সাথে আমি ও। ম্যাডাম সবাইকে বসতে বলছে সবাই বসল খালি আমি বাদে, আমি তো পুরো হা করে ছিলাম।

– এই যে তোমাকে কী আলাদা করে বসতে বলতে হবে নাকি। (ম্যাডাম)
– এই যা দাঁড়াই ছিলাম নাকি কী গাধা আমি, প্রতিদিন একদম ফাস্ট ব্রেঞ্চ এ আমি বসি কিন্তুু পুরাই লেখা পড়াই একদম লাষ্ট এর কিছু আগে। আমার আবার ভাই রাজার থেকে উপর স্থানের মতো চাল চলন, বড় আপুদের ছাড়া কারো উপরে ক্রাস খাই না, কিন্তুু ২ মাষ আগের আপুটা যে এমন করে ম্যাডাম হবে জীবনে ও কল্পনা। ম্যাডাম একে একে সবার নাম শুনল। আমার কাছে এসে বলল এই যে তোমার নাম কী?

– আমার নাম নাফিজ ম্যাম।
– না না ম্যাডাম ওর নাম সাহরিয়া, নাফিজ ওর আব্বুর নাম। (রাফি)
– না মানে ম্যাডাম আমার টেনশন হলে সব কিছু গুলাই যায় তো তাই।
– এ বার বুচ্ছি তুমিই সেই বেয়াদবটা, তাই তোবলি চেনা চেনা লাগে ক্যান (ম্যাম)
– এইরে যা ধরা খেয়ে গেছি।
– তো স্টুডেন্ট আজকের মতো এই খানেই ক্লাস শেষ, যে গুলো পড়া দিলাম, সব গুলো দেখে আসবে। (ম্যাম)
– আমি তো হা করে ম্যাডাম কেই দেখছি খালি ক্লাস শেষ করে ভাবলাম কেমনে ম্যাডামের সাথে কথা বলব। আমার মাথাই আবার আইডিয়া না ভাবতেই চলে আসে। ওই তো ম্যাডাম যাচ্ছে।

– ম্যাডাম একটু শুনুন।
– কী বেয়াদব আবার কী বেয়াদবি বুদ্ধি নিয়া আসছ। (ম্যাম)
– না মানে ম্যাডাম আপনার কলম এই নেন।
– এই যে আমার কলম সো ক্লাসে যাও (ম্যাডাম)
– দূর ধরা খেয়ে গেলাম। মাথার চুল টানতে টানতে চলে আসতে লাগলাম। হঠাৎ ম্যাডাম এর ডাক।
– সাহরিয়া তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে কলেজ ছুটি হলে ওই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে থাকবা। বলেই চলে গেল।

– যাক আমার তো আর আনন্দ ধরছে না মনে হয় খসে পড়বে, হা হা হা।
– কলেজ ছুটি সময় মতো দাঁড়াই আছি। ম্যাডাম আসলো,
– শোন সাহরিয়া তুমি যেটা ভাবছ সেটা ভূল, আমি কম করে হলে ও তোমার থেকে ৫ বছর এর বড় হব, তোমার এখন ভাল করে পড়ার সময়, ভাল করে পড়ালেখা করো, আমার থেকে অনেক ভাল একটা মেয়ে পাবে সে তোমাকে অনেক ভালবাসবে, তোমাকে অনেক বড় হতে হবে। বুঝলে কিছু।

– হুমমমমমমম, কিন্তুু আমার আপনাকেই দরকার, এই গুলো আমার জন্য প্রযোজ্য না হি হি হি। বলেই দিলাম দৌড়।
– এই ছেলেটারে নিয়া যে কী করি বুঝতেছিনা (ম্যাম)।
– বাসাই গিয়ে শুয়ে শুয়ে তপুর গান শুনছি।

আবার মাথাই একটা আইডিয়া আসছে কে যেন বলছিল ম্যাডাম নাকি আমাদের পাশের এলাকাই থাকে। তাই ব্যাট আর বল নিয়া বেড়িয়ে পড়লাম ওই এলাকার পিচ্চি গুলার সাথে আমার বেশ ভাল মিল। তাই খেলতে চলে গেলাম যদি ম্যাডামের সাথে দেখা হয় আর কী।খেলতেছি তো খেলছিই বল করলাম আমি আর একজন বল মেরে দিছে, বল একদম উপরে আমি উপরে তাকাইয়া বল ধরতে গেলাম হঠাৎ কেমন জানি নরম কিছুর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলাম। হায় হায় ম্যাডাম এর সাথেই তো ধাক্কা লাগছি ম্যাডাম ও পড়ে গেছে। আমি তো হা হয়ে আছি তখনি কিছু পোলা পান হিরো হিরো ভাব নিয়ে এসে আমাকে ধরে বলল এই ছেলেটা আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে তাই না, আমি তো ভয়ে শেষ এই বুঝি মাইর দেই। কিন্তুু ম্যাডাম উল্টো ওদের ঝাড়ি দিয়ে বলল আপনাদের আমি বলছি একবার ও, যান নিজের কাজে যান, আমাকে ছেরে দিয়ে চলে গেল,

– ম্যাডাম আমার হাত ধরে টেনে একটা গাছের নিচে নিয়ে গেল, ওই বেয়াদব তোমার কোন বুদ্ধি সুদ্ধি নাই হুমমমমমমম। আমি তোমার ৫ বছর এর বড় বেয়াদব।
– তো কী হইছে আমি আপনাকেই ভালবাসি।
– ঠাসসসস আবার একটা চর দিল।
– আমি তো এক গালে হাত দিয়ে কেমন বাচ্চাদের মতো তাকাই আছি। আপনার হাতটা ও অনেক নরম হি হি। আবার একটা চর দিছে আর এক গালে। এইবার দুই গালেই হাত দিয়া তাকাই আছি।

– আমার দিকে তাকাইয়া ম্যাডাম কেমন একটা হাঁসি দিল।
– আচ্ছা বলো তো আমার নাম কীইইইই। (ম্যাম)
– আর চর দিবেন না তো, তা হলে বলব।
– ওকে বল চর দিব না।
– আসলে আমার মনে নাই, হি হি
– জানতাম মনে থাকবে না বেয়াদব। আমার নাম নিধি এবার মনে থাকবে। (ম্যাম)
– হুমমমমমমম, আচ্ছা ম্যাডাম আমি আপনাকে নিধি বলে ডাকি।
– ওই পোলা বেশি বেড়ে গেছ তাই না।
– না না থাক ম্যাডাম বলেই ডাকব।
– হুমমমমমমম, মনে থাকে যেন।
– ওকে নিধি, না না ম্যাডাম।
– বেয়াদব একটা, যাও এবার বাসাই যাও আর পড়তে বস। (ম্যাম)
– আচ্ছা ভালবাসবেন তো তা হলে।
-ওই এইবার গেলা না হলে আবার একটা চর খাবা। (ম্যাম)
– হুমমমমমমম যাচ্ছি, ফোন নাম্বারটা দিবেন পিলিজ।
– গেলা না আবার চর দিব।
– বাসাই চলে আসলাম, এসে দেখি আম্মু পায়েস রান্না করছে।
– আবার মাথাই আইডিয়া চলে আসল, ম্যাডাম এর জন্য ও নিয়া যাব। যেই ভাবা সেই কাজ একটা বাটি তে নিয়া চল্লাম ম্যাডামের বাসার উদ্দেশ্যে। ম্যাডাম নিচ তলাতে থাকত তাই অসুবিধে হল না,ম্যাডামের জানালাই গিয়ে টক টক। জানালা খুলে দেখল আমি

– ওই তুমি ক্যান আসছ এখানে মা আছে পাশের রুমে।
– না মানে মা পায়েস রান্না করছে তাই নিয়ে আসছি।
– আমি পায়েস খাই না যাও এবার।
– না খাইলে আমি ও যাব না।
– কী এক ঝামেলা ওকে দাও খাচ্ছি।
– আহা কী সুন্দর করে খাচ্ছে।
– যাও যাও এবার বলেই জানালা লাগাই দিল।
– আমি ও চলে আসলাম। পরের দিন সকালে কলেজে গেলাম,,,আমি শুধু ম্যাডাম এর ক্লাসটাই করিএ ছারা ম্যাডাম এর পিছে লেগেই থাকি কিন্তুু ম্যাডাম বুঝে না।
– সাহরিয়া বলতো এইটা কী।

– ইয়ে মানে জানিনা (ম্যাম)
– সামান্য একটা জিনিস পারো না, কান ধরেদাঁড়াই থাক।
– যাক বাবা কলেজে ও কান ধরতে হবে, কী আর করার প্রিয় মানুষটা বলছে না করে পারা যায় নাকি।
– সাহরিয়া শোন কাল থেকে পড়া না করে আমার ক্লাসে আসবা না (ম্যাম)।
– হুমমমমমমম ম্যাডাম।
– ক্লাস শেষ করে বাসাই এসে সব পড়ছি কিন্তুু খালি ম্যাডামের মুখটাই ভেঁসে উঠছে। না আজকে সব পড়া কমপ্লিট করতে হবে সব পড়া কমপ্লিট করে বসে আছি।
– আবার ম্যাডাম এর বাসার জানালাই ঠকঠক।
– সাহরিয়া আবার কী শুনি।
– ম্যাডাম এই ধরেন আইসক্রিম, আমি খাচ্ছিলাম তো তাই আপনার জন্য ও নিয়ে আসলাম।
– হুমমমমমমম দেওয়া শেষ এখন যাও।

এই রকম করতে করতে আমার দুষ্টুমি বেড়েই চলছে। একদিন ম্যাডাম যাচ্ছে আমি পিছন থেকে গিয়ে তার চুল ধরে টান দিছি, আর এইটা তার বাবা দেখে ফেলছে, তাকে অনেক বকা দিছে আমি তাদের রুমের পিছন থেকে শুনছি। সেদিন ও চকলেট দিতে গেছিলাম। কিন্তুু তা আর দেওয়া হয় নাই। পরের দিন সকালে কলেজে গেলাম।

– ম্যাডাম আমাকে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে ডাকল।আমি ও ভয়ে ভয়ে গেলাম।
– ঠাসসসসস, আজকের চরটা অনেক জোরে ,আমাকে কী মনে কর হুমমমমমমম, বললেই পটে যাব, আমার ফ্যামিলি সবার মত না বুঝলে, আমাকে সবার কাছে ছোট করেই তো শান্তি পাইলা, আর কোনদিন আমার সামনে আসবে না, আর কোনদিন যেন না দেখি, ছাত্র ছাত্র এর মতো থাকবা, (ম্যাম)

– এই প্রথম ম্যাডাম কে কাঁদতে দেখলাম, আর এর জন্য পুরোটাই দোষ আমার, নিজেকে অনেক খারাপ মনে হতে লাগল। ম্যাডাম কথা গুলো বলে চলে গেল। আমি শুধু মাথা নাড়ালাম। মনে মনে বললাম না আর কোনদিন ম্যাডামের সামনে যাব না, ভূলে যাব তাকে, জানি অনেক কষ্ট হবে তবুও ভূলে যেতে হবে। যানি ম্যাডাম আমাকে কোনদিন ভালবাসবে না ,বাসাই চলে আসলাস আর কাউকে কিছু না বলে সোজা ব্যাগটা নিয়া সিলেট মামার কাছে গেলাম।

– মামা বলছিল কিরে হঠাৎ করে কেন আসলি।
– কিছু বললাম না, শুধু বললাম অসুবিধে হলে বল চলে যাচ্ছি।
– আরে না না যত দিন খুশি থাক।

যত দূরেই আসি না ক্যান ভালবাসা কী আর ভোলা যায়, সব সময় ম্যাডামের কথা মনে হত।না যে ভাবেই হোক ভূলে যেতেই হবে। যে আমাকে চায় না, তাকে ভেবে ক্যানকষ্ট পাব। পুরো ৪৫ দিন পর কলেজে আসলাম। হঠাৎ রাফি বলল কীরে কই ছিলি। ম্যাডাম তোরে কত্ত খোঁজছে, আমি বললাম খুঁজোক আমার কী, আমি তার কেউ না। ক্লাসে বসে আছি, হঠাৎ ম্যাডাম আসল আমাকে দেখে যেন তিনি অবাক হয়ে গেছে। ম্যাডাম ও কেমন রোগা হয়ে গেছে মনে হয় অনেক কান্না করছে কারো জন্য। যাই করুক আমার জন্য তো আর করেনি। ক্লাস শেষ করে বাসাই আসছিলাম হঠাৎ কেউ যানি গেঞ্জি টেনে টেনে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটার কাছে নিয়ে গেল। আবার সেই চর ঠাসসসসসসস।

– ওই তোর আমাকে কষ্ট দিতে খুব ভাল লাগে তাই না, কই ছিলি হুমমমমমমম, একটু বকা দিছি আর তাতেই উধাও, এই তোর ভালবাসা (ম্যাডাম)।
– আপনি তো চোখের সামনে আসতে বারণ করছেন তাই তো আসিনাই।
– বারণ করছি বলে আসবি না, আমি কত কাঁদছি জানিস। নিধি
– হুমমমমমমম, আর আমি মনে হয় কাঁদিনাই।
– তা হলে এতদিন আসিস নাই ক্যান।
– এত্ত মাইর দেন কেন আমাকে।
– আমার আপনি বলছিস এখন থেকে তুমি বলবি আর নিধি বলবি না হলে আরো চর খাবি।
– কিন্তুু তুমি তো আমাকে ভালইবাস না।
– ওই কখন ও তুই ঠিক ভাবে প্রপোজ করছিস হুমমমম।
– না তা ঠিক,
– তো এবার কর হাদারাম।

– কৃষ্ণচূড়া ফুল দিয়ে বললাম আমি তোমাকে ভালবাসি নিধি।
– আমি ও তোমাকে অনেক ভালবাসি কিউট বেবি আমার। হি হি হি
– আচ্ছা একটু জরাই ধরি বলেই দুই গালে হাত দিলাম, যদি চর দেই, এমনি আমার সব দাঁত নরাই দিছে।
– মারব না আর আমার বাবুটারে বলেই জরাই ধরল আমাকে, আমি ও শক্ত করে জরাই ধরলাম,, এই বার একটু পাপ্পি দাও যত গুলা চর দিছিলা।
– কয়টা পাপ্পি দিব বলো বাবো ৪*৪=২০ টা পাপ্পি দাও।
– দিব একটা শর্তে আজকে থেকে ভাল করে পড়তে হবে কিন্তুু।
– হুমমমমমমম পড়ব তো।

আর ম্যাডাম ও আমারে ও থুক্কু নিধি ও আমারে পাপ্পি দিতে লাগল। আহা কিতা মজা। (কিন্তুু ওই পড়াটাই আমার দ্বারা হয় না মনে মনে কইলাম) অবশেষে ম্যাডামরে আপন করে পাইলাম,,, হি হি

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত