ফাজিল মেয়ের ভালবাসা

ফাজিল মেয়ের ভালবাসা

-তো এখন প্লান কি?
-বিয়ে।

লামিয়ার কথায় আমি বেশ ভালই অবাক হলাম। বলে কি মেয়েটা।যেখানে অন্য সবার ইচ্ছে কোচিং করবে,ভার্সিটিতে এক্সাম দেবে আর ওনার ইচ্ছে বিয়ে করবে। অফিসে যাওয়ার জন্যে বের হতেই আম্মা পেছন থেকে ডাক দিল।আমি কিছু বলার আগেই ওনি বললেন,

-বাবা আয় তো এখানে। আম্মার কথায় আমি সোফায় গিয়ে আম্মার পাশে বসে বললাম,

-কিছু বলবে?
-লামিয়ার মা এসেছিল।

লামিয়ার মা আসতেই পারে।এতে করে এভাবে ডেকে বলার কি আছে।ওনি মাঝে মাঝে এসেই আম্মার সাথে গল্প করে।আমাদের পাশের ফ্লাটেই থাকে।আমি বললাম,

-কি বললো?
-লামিয়ার বাবা ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে গেছে।

এদিকে আজ থেকে ওর এক্সাম। তাই তুই যদি অফিস যাওয়ার পথে ওকে নামিয়ে দিয়ে যেতি তাহলে ওনার একটু ভাল হতো। আম্মার কথায় আমি কিছু বললাম না।ওকে নামিয়ে দিতে আমার কোন সমস্যা নেই।কিন্তু মেয়েটা যেই ফাজিলের ফাজিল, কখন যে কি করে বসে আল্লাহই জানে। আমি কিছু বলার আগেই আম্মা বললো,

-আমি লামিয়ার মা কে বলে দিয়েছি তুই ওকে নিয়ে যাবি।
-বলেই যখন দিয়েছ এখন তো নিয়ে যেতেই হবে।
-তুই একটু দাড়া আমি ডেকে দিচ্ছি।কথাটি

বলেই আম্মা লামিয়াদের বাসায় গেলো। মেয়েটাকে ডাকতে।মনে হচ্ছে লামিয়া ওনারই মেয়ে।আবার ডাকতে যেতে হবে। বাবা তুমি না থাকলে কি যে হতো। লামিয়ার মায়ের কথায় আমি মুচকি হেসে বললাম,

-আমি না থাকলে হয়তো অন্য কেও নিয়ে যেত।
-আমি অন্য কারও সাথে যেতাম না। লামিয়ার কথায় কি বলবো ভেবে পেলাম না। আম্মাও লামিয়ার কথায় আমার দিকে কেমন করে যেন তাকালো।আমি কিছু বলার আগেই লামিয়া বললো,

-চলো, আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে তো।
-হ্যা,চলো।

উফ বেশ বাচা বেচে গেছি।আম্মা কি আবার অন্য কিছু ভাবলো নাকি এটা নিয়েই টেনশনে আছি। আমি লামিয়াকে এক্সাম হলে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে গেলাম।ফাজিল মেয়েটা এমন ভাবে বসেছিল মনে হচ্ছিলো বরের সাথে এক্সাম দিতে যাচ্ছে।আর একটু হলে পড়েই যেতাম। আহাদ সাহেব কেমন আছেন? অফিসের কাজ করছিলাম তখনি কেও কথাটি বললো।আমি মুখ তুলে তাকিয়ে দেখি নীলা দাঁড়িয়ে। আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। আমি বললাম,

-আলহামদুলিল্লাহ্ ভাল।আপনি?
-ভাল।বসতে বলবেন না?
-কখনও কি অনুমতি নিয়েছেন?

আমার কথায় নীলা আবারও মুচকি হেসে চেয়ার টেনে বসলো।এই মেয়েটা বেশ ভালভাবেই আমার পেছনে লেগেছে।ওনার আচরনে আমি স্পষ্টই বুঝতে পারি উনি আসলে কি চান।কিন্তু ওনার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই। আমি কাজে মনোযোগ দিতেই নীলা বললো,

-এত কাজ কেন আপনার।একটু ভালভাবে কথাও ও তো বলতে পারেন।
-কাজগুলা আমার না।আসলে আশেপাশের অনেকেই আছে ভুলভাল কাজ করে ফাইল জমা দিয়ে দেয়।সেগুলই ঠিক করি আরকি। আমার কথায় নীলার মুখটা কেমন যেন মলিন হয়ে গেলো।ওনিও তো তাদের মধ্যে একজন।আমি কিছু বলার আগেই নীলা বললো,

-আচ্ছা আসি তাহলে।

আমি নীলার কথায় মাথা নাড়ালাম।মেয়েটা বেশ লজ্জা পেয়েছে। কালই এক্সাম শেষ। চাদের আলোয় ছাদে বসে থাকতে বেশ ভালই লাগে।চাদের আলোতে ডুবে থাকা যায়।তাই একটু ছাদে গিয়েছিলাম।তখনি লামিয়া এসে কথাটি বললো।আমি লামিয়ার দিকে তাকাতেই আমার চোখ আটকে গেলো।চাদের আলোয় এ যেন এক নতুন চাদপরী।আমি কিছু বলার আগেই লামিয়া বললো,

-কাল এক্সাম শেষে তোমার সাথে ঘুরবো।
-সরি আমার অফিস আছে।
-আমি অপেক্ষা করবো।

কথাটি বলেই লামিয়া চলে গেলো।কি ফাজিল মেয়ে আমাকে তুমি করে বলে।তবে ওর মুখে তুমি শুনতে বেশ মিষ্টিই লাগে। তুমি না আসলে আমি কিন্তু বাসায় যাব না। লামিয়াকে এক্সাম হলে নামিয়ে দিয়ে আমি একটু এগুতেই লামিয়া পেছন থেকে কথাটি বললো।আমি একবার পেছনে তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নিলাম।ওর ওই মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে কেমন যেন কষ্ট হচ্ছে। অফিস থেকে বের হতেই আম্মার ফোন এসে হাজির।আমি ফোন ধরতেই আম্মা বললো,

-লামিয়ার মা এসেছিল।মেয়েটা নাকি এখনও বাসায় আসেনি। আম্মার কথায় আমার লামিয়ার কথাটা মনে পড়লো।ও বলেছিল আজই এক্সাম শেষ।আর আমি ওকে না নিতে গেলে ও বাসায় যাবে না। আমি আম্মাকে বললাম,

-আচ্ছা আমি দেখছি।টেনশন করো না। আমি আর দেড়ি না করে রিক্সায় চেপে বসলাম।মেয়েটা তাহলে কোথায় গেলো।হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় পাচটা বেজে গেছে।আমি লামিয়ার হলের সামনে আসতেই দেখি মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে।ঠিক যে জায়গায় আমি ওকে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিলাম। এরকম পাগলামীর মানে কি? আমার কথায় লামিয়া কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলো।এত জেদ কেন মেয়েটার।যেটা বলবে সেটাই করতে হবে।আমি ফোনটা বের করে আম্মাকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম লামিয়া আমার সাথেই আছে। আমি লামিয়াকে আবারও বললাম,

-বাসায় টেনশন করছে,চলো।
-না।
-কেন?
-তোমার সাথে ঘুরবো।
-চলো বাসায় চলো।এসব ঘোরাঘুরি হবে না।
-তাহলে আমি বাসায় যাব না।

ফাজিল মেয়ে একটা।এ কোন বিপদে পড়লাম। এখন ঘুরতে না নিয়ে গেলে বাসাত ও যাবে না। মেয়েটা সেই দুপুর থেকে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো বেশ ক্ষুধাও লেগেছে।আমি লামিয়াকে আর কিছু বলতে না দিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম।আগে অন্তত কিছু খাওয়া যাক। ” মাংসের পিস মুখে দিয়ে আমি লামিয়াকে বললাম,

-তো এখন প্লান কি?
-বিয়ে। লামিয়ার কথায় মাংসের পিসটা গলায় আটকে গেলো।বলে কি মেয়েটা।এত ফাজিল মেয়ে আমি জিবনেও দেখিনি।আমি কিছু বলার আগেই লামিয়া আমার হাত ধরে বললো,

-করবে আমায় বিয়ে? আমি এবার লামিয়ার চোখের দিকে তাকালাম।ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার।কিন্তু লামিয়ার চোখে আমি এতদিন পর ফাজলামির বদলে অন্য কিছু দেখলাম।মেয়েটা যে সত্যি ই আমাকে ভালবাসে এতে কোন সন্দেহ নেই।আমি লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,

-সরি সম্ভব না। কথাটি বলেই আমি ওকে নিয়ে বের হয়ে রিক্সায় চেপে বসলাম।মেয়েটা কান্না আটকে রাখার বৃথা চেষ্টা করছে।চোখের পানি গাল বেয়ে নিচে পড়ছে।আমি এবার লামিয়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম,

-করতে পারি এই ফাজিল মেয়েটাকে বিয়ে,যদি সে আমার সব কথা শোনে। আমার কথায় লামিয়া আমার হাত শক্ত করে ধরে বললো,
-তুমি যেটা বলবে আমি সেটাই করবো।তোমার কথামতই চলবো। আমি এবার লামিয়াকে কাছে টেনে এনে বললাম,
-আপাতত আমার কাধে মাথা রাখলেই চলবে।

রিক্সা চলছে তার আপন গতিতে।চারিদিকে প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে।এদিকে লামিয়া আমার কাধে মাথা রেখে লক্ষী মেয়ের মত আমার হাত জড়িয়ে ধরে বসে আছে।আমি এবার লামিয়ার কপালে একটা চুমু একে দিলাম আর মনে মনে বললাম, মেয়েটা ফাজিল হলেও ভালবাসতে জানে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত