অভিমানি বোউ

অভিমানি বোউ

দুপুর থেকে আকাশটা মেঘ করে আছে। এখন দেখি ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। অফিস শেষ করে বের হলাম নিচে নামতে দেখি বৃষ্টি। বের হলে যেতে যেতে গোসল হয়ে যাবে। ভাবলাম নিচে ক্যান্টিনে বসে এই বৃষ্টির মধ্যে এক কাপ কফি হলে মন্দ হবে না। যে ভাবা সেই কাজ। বসে বসে কফি খাচ্ছি আর ভাবছি কাল রাতের কথা। আমার বৌ টা বড্ড অভিমানি এই ছয় মাসে যা বুঝলাম।

আমার নাম রাকিব। ছয় মাস খানেক হলো অনুকে বিয়ে করলাম। বিয়ে করে মাস খানেক পর চাকরির সুবাদে আবার বউকে নিয়ে ঢাকায় আসা। অনেক কেয়ার করে অনু আমাকে। অনেক ভালোবাসে এই অল্প দিনে সে খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। আমাকে আপন করে নিয়েছে। শাসন তো আছেই। আবার অভিমান ও কম না। ওর এই মিষ্টি শাসন আর অভিমান যেন আমাদের ভালোবাসা আর গভির করে তুলে। এই তো গত কাল রাতে। আমি বসে লেপটপে অফিসের কাজ করছি। নতুন প্রযেক্ট আসায় কাজের চাপ একটু বেশি। এমনিতে কাজ নিয়ে আমার বেহাল অবস্তা তার ওপর। অনু এসে বলতে লাগলো।

–এখন তো আমাকে ভুলে যাবে পূরন হয়ে গেছি।
–কবে ভুললাম তোমাকে হঠাৎ একথা কেন.? আমি লেপটপের দিকে তাকিয়ে বললাম।

–সারদিন দেখি কাজ আর অফিস। আমাকে কেন আনলে কাজ আর অফিস নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে।

–দেখ অনু দেখছো আমি কাজ নিয়ে ব্যাস্ত তার ওপর তুমি এইসব কি বলছো। যাবে কি সামনে থেকে।

— এখন আমি খারাপ হয়ে গেছি। কলিগের সাথে সারদিন লাইন মার যে তখন খারাপ লাগে না। অনু এটা কি বললো। ওর কথা শুনে তো আমার মেজাজটা একেবারে চড়ে গেল। বললাম

— না যেনে এইসব ফালতু কথা বলবা না। বুঝছো।

— না যেনে না।এই কয়দিন যা দেখছি না। তা দেখে বোঝা যাই। জানি না আর কি কি কর।

আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না নিজেকে। থাপ্পড় একটা লাগিয়ে দিলাম কসে। সে দেখি কাদো কাদো চোখে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর কিছু না বলে বের হয়ে গেল রুম থেকে। আসলে আমি কাজ ছাড়া কোন মেয়ে কলিগের সাথে অযথা কথা বলি না। কাজের চাপ বেশি হওয়াতে কাজের জন্য কলিগ ফাহিমা কিছুদিন দরে আামকে কল করেছিলো যা দেখে অনু আমাকে সন্দেহ করলো।

আমি আর ওর দিকে খেয়াল দিলাম না। কাজে মনযোগ দিলাম। রাতে আমার রুমে আর আসেনি। আমিও আর ইগো দেখিয়ে যায় নি। সকালে তারাহুরো করে অফিসে চলে এলাম। আর খোজ নেই নি। কল দিলাম কিছুক্ষণ আগে কেটে দিছে। মনে হয় এখনও রেগে আছে। রেগে থাকার কথা। থাপ্পড় টা মারা উচিত হয় নি। ওকে বুঝিয়েও বলতে পারতাম। নিজেকে অপরাদি মনে হচ্ছে এখন। আমি আর দেরি করলাম না হলকা বৃষ্টি কমাতে আমি বের হয়ে গেলাম বৃষ্টির মধ্যে। সাথে অনুর প্রিয় ফুল গোলাপ নিয়েছি।

ভিজে গোসল করে ফেল্লাম। কলিং বেল দিওয়ার কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দিল অনু। দরজা খুলে আমার দেখি না তাকিয়ে সোজা বেড রুমে চলে গেল। অন্য সময় হলে আমার উপর তুপান যেত। এতো দেখি অনেক অভিমান করেছে। যে করে হোক অভিমান ভাঙ্গাতে হবে। আমি তারাতারি ফ্রেস হয়ে নিলাম। তারপর রুমে ফুল নিয়ে ডুকলাম। অনু দেখি আয়নার সামনে চুল ঠিক করছে। আমি আস্তে করে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে দরলাম।

— এই এই কি করছো। একদম দরবা না বলে দিলাম ভালো হবে না কিন্তু। ডং দেখাতে আসছে।

–সরি। আসলে কালকে তোমার কথা টা শুনে আমার মেজাজটা ঠিক ছিল। ক্ষমা করে দাও প্লিজ রাগ করো না। অনু কিছু বলছে না। সে বিছানায় গিয়ে বসে পরলো। আমি ওর সামনে গিয়ে কান দরে বললাম।

— এই দেখ কান দরেছি। আর হবে না।

এতো দেখি আমার দিকে তাকাচ্ছে না। এখন অন্য উপায় বের করতে হবে। তরপর ওকে কোলে নিয়ে নিলাম। ও আমার দিকে বড় বড় চখে তাকিয়ে আছে। নিজেকে নামানোর ব্যার্থ চেষ্টা করছে। আমি জানি অনু বৃষ্টিতে ভিজতে খুব পছন্দ করে। তাই সোজা ছাদে নিয়ে আসলাম। ওকে নামিয়ে দিয়ে। ওর কাপাল আর নাকের সাথে আমার কপাল নাক লাগিয়ে দিয়ে দাড়িয়ে রইলাম। তারপর কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে ফুলগুলো বের করে হাটু গেরে ওর সামনে বসলাম। আর বললাম।

–আমার অনুভুতিকে তোমায় নিয়ে সাজানোর অধিকার টুকু দিবে?
–এই অনুভুতি নিয়ে তোমার ভালোবাসার শহরে আমাকে পাড়ি জামানোর অধিকার দিবে?
–দিবে কি বৃষ্টি ভেজা দিনে তোমায় নিয়ে বৃষ্টি বিলাসের অধিকার টুকু?

অনু আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তারপর আমাকে জড়িয়ে দড়লো। আমার বুকে মাথা রেখে কান্না করতে লাগলো।  আর বললো।

–কষ্ট দাও কেন যদি এত ভালোবাসো।
–আমার এই শহরটা তোমাকে নিয়েই তো গড়া। তোমাকে অধিকার না দিয়ে কাকে দিব।

আমি চুপ করে জড়িয়ে আছি। এমনিতে বৃষ্টিকে একদম সহ্য হয় না কিন্ত আজকে বৃষ্টি বিলাস করতে ভালোই লাগছে। আর ভাবছি এই অভিমানগুলো হয় তো ভালোবাসাকে আর গভীর করে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত