ভাই-বোনের ভালবাসা

ভাই-বোনের ভালবাসা

অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে পার্কে দেখলাম ছোট বোন আফরিন একটি ছেলের হাত ধরে বসে আছে ক্লোজ ভাবে। এটা দেখে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। আর এক মূহুর্ত না ভেবে আমি ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আফরিন আমাকে দেখে ভূত দেখার মতো ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে চোখ মুখ লাল হয়ে গেল! আমি বললাম কলেজে যাস নাই? ও মাথা নিচুঁ করে আছে।

আমি অফিসের দিকে হাঁটা ধরলাম। কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না আমি ভেবেই পাচ্ছি না ও এমন কাজ কিভাবে করতে পারলো এতো আদর ভালবাসা দিয়ে বড় করেছি আর ও আমাদের কথা ভাবলো না একবারো, মাথাটা ঝিম ধরে আছে। কোন রকম হাতের কাজ গুলো শেষ করে অফিস ছুটি হওয়ার দুই ঘন্টা আগেই বেরিয়ে পরলাম। বাসায় গিয়ে আফরিন কে কোথাও দেখলাম না মাকে জিজ্ঞেস করলাম আফরিন কোথায়??? মা বললো সেই যে সকালে রুমে ঢুকেছে আর বের হয়নি রুম থেকে।।

-কখন বাসায় আছে ও??
-দশটার দিকে আসছে কেন??
-না এমনি।।

বুঝলাম সকালে আমি যাওয়ার পর আর এক মিনিট ও ওখানে থাকেনি। আমিও চলে গেলাম ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে এসে বিছানায় বসে আফরিন কে ডাক দিলাম। ডাক দেওয়ার একটু পর দেখি ধীর পায়ে মাথা নিচুঁ করে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। আমি ওকে বললাম এসব কি চলছে??? ও কোন উত্তর না দিয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে! আমি আবার বললাম কোন উত্তর দিলো না চোখ দিয়ে পানি পরতেছে। ইচ্ছে করছিলো ধমক দিয়ে কয়েকটা বলি কিন্তু বাবা মা জেনে যাবে দেখে বললাম না বাবা জানলে তো ওকে মেরেই ফেলবে। আমি আফরিন কে বললাম আজকের পর থেকে আমাকে ভাইয়া ডাকবি না আর কথাও বলবি না। খেয়াল করলাম ওর চোখ দিয়ে আরো বেশি করে পানি পড়তেছে। ওকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দিলাম একটু পরে খাওয়ার জন্য মা ডাক দিলো খাবার টেবিলে গিয়ে দেখি বাবা বসে আছে মা ভাত বাড়ছে কিন্তু আফরিন নেই। মা কে বললাম আফরিন কোথায় পরে মা আফরিন কে ডাক দিলো কিন্তু আসলো না পরে আমি জোড়ে আফরিন কে ডাক দিলাম পরে এসে টেবিলে মাথা নিচুঁ করে বসে পরলো।

মা আফরিন কে বলতে লাগলো কিরে তোর কি হয়েছে সকাল থেকে ঘরে আছিস কোন কথা নেই পরে আমি মা কে বললাম কথা না বলে খেতে দেও ওকে ততক্ষনে আমার খাওয়া শেষ হয়ে গেছে রুমেরগিয়ে একটু ফেসবুকিং করে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় মা আমাকে বললো আফরিনের কি যেন লাগবে আসার সময় নিয়ে আসিস। আমি বুৃঝতে পারলাম ভয়ে আমাকে বলার সাহস পায় নি। পরে আমি আফরিন কে বললাম কি লাগবে?? পরে ও ছোট্ট করে উত্তর দিলো গনিত টেস্টপেপার! অফিসে গিয়ে কাজ শেষ করতে করতে রাত নয়টা বেজে গেল। অফিস থেক বেরিয়ে বোনের জন্য বইটা কিনলাম পরক্ষনেই দেখি মায়ের ফোন….

-হ্যাঁ মা বলো??
-বাবা আসার সময় আমার ওষুধ গুলা আনিস তো।
-আচ্ছা মা আনবো।
-আর শোন শোন একটা গ্রিল আনিস তো।
-ওকে রাখলাম।।

আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম ফোনের ওপাশে থেকে আফরিন মা কে গ্রিল আনার জন্য বললো। হোটেল থেকে গ্রিল আর নান কিনলাম মায়ের জন্য ওষুধ কিনে বাসার দিকে রওনা দিলাম। বাসায় ঢুকে আফরিনের রুমে গিয়ে দেখি পড়তেছে টেবিলের ওপর গ্রিল টা রেখে আমার রুমে চলে আসলাম। রাতে খাবার টেবিলে মা আমাকে বললো…

-আমাদের বাড়ির কাগজ পাতি নাকি সমস্যা বের হয়েছে কাল কে আমি আর তোর বাবা বাড়ি যাচ্ছি দুইদিনের ভেতর চলে আসবো।
-আচ্ছা।
-আর শোন আফরিন কে নিয়ে যাচ্ছি না ওর সামনে পরিক্ষা এখন কলেজ মিস দেওয়া যাবে না।
-আচ্ছা ঠিক আছে।।

কাল কে অফিস ছুটি বিধায় একটু লেট করে ঘুমালাম এবং উঠতে উঠতে সকাল দশটা বেজে গেল। ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে দেখি ভাত বেড়ে রাখা আছে আমি আফরিনের রুমর সামনে গিয়ে বললাম তুই খাইছিস?? ও মাথা নাড়িয়ে বললো না।। পরে দুইজন একসাথে খেয়ে নিলাম খাওয়ার সময় দুইজনই চুপচাপ। খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে মুভি দেখা শুরু করলাম, আর একটা বিষয় খেয়াল করলাম আফরিন আর ফোন ব্যবহার করছে না এই ঘটনার আগে দেখতাম সবসময় হাতে ফোন আর ছাদে গিয়ে কানে হেডফোন দিয়ে কথা বলা এখন আর কোনটাই দেখি না। কিছুক্ষন পর হটাৎ আফরিনের চিৎকার শুনলাম দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি ওর আঙ্গুল দিয়ে রক্ত পরছে আর হাত পুড়িয়ে ফেলছে। আমি গিয়ে ওর হাত ধরে একটা ধমক দিয়ে বললাম তোকে এসব কে করতে বলেছে কোন রকম রক্ত পড়া টা বন্ধ করে হাতে ব্যান্ডেজ করে ওষুধ কিনলাম। ততক্ষনে দুপুর হয়ে গেসে তাই ওর পছন্দের বিরিয়ানি কিনে বাসায় চলে গেলাম। ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বিরিয়ানি একটা প্লেটে বেড়ে এনে ওকে দিলাম হাত দিয়ে তো খেতে পারবে না তাই আমিই একটা চামিচ এনে খাইয়ে দিতে লাগলাম।

পরে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বললাম শুয়ে থাক। আমার ঘর থেকে ল্যাপটপ টা এনে ওর টেবিলে রেখে দিলাম কারন মুভি নাটক এসব দেখে ও তাই। পরে আমিও গোসল দিয়ে খাওয়া শেষ করে একটা ঘুম দিলাম সন্ধ্যার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি আফরিন টিভি দেখতেছে। ফ্রেস হয়ে আমি একটু বাহিরে গেলাম একটা কাজ ছিলো তাই।। এক ঘন্টা পর কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার সময় ফুচকা আইসক্রিম নিয়ে গেলাম। এগুলো দেওয়ার পর দেখলাম বেশ খুশি হয়েছে। আমি চলে গেলাম রান্নাঘরে রাতের খাবার তৈরী করতে ভার্সিটি তে পড়াকালীন সময়ে ম্যাসে থাকতাম তখনি রান্না টা আয়ত্ত করে নিয়েছিলাম তাই খুব একটা অসুবিধা হয়নি। আফরিন কে রাতের খাবার ওষুধ খাইয়ে দিয়ে আমিও খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। এরপর আরো একদিন পর বাবা মা আসলো।

এসে আফরিনের এই অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেল আমি সাহস দিয়ে বললাম তেমন কিছু হয়নি ওষুধ দিয়ে দিছি সুস্থ হয়ে যাবে এতো চিন্তা করো না। ছয় টার দিকে অফিস থেকে এসে ফ্রেস ঞয়ে ছাদে দাড়িঁয়ে আছি একটু পর আফরিন আসলো এসে আমার হাত ধরে ভাইয়া বলে বৃষ্টির মতো কেঁদে দিলো। কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়লো আর বলতে লাগলো আমাকে মাফ করে দেও ভাইয়া আমি আর কখনো এমন ভুল করবো না তোমাদের কথা শুনে চলবো আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। তুমি আবার আগের মতো কথা বলো ভাইয়া আমি আর সহ্য করতে পারছি না। ওর চোখের পানি দেখে আমারো চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেল। দুই হাত দিয়ে ধরে ওকে তুলে চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম পাগলি বোন আমার এই বলে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। পরে ও আমাকে জরিয়ে ধরলো এতক্ষনে ওর মন ভাল হয়ে গেছে। পরে দুই ভাই-বোন নিচে চলে গেলাম।।

আফরিইইইন
-হ্যাঁ ভাইয়া বলো??
-এক চা আন তো..
-আচ্ছা।
পাঁচ মিনিট পরে..
-এই নাও ভাইয়া তোমার চা..
-চিনি কম হইসে চিনি দিয়ে নিয়ে আয়
-হুম চিনি দিয়ে আনছি নেও।
-তা ঠিকাছে কিন্তু পিরিচ কোথায় এত গরম কাপ ধরবো কিভাবে??
-এই নেও পিরিচ।

তারপর আমি যেই আবার কথা বলতে যাবো ও আমার মুখের কথা কেরে নিয়ে বলতেছে বিয়ে করে নিজের বউ কে এতো জ্বালাও গা, আম্মুউ তোমার ছেলে কে বিয়ে করাবা কবো আমাকে জ্বালিয়ে মেরে খাচ্ছে এইতো এভাবেই চলে যাচ্ছে আমাদের ভাই-বোনের ভালবাসা।।।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত