ভালোবাসা তো এমনি

ভালোবাসা তো এমনি

-বছর তিনেক আগে , পতিতালয়ের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম । বিয়ের প্রথম রাতে বরের মুখে এমন কথা শুনে জান্নাত অবাকের শেষ প্রান্তে পৌছালো । তারপর চোখ বড় বড় করে বলল

-এভাবে না , খোলাসা করে বলেন !

মিনহাজ একটু দম নিয়ে বলতে শুরু করলো । মাঝে মাঝে পতিতালয়ে যাওয়া ছিল আমার গভীর অভ্যাস । এক প্রকার নেশা হয়ে গেছিলো। নতুন শরীরের গন্ধ আমাকে খুব টানতো । বাবার অর্থের কোনো সমস্যা ছিল না । তাই এসবে কোনো মাথা ব্যাথাও ছিল না । বন্ধুদের সাথে মদের আড্ডার সকল বিলই আমার পকেট থেকে যেত । এর মাঝে যাওয়া আসাই নিষিদ্ধ পল্লীর এক মেয়েকে খুব ভালো লেগে যায় । তার সাথে নিয়ম করে প্রতিদিন দেখা করতাম । এক পর্যায়ে আমি ছাড়া সে আর কোনো কাস্টুমার ধরতো না । দুজনের মাঝেই এক অদৃশ্য সুপ্ত মায়ার জন্ম নিয়েছিল । সত্যিই বলতে মেয়েটিকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিলাম । ওর নাম ছিল মেঘা । নামের মতো ওর চেহারাটাও বেশ মায়াবী ছিল । চোখে কাজল দিলে আমি ওর থেকে চোখ ফেরাতে পারতাম না ।

বাবা মাকে ওর কথা বলেছিলাম । কিন্তু তারা একবারেই না করে দিয়েছিল । আমিও জানতাম এমনটাই হবে । তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান ছিল । মা বাবার বিপক্ষে যেয়ে মেঘাকে বিয়ে করলাম । মেঘা সব পরিবেশে অভ্যস্ত ছিল আমি জানি । ও কারো দেখে ভয় পেত না । সব পাল্টা জবাব দিত । মেয়েটি নিষিদ্ধ পল্লীর হলেও ওর মাঝে এক সত্য নৈতিকতার ছায়া দেখেছিলাম । পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান বাদ করে বাড়িতে আসলাম মেঘাকে সাথে নিয়ে। এটা অবশ্য মেঘাই বলেছিল । ওর কথাতে সম্মতি দিয়েছিলাম । কিন্তু বাড়ি থেকে আমাকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে চাইনি । বাড়িতে মেঘাকে সবার সামনে উপস্থাপন করতেই , সবাই আমার উপর রাগন্বিত হলো । আমাকে আর মেঘাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলে । তখন মেঘা জবাব দেয়

-আপনার ছেলে কথায় যাবে না যাবে সেটা তার ব্যপার । আপনাদের ইচ্ছা হলে তাড়িয়ে দেন । তবে আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না । যেহেতু আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করেছে , সেই সূত্রে আমি এই বাড়ির বউ । আর এখানে আমার অধিকার আছে । আমি আমার অধিকার থেকে একটুও বঞ্চিত হতে রাজি নই । এখন যদি আপনাদের ইচ্ছা হয় ছেলেকে তাড়িয়ে দেন । যা ইচ্ছা করতে পারেন । মায়ের সাথে মেঘার বেশ তর্কাতর্কি চলল। মা এক পর্যায়ে বললেন

-দেখ মিনহাজ দেখ ! কাকে বিয়ে করেছিস । মান সম্মান বলে আর কিছু রাখলি না । এই মেয়ের না আছে ভদ্রতা , না আছে সুশিক্ষা । দেশে কি মেয়ের অভাব ছিল ! শেষমেশ একটা নর্তকীকে বিয়ে করলি ! তোর রুচি এত লোপ পেয়েছে , আমার ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে । মায়ের কথা শুনে মেঘা তখন বেশ জোর গলায় বলল

-আমাকে নর্তকী বলেন আর পতিতা বলেন ! আমি কিন্তু এখন এই বাড়ির বউ । আপনার ছেলের বউ । সেই ক্ষেত্রে একটু ভেবে বলবেন । কিছুক্ষণ আগে আমার একটা পরিচয় ছিল ! এখন আমার জীবনে নতুন একটা পরিচয় আছে । আর আমাকে যদি যথাযথ অধিকার না দেওয়া হয় তাহলে আমি সরাসরি ক্যাস করে দেব । বাবা এবার মুখ খুললেন ।

-ক্যাস করতে কত টাকা লাগে জানো ? শুধু ক্যাস করলেই হয় না , ক্যাস চালানোর জন্য টাকা প্রয়োজন ।

-পুলিশরা যে খুব একটা চরিত্রবান এটা আপনাকে কে বলেছে ? টাকা নাই , দেহ তোআছে ! এক রাত একটু ফষ্টিনষ্টি করলেই টাকা ছাড়া আমার কথায় নাচবে । মা বিশাল রাগন্বিত চেহারা নিয়ে বললেন

-ছিঃ ছিঃ ! বেয়াদপ মেয়ে । বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও জানেনা !

-বাবার বয়সের মানুষও দুইশত টাকার টিকিটের বিনিময়ে আমার সাথে রাত কাটিয়েছে ।  কাদের সম্মান করবো ? এই সমাজের মানুষের আসল চেহারা গভীর রাতে দেখা যায় । তাদের কতশত মুখোশ ! সবাই রাতে মুখোশ খোলে না । কেউ কেউ দিনের আলোয় বুঝিয়ে দেয় সে কতটা ভালো মানুষ । বিপদে পড়লে কারো কাছে সাহায্যের জন্য যাবেন , সে আপনাকে ঠিক তার মুখোশের আড়ালের চেহারা দেখিয়ে দেবে ।

মেঘার সাথে আর তর্ক না করে মা বাবা রুমে চলে যায় । সেই থেকে আমরা নিজেদের বাড়িতেই থাকতাম । মা বাবা ঠিক মতো কথা বলতো না । মেঘা কথা বলতে চাইলেও তারা কথা বলতো না । আমার সাথেও তেমন কথা বলতো না । কিন্তু মেঘার সাথে আমার বোন অমিতার বেশ ভাব জমে যায় । মেঘার ব্যপারটা আত্মীয়রা জানার পর আমাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে অনেক কটু কথা শোনায় । মা এই জন্য সব চেয়ে বেশি রেগেছিলেন । তার বোনদের কাছেও কোনো সম্মান পেত না । মিনহাজ এবার থামলো । এক টানা অনেকক্ষণ কথা বলায় একটু হাপিয়ে উঠেছে । জান্নাত ঘড়িতে দেখলো ১২ টা ৫৪ মিনিট । মধ্য রাত বলা যায় । মধ্য রাতে কফি খাওয়া জান্নাতের একটা পুরনো অভ্যাস । কিন্তু এখন সে নিরুপায় । আজকে বিয়ে হয়েছে । এমন অদ্ভুত একটা কাজ করলে তা খারাপ দেখাবে । মধ্য রাতে কফি খাওয়া ! মিনহাজ ব্যপারটা কিভাবে নেবে এটা ভেবে জান্নাত কিছু বলতে পারছে না । মিনহাজ বলল

-আচ্ছা , ঘুমাও ! ঘুম পাচ্ছে খুব । জান্নাত বলল
-না , গল্পটা আজ রাতে শেষ না করে ঘুমাবো না ।

আপনি বরং জিরিয়ে নিন । আমি ঝটপট কফি করে নিয়ে আসি । কফি খেতে খেতে বাকি কথা হবে । মিনহাজ জান্নাতকে রান্নাঘর দেখিয়ে দিয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো । অর্ধেক সিগারেট শেষ না হতেই জান্নাত এসে হাজির ।

-উঁহুঁ , ধূমপান করা চলবে না । ফেলেন বলছি । মিনহাজ সিগারেটটা অ্যাসট্রেতে ফেলে জান্নাতের হাত থেকে কফির মগটা নিল । গরম কফির মগে চুমুক দিয়ে জান্নাত বলল

-তারপর কি হলো বলেন ?
-আগামীকাল বলি ? জান্নাত কপট রাগ দেখিয়ে বলল
-বললাম তো আজই বলতে হবে ! মিনহাজ ব্যপারটা এড়িয়ে যেয়ে বলল
-আপনার যে মধ্য রাতে কফি খাওয়ার নেশা আছে এটা বললেই পারতেন ।
-আপনি কিভাবে জানলেন ?
-অমিতা বলেছে । জান্নাত খানিকটা লজ্জা পেল । ইশ , অমিতা আর প্রেস্টিজ বলে কিছু রাখলো না ।

-জেনেই যেহেতু গেছেন আর লুকিয়ে লাভ কি ! আর আপনি কিন্তু খুব সাবধানে মেইন টপিক এড়িয়ে যাচ্ছেন । মিনহাজ হেসে দিয়ে বলল
-না শুনে ছাড়বেন না দেখছি । তবে শোনেন , মেঘার সাথে মা বাবাও আস্তে আস্তে মিশে গেছিলো প্রায় । মেঘার অসুস্থ এক মা আর ছোট বোন ছিল । তাদের সকল খরচ মেঘা দিত । কিন্তু বিয়ের পর মেঘা ওর পেশা ছেড়ে দেয় তাই এইগুলো আমি দিতাম ।

আমিও বাবার ব্যবসা দেখা শুরু করি । বিয়ে করেছি , আলাদা একটা চাপ সব সময় মাথায় ঘুরপাক খেত । মেঘার দরুনে সকল প্রকার নেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম । মদ্যপান থেকে শুরু করে সব নেশা চুকিয়ে একদম পারফেক্ট ছেলে হতে কেবলই শুরু করেছিলাম । আমার এই পরিবর্তন হওয়ায় বাবা মা মেঘার উপর একটু সন্তুষ্ট হয় । তাদের মাঝে দূরত্ব কমতে থাকে । প্রচণ্ড ভালোবাসার মধ্যে দিন কাটতে থাকে ।কিন্তু এর মাঝে একটা ঝড় নেমে আসে আমাদের জীবনে । অফিসে কাজের জন্য আমি কয়েকদিন বাসার বাইরে যায় । এর মাঝে বাড়িতেডাকাত হামলা করে । অমিতা ম্যাসে ছিলতাই ওর কোনো ক্ষতি হয়নি । ডাকাতেরাবাবা মাকে প্রচুর মারধর করে । সকল টাকা পয়সা সোনা যা ছিল সব নিয়ে যায় । পরের দিন আমি বাড়ি ফিরে জানতে পারি মা বাবা হসপিটালে । প্রতিবেশীদের কেউ একজন হাসপাতালে নিয়ে আসে । কোনো দরকারে আমাদের বাসায় গিয়েছিল । আর যেয়ে মা বাবাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাই । আমার বা অমিতার এমনকি আমাদের কোনো আত্মীয়র সাথে যোগাযোগ করার কোনো ওয়ে তাদের কাছে ছিল না । আমি বাড়িতে এসে তাড়াতাড়ি হসপিটালে ছুটে যায় । তারপর সবাইকে খবর দিই । জান্নাত হঠাৎ বলল

-মেঘার কি হলো ? ওর কথা তো বললেন না ! মিনহাজ একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
-বাবা মা জ্ঞান ফেরার পর আমার সাথে যখন কথা বলল , তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম । এই ডাকাত দলের সাথে নাকি মেঘার সম্পর্ক আছে । মেঘার সহায়তায় ওরা বাড়িতে প্রবেশ করে ।জান্নাত বলল

-আপনি কি এটা বিশ্বাস করেছেন ?
-বিশ্বাস করতে পারিনি । তবে মা বাবার এই অবস্থার দিকে তাকিয়ে বিশ্বাস করেছি ।মনে মনে মেঘাকে খুব ঘৃণা হয় ।

-মেঘার সাথে আর কখনও দেখা হয়েছে ?
-না ! মিনহাজ একটা সিগারেট ধরালো । সিগারেটের প্রচণ্ড নেশা চেপেছে । সিগারেট এখন অতীব প্রয়োজন মিনহাজের ।

-এমনও তো হতে পারে , মেঘা নয় ডাকাত দলের সাথে আপনার মা বাবার প্ল্যান ছিল ! তারাই মেঘাকে ওদের হাতে লেলিয়ে দিয়েছে । আপনার জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ! আপনার বাবা মা উপরে মেনে নিলেও আদৌও কি মন থেকে মেঘাকে মেনে নিয়েছিল ? জান্নাতের কথায় মিনহাজের হাত থেকে সিগারেটটা পরে গেল । মিনহাজ অবাক হয়ে বলল

-কে তুমি ? মেঘার সাথে আর কখনও দেখা হয়েছে ?
-না ! মিনহাজ একটা সিগারেট ধরালো ।সিগারেটের প্রচণ্ড নেশা চেপেছে ।সিগারেট এখন অতীব প্রয়োজন মিনহাজের ।

-এমনও তো হতে পারে , মেঘা নয় ডাকাত দলের সাথে আপনার মা বাবার প্ল্যান ছিল ! তারাই মেঘাকে ওদের হাতে লেলিয়ে দিয়েছে । আপনার জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ! আপনার বাবা মা উপরে মেনে নিলেও আদৌও কি মন থেকে মেঘাকে মেনে নিয়েছিল ? জান্নাতের কথায় মিনহাজের হাত থেকে সিগারেটটা পরে গেল । মিনহাজ অবাক হয়ে বলল

-কে তুমি ? জান্নাত সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল
-আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেন তো চিনতে পারেন কী না ? মিনহাজ শান্ত ভঙ্গিতে জান্নাতের দিকে তাকালো । খুব সাবধানে জান্নাতের চোখের দিকে দৃষ্টি রেখে পর্যবেক্ষণ করছে । না ! তেমন কিছুই মনে পড়ছে না ! মিনহাজ জান্নাতেরমুখে দুই হাত দিয়ে ধরে বলল

-কে তুমি ? আর কি বলতে চাও ? ক্লিয়ার বল ! জান্নাত একটু উত্তেজনা ভাব এনে বলল
-জানতে চান সেই ঘটনা ! তাহলে আর এক কাপ কফি হয়ে যাক ! জান্নাতের মুখে দুষ্টুমির হাসি ! মিনহাজ মৃদু ঘামছে। হালকা গরম অনুভব হচ্ছে । বাম হাতের তালু দিয়ে কপালের ঘাম মুছে মিনহাজ বলল

-আমার মাথায় কোনো কাজ করছে না । আসলেই, মেঘার এই ব্যপারটা আমি কখনও ভাবিনি ! হ্যা ! হতেও পারে , হয়তো ওই লোকদের সাথে বাবা মায়েরই হাত ছিল ! আর তুমি কিভাবে জানো এসব ? জান্নাত জোড়ে হেসে উঠে বলল

-আপনি কি আমার কথা সিরিয়াস নিয়েছেন ?
-তাহলে ! তুমি কি সিরিয়াস বলোনি ? জান্নাত হাসি থামিয়ে বলল
-আমি তো মজা করলাম ! মিনহাজ আর কথা না বলে রুমে চলে আসলো । পিছে পিছে জান্নাতও আসলো ।
-ওই শোনেন ! একদম নেশা করতে পারবেন না । আর নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে । এক কথায় একদমপারফেক্ট স্বামী হতে হবে । আর অতীতে কি হয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয় । বর্তমান নিয়ে থাকতে চাই ।

-থাকো , না করছে কে তোমাকে !

কথাটা বলেই মিনহাজ পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। রাত গভীর হয় ! মিনহাজ ঘুমে মেতে ওঠে ।জান্নাত কাপড় চেঞ্জ করে বেলকনির বেতের চেয়ারে বসলো । ঘুম আসছে না । দক্ষিণা বাতাসে জান্নাতের চুল গুলো এলোমেলো ভাবে উড়িয়ে দিচ্ছে । জান্নাত চোখ বন্ধ করে শীতল বাতাস অনুভব করছে । জান্নাত আরও অনুভব করলো ওর হাতে কেউ মায়াময়ী ভাবে স্পর্শ করছে । জান্নাত চোখ খুলে দেখলো পাশের চেয়ারটাই মিনহাজ বসে আছে । মিনহাজের এক হাত জান্নাতের হাতের উপর রাখা । মিনহাজ ফ্যালফ্যাল করে জান্নাতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে । ভ্রম কেটে মিনহাজ বলল

-এত রাত অব্দি জেগে আছো যে ! ঘুম আসছে না ?
-একটু পর ঘুমাবো ভাবলাম , আপনি উঠে আসলেন যে ? মিনহাজ জান্নাতের কথা খুব সাবধানে এড়িয়ে গেল । এমন একটা যেন কিছুই ওর কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি । একটা সিগারেট ধরালো । সিগারেটে কয়েকটা টান দিতেই জান্নাত কপট রাগ দেখিয়ে বলল

-আপনাকে এসব ছাইপাশ খেতে নিষেধ করেছি না ! জান্নাতের কথায় মিনহাজের কোনো ভ্রুক্ষেপ হলো না । জান্নাত সিগারেটটা ফেলে দিয়ে বলল
-এসব চলবে না । সকালে জান্নাতের চেচামেচিতে ঘুম ভাঙে মিনহাজের ।
– কি হলো , এত চেচামেচি করছো কেন ? জান্নাত কোমরে হাত রেখে রাগন্বিত স্বরে বলল

-মানুষ এভাবে কেমনে ঘুমায় ? ফজরের নামাজ পড়ার জন্য কতবার ডাকলাম , কোনো রেসপন্সই করলেন না । কোনো মানুষ এত ঘুমাতে পারে আমার জানা ছিল না । মিনহাজ আলসেমি ভাব কাটিয়ে বলল

-ঘুমের আবার কোনো নিয়ম আছে নাকি ? যখন কলেজে পড়তাম , তখন আমার স্যার প্রায় একটা কথা বলতেন , শুনবা সেই কথা ?
-বলেন দেখি আপনার সেই আমূল্য কথা ! মিনহাজ সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলল

-স্যার বলতেন , তোরা এখন যত পারিস আরামে ঘুমিয়ে নে । বিয়ের পরে যখন বাচ্চা কাচ্চা হবে তখন কিন্তু ঘুমাতে পারবি না । জান্নাত আবার রাগ দেখিয়ে বলল

-এখন এত বাজে বকা শুনতে ইচ্ছা করছে না । বাবা ফোন করে বলল সে আসতে পারবে না । সে একটা কাজে আটকে গেছে । তাই আমাদের দুজনকেই যেতে বলল । এখন উঠে খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন । সবার খাওয়া শেষ।

-তুমি খেয়েছো ?
-না , এখন খাবো । চলেন ! খাবার টেবিলে বসে মিনহাজ বলল
-শুনছো মা , জান্নাতের বাবা নাকি আসতে পারছে না । আমাদেরই যেতে হবে ।
-একটু আগে বলতি , তোর বাবা এগিয়ে দিয়ে আসতো । সে তো মাত্র বের হলো ।
-আহ মা , টেনশন করো না , আমি ঠিক সামলে নেব । শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে জান্নাত আর মিনহাজ বের হলো । বেশি দূর নয় খানিকটা পথ ।একটা সিএনজিতে চরলো দুজন । জান্নাত ইতস্তত মনোভাব করে বলল
-আচ্ছা , আপনি কি এই বিয়েতে খুশি ?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন ?
-না এমনি বলছি । আমার রুমমেট এক বড় আপু ছিল ।

বাড়ি থেকে পছন্দ করা ছেলের সাথে বিয়ে করেছিল ওই আপু । কিছু দিন বেশ ভালোই চলছিল । সব ধরনের গল্প আপু আমার সাথে শেয়ার করতো । প্রথম কিছু দিন তো আপু খুব খুশি ছিল । কিন্তু কিছু দিন পড়ে আপু শুধু মন মরা হয়ে থাকতো । কেমন হাসি খুশি মুখ চুপসে গেছিলো । বেশ কিছুদিন আপু ম্যাসে আসতো না । বাড়িতে ওই যে গেল , আর এলো না । পরে ম্যাস ম্যানেজার ঠিকানা অনুযায়ী খোঁজ করে জানতে পারে আপু নাকি মারা গেছে । ওনার স্বামী নাকি পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল । এই নিয়ে আপু অনেক ঝামেলা করেছে । তারপর একদিন আপুর হাজবেন্ড আপুকে একটা চর মেরেছিল । পরে সিলিং ফ্যানের সাথে আপুর মৃত দেহ পাওয়া যায় ! কেউ বলে আত্মহত্যা করেছে । কেউ বলে উনার স্বামী মেরে ফেলেছে । আর দোষ যাতে নিজের ঘারে না পড়ে তাই সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রাখছে । পরে আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি । এখন আপুর ক্যাসের ফাইলটা থানার শত ফাইলের নিচে পড়ে আছে ।

-আপা এইডা কি নাতুরিয়া তে হইছে ? জান্নাতের কথার মাঝখানে সিএনজি মামা প্রশ্ন করে বসলো । জান্নাত হ্যা উত্তর দিয়ে আবার আমাকে বলতে শুরু করলো ,

-জানেন , আরও অনেকে বলেছে ওই আপুর নাকি ভুতে ধরা রোগ হয়েছিল । মিনহাজ বলল

-তুমি কি বলতো চাচ্ছো , উনার মতো তোমারও হতে পারে ?
-এই না , ছিঃ ! এমন কথা তো আমি মনেও আনি না ।
-তাহলে বললে কেন ? জান্নাত হাত উচিয়ে বলল
-ওই দেখেন আমাদের বাড়িতে চলে এসেছি ।

জান্নাতের বাবার বাড়িটা খুব একটা মানসম্মত না । মিনহাজদের থেকে এরা একটু অর্থের দিকে দূর্বল । অর্থ দিয়ে প্রকৃত মানুষ যাচাই করা যায় না । স্বার্থ ছাড়া যে ভালো কিছু উ্পহার দেয় সেই প্রকৃত ভালো মানুষ । দূই দিন জান্নাতের বাড়ি থেকে আজ আবার বাড়িতে ফিরলো দুজন । রাতে খাবার পর মিনহাজ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে । আগামীকাল থেকে আবার সকল ব্যস্ততা শুরু । জান্নাত শুয়ে বলল

-আপনি তো দেখছি একদম আনরোমান্টিক ! এই কয়দিনে আমার দিকে ভালো করে তাকালেনই না । আমি কি দেখতে একদমই খারাপ ? মিনহাজ তাচ্ছিল্য করে বলল
-কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচতে পারে না এটা ভুল । কিন্তু ভালোবাসা গুলো মরে যায় । জান্নাত মিনহাজ মুখে হাত দিয়ে রাগন্বিত হয়ে বলল
-ওই মেঘাই আপনার কাছে সব হয়ে গেল ?

আমি কিছুই না ! জান্নাতের চোখে সুপ্ত লোনা জলের আবির্ভাব । যখন তখন বৃষ্টি নামতে পারে । জান্নাতের বুকের মাঝে কষ্টের বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে । মিনহাজ আঁচমকা জান্নাতকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো ‌ । জান্নাত অবাক হয়নি । কারণ এটাই ও চেয়েছিল । যেটা ওর অধিকার । সকালে মিনহাজ অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে । জান্নাত গত রাতের কথা ভেবে মিনহাজের সামনে আসতে লজ্জা পাচ্ছে । ব্যপারটা মিনহাজের নজর এড়ালো না । মিনহাজ কিছু চাইলে জান্নাত অমিতার কাছেসেটা পাঠিয়ে দিচ্ছে । তবুও মিনহাজেরসামনে আসছে না । মিনহাজ এবার লজ্জার মাথা খেয়ে বলল

-অমিতা তোর ভাবিকে পাঠিয়ে দে তো ? অমিতা রান্নাঘর থেকে চেচিয়ে বলল
-কি লাগবে বল ?
-তোর ভাবিকে লাগবে । অমিতা জান্নাতকে আলতো চিমটি কেটে বলল
-যাও এবার ! জান্নাত রুমে ঢুকতেই মিনহাজ ওর হাতদেওয়ালের সাথে ঠেসে ধরলো । তারপর ভ্রুনাচিয়ে বলল
-কি ব্যপার ! পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন ম্যাডাম ? জান্নাত আমতা আমতা করে বলল

-কই না তো ! মিনহাজ জান্নাতের হাত ছেড়ে দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলো । কলিংবেল বাজছে । বাসায় জান্নাত ছাড়া কেউ নেই । দরজা খুলে জান্নাত দেখলো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে । জান্নাত বলল

-কে আপনি ? কাকে চান ? মেয়েটি বলল
-আমার নাম মেঘা ! মিনহাজকে চাই । আমি ওর স্ত্রী ! মেয়েটির কথা শুনে জান্নাতের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা । কি শুনলো ও এটা ! দরজা খুলে জান্নাত দেখলো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে । জান্নাত বলল

-কে আপনি ? কাকে চান ? মেয়েটি বলল
-আমার নাম মেঘা ! মিনহাজকে চাই । আমি ওর স্ত্রী ! মেয়েটির কথা শুনে জান্নাতের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা । কি শুনলো ও এটা ! জান্নাত কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল

-মিনহাজের স্ত্রী মানে ? কি বলছেন এসব ! যদিও ব্যপারটা জান্নাত বুঝতে পেরেছে , এই হচ্ছে যেঘা । মেঘা হেসে দিয়ে জান্নাতকে বলল
-এই বাড়ির নতুন কাজের মেয়ে নাকি ?
-আমাকে দেখে কি আপনার কাজের মেয়ে মনে হয় ? জান্নাতের কথার উত্তর না দিয়ে , জান্নাতকে উপেক্ষা করে মেঘা বাড়ির ভেতরে ঢুকলো । ছোফায় বসে বলল

-এক কাপ চা দেন তো !

মেঘাকে দেখার পর থেকেই জান্নাতের কেমন যেন অস্থির লাগছে । শরীর জ্বলে যাচ্ছে। অমিতা নতুন কণ্ঠের আওয়াজ শুনে বের হয়ে আসলো । এসে তো অবাক ! মেঘার সাথে আবার কখনও দেখা হবে এটা সে কখনও ভাবেনি । তিনবছর পর মেঘার সাথে দেখা । সবাই ধরে নিয়েছে মেঘা হয়তো লজ্জায় আর কখনও ওর অস্তিত্ব উপস্থাপন করবে না । কিন্তু নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের যে কোনো লজ্জা নাই এটা অমিতা ঠিক বুঝতে পারলো । যার সুশিক্ষা নাই, যে কখনও ভালো ব্যবহার পায়নি , ভদ্রতা কাকে বলে জানেনা তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা সত্যিই হাস্যকর ! অমিতা চেচিয়ে ওর মাকে ডাকলো । অমিতারমা ড্রয়িং রুমে এসে তো অবাক হয়ে দাঁড়িয়েরইলেন । এটা তার দেখতে হবে তিনি কখনও ভাবেননি । তিনি কপট রাগ দেখিয়ে বললেন

-তোমার যদি একটুও মানসম্মান বোধ থাকতো , তাহলে আর এই মুখ আমাদের দেখাতে না ! এত টাকা পয়সা নিয়েও তোমার মন ভরেনি । আবার কি চুরি করতে এসেছো ?

-চুরি নয় , বরং আমার অধিকার নিতে এসেছি ।
-শোনো মেয়ে , তোমার মতো মেয়েদের পতিতা পল্লীতেই মানায় , ভালো পরিবেশ তোমার জন্য না । নষ্ট মেয়ে কোথাকার !
-এত কথা শুনতে ভালো লাগছে না ।

কাবিননামা অনুযায়ী আমি মিনহাজের প্রথম স্ত্রী । এখনও আমাদের ডিভোর্স হয়নি ‌ তাইআমার অধিকার এখনও আছে । জান্নাত প্রচণ্ড রেগে বলল

-আম্মা , ওকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে বলেন , আমার কিন্তু প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে !
-মিনহাজের সাথে দেখা না করে এক পাও নড়ছি না । আর আমি যাব কেন ? এই বাড়িতে আমার সমস্পূর্ণ অধিকার আছে । আমি এখানেই থাকবো । জান্নাত রুমে যেয়ে মিনহাজকে ফোন দিল ,

-আপনি এখনই বাসায় আসেন। মিনহাজ অবাক হয়ে বলল
-এখন ! কেন কি হয়েছে ? কোনো সমস্যা ? সব ঠিক তো ?
-এত কিছু বলতে পারবো না,

আসতে বলছি আসেন। বলেই জান্নাত লাইন কেটে দিল । মিনহাজ দ্রুত বাসায় আসার চেষ্টা করছে । কিন্তু ঢাকা শহরে সময় মেইনটেইন করে চলা খুব কষ্ট । এখনে জ্যাম লেগেই থাকে । মিনহাজ খূব ঘামছে । বাড়ির জন্য খুব টেনশন হচ্ছে । জান্নাত ফোনও রিসিভ করছে না । মিনহাজ বাসায় ঢুকেই মেঘাকে দেখে অবাক হলো । সামনে মা , অমিতা , জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে । মিনহাজ অস্টমাচর্য হয়ে বলল

-মেঘা তুমি ?
-জানি আশা করোনি আমাকে ! তুমি আমাকে ছাড়া ভালো থাকলেও আমি তোমাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারি বল ? তাই তো চলে এলাম ! মিনহাজের মা বলল

-দেখ , কি মেয়েকে বিয়ে করেছিলি ?

তোকে আমি কতবার বলেছিলাম , নর্তকীরা কখনও সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতে পারে না । তুই বলেছিলি , ও সম্পূর্ণ আলাদা , এই তার নমুনা ! বিড়ালকে যতই ভালো খাবার দাও , ও ইদুর দেখলে ধরবেই । আর নষ্ট মেয়েদের ভলো পরিবেশে রাখলেই তাদের আচরণ পরিবর্তন করা যায় না । তারা তাদের লেবেল কখনও ছাড়তে পারে না । অমিতা মুখ খুলল

-ভাইয়া ,এই আপদটাকে বিদায় কর ।

ও যতক্ষণ বাড়িতে থাকবে , কেমন দুর্গন্ধ লাগছেপরিবেশটা । চারিদিকে পাপি পাপি গন্ধ ভেসে বেরিয়েছে ।মেঘা সবার কথা উপেক্ষা করে মিনহাজেরকাছে যেয়ে বলল

-ইশ কত শুকিয়ে গেছো !
-একদম আমায় ধরবি না । তোর ওই হাত অপবিত্র , তোর সারা শরীরের পাপ ছড়িয়ে আছে । এখনই এখান থেকে চলে যা তোর মুখ দেখতে চাই না ।
-উঁহুঁ , আমার অধিকার থেকে আমি এক পাও অনঢ় হবো না । আমার অধিকার আমি হাসিল করেই ছাড়বো ।
-তুই তো অধিকার না ! টাকা নেওয়ার ধান্দায় এসেছিস । বল কত টাকা চায় তোর ?
-আমার টাকা চাই না , আমার শুধু তোমাকে চাই !
-আর একটাও কথা বলবি না । এখনই বের হয়ে যা বাড়ি থেকে । নয়তো খুব খারাপ হবে । মেঘা হাসলো ,
-এমন করছো কেন ? তোমার শরীর ঠিক আছে তো ।
-বললাম না , শরীরে হাত দিবি না ।

তোর স্পর্শ আমার কাছে চরম ঘৃণা লাগে । যা বের হয়ে যা বলছি ! মেঘার মাঝে কোনো পরিবর্তন নেই । মিনহাজ মেঘার হাত ধরে টানতে টানতে বাড়ির বাইরে বের করে দরজা বন্ধ করে দিল । এতটা চাপ নেওয়া কষ্ট হয়ে যাচ্ছে । কেউ ঠিকমতো আচরণ করছে না । মিনহাজের বাবা রাতে বাসায় ফিরে এসব শুনে মিনহাজকে উত্তমমাধ্যম দিলেন । জান্নাত ঠিকমতো কথা বলছে না । মিনহাজ একা একা বেলকনির বেতের চেয়ারে বসে আছে । মনটা বেশ খারাপ । সকালে কলিংবেল বেজেই চলেছে । সবাই ব্যস্ত । তাই মিনহাজ দরজা খুলল । তারপর চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো ! দরজার ওপাশে পুলিশ দাঁড়িয়ে । এত সকালে পুলিশের দলবল হাজির হওয়ার কারণটা বুঝতে পারলো না । পুলিশের একটু পিছনে পরিচিত মেঘাকে দেখে মিনহাজ বুঝতে পারলো আসল কাহিনী ।

-আপনি মিনহাজ ?
-জ্বী , ভেতরে আসুন প্লিজ ! সবাই ছোপায় বসা । ইন্সপেক্টর শফিকুল বললেন
-মেঘা আপনার প্রথম স্ত্রী , রাইট !
-হ্যা ।
-তো এখন তাকে মেনে নিচ্ছেন না কেন ?
-সে একটা প্রতারক । মানুষ হিসেবে তার কোনো পরিচয় আছে বলে আমি মনে করি না ।
-কিভাবে বুঝলেন ?
-ওকে বিয়ে করার পর ,

ও আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বাইরের লোকের সাথে হাত মিলিয়ে সব কিছু চুরি করে নিয়ে যায় । আমি ওকে অনেক বিশ্বাস করতাম । কিন্তু আমি ভুলে গেছিলাম যে ওকে তো ডাস্টবিন থেকে নিয়ে এসেছি । যা কখনও ভালো হওয়ার যোগ্যনা ।ইন্সপেক্টর শফিকুল বললেন

-আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে ?
-না !
-তাহলে কিসের ভিত্তিতে আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করবো ? আর আপনি তো এই সম্পর্কে কোনো জিডিও করেননি , যদি করতেন তো এখনআমরা আপনার পক্ষে কথা বলতে পারতাম । আরমেঘা তো বলছে , সে কিডন্যাপ হয়েছিল । আপনার তো উচিত ছিল তাকে খুঁজে বের করারচেষ্টা করা ।মিনহাজ তটস্থ হয়ে বলল

-ইন্সপেক্টর , আপনি এখন কি বলতে চাচ্ছেন ?
-আমি চাচ্ছি মেঘাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে । এখন আপনি কি চাচ্ছেন সেটা বলেন ? মিনহাজ জান্নাতের দিকে তাকালো ! কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না । মিনহাজ বলল

-দেখেন , আমার বাবা মা মিথ্যা বলেনি । আর ও যদি কিডন্যাপ হতো তাহলে নিশ্চিত যে বাবা আর মা আমাকে এই বিষয়ে জানাতো । কিন্তু এটাই সত্যি যে ওই , ডাকতের সাথে হাত মিলিয়েছে । আমি চাচ্ছি ওকে ডিভোর্স দিতে

-শুনুন , মেঘা তো ডিভোর্স দিতে চাইছে না ।

তাই আমার মনে হয় আপনার আর একটু ভাবা উচিত । আমি আগামীকাল আসবো , ভেবে নিন । সময় আছে । রাতে কয়েকবার মিনহাজ জান্নাতের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলো , কিন্তু জান্নাত একবারও কথা বলল না । মিনহাজকে এড়িয়ে চলছে । শোনো জান্নাত , যা হচ্ছে এতে আমার একদম হাত নেই । একটা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি । তাই তার প্রতিদান আমাকে এখন দিতে হচ্ছে । তবে যাই হয়ে যাক না কেন ? আমি তোমারপাশে থাকবো ।কথা গুলো বলতেই মিনহাজ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল । ঘটনা স্থলের জান্নাত অবাক । জান্নাত চেচিয়ে সবাইকে ডাকলো ! দ্রুত মিনহাজকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হলো । রিপোর্ট নিয়ে মিনহাজের বাবা ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হলেন । জান্নাত উত্তেজিত হয়ে বললেন

-কি হয়েছে বাবা , ডাক্তার কি বলল? তিনি পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন । জান্নাত আটকে ধরলো ।
-কি হলো বলেন ?
-কিছু হয়নি !
-তাহলে বলছেন না কেন ? প্লিজ বলেন ! জান্নাত কেঁদে দিল । মিনহাজের বাবা ইতস্তত বোধ করে বললেন
-মিনহাজের ক্যান্সার !

কথাটি শুনে জান্নাত একদম নিশ্চুপ হয়ে গেল ! ওযেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে । চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে । জান্নাত ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো । আশেপাশের শত শত চোখ জান্নাতের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে ! মিনহাজের বাবা ইতস্তত বোধ করে বললেন

-মিনহাজের ক্যান্সার !

কথাটি শুনে জান্নাত একদম নিশ্চুপ হয়ে গেল ! ও যেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে । চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে । জান্নাত ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো । আশেপাশের শত শত চোখ জান্নাতের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে ! জান্নাতকে কয়েকজন ধরে নিয়ে চেয়ারে বসালো । জান্নাত কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছে না । জান্নাতকে কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছে না। কেমন পাগলের মতো আচরণ করছে । জান্নাত মিনহাজের কাছে গেল । মিনহাজ মাত্র জেগেছে ।চোখের নিচে কালো দাগ, মুখে হাসি । অথচ এই মানুষটার ভেতরেই ভয়ংকর একটা রোগ বাসা বেধে আছে । জান্নাত মিনহাজকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল । এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে মিনহাজ বলল

-কি হয়েছে কাঁদছো কেন ? আমি তো ঠিক আছি ! আর ডাক্তারও বলেছে সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন এসব কঠিন রোগেরও অনেক চিকিৎসা আছে তুমি কেঁদো না প্লিজ ! জান্নাতের মুখে নেই কোনো শব্দ , নেই কোনো অভিযোগ । তবে চোখে অভিমান প্রচুর । জান্নাতের চোখ দুটো বলতে চাচ্ছে ,

-আমি এই কয়দিনে সত্যিই তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি । তোমাকে ছাড়া আমার একটা দিনও চলবে না । আমি ভালো থাকতে পারবো না । জীবনের এই অবস্থায় আমি তোমাকে হারাতে চাই না । না ! আমি কখনোই তোমার থেকে দূরে থাকতে চাই না । তাহলে কেন আমাকে একা করে চলে যাচ্ছো অজানায় ? তাহলে কি তুমি আমাকে ভালোবাসো না ? নিজের মনের কথায় নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ব করে জান্নাতকে । নিজের অজানা কল্পনার কথাইও প্রচণ্ড অভিমান হয় ।

-জান্নাত , জান্নাত ! এই জান্নাত !

জান্নাতের ঘোর কাটে । মিনহাজকে ছেড়েদেয় । পাশে ফিরে দেখে ইন্সপেক্টর শফিকুল দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি নরম সুরে বললেন ,

-মিনহাজ সাহেব , কেমন আছেন এখন ?
-এই তো , এখন সুস্থ ! ইন্সপেক্টর এবার একটু সরল ভঙ্গিতে বললেন
-মেঘা তো আপনাকে ডিভোর্স দিতে রাজি হয়েছে । এখন আপনি কি বলছেন ? মিনহাজ খানিকটা খুশি হয়ে বলল
-যত তাড়াতাড়ি পারেন কাজটা মিটিয়ে দেন ।
-সেটা না হয় করলাম । কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেছে । মিনহাজ এবার তটস্থ হয়ে বলল
-আমার যে ক্যান্সার ধরা পড়েছে এটা কি মেঘা জানে ?
-হ্যা ! আমি বলেছিলাম । মিনহাজ মন খারাপ করে বলল
-তাও দেখতে এলো না ! জান্নাত রাগন্বিত হয়ে বলল
-ওর জন্য খুব মায়া হচ্ছে বুঝি ?
-তা না , তবে আমার এত বড় একটা অসুখ , যখন তখন মারা যেতে পারি এটা যেনে তো ওর একবার হলেও আসার দরকার ছিল । ইন্সপেক্টর বললেন
-সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যপার , আমি এটা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না ।
-আপনি যত দ্রুত পারেন ডিভোর্সের কাজটা মিটিয়ে দেন । ইন্সপেক্টর চেয়ার টেনে বসে বললেন
-মিনহাজ সাহেব,

মেঘা আমার কাছে কাবিননামার ফটোকপি পাঠিয়েছে । ওখানে যে টাকার ব্যপার আছে সেটা ছাড়া তোআমি সমস্যা সংশোধন করতে পারছি না । কারণ দেন মোহরের টাকা তো তাকে পরিশোধ করতেই হবে । এবং এটা তার প্রাপ্য । জান্নাত বলল

-যত টাকা দেন মোহর আছে সব দেওয়া হবে । আপনি কাজটা শেষ করেন ।
-ম্যাডাম , সামান্য হলে আমি এত কথা খরচ করতাম না । কিন্তু এখানে দেন মোহরের পরিমাণ এক কোটি এক টাকা ! জান্নাত চমকে উঠলো ! এত টাকা দেন মোহর ! মিনহাজের দিকে তাকিয়ে দেখলো সেও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । মিনহাজ উত্তেজনা নিয়ে বলল

-কি বলেন এগুলো ! এত টাকা হবে কেন ! দশ লাখ এক টাকা দেন মোহর ধার্য করে মেঘাকে আমি বিয়ে করেছিলাম।
-দেখুন , এখানে তো আমার কিছু বলার নাই । কাবিনে যা লিখা আছে তাই আমি বলছি ।
-না এত টাকা না । মেঘার কাছে শুনে দেখেন, আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে ! ইন্সপেক্টর বললেন
-দেখুন , আমি একটা তারিখ ঠিক করে জানাবো।

এখন যদি আপনারা না পারেন তাহলে মেঘাকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না । আজ তাহলে উঠি । ইন্সপেক্টর শফিকুলের কাছ থেকে সব কিছু শুনে মিনহাজের বাবার মাথাও কাজ করছে না । এত টাকা কোথায় পাবেন ? তার মাথায় শুধু এই চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে । জান্নাত মিনহাজের বাবাকে বললেন সব কিছু । যদিও তিনি আগেই সবটা ইন্সপেক্টর শফিকুলের কাছ থেকে জেনে নিয়েছেন ।

-আমার কাছে তো এত টাকা নেই ।

তারউপর ব্যবসায় খালি লস হয়েই চলেছে । কিছু দিন আগে ব্যাংকের লোন শোধ করে আমি এখন শূণ্য হাতে আছি । এখনও মিনহাজের চিকিৎসার অনেকটা বাকি । হয়তো অনেক টাকা লাগবে । আমার কাছে যা আছে তা দিয়ে সব কিছু কম্পিলিট হবে না । তিনি মাথায় হাত দিয়ে বললেন

-আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না । জান্নাত বলল
-বাবা আপনি এত টেনশন করবেন না । আমি দেখছি কি করা যায় । মিনহাজের খেয়াল রাখবেন । আমার ফিরতে রাত হতে পারে । আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে আসার চেষ্টা করবো । মিনহাজের বাবা অবাক হয়ে বললেন

-কোথায় যাচ্ছো তুমি ?
-মা বাবার কাছে যাচ্ছি । তারা যদি কোনো সাহায্য করতে পারে ।
-শুনলাম তারাই নাকি একটু খারাপের মধ্যে আছে । এখন তুমি যেও না । তারা আরও বেশি সমস্যার মধ্যে পড়বে । তুমি থাকো , আমি দেখিকোনো ব্যবস্থা করতে পারি কি না ।

-না , তাও আমি একবার যেতে চাই !

জান্নাত উনার কথা উপেক্ষা করে হাঁটতে শুরু করলো । দরজায় কিছুর শব্দে মিনহাজ দরজার দিকে তাকালো । মেঘা দাঁড়িয়ে আছে । মুখে হাসি। মেঘা মিনহাজের পাশে বসে বলল

-কেমন আছো সুইটহার্ট ?
-মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছি । মেঘা মিনহাজের মুখে আলতো ছুয়ে দিয়ে বলল
-ইশ ! কেমন শুকিয়ে গেছো । ঠিকমতো খাও না নাকি ?
-আমার এত খেয়াল রাখতে হবে না । তুমি তো খুশি ? মেঘা হেসে বলল
-আসলে,

এখানে আমার দোষ আছে কি না জানিনা । ছোট থেকে মানুষের হাতে বড় হয়েছি । এক কথায় মানুষের হাতের পুতুল । যেভাবে ইচ্ছা আমাকে ব্যবহার করেছে । আমি শুধু দু-মুঠো খাওয়ার আশায় যে যা বলতো তাই করতাম । এখনও তাই করি, তবে পরিবর্তন শুধু অর্থের। আগে ছিল কম আর এখন নির্দিষ্ট এবং বেশি । তোমার মায়ের সেই দিন বলা কথা গুলো সত্য । যার সু-শিক্ষা নাই , ভদ্রতা জ্ঞান নাই , সে কখনও ভালো ব্যবহার করতে পারে না । আমিও ঠিক তাই । আমার কাছে টাকা ছাড়া অন্য কিছু্র কোনো দাম নেই । মেঘা আর একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল

-আর ভালোবাসা !

সে তো 2012 সালেই মরে গেছে । তাই এখন আর আবেগে মন টানে না । তবে আমার জীবনে যদি কোনো ভুল থাকে , সেটা তোমাকে ধোকা দিয়ে যে ভুল করেছি। তুমি একজন ভালো মানুষ , তোমার পরিবারের সবাইও খুব ভালো । মেঘা উঠে দাঁড়িয়ে বলল

-আজ তাহলে উঠি ! এই জীবনে তোমার সাথে আর দেখা করার ইচ্ছা নেই । ইচ্ছা আছে , কিন্তু দেখা করবো না । মেঘা উঠে দরজার কাছে যেতেই মিনহাজ বলল

-কাবিননামা তো দশলাখ করা হয়েছিল ।

সেখানে এক কোটি কিভাবে হলো বুঝলাম না । মেঘা হাসলো । মুখে হাসির রেখা টেনে চলে গেল । কোনো প্রতিউত্তর করলো না । মনে মনে বলল, আস্ত একটা বোকা !

-বাবা , আমার ৫০ লক্ষ টাকা লাগবে । জান্নাতের এমন কথা শুনে ওর বাবা মা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ।
-এত টাকা কি করবি?
-কি করব সেটা তোমার না জানলেও চলবে ।

তবে আজকে বিকেলের মধ্যে যদি আমার শ্বশুরের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা না দাও তবে মনে রাখবে তোমার মেয়ে মারা গেছে । জান্নাত নামের কোনো মেয়ে তোমাদের ছিল না। আর হ্যা , তোমাদের জামাই অসুস্থ । হাসপাতালে ভর্তি আছে । যদি টাকা না দাও তবে দেখতে এসো না । আমার অনুরোধ রইলো । জান্নাতের বাবা ওর দিকে তাকিয়ে দেখলো , তার মেয়ের মাঝে কেমন অগোছালো একটা ভাব । মনে হচ্ছে কয়েকদিন ঠিকমতো খায় না । চোখ দেখে মনে হচ্ছে কয়েক রজনী তার চোখে নিদ্রা পড়েনি । জান্নাত দ্রুত ওদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো । উদ্দেশ্য হাসপাতাল ! পরেরদিন সবার উপস্থিতিতে মিনহাজ আর মেঘার ডিভোর্স সম্পন্ন হলো । যদিও পুরোপুরি না । ছয় মাস সময় লাগবে । তবে এখানে কঠিন একটা স্টাম্প করা হলো । এরপর দুজনের কেউ চাইলেও আর একসাথে হতে পারবে না । মিনহাজকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে । ডাক্তার যখন বলল

-আপনারা পেশেন্টকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন ‌।তখন সবাই অবাক হয়ে বলল
-মানে , এত বড় অসুস্থতার মাঝে বাড়িতে নিয়ে কি করবো ? ডাক্তার হেসে দিয়ে বলল

-আসলে ব্যপারটা সাজানো । উনার তেমন কিছুই হয়নি। উনি আমাকে এই সব ঝামেলার কথা বলেছিলেন । তাই আমরা দুজন মিলে এই প্ল্যান করি । যাতে মেঘাকে তাড়াতাড়ি দূর করা যায় । মেঘা এমনিতেও চলে যেত কিন্তু একটু সময় নিত আর ঝামেলা বাঁধাতো । তাই এই প্ল্যান করা । উনার মাথায় একটু চোট পেয়েছে । ওষুধ ঠিক মতো খাওয়ালে ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে । ডাক্তারের কথা শুনে জান্নাতের মনে এক কালো অন্ধকার জমা ছিল তা মুছে গেল । কিন্তু ওই জায়গা টুকু অভিমানে ভরলো । কত টেনশন ছিলাম। আর সে আমার সাথে এমনটা করলো। বাড়িতে এসে জান্নাত মিনহাজের সাথে কথা বলছে না । খুব অভিমান করেছে । মনে অভিমানের এক বিশাল পাহাড় এঁকে রেখেছে। রাতে মিনহাজের জন্য খাবার দিতে রূমে গেলে মিনহাজ বলল

-কি ব্যপার কথা বলছো না কেন ?

জান্নাতের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই । জান্নাত রুম থেকে বের হতে নিলেই মিনহাজ পথ আটকে দাঁড়ালো ।

-কি ব্যপার , পালাচ্ছো কেন ?

জান্নাত তবুও কথা বলছে না । মিনহাজ হাল ছেড়ে দিয়ে বিছানায় এসে বসলো। কি করা যায় এখন!! মাঝরাতে ঘুম ভেঙে মিনহাজ দেখলো জান্নাত পাশে নেই । তটস্থ হয়ে উঠলো । তারপর পা টিপে বেলকনিতে যেয়ে দেখলো জান্নাত জানালার গ্ৰিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। জান্নাতের মন খারাপ হলে মাঝ রাতে বেলকনিতে এসে বসে থাকে ।মিনহাজ জান্নাতকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো । কারো শীতল পরিচিত স্পর্শ জান্নাতকে মুগ্ধ করলো । জান্নাতকে নিজের দিকে মুখ করতেই জান্নাতের চোখে সুপ্ত জলের আবির্ভাব মিনহাজকে এক অজানা ব্যথায় ব্যথিত করলো ।

-জান্নাত তুমি কাঁদছো কেন ? জান্নাত কথা না বলে মিনহাজকে জড়িয়ে ধরলো । মিনহাজ বলল
-আমি সরি , আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। তবুও দিয়েছি । প্লিজ ক্ষমা কর ! জান্নাত কান্না জড়িত কণ্ঠে বলল
-তুমি খুব পচা , এত কষ্ট দাও কেন আমাকে ?

কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না । থাকে শুধু নিশ্চুপ চাহনী । ভালোবাসার অপার মুগ্ধতা গ্ৰাস করছে মিনহাজকে । হালাকা বাতাসে জান্নাতের চুল উড়ছে । চোখে হালকা জল । কাজল নেওয়া থাকলে ঠিক লেপ্টে যেত । মিনহাজ আর একটু শক্ত করে , ভালোবাসার মুগ্ধতায় জড়িয়ে নিল ওর আপনজনকে । ভালোবাসা তো এমনি , যেখানে অনুভব আছে , শীতলতা আছে , মনের গহীনে একটা জায়গা আছে যা তার জন্য বরাদ্দ !

(সমাপ্ত )

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত