ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে

ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে

আজকে আমার বিয়ে হয়েছে, তাও আবার সাত বছর প্রেম করার পর। আর কিছুক্ষণ পর বাসর ঘরে যাওয়া হবে। কিন্তু এতে যতটাই না খুশি তার থেকে বেসি চিন্তিত আছি। হয়তো অবাক হচ্ছেন ভালোবাসার মানুষের সাথে বয়ে হওয়ার পরেও কেনো চিন্তিত। কি আর বলবো দাদা, বউ আমার দেখতে মাশাল্লাহ, কিন্তু সমস্যা একটাই “সুড়সুড়ি” হ্যা ঠিকই শুনছেন, সুড়সুড়ি।

ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার থেকে প্রেম করি। আর আদিবা তখন দশম শ্রেনীতে পড়তো। আমি ওরে আদি বলেই ডাকি, তবে ওর যে সুড়সুড়ি রোগ আছে সেটা আমি জানতাম না। সুড়সুড়ির ও একটা সীমা আছে কিন্তু ওর একেবারে অতিরিক্ত সুড়সুড়ি । ওর এস এস সি পরিক্ষার পরে, ওকে নিয়া ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেদিন প্রথম ওর হাত ধরার অনুমতি চেয়েছিলাম। ও বলেছিলো “ধরতে পারো তবে আমার সুড়সুড়ি করে” আমি ভেবেছিলাম হয়তো মজা করছে। আমি যেইনা হাত ধরলাম ওমনি সে হেসে উঠলো, আমি বোকা বনে গেলাম। সেদিনের মত হাত ধরা বাদ দিলাম। এর পর আর ওর হাত ধরার ইচ্ছা ভুলেও করিনাই।

একবার বৃষ্টির সময় ঘুরতে গিয়েছিলাম নদীর পাশে। নদীর পাশটা সুন্দর করে বাধানো। কিন্তু বৃষ্টির কারনে পিছলে ছিলো। হাটার সময় আদি হঠাৎ করে পা পিছলে পরে যাবে এমন সময় আমি ওকে ধরে ফেলি। অসাবধানতার কারনে আমি ওর কোমড়ের কাছ দিয়ে ধরি। বিপত্তি তো ওখানেই। কোমড়ে হাত লাগার সাথে সাথে সে কি চিৎকার। আমি ভয়ে চোটে ওকে ছেড়ে দেই। আর ও নিচে পরে গিয়েছিলো। আমি লোক লজ্জায় এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। দেখি অন্যান্ন কাপল রা আমাদের অবস্থা দেখে মিটমিট করে হাসছে। সেদিন আবেগে কান্না চলে আসছিলো। এতো কমই। প্রেম টিকিয়ে রাখার জন্য আপুর সাথে ওর দেখা করিয়ে ছিলাম। আপু ওকে দেখে পছন্দ হয়েছে বলে জানায়। আর একটা আংটি পরাবে বলে ঠিক করে।

আমি ভেবেছিলাম, কোন মেয়ের হাতের স্পর্শে হয়তো ওর সুড়সুড়ি করবে না। কিন্তু আমার ধারনা ভুল ছিলো, আপু যখন ওরে আংটি পরাচ্ছিলো ও কেচোর মত করছিলো। তাও ঠিক ছিলো চিৎকার করেনি। কিন্তু বিপত্তি তখন ঘটলো যখন আপু ওর কাধে হাত দিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলো। কাধে হাত দিতে দেরি কিন্তু আদির চিৎকার করতে মোটেও সময় লাগেনি। একটা মজার ব্যাপার ওর এই সুড়সুড়ি রোগের কারনেই আমাদের ভালোবাসা টিকে আছে। কারন আমাদের সাত বছরের প্রেমে, ওর জন্য প্রায় ২০/২৫ টা সমন্দ আসছিলো। আর তার মধ্যে প্রায় ১০/১৫ টাতেই এই সুড়সুড়ি এর জন্য ভেস্তে গেছে।

যাই হোক অনেক ঝামেলার পরে আমাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন তো হলো এর পরে কি হবে সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত। কাজিন রা আর ভাবিরা মিলে আমায় বাসর ঘরে ঠেলে পাঠিয়ে দিলো। আমি রুমের দরজা দিয়ে খাটের নিচটা চেক করলাম কেউ আছে নাকি। কারন আমার কাজিন গুলা বদের হাড্ডি, বলা যায় না কি করে। আদি আমায় পা ধরে সালাম করলো, নিয়ম অনুযায়ী স্বামি স্ত্রীর হাত ধরে তুলে কিন্তু আমি ভয়ে তুলছিনা। সালাম করে ও আবার খাটে বসে পড়লো। আমার শরির ঘামে ভিজে গেছে। অনেকেই বাসর ঘর নিয়ে সপ্ন দেখে কিন্তু আমি দুঃসপ্ন দেখেছি। না জানি কখন চিৎকার দেয়। আল্লাহ মালুম। আমি চুপচাপ বসে আছি। আমায় চুপচাপ দেখে আদি বললো।

-ওই কিছু বলছো না যে??(আদি)
-কি বলবো? তুমি কিছু বলো।
-চলো ছাদে যাই।
-আচ্ছা চলো।
-আমার হাটতে ইচ্ছে করছে না।
-ওহ তাহলে থাক।
-কিন্তু অনেক ইচ্ছে ছাদে গিয়ে তোমার কাধে মাথা রেখে, সাড়া রাত কাটাতে।
-চলো তাহলে।
-বললাম না, আমার হাটছে ইচ্ছে করছে না (রেগে)
-তাহলে??
-কোলে করে নিয়ে যাও।
-কোলে? তোমাকে? আমি??
-কেনো? তুলতে পারবে না??
-তোমার থেকে ভারি বস্তাও তুলেছি অনেক। কিন্তু তোমাকে?? কেম্নে সম্ভব??
-অসম্ভব এর কি আছে হ্যা??
-তুমিকি জানো না??
-ওহ আচ্ছা। আচ্ছা যাও চিৎকার করবো না।
-ভরসা পাচ্ছি না।
-ওয়াদা করছি। এবার তো তুলো।

কি আর করার আমি আল্লাহ হু আকবর বলেই আদিবা কে কোলে তুলে ছাদে চললাম। একদম ছাদে গিয়ে ওকে নামালাম। আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। কারন ও একবার ও চিৎকার করলো না। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালে,

-মি. সিয়াম আজ এই সুড়সুড়ি রোগের জন্যই আপনার আর আমার বিয়ে হয়েছে বুঝলেন??
-মানে?? কি বলছো?
-হ্যা মি.।
-এই মিথ্যের কারন??
-মি. আমার এই রোগের জন্যই কিন্তু আমার অনেক গুলো বিয়ে ভেঙে গেছে। যার ফলে আজ আমাদের বিয়ে হয়েছে।
-যদি আমার পরিবার ও ভেস্তে দিতো?
-হিহিহি, দেয় তো নাই। আর আমার তোমার প্রতি বিশ্বাস আর ভালোবাসা ছিলো।
-বদের হাড্ডি কোথাকার। তার মানে তোমার কোন সুড়সুড়ি নেই??
-উহু, নেই।
-তাই?? তাহলে একটু টেষ্ট করছি, কাতুকুতু দিয়ে।
-ওই না,

না এবার কিন্তু সত্যি চিৎকার দিব ওর চিৎকার দেয়ার আগেই আমি ওর মুখটাই বন্ধ করে দিলাম। বাকিটা আপনাদের না জানলেও চলবে। লজ্জার একটা বেপার আছে তো। বেচে থাকুক ভালোবাসা, ভালোবাসার মানুষ গুলোর জন্য শুভেচ্ছা।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত