প্রথম সকাল

প্রথম সকাল

সন্ধাবেলা ছাদে উঠে এক কনে গিয়ে দাড়িয়ে আছি। আর সকালের কথা ভাবছি। আজ একটা ইন্টারভিউ ছিল। যখন ডাক এলো আমি ভেতরে এলাম। একের পর এক উদ্ভট প্রশ্ন তারা করে চলেছেন। মার্ক জাকারবার্গের বাবার নাম কি? বিল গেটস কিভাবে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেছেন? স্টিভ জবস কোন মডেলের গাড়ি পছন্দ করেন? এসব কোন প্রশ্ন হল। আমি শুধু সবার করা প্রশ্ন গুলো একে একে শুনছি।

কোম্পানীর চাকরীতে এসব কি জন্য লাগে জানি না। তবে এক লোক প্রশ্ন করলেন, একটা পানি ভর্তি গ্লাসকে কিভাবে ভাঙ্গানো সম্ভব বলে আপনি মনে করেন। এবার আমি বুঝতে পেরেছি যে উনারা আমার সাথে ফাযলামো করছেন। অনেকটা রাগ হল। তাই যা হবার হবে এটা চিন্তা করেই টেবিলের পানি ভর্তি গ্লাসটা তুলে মেঝেতে ফেলে দিলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম এভাবেই ভাঙ্গানো সম্ভব। এ কথা বলার সাথে সাথেই ওই লোক হাসতে শুরু করলেন। আমি এখন মনে মনে ভাবছি এ আমি কি করলাম। তারপর পাশে বসে থাকা আরেক স্যার হাসতে হাসতে বললেন, ওকে ইয়াং ম্যান তুমি আসতে পারো। আমি ধীর পায়ে ভাইভা বোর্ড থেকে বেরিয়ে এলাম। বের হওয়ার পর যা হয় আরকি। সবাই, ভাই কি প্রশ্ন করল। কত প্রশ্ন করল।আরও কত কি।

আমি নিঃশব্দে সেখান থেকে বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে ছোট বোনটা বলল, ভাইয়া বাবা তোকে ডাকছে। আমি বাবার ঘোরে গেলাম। বাবা বলল, কিরে চাকরীটা হবে এবার। না আাবারও তোকে প্রশ্ন নাকরেই বের করে দিছে। আমি কিছু বলতে যাব তখনি বাবা আবার বলল, হুম বুঝেছি বুঝেছি। অকর্মার ঢেকি তুই ধান ভাঙবি কেমন করে। সবাই কিছু না কিছু করছে কিন্তু তুই বাপের হোটেলে খাচ্ছিস। আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল তখন মা এসে বলল, আহ, কি শুরু করেছো তুমি। ও তো চেষ্টা করছে নাকি। ও কি ইচ্ছে করেই চাকরী করছে না কি। বাবা বলল, তোমার সান্নিধ্য পেয়েই ও মাথায় উঠেছে। কয়েকটা দিন না খেয়ে থাকলে বুঝবে জিবন কতটা কঠিন। আমি আর কিছু না বলেই আমার ঘোরে চলে আসলাম। বোনটা আবার এসে বলল, ভাইয়া বাবার কথায় কিছু মনে কর না। বাবা ওসব মন থেকে বলে না।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম। আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ও চলে গেল। দুপুর হলে মা খেতে ডাকলো। আমি পরে খাব বলে রুমম এই শুয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। দুই বছর ধরে একটা ভাল পোস্টে জব খুজছি কিন্তু কোথাও কিছু হচ্ছে না। নিচের পোস্টগুলোতে জব করা একটু কষ্টের। তাই এসবে আমি চেষ্টা করিনা। আর ভাল পোস্টের চাকরী পেতে মামা চাচা লাগে। তাই পরীক্ষা ভাল হওয়া সত্যেও চাকরী হয় না। আর আজ তো চাকরীটা হবেই না। বাবা জানে না যে গত এক বছর ধরে পরীক্ষাগুলোতে আমি প্রথম দশ জনের মধ্যে একজন। কিন্তু টাকা দিতে পারিনা বলে আজ কিছুই হয় না। দুপুরের পর এসব যখন ভাবছি তখনি এক অজানা নাম্বার থেকে ফোন আসলো। আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে বলল, হ্যালো, আপনি কি শাহরিয়ার মামুন বলছেন। আমি বললাম, জি বলছি।

ওপাশ থেকে বললেন, আমি জমুনা গ্রুপ থেকে জালালউদ্দীন বলছিলাম। আজ সকালে যে ইন্টারভিউ আপনি দিয়েছেন ওটাতে আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। কাল এসে কাগজপত্র জমা দিয়ে জয়েনিং লেটার নিয়ে যাবেন। আমি বললাম, ধন্যবাদ স্যার। স্বাগতম বলেই উনি ফোনটা রেখে দিলেন। বিছানায় বসা অবস্থা থেকে কখন দাড়িয়ে পরেছি বুঝতেই পারিনি। একটি আগেই আমার পেটে খিদা ছিল না। কিন্তু এখন খিদে পাচ্ছে। চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই পানি গড়িয়ে পরছে। মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছে না। তাই রুম থেকে বের হয়ে গোসল করলাম। তারপর রুমে এসে বসে সবকিছুই ভাবছি। ভাবতে ভাবতেই বিকেলে ছাদে এসে দাড়িয়েছি কিন্তু ঠিকভাবে কোন কিছু ভাবতেও পারছি না। সন্ধা গড়িয়ে রাত হতে চলল আমি দাড়িয়ে আছি। অনেকক্ষন পর ছোট বোনটা আমাকে পেছন থেকে হাত ধরে কাঁদছে। আমি পেছনে ঘুরতেই ও আমাকে জড়িয়ে ধরল।

আমি ওকে বললাম, এই কি হয়েছে কাঁদছিস কেন। ও বলল, তুই দুপুরেও কিছু খাস নি এখনও না খেয়ে আছিস। তুই জানিস না তুই না খেলে আমিও খাই না। কিভাবে পারলি আমাকে না খাইয়ে রাখতে। আমি ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম, ওওও, আমি তো ভাবলাম আমি না খেয়ে আছি দেখে কাঁদছিস। ও বলল, হ্যা তো। তোর জন্যই তো কাঁদছি। তোর যে খিদে পেয়েছে সেটা আমি বুঝি। এখন চল আমার সাথে খাবি। আমি বললাম ঠিক আছে চল। দুজনে রুমে আসলাম। বাবা বাসায় আসলেন তখনি। আসতে করে শুনতে পেলাম বাবা মাকে বলছে, মামুন কি এখনো খায় নি। মা বলল, মামুন তো খায় নি সাথে সুমিতাও খায় নি। মামুন না খেয়ে আছে দেখে ও খাচ্ছে না। বাবা বলল, আচ্ছা রাতে খেতে বসলে মাছের মাথাটা মামুনকে দিও। তারপর আর কিছু শুনতে পেলাম না। এই হল আমার বাবা মা। যারা কিনা আমার জন্য কত কি করেছেন। আমার পরিবারটা এমনিই। ছোট বোনটা ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ছে।

এভাবে সংসারটা চালানো বাবার জন্য একটু কষ্ট হয়ে যায় তাও লোকটা কখনও কিছু বলেননি এসব ব্যাপারে আমাদের। রাতে খাবারের দেরী আছে আবার এদিকে বোনটার খিদেও পেয়েছে তাই সুমিতাকে বললাম, চল আজ তোকে আইসক্রীম খাওয়াবো। ও লাফিয়ে উঠে বলল, সত্যি। আমি বললাম জিবনে খাসনি নাকি। এমন ভাবে লাফিয়ে উঠলি যেন আজ প্রথম খাবি। ও বলল, না খাইনি যা। এখন চল খাওয়াবি। আমি একটু হেসে বললাম চল। বাইরে এসে একটা কনফেকশনারী থেকে তিনটা আইসক্রীমের কোন কিনলাম। সুমিতা দেখেই বলল তিনটা কেন। আমি বললাম, তোর তো দুইটা লাগে তাই। সুমিতা বলল, তুই আজ কেন জানি হঠাত অনেক ভাল হয়ে গেলি। কি বেপার। কি হয়েছে বলত। আমি কিছু না বলে হাসলাম। ও ততোক্ষনে খাওয়া শুরু করে দিছে। আমিও একটা খেতে শুরু করলাম। হঠাত একটা ট্যাক্সি আমাদের পাশ দিয়ে চলে গেল।

কিছুদুর গিয়েই থেমে গেল। আমি আর সুমিতা ধীরে ধীরে হাঁটছি আর খাচ্ছি। ট্যাক্সি থেকে একটা মেয়ে নামল। নেমে আমাদের এদিকেই আসছে। ল্যামপোস্টের সোডিয়াম নিয়নের আলোতে যাকে দেখলাম অন্তত আজ এটা না দেখলেও হত। সুপ্তি আসছে এদিকে। আমি হাঁটতে হাঁটতে থেমে গেলাম। সুমিতা থেমে যাওয়া দেখে বলল কি হল থামলি কেন। আমি কোন কথা বলছি না। ততোক্ষনে সুপ্তি এসে গেছে। আমার দিকে তাকিয়ে সুমিতার দিকে তাকালো। তারপর আবার আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল এই মেয়েটা কে। আমি কি বলব আমার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছে না। সুমিতা বলল, আমি কে মানে, আমি ওর জান বলেই ও আমার হাত চেপে ধরল। সুপ্তি এক দৃষ্টিতে হাত চেপে ধরার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝলাম ও রেগে যাচ্ছে কিন্তু আমার মাথায় এটাই ঘোল খাচ্ছে যে ও এতদিন পর আমার খোজ পেল কিভাবে। আর এই ব্যস্ত শহরে ও কি করছে।

আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এখানে। কবে এসেছো। ও কোন কথা বলছে না। কেবলি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হাত চেপে ধরার দিকে। সুমিতা এবার বলল, আপনি কে। সুপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর চোখ দিয়ে পানি পরবে পরবে ভাব। তারপর ও চোখটা মুছে বলল, ভালো থেকো। বলেই চলে যাচ্ছে। তখন আমি বললাম, দাড়াও। ও থামলো। আমি আর সুমিতা সামনে গেলাম। তুমি এখানে কেন। আমায় খুজে পেলে কিভাবে? কেনই বা আজ এত রাগ দেখাচ্ছ। ও মাথা নিচু করে ছিল। একটু পরে মাথা উঠিয়ে বলল তুমি হারিয়ে ছিলেই কবে যে তোমাকে খুজতে হবে। সুমিতার দিকে তাকিয়ে দেখি ও ভ্রু কুচকে আইসক্রীম খেয়ে চলেছে। আমি সুপ্তির দিকে তাকিয়ে বললাম, এতদিন পর কেন আজ আমার সামনে এলে।

না এলে কি হত না। আমাকে না জালিয়ে কি তোমার শান্তি হয় না। এবার সে আর কান্না থামাতে পারল না। সুমিতার দিকে তাকিয়ে সে বলল, আমি ওকে একটা দিনের জন্য চাই। তুমি কি তোমার জিবন থেকে একটা দিন ওকে আমাকে দিতে পারো। সুমিতা এবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। সে কি হাসি তার। যেন থামতেই চায় না। আমিও হাসছি তবে মনে মনে। সুমিতা কে ও অন্য কিছু মনে করছে। সুমিতা এবার হাসি থামিয়ে আমার হাত জড়িয়ে নিয়ে বলল, হুম দিতে পারি তবে আমিও থাকব। আমিও হাসছি তবে মনে মনে। সুপ্তি হয়তো সুমিতাকে অন্য কিছু মনে করেছে। মেয়েটার এখনো সেন্স হয়নি। ইন্টার এ পড়া একটা মেয়েকে আমার সাথে দেখে ও কিসব মনে করছে। সুপ্তির দেখছি চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরছে। কিন্তু এই চোখের পানির মানে আমি বুঝিনা বা বুঝতে চাই না। এই চোখই একটা সময় আমায় ধোকা দিয়েছিল। তাই বললাম, হঠাত একটা দিন কেন চাইছো।

আরও কি চাও তুমি? ও এবার করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, শুধু একটাবার তোমায় সবটা বলতে চাই। এরপর আর কেউ কিছু বলল না। এদিকে আমার আর সুমিতার হাতে আইসক্রীম। আমারটা গলতে শুরু করেছে। আর সুপ্তি খালি হাতে। তাই আমার হাতের অর্ধ খাওয়া আইসক্রীমটা আমি বাড়িয়ে দিলাম। সুমিতাও সাথে সাথেই তার হাতে থাকা বাড়তি আইসক্রীমটা বাড়িয়ে দিল। সুমিতা আমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে সুপ্তির দিকে তাকালাম। আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে ও আমার আইসক্রীমটাই নিল। আমি তখন একটা কাজ করে বসি। তার হাত থেকে আইসক্রীমটা কেরে নিয়ে অন্য আইসক্রীমটা তার হাতে ধরিয়ে দেই। আর বলি, কবে সব বলবে। ও মন খারাপ করে বলল, আমি ফোন করব তোমায় এবার আসি। আমি আর কিছু বললাম না। ও পেছনে যেতেই সুমিতা বলল, ভাইয়া মেয়েটা কে? সুপ্তি তখন আবার পেছন দিকে আসছে। এসে বলল, ও তোমার বোন হয় এটা আগে বললেই পারতে। দেখলাম ওর চেহারায় যেন যুদ্ধ জয়ের তৃপ্তি।

আমি বললাম, প্রয়োজন মনে করিনি বলার। আগেও নিজে যা ভাবতে তাই করতে এখনও তাই করছো। কর তাতে আমি আর আটকানোর কে। ও মুখটা নিচু করে বলল, কংগ্রাটস। আমি বললাম, হঠাত কেন। ও বলল, তোমার চাকুরীর জন্য। এবার আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। বললাম, তুমি কি করে জানলে। ও কিছু না বলেই এবার চলেই গেল। সুমিতা বলল, ভাইয়া তুই চাকরীটা পেয়েছিস? বললাম, হুম আজ বিকেলেই ফোন এসেছিল। কাল জয়েনিং লেটার তোলার কথা বলেছে। ও আমাকে কিল ঘুসি মারতে মারতে বলল, বিকেলে শুনেছিস আর তুই এখন জানাচ্ছিস। কেন এমন করলি তুই। আমাকেও জানালি না। কাউকেই জানাই নি। আর জানাবও না। ভেবেছিলাম প্রথম স্যালারীটা বাবার হাতে তুলে দেব। তখনি জানাবো। কিন্তু এই মেয়েটা কিভাবে জানলো এটাই বুঝলাম না। ও বলল, এই মেয়েটা কে। আমি ওকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলতে লাগলাম।

কলেজে আমি কারও সাথে কখনও ঝগড়া করতাম না। সবাই যা বলত তাই মানতাম। এই মেয়েটিই কেন যেন উঠে পরে ঝগড়া করত। তবে আমার খারাপ লাগতো না। মেয়েটিকে ভালই লাগতো আমার। মনে মনে পছন্দও করেছিলাম তাকে। কিন্তু বলার সাহস পাই নি। একদিন হুট করেই ও আমার সাথে অনেক ভালভাবে কথা বলল। অনেক কথাও হল সেদিন। এর পর থেকে তো একসাথে ক্লাস করা, ঘুরতে যাওয়া আরও কত কি। আমি মনে করতাম ও আমায় ভালবাসত। তাই একদিন ওকে আমার ভালবাসার কথা জানাই। কিন্তু ওখুব রেগে যায়। একটা চোর মেরে বলে তোকে ভাল বন্ধু ভাবতাম। আর তুই কিনা সবার মত আমায় এসব ভাবলি। তোর মত ছেচরা ছেলেরাই এসব করতে পারে। আজ থেকে আমার সামনে আসবিনা বলে দিলাম। কাওয়ার্ড কথাকার। বলেই চলে গিয়েছিল। সেদিন এসব শোনার পর চোখের পানি আটকাতে পারিনি।

শুধু ভাবলাম কি থেকে কি হয়ে গেল। আমি তো আমার ভালবাসার মানুষের কাছে খারাপ হয়ে থাকতে চাই না। আর কলেজ লাইফে নচিকেতারর গান আমি বেশি শুনতাম। তাই তখন এরকম একটা ভুল করেই বসি। কি করব বল, কতটাই বুঝতাম তখন। তাই ভাবলাম তাকে সরি বলব। পরেরদিন তার সামনে গিয়ে সরি বললাম কিন্তু ও পাশ কাটিয়ে চলে গেল। কলেজ থেকে বের হওয়ার ওর গেটে ওর সামনে গিয়ে ওকে সরি বললাম তখনও কিছু না বলে চলে গেল। তাই ওর পিছু পিছু যেতে শুরু করি। একসময় ও আমার সামনে এসে জিজ্ঞেস করে, তোকে না সামনে আসতে নিষেধ করেছি। আমি তখন ওর একটা হাত ধরে আবারও সরি বলি। কিন্তু ও আবারও হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে একটা চর মারল। তখন আশপাশ থেকে কিছু লোক সেখানে চলে আসলো।

জিজ্ঞেস করল আমি মেয়েটিকে ডিস্টার্ব করছি কি না। ও তখন মাথা নিচু করে থাকলো। তখন এক লোক ওকে চলে যেতে বলে সবাই মিলে আমাকে পিটানো শুরু করল। আমি ওর চলে যাওয়ার দিকেই চেয়ে থাকলাম। তোর মনে আছে আমরা বগুড়ায় থাকাকালীন বাসায় একবার মাথা ফেটে এসেছিলাম। সবাইকে বলেছিলাম এক্সিডেন্ট। কিন্তু ওটা আসলে সেদিনের পিটোন খেয়ে হয়েছিল। তারপর তো বাবার ট্রান্সফার হল আর আমরা এখানে চলে আসি। সুমিতা এবার বলল, তাহলে এই মেয়ে আবার কেন এসেছে। আমি বললাম সেটাই তো জানার ইচ্ছে। এখন এটা আমার শহর। আমি তাকে কখনোই ক্ষমা করব না। বলতে বলতেই বাসার সামনে চলে আসলাম। সুমিতাকে বললাম আমার চাকুরীর ব্যাপারে বাসায় কিছু জানাবি না। প্লিজ। ও বলল, তাহলে অফিস থেকে আসার সময় আমার জন্য আইসক্রীম নিয়ে আসতে হবে। আমি মৃদু হেসে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। তোরা ছাড়া আর কেই বা আছে আমার বল।

ও তখন আমার হাতটা ধরল আমরা একসাথে বাসায় আসলাম। বাসায় ঢুকার সাথেই বাবা বলল কোথায় গিয়েছিলি তোরা। বাইরে গেলে যে বলে যেতে হয় এটা জানিস না। মোবাইলগুলোতো রেখে গিয়েছিস। আমাদের কি কোন টেনশন হয় না। মা বলল, আহ আবার কেন বকছো। তখন বাবা শান্ত হয়ে বলল, দুই মিনিটের মধ্যেই ডায়নিং এ আসবি। খিদে পেয়েছে আমার। এই কথাটা শুনে সুমিতা আর আমি দুজনেই হাসলাম। তারপর সবাই মিলে খেতে বসলাম। মা মাছের বড় মাথাটা আমাকে দিতে যাবে তখনি আমি বাধা দিলাম। বাবা বলল, নে খা। আমার ওপর রাগ করে কি করবি। আমি হাসলাম। হেসে মাথাটা বাবার প্লেটে দিলাম। বললাম, তোমার ওপর রাগ করব কেন। তুমি তো ভুল কিছু বল না। আর তোমার বকাগুলো ভালই লাগে। বাবা বলল, কেন আমারর গালিগুলো কি গান মনে হয় নাকি।

সুমিতা বলল, গান নয় বাবা। কবিতা মনে হয়। এসব বিভিন্ন কথায় আমরা অনেক হাসি মনেই খেলাম। ভালবাসা জিনিসটা কি জানিনা। তবে এই অভাবের সংসারে রাতে খাবার সময় যদি এরকম শান্তি থাকে তবে এ জিবনে ভালবাসা না পেলেও চলবে। তবে আমার কাছে তো এটাই ভালবাসা। যেখানে অভাব থাকবে টেনশন থাকবে কিন্তু সেটা আমরা সবাই মিলে সমাধানের চেষ্টা করব। এর মধ্যেই একে অপরের প্রতি যে টান দেখা যায় আমার কাছে তো এটাই ভালবাসা। অভাব না থাকলে ভালবাসাটা সেভাবে বোঝা যায় না। ঘুমোতে যাব এমন সময় ফোনে কল আসলো। অপরিচিত নাম্বার তাই ফোন ধরে সালাম দিলাম। ওপাশ থেকে সালামের উত্তর এলো। বুঝলাম এটা সুপ্তি। প্রথম ভালবাসা বা প্রেম যেটাই বলি না কেন। এখন পর্যন্ত তো সুপ্তি ছাড়া অন্য কারও প্রেমে পরিনি তাই তার দেয়া কষ্টগুলোকে মাথায় নিয়েই আজ আমি বর্তমানে।

আমি বললাম, নাম্বার পেলে কোথায়। ও বলল, আমার সবকিছুরই খবর সে জানে। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে। জরুরী কোন কথা থাকলে বল নাহলে ফোন রাখলাম। ওপাশ থেকে কিছুক্ষন চুপ থেকে ও বলল, কাল বিকেলে একটু পার্কের পাশের রেস্টুরেন্টাতে আসবে। কিছু কথা ছিল। আমি বললাম ওকে আসব তবে এটাই শেষ দেখা এবং কথা। আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোনটা কেটে দিলাম। ভালবাসিতো এখনো। মনে তো হচ্ছে আগের সব ভুলে গিয়ে ওকে নতুনভাবে প্রেম নিবেদন করি। কিন্তু নিজের আত্মসম্মানবোধে বাধা ঠেকেছে। তাই আর আগাবই না এটাই ফাইনাল। পরেরদিন অফিস থেকে জয়েনিং লেটার তুলতে গিয়ে অবাক হয়ে দেখি এই কোম্পানিতে সুপ্তিও জব করে। কেমন যেন অন্যরকম লাগলো। চাকরী করব কিনা একটু দিধায় পরে গেলাম। পরে ভাবলাম চাকরীটা করি। আমি আমার মত থাকলেই হবে। তাই জয়েনিং লেটারটা তুলে বাসায় চলে এলাম।

লেটার খুলে দেখি পরশুদিনেই জয়েনিং এর তারিখ। ভালই লাগলো। বিকেলে বের হয়ে সেই রেষ্টুরেন্টে বসে আছি। দশ মিনিট হতে চলল কিন্তু সুপ্তি নেই। হঠাত নীল শাড়ি পড়া এক রুপসীকে ঢুকতে দেখলাম রেস্টুরেন্টে। দুর থেকেই চিনতে পারছি এটা সুপ্তি। অনেকটা হাসি পেলো। সৌন্দর্য দিয়ে কি পটাতে এসেছে আমায়। সেদিনের থাপ্পর গুলোর কথা একটু বেশি মনে পরছে আজ। সুমিতাকে একটা মেসেজ দিয়ে দিলাম। সুপ্তি আমার সামনে এসে দাড়ালো। আমি বললাম, কি জানি বলবে বলেছিলে। ও মুখটা নিচু করে চেয়ার টেনে বসল। ও বলছে, আমি সরি। তখন আমি কিছু বুঝতে পারিনি। আমি হাসলাম এটা শুনে। ও আবার বলল, আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তখন অনেক ছেলেই আমাকে প্রেমের প্রস্তাব করত। এক ছেলে একদিন আমায় জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমার চাচ্চু তাকে দেখতে পেয়ে অনেক মারধোর করে। তখন থেকেই আমাকে বাসা থেকে নজরদারী করত।

এর পরপরই তুমি আমাকে প্রোপজ করলে। কিন্তু তোমাকেও তখন তাদের মত ভেবে আমি ওভাবে রিএক্ট করেছিলাম। সত্যি বলছি আমি তখন খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, তাই বলে লোকের হাতে মার খাওয়াবে। ও বলল, সেদিন তুমি পিছু আসছিলে তাই আমার বাসার সামনে যাওয়ার আগেই তোমাকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম আসতে। ভেবেছিলাম থাপ্পরটা মারার পর তুমি রেগে চলে যাবে কিন্তু তখনিই আমার চাচ্চু দেখে ফেলে। সেদিন আনিস চাচ্চুই আমাকে তখন বাসায় যেতে বলল। আমার কিছু করার ছিল না। তাই সেদিন আর ঘুরেও দেখিনি। তোমার মার খাওয়া দেখতে পারবোনা বলে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় গিয়েছিলাম। পরে তোমার খোজ করলে তোমরা আর ছিলে না সেখানে। পর ভার্সিটিতে আাসার পর একদিন তোমায় দেখতে পাই শাহবাগের মোড়ে। সেদিন তোমার পিছু নিয়ে বাড়িটা চিনেছিলাম। এরপর থেকে সবসময় তোমার খোজ রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বাসার কারনে সেটাও খুব ভয় লাগতো।

এখানে চাচ্চুর বাসায় থাকি। তাই তোমার সাথে যোগাযোগ করার সাহস পাই নি। ভার্সিটি শেষ করে তুমি যখন চাকরী খুজছো তখন চাচ্চু আমার বিয়ের কথা বাসায় তোলেন। আমি কিছু বলতে পারিনি সেদিন। পরেরদিন তোমার সাথে দেখা করব এই ভেবে তোমার বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকি কিন্তু চাচ্চু অফিসের কাজে এদিকেই আসছিলো তখন আমায় দেখে ফেলেন। তখন চাচ্চু আমাকে ডেকে গাড়িতে নিলেন। আর তখনি তুমি বের হয়ে চলে গেলে। কিছু বলাও হল না। চাচ্চু জিজ্ঞেস করলেন তুমি ওই ছেলেটা কিনা। আমি মাথা নেড়ে হ্যা বলেছিলাম। তারপর অনেকদিন পরও যখন একটা চাকরীর যোগাড় করতে পারলেনা তখন চাচ্চুই এই কোম্পানী থেকে সার্কুলার দেন। আর উনিই তোমার ইন্টারভিউ নেন। তারপর তুমি সবটা জানো। এসব কিছু শোনার পরও যদি মনে হয় আমি ভুল তবে আমায়….আর কিছু বলতে পারলো না সুপ্তি। কেঁদে ফেলেছে। আমি হাসছি এসব শুনে।

মানুষের ভাগ্য কতই সুপ্রসন্ন। আমি এসব কান্নার দিকে না তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার চাচ্চু তো কোম্পানীর বড় পোস্টের লোক। আমাকে চাকরী থেকে বাদ দিয়ে দেবে না তো। যতদুর মনে হচ্ছে তার জন্যই আমার চাকরীটা হয়েছে। সুপ্তি অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখের কাজলটা লেপ্টে গেছে। আমি এবার দাড়িয়ে পরলাম। বললাম, পরশু থেকে জয়েন করছি। তোমায় ক্ষমা করে দিয়েছি অনেক আগেই। আমি আশি। বলেই চলে যাব এমন সময় ও আমার হাত ধরে ফেলল। আমিও থাপ্পর মারার জন্য হাত উঠিয়েছি কিন্তু থাপ্পরটা মারতে পারলাম না। পুরোন ভালবাসাটা কেন জানি নতুন করে জেগে উঠেছে। হাতটা নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হাত ধরেছো কেন। ও বলল, চরটা মেরেই দিতে। হয়ত তুমি একটু শান্তি পেতে। এখনো কি ভুলতে পেরেছো আমায়। আমি এই কথার উত্তর জানি না। তাই জোর করে হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। ওর চোখের পানি কেন জানি বেড়ে গেল।

আমি কিছু বলতেও পারছিনা। তখন পেছন থেকে সুমিতা উঠে এলো। ও এসে সুপ্তির পাশে বসল। সুমিতা বলল,ভাইয়া তুই বাইরে দারা আমি আসছি। আমি বাইরে এসে দাড়ালাম। বিকেলে বের হওয়ার সময় সুমিতা বলল কই যাচ্ছিস ভাইয়া। ওকে বললাম সবটা। ও বলল আমিও যাব। আমি বললাম, তুই থাকলে ও হয়ত একটু ইতস্তত করবে। ও বলল, যখন উনি আসবে তখন একটা মেসেজ করে দিস আমি পেছনে গিয়ে বসব। আমি ওর কথা শুনেই হেসে বললাম আচ্ছা। তারপর তো এই হল। একটু পর সুমিতা বাইরে এলো। ওকে নিয়ে বাসার দিকে আসছি। সুমিতাকে বললাম, কি বললি তুই ওকে। ও বলল, কিছ না শুধুই শান্তনা। কিন্তু মেয়েটা এখন সত্যিই তোকে ভালবাসে। আর তুই বলত আমার মত এই বয়সে এসব কেউ করলে আমি কি ভয় পাব না বল। ওই মেয়েও হয়ত তেমনভাবেই ভয় পেয়েছে। আমি ওকে বললাম, ওই থাম। তুই আমার বোন না অন্যকিছু। তুই আমার বিপক্ষে আর ওই মেয়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলছিস।

সুমিতা বলল, দেখ ভাইয়া আমি তোকে শুধুই বুঝানোর চেষ্টা করছি। ওর দিকে তাকিয়ে একটু কঠোরভাবে বললাম, একদম পাকামো কথা বলবি না। বলতেই দেখলাম ওর রৌদ্রজ্জল মুখটায় মেঘে ঢেকে গেল। আমি যে কি করি না মাঝে মাঝে। আমি একহাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। ও ছাড়িয়ে দিল। এরপর সামনে গিয়ে কান ধরলাম। এবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকলো। আমি এবার বসে হাতজোর করলাম। ও এবার তাকিয়ে বলল, এতো নাটকের দরকার নেই। আমাকে কেউ ভালবাসে না। সবাই বকা দেয়। আমি এবার উঠে ওর সামনে আবার কান ধরে খুব মিনতি করলাম। সরি, আপু সরি। ও এবার কেঁদে দিয়ে কিল ঘুসি মারতে মারতে বলল, বকা দেওয়ার সময় মনে থাকে না। এবার হাসতে হাসতে তাকে জড়িয়ে নিলাম। পাগলি বোনটা কখনই আমার ওপর রাগ করে থাকতে পারে না। এরপর ওকে বললাম আইসক্রীম খাবি। ও সঙ্গে সঙ্গে বলক হ্যা। আমি বললাম টাকা নেই। ও বলল আমার কাছে আছে। বলেই ওর পার্টস থেকে একশ টাকা বের করল। দেখলাম ওটাই আছে ওর কাছে।

আমি হেসে ওর টাকাটা ওকেই দিলাম। তারপর দোকান থেকে দুটো আইসক্রীম নিয়ে বাসায় এলাম। অফিস শুরুর দিনে আমি টাইটা লাগাতে পারছি না দেখে সুমিতা এসে টাইটা লাগিয়ে দিয়ে বলল, এবার একটা বিয়ে করে নে। টাই বাধার জন্যও তো একজন লাগবে। আমি বললাম, তুই আছিস না। ও বলল, উমমমম। আমি কি সারাজিবন থাকব নাকি। আমি বললাম, তো কই যাবি তুই আমাকে ছেড়ে। তোকে যেতে দিলে তো। বাসা থেকে বের হব এমন সময় বাবা বলল, কই যাস। আমি বললাম একটা ইন্টারভিউ আছে। তখন বাবা এসে পাঁচশ টাকা দিয়ে বললেন এটা রাখ। পরে লাগলে বলিস। বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম। কি করে যে লোকটা বুঝে আমার কাছে টাকা নেই। একটু কেঁদেই ফেলেছি তখন বাবা বলল, এই গাধা ছার, আমার অফিসে দেরী হয়ে যাচ্ছে। আমি ছেড়ে দিয়ে হেসে ফেলি। পেছনে দেখি মা বোনটাও চোখের পানি মুছে হাসছে। এরপর অফিসে এলাম।

অফিসে সবার সাথেই পরিচিত হলাম। সুপ্তিকেও দেখলাম। আমরা একি পোস্টে পাঁচজন আছি তবে সাইট ভাগ করা। তাই খুব একটা দেখা হয় না। আবার দেখা হলেও আমি না দেখার ভান করে থাকি। কিছুদিনের মধ্যেই সবার সাথে অনেকটা ফ্রি হয়ে গেলাম। অফিসে বিবাহিত, অবিবাহিত অনেক মেয়ে কলিগ আছে। সবার সাথেই কথা হয়। শুধু সুপ্তি ব্যতীত। এভাবে একমাস কেটে গেলো। সুপ্তির প্রতি কেন জানি মায়া তৈরী হয়ে গেছে। আজ অফিস শেষে বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে আছি। পেছন থেকে সুপ্তি বলে উঠলো চল আজ একসাথে যাই। আমি বললাম, আমি যেতে পারব। বলেই যেইনা সামনে এগবো তখনি ও হাতটা ধরে সাইডে নিয়ে গেল। বলল, পেয়েছো কি তুমি।

আমাকে জালিয়ে খুব ভালো লাগছে। আমিতো বলছি আমি সরি। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি বললাম, আমিতো তোমায় ক্ষমা করেছি আর কি। ও বলল, আর কি চাই তুমি জানো না। কেন এতদিন তোমার পেছনে পরে থেকেছি এসব বোঝনা তুমি। অফিসের সবার সাথে কথা বল কিন্তু আমার সাথেই কথা বল না কেন জানতে পারি। আমি শান্তগলায় বললাম না পারো না। তখন ও বলল ঠিক আছে। কাল আমি লেকের পারে দাড়িয়ে থাকবো খুব সকালে। যদি তুমি না আসো তাহলে কোনদিনই আমায় দেখবেনা তুমি। আমি সুইসাইড করব দরকার হলে। তোমার এমন উপেক্ষার থেকে আমার মরে যাওয়া ভাল বলেই চলে গেল। ওর চোখে কি ছিল জানি না তবে কথাগুলো সত্যি বলেছিল। আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাসায় আসলাম।

রাতে খেতে যাওয়ার আগে স্যালারীর টাকাটা বাবার হাতে তুলে দিয়ে সবটা বললাম। বাবা ক্রন্দন মুখে হাসছে। বলল, গাধাটা সত্যিই আজ বড় হয়ে গেছে। খেতে বসার সময় আজ বাবা মাছের মাথাটা আমায় দিচ্ছিল। কিন্তু আমি বাবার পাতেই তুলে দিয়ে বললাম, তুমি এটা খেলে যতটা শান্তি পাব নিজে খেয়েও তার বিন্দুমাত্র পাব না। মা বাবার চোখে পানি দেখছি। জানি এটা সুখের পানি। এই পানিটা ভালবাসার। খাবার খেয়ে সবাই ঘুমোতে গেলো। সুপ্তির ওই কথাগুলোর পর আমার ঘুম হচ্ছে না। তাই সুমিতাকে ডেকে বললাম সবটা। ও হাসছে। বললাম, হাসছিস কেন। ও বলল, কাল সকালে কি হবে এটাই ভেবে দেখছি। ও আবারও বলল, আমার তো ভাবি হিসেবে তাকে অনেক ভাল লাগে বলেই চলে গেল।

আমি একটু হাসলাম। ভোরে উঠে লেকের পাড়ে আসলাম। অনেকদিন পর আজ সুর্যোদয় দেখব। একটু দুরে কাল শাড়িতে কাউকে দেখা যাচ্ছে। একদম আমার সামনে এসে দাড়ালো সেই রুপসী। এত সুন্দর পরিবেশে সামনের জনকে কেমন লাগছিলো বলে বোঝাতে পারব না। শুধু তার চোখগুলো ফুলে গিয়েছিল। হয়ত কেঁদেছে রাতে। আমি তাকিয়ে আছি তার চোখের দিকে। চোখ যেন চিৎকার করে বলছে, ভালোবাসিতো, দাওনা একটু জায়গা তোমার বুকে। কেউ কিছু বলছে না। আমিও একটু সংকোচ করছি। পেছন থেকে আমার পাগলি বোনটা কই থেকে এসে বলল, আমি এভাবে ভাইয়ার হাত ধরে থাকলে রাগ করা যাবেনা কিন্তু। তবে টাইটা তুমিই বেধে দিও।

এসব শুনে সুপ্তি এবার হেসেই দিল। এবার প্রশান্তি দেখছি তার চোখে। তার চোখ বলেছে, এবার তবে তোমাকে আমি চিরদিনের জন্য পেয়েছি। একটু পরেই তিনজন বসে সূর্যোদয় দেখছি। বোনটা আমার হাত ধরে আছে। সুপ্তি আমার পাশে বসে আছে। আমি সুপ্তির দিকে তাকিয়ে আছি। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমিই কি তবে আমার প্রথম সকাল। আমার দিকে তাকিয়ে ও বলল, না, তুমিই আমার প্রথম সকাল। আমার মনটাকে তোমায় একেবারেই দিয়ে দিলাম। এই মনটাকে মোর বসতে দিও, মুড়ি-মুড়কি খেতে দিও পানির গ্লাসটি দেওয়ার ছলে, একটু শুধু ছুয়ে দিও….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত