ভালবাসি তোমাকে

ভালবাসি তোমাকে

রুহী :- আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,,!

রাজ :-তাই নাকি? কবে,, ?

রুহী :- তুমি কি সিরীয়াস হবে না ..?

রাজ :- কনগ্রাচুলেশন্স!! সিরিয়াসলি বলছি বিয়েটা করেই নাও!!

রুহী :- হোয়াট!! তুমি আমাকে বিয়ে করবে না,,?

রাজ :- সরি, আমি পারবো নাহ!

রুহী :- তাহলে প্রেম করেছিলে কেন?

রাজ :- আবেগে!!

রুহী :- হোয়াট!! এখন কী…?

রাজ :- বাস্তবতা,,!

রুহী :- প্রেম করার সময় তো একবার ও বাস্তবতা ভাবোনি, কোথায় ছিলো তোমার এই বাস্তবতা ..?

রাজ :- ভেবেছিলাম হয়তো এতদিনে কিছু একটা হবে।

রুহী :- কেন হলো না কোন কিছু? আমি বলে রাখলাম, তোমাকে ছাড়া অন্য কাওকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না,।

রাজ :- তাহলে তো চিরকুমারীই থাকবা সারা জীবন…।

রুহী :- দেখো, এমন করোনা প্লিজ আমার কিন্তু কান্না পাচ্ছে,।

রাজ :-ভালো,, তাতে তো আমার কিছু যায় আসে না,।

রুহী :- সত্যিই, তোমার কি কিছু যায় আসে না …?

রাজ :- না,।

রুহী :- লজ্জা করেনা তোর ..,? একটা মেয়ের সাথে এতদিন ধরে রিলেশন করে, অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে করতে …? সত্যি তুই অনেক খারাপ।

রাজ :- আমি বিয়েই করবো না..। আর তাছাড়া দেখো, আমি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই,,,। আর তাছাড়া আমার দুটো ছোট বোন আছে, এই সময় আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব না, মধ্যবিত্তদের কষ্টটা তুমি কি বুঝবে,,,,?

রুহী :- তাহলে আমার বাবা কি কোটিপতি,,,,?

রাজ :- তুমি তোমার বাবার একমাত্র কন্যা, বনী ভাইয়ের আদরের বোন, কোটিপতি না হলেও আমার মত অভাবের সংসারে বড় হও নি।

রুহী :- এখন বুঝতে পারছি, আমার লাইফের সবথেকে বড় ভুলটা হলো, তোর সাথে রিলেশনশীপ করা,,,,। তোর লাইফে কখনো সুখ আসবে না। দেখে নিস তুই এই বলে রুহী কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল,। ওর সাথে রাজের রিলেশন প্রায় তিন বছর..। ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, এই মাসেই ওর বিয়ে,,।

শুনেছি ওর বর টা নাকি, অনেক সুন্দর। আর তাছাড়া অনেক ভালো চাকরিও করে,।ওই তুলনায় রাজের তো কিছুই নেই! আসলে বাস্তব জীবন কখনো রুপকথার রোমান্টিক গল্প গুলোর মত হয় না। হয় ঠিক তার উল্টোটা। আজ যদি আমি ওকে আটকাতাম, তাহলে আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুলটা করতাম। না হয় আমার জীবনের সবথেকে সফল কাজটা করতাম,,। আজ নিজেকে খুব একা লাগছে। রুহি নিজ থেকেই রাজের লাইফে এসেছিল। প্রথমে হয়তো ওকে খুব একটা পাত্তা দিতো না রাজ, কারণ রাজ জানতো এটার শেষ পরিণাম খুবই ভয়ংকর হবে,। আর আজ সেটাই হলো,। কিন্তু অবশেষে রুহির পাগলামিতে রাজ রুহীর প্রেমে পড়ে গেল,,। রুহি সবসময় রাজকে খুব কেয়ার করতো, এটা করবে না, সেটা করবে না, রাত জাগবে না, সময়মতো খাওয়া দাওয়া করবে,এই সেই,। এখন সবই অতীত,। চোখের সামনে যেন সবকিছু ঝাপসা দেখাচ্ছে,,। আজ রুহির বিয়ে, নদীর পাড়ে বসে আছে রাজ,,। এই নদীর পাড়ে রুহীর সাথে একসাথে কাটানো স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে রাজের,,। এমন সময় হঠাৎ রাজের ফোনটা বেজে উঠলো, রুহী কল দিয়েছে

রুহী :- ওই! তুমি কোথায়?

রাজ :- এইতো নদীর পাড়ে বসে আছি।

রুহী :- তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো,,

রাজ :- বলে ফেলো,

রুহী :- তুমি কি আমাকে সত্যিই বিয়ে করবে না ? [কাঁদো কাঁদো গলায় বললো রুহী ]

রাজ :- না,।

রুহী:-তাহলে আমিও আর কাউকে বিয়ে করছি না। আসলে কি বলতো, তোমাকে নিয়ে এতদিন ধরে, এত গুলো স্বপ্ন দেখেছি। এত আশা দিয়েছো তুমি আমাকে। আজকে এক মুহূর্ত সময় নিলে না সেগুলো ভেঙে ফেলতে..? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে ছাড়া থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে। সত্যিই বলছি আমি পারবো না তোমাকে ছাড়া থাকতে। তার থেকে অনেক ভালো হবে আমি এই পৃথিবী ছেড়েই চলে যাই।

রাজ :- এমন ডিসিশন নেয়ার আগে কি ভেবেছো একবার,?

রুহী :- ভাববার মতো কিছুই বাকি নেই। সত্যি তোমাকে অনেক মিস করবো। জানো, বড্ড বেশি ভালবাসি তোমাকে। সত্যিই অনেক ভালবাসি গো।

রাজ :- দেখো, পাগলামি করো না। কিছুদিন পর দেখবে সব কিছুই ঠিক হয়ে গেছে।

রুহী :- কিছুই ঠিক হবে না, বর্তমান যুগের মেয়েদের মত আমি না, ভালো থেকো তুমি। [ একথা বলেই রুহি রাজের ফোনটি কেটে দিল,। রাজ জানে রুহী সত্যিই কিছু একটা করবে,। কারণ রাজ জানতো বড্ড বেশি রাগী রুহি কিন্তু রাজ এখন কি করবে? রাজের মাথাটা প্রচন্ড ভাবে ঘুরছে,,। না দেখেই রাস্তা পার হচ্ছিলো রাজ,,। এমন সময় প্রচন্ড গতিতে একটা কে এসে রাজ কে ধাক্কা মারলো,,। সাথে সাথেই জ্ঞান হারালো রাজ,। তারপর আশেপাশে থাকা লোকজন গুলো তাকে তুলে হাসপাতাল নিয়ে গেলো। এতক্ষণে তার বন্ধুরাও সবাই পৌঁছে গেছে, কিছুক্ষণ পর রাজের জ্ঞান ফিরলো,। জ্ঞান ফিরতেই রাস্তার বন্ধু কে প্রশ্ন করলো ]

রাজ :- দোস্ত রুহি কোথায় রে …?

ফয়সাল :- হাসপাতালে …।

রাজ :- কেন?

ফয়সাল :- কেন আবার, তুই জানিস না?

রাজ :-না তো, কেন রে কি হয়েছে রুহির,?

ফয়সাল :- ও তোর উপর রাগ করে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে,।

রাজ :- দোস্ত, আমি রুহিকে দেখবো ?

ফয়সাল :-রুহির এখনো জ্ঞান ফেরেনি,।

[ 3 ঘণ্টা পর রুহির জ্ঞান ফিরেছে। রাজ রুহির পাশেই বসে আছে। রাজ কে দেখেই, রুহি অভিমানে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল,]

রুহী :- এখানে কেন এসেছেন,,,,,?

রাজ :- ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে কাজ হয়নি তাই তো? 3-4 টা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে কেউ মরে না!! আরো কয়েকটা খাওয়া অবশ্যই প্রয়োজন ছিল,।

রুহী :-আমি বলছি, তুমি এখানে কেন আসছো …!?

রাজ :- বাহ রে!! আমার হবু বউ এমন একটা কাজ করবে, আর আমি তাকে দেখতেও আসবো না,।

রুহী :- কে তোমার বউ ?

রাজ :-কেন, তুমি হবে,,,?? করবে না আমায় বিয়ে ?

রুহী :- না, কখনোই করবো না,,।

রাজ :- তাহলে কি আমাকে ঘুমের ট্যাবলেট খেতে হবে নাকি ….? দেখো এমনি তো এক্সিডেন্ট করেছি…?

রুহী :-কই কই দেখি …?

রাজ :-এইযে দেখো, পায়ে ব্যাথ্যা পেয়েছি,।

রুহী :- কিভাবে এক্সিডেন্ট করলে,,,? একটুও কি সাবধানতা নেই তোমার মাঝে,,,? একটু কি দেখে শুনে চলতে পারোনা,,,?

রাজ :- না দেখে রাস্তা পার হচ্ছিলাম, তখন একটা গাড়ি এসে আমাকে ধাক্কা মারলো,।

রুহী :- দেখে চলা যায় না,? যদি কিছু হয়ে যেত,,,,?

রাজ :- আরে না কলিজা, তুমি আছো না তোমাকে ছেড়ে কি কখনো কোথাও যেতে পারি,…?

রুহী :- হুম, আর কখনো কোথাও ছেড়ে যাবে না তো ….?

রাজ :- না কলিজা, আর কখনো তোমায় ছেড়ে কোথাও যাবো না,।

রুহী :- Luv u 2 Babu

রাজ :- Love u so much Kolija.

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত