খুনশুটিময় ভালোবাসা

খুনশুটিময় ভালোবাসা

তুই আমাকে একটা দূরবীণ এনে দিতে পারবি?হঠাৎ তোর দূরবীণ নেওয়ার জন্য মাথায় ভুত চাপলো কেন?ঔ দেখ পাশের বাসার দুইটা ছেলে দূরবীণ দিয়ে অনেক দূরের জিনিসগুলো দেখছে আর মজা করছে।এনে দিতে পারি যদি তুই আমাকে তুমি করে বলিস?ইভা বললো তোকে তুমি বলতে আমার বয়েই গেছে।তিতাস বললো আমি তোর দুইবছরের বড় আর তুই আমাকে তুই করে বলিস এটা বেয়াদবি বুঝলি।

ইভা বললো মাএ দুইবছরের বড় হয়ে আমাকে চোখ রাঙ্গাস দাড়া এখনি আন্টিকে বলে দিব।যা যা বল গিয়ে আম্মুকে। তিতাস জানে ইভা ওর মাকে গিয়ে কিছুই বলবে না।ইভা আর তিতাসের ফ্যামিলি পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকে অনেক বছর থেকে।যখন ইভা ক্লাস টু তে পড়ে তখন ওর বাবা এই ফ্ল্যাটটা কিনেছিল।ওদের পাশের ফ্ল্যাটটা তিতাসের বাবা কিনেছিল। তিতাস তখন ক্ল্যাস ফোর এ পরতো।তিতাস ইভাকে বলেছিল আমার সাথে খেলবি।তখন থেকেই ইভা আর তিতাসের বন্ধুত্ব।ইভার মা ইভাকে কতবার বলেছে তিতাস তোমার বড় ওকে তুমি করে বলবে।কিন্তু ইভা বলতো ও আমাকে তুই করে বলে আমিও ওকে তুই করেই বলবো।

এখন তিতাস অনার্স 4th ইয়ারে পড়ে আর ইভা অনার্স 1st ইয়ারে।প্রথম বারে ভালো কোন ভার্সিটিতে হয়নি বলে একবছর লস দিয়েছিল।আজ ইভা ছাদে বসে একটা গল্পের বই পড়ছিল।তিতাস এসে বললো এই ইভু কি করছিস?ইভা বললো এই তোকে কতবার বলেছি আমাকে ইভু বলে ডাকবি না।ইভু নামটা কেমন ছেলে ছেলে মনে হয়।তিতাস বললো তুই আবার ছেলেদের চেয়ে কোন অংশে কম নাকি।বরং ছেলেদের কে হার মানিয়েছিস তুই।তিতাস তুই কিন্তু আমার হাত থেকে আজ রক্ষা পাবি না।এই কথা বলেই ইভা ওর হাতে থাকা বইটা দিয়ে তিতাসকে মারতে চাইলো কিন্তু এর আগেই তিতাস একটু দূরে সরে গিয়ে একটা দূরবীণ দেখিয়ে বললো এটা দিয়ে দূরের জিনিস অনেক সুন্দর দেখা যায়।

ইভার চোখ চকচক করে উঠলো।ইভা একটু নরম সুরে বললো আমাকে একটু দেখতে দিবি।তিতাস বললো বাঘিনি হঠাৎ করে বিড়ার হয়ে গেল।ইভার খুব রাগ হচ্ছে।কিন্তু ও নিজেকে শান্ত রেখেছে কারণ তিতাসের কাছ থেকে আগে দূরবীণটা হাতিয়ে নিতে হবে তারপর ওকে শায়েস্তা করবে।ইভা বললো দে না একটু দেখি। তিতাস দূরবীণটা ওকে দিল।ইভা দূরবীণটা পেয়ে অনেক খুশি হলো।দুজনে মিলে দূরবীণটা দিয়ে দূরের জিনিস গুলো দেখে অনেক আনন্দ পেল।ইভা ছাদ থেকে নিচে নামার সময় তিতাসের হাতে একটা চিমটি কেটে ভো দৌড় দিয়ে চলে গেল।সকাল সকাল তিতাসের ফোনটা বেজে উঠলো।বিরক্ত হয়ে তিতাস ফোনটা উঠালো।ফোনের ওপাশ থেকে ইভা বললো এখনই নিচ তলায় চলে আয়।তিতাস বললো এত সকালে আবার কিসের ভিমরতি ধরছে?ইভা বললো বেশি কথা না বলে চলে আয় তো।

একটু পর তিতাস নিচে নেমে আসলো।এখন কেবল সাড়ে পাচঁটা বাজে এত সকালে ডাকছিস কেন?ইভা বললো এখান থেকে আধ ঘন্টা হেটেঁ গেলেই একটা বকুল ফুলের গাছ আছে।ওখানে যাবো বকুল ফুল নিতে।ইভু তুই এই আলতু ফালতু কাজ করার জন্য এত সকালে আমাকে ডেকে আনলি।ইভা বললো আরে চল না যাই অনেক দিন হলো সকালবেলা হাটাঁ হয় না।চলতো তাড়াতাড়ি।তিতাস একপ্রকার বাধ্য হয়েই ইভার সাথে হাটঁতে থাকে।বকুল ফুলে ভরে আছে বকুল তলা। ইভা ছোটবাচ্চাদের মতো বকুল ফুলগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছে।ওর দুই হাত ভরে গেছে দেখে এখনো তিতাসের শার্টের পকেটে বকুল ফুলগুলো ভরে দিচ্ছে।সকালের আবহাওয়াটা খুব উপভোগ করছে তিতাস।ইভার এই বাচ্চামো স্বভাবগুলোর জন্যই অনেক কিছু উপভোগ করতে পারে তিতাস।ইভার মামার বিয়ে তাই ইভারা ৫ দিন আগে মামার বাসায় যাবে।ইভার মা তিতাসের মাকে বললো ভাবি তিতাসও আমাদের সাথে যাক।

তিতাসের মা বললো বললো আচ্ছা ভাবি তিতাসকে বললো এখন।ওর তো নানা নানি কেউই বেচেঁ নেই আর কোন মামাও নেই তাই মামার বাড়ির আনন্দটাও ও সেভাবে পায় নি।ইভার মা বললো এজন্যই তো ওকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি ভাবি। তিতাস প্রথমে যেতে চাই নি।তিতাস ওর মাকে বললো মা আমি না হয় তোমাদের সাথেই বিয়ে দিন যাব।ওর মা বললো ইভার মা এত করে বলেছে না গেলে কেমন একটা দেখায় না।তিতাস বললো আচ্ছা যাব।একটু পর ইভা এসে বললো আন্টি তিতাস ভাইয়া আছে?ওর তো আজকে আমাদের সাথে যাওয়ার কথা।তিতাসের মা বললো ওই গাধা তো এখনো ঘুম থেকেই ওঠে নি।যাও ওকে ঘুম থেকে ওঠাও।ইভা তিতাসের রুমে গিয়ে তিতাসের নাকটা জোরো চেপে ধরলো।তিতাসের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লো।ওই শয়তান মেয়ে এভাবে কেউ কারো ঘুম ভাঙ্গায়?দেব দুইটা থাপ্পড় লাগিয়ে।যা এই রুম থেকে।একটু হলে মরেই যেতাম।

তিতাসের ব্যবহারে ইভা মুখ গোমরা করে চলে গেল।তিতাসের মা এসে বললো কিরে ইভা এত তাড়াতাড়ি চলে গেল যে।তিতাস কি বলবে বুঝতে পারছে না।তাই বললো ওর মনে হয় বাসায় কোন কাজ আছে তাই চলে গেল।তিতাসের মা বললো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে ইভারা একটু পরই বের হবে।এজন্যই তোকে ডাকতে এসেছিল।ইভার খুব কান্না পাচ্ছে এত বছর ওরা এক সাথে বড় হয়েছে তিতাস কখনো ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করে নি।উল্টো ইভাই তিতাসকে যখন তখন চিমটি কাটতো।তারপর ও তিতাস ওর সাথে রাগ হয় নি।আর আজ তিতাস ইভাকে থাপ্পাড় দিতে চেয়েছে।ইভার চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়ছে।এদিকে তিতাস ভাবছে একটু বেশিই রাগ দেখিয়েছি ইভুর উপর।এটা করা ঠিক হয় নি।ট্রেনে করে ইভার পরিবারের সবাই ও তিতাস ইভার মামার বাড়ি যাচ্ছে।মামার বিয়ে পর্যন্ত ইভা তিতাসের সাথে কোন দুষ্টমি করে নি।

ইভা তিতাসের সাথে কথা বলছে কিন্তু তিতাসের কাছে মনে হচ্ছে সবকিছু স্বাভাবিক হয়েও কেমন যানি অস্বাভাবিক। বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার তিন দিন হয়ে গেল তবুও ইভা কোন কিছু করার জন্য আবদার করছে না তিতাসের কাছে।তিতাসের যানি কেমন কেমন লাগছে।আজ ছাদে দাড়িয়ে আছে ইভা।তিতাস ইভার কাছে এসে দাড়াল।তিতাস বললো কিরে বাঘিনি তুই আজকাল কেন যানি বিড়ালের মতো স্বভাব করছিস।তিতাস ইভাকে খেপানোর জন্যই একথা বলেছে।কিন্তু ইভা রেগে না গিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো মানুষ মরে গেলে পচেঁ যায় বেচেঁ থাকলে বদলায়।হয়ত আমিও সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছি।তিতাস বলছে ওই কি হয়েছে তোর বলতো? আমার আবার কি হবে?কিছু না।

তিতাসের খুব খারাপ লাগছে কারণ ওর সেই দিনের ব্যবহারের জন্যই ইভা ওর সাথে এভাবে কথা বলছে।তিতাস বললো কাল সকালে বকুল তলায় যাবো রেডি থাকিস।ইভা বললো আজ রাতে আমাকে একটা এসাইনমেন্ট করতে হবে। ওটা করতে করতে কত রাত হবে জানি না।তাই কাল সকালে উঠতে পারবো না।ইভা বললো তোকে আর বেশি দিন আমার জালাতোন সহ্য করতে হবে না।তিতাস বললো হঠাং একথা বলছিস কেন?ইভা বললো মামার বিয়েতে একটা ছেলে আমাকে পছন্দ করেছে।ওই ছেলের বাবা মা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।বাবা এখনো ওনাদের কিছু বলেন নি।তবে মনে হয় রাজি হয়ে যাবেন। তিতাস হাসতে হাসতে বললো তোর মত বাঘিনিকে আবার কোন রাম ছাগল পছন্দ করছে?ইভা আর কোন কথা না বলে ছাদ থেকে নেমে গেল।তিতাস বাসায় গিয়ে চোখের জল আর আটকিয়ে রাখতে পারলো না।

তিতাসের মা ওই সময় ঘরে ডুকলো।মা বললেন তোর সব অনুভুতির কথা সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখিস কেন?তিতাস বললো কিযে বলনা মা তুমি।আমি আবার কি লুকিয়ে রাখলাম?তুই ইভার বিয়ের কথা শুনে কাদঁছিস তাই না?এবার আর তিতাস নিজেকে আটকাতে পারলো না।মাকে জড়িয়ে ধরে কেদেঁ ফেললো।মা বললো আরে বোকা ছেলে ওর সাথেই তোকে বিয়ে দিলেই তো হলো। এত চিন্তা করছিস কেন।ইভার মা বাবা তোকেই ওনাদের জামাই বানাতে চায়।তাইতো ওই ছেলের বাবা মাকে এখনো কিছু বলে নি।কাল আমাকে এসে বললো ভাবি ইভা আর তিতাসের বিয়ে দিলে কেমন হয়।আমি তখন বলেছি আমরা ওদের বিয়ে দিতে না চাইলেও ওরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবে ভাবি।

ওরা তো দুইজন দুইজনকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে কিছু বলতে পারে না।তিতাস একথা শুনে খুশিতে আত্মহারা।ছাদে গিয়ে দেখে ইভা দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাদঁছে।তিতাস বললো কিরে বিয়ের কান্না এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছিস।তোর জামাইয়ের নাম্বার টা দে তো একটু কথা বলি।ইভা বললো আমি আমার জামাইয়ের নাম্বার তোকে দেব কেন?তিতাস এবার ইভার হতটা ধরে বললো আমার হাত ধরে পুরো শহর ঘুরে বেড়িয়ে এখন আমাকে এই শহরে একলা ফেলে চলে যেতে চাস তোর সাহস তো কম না।ইভা এবার কেদেঁই ফেললো। তিতাস বললো এই ইভু কাদছিস কেন?আমি তোর নিত্যদিনের পাগলামি গুলোর সঙ্গি হতে চাই।আমাকে তোর নিত্যদিনের সঙ্গি বানাবি?ইভা বললো বাবা মাকে কি বললো আমরা?তিতাস বললো ওরা তো রাজি কালকে আমাকে মা বলেছে।

ইভা এবার বললো তুই কালকে জেনেছিস আর আজকে আমাকে বলছিস।কাল আমার কত কষ্ট হয়েছে জানিস?আমার বুঝি একয় দিন কষ্ট হয় নি।এটার শোধ তুললাম বুঝলি।ইভা বললো তুই আমায় একটুকো ভালবাসিস না?তিতাস হেসে ইভার দুই ধরে বললো ঠিক বলেছিস আমি তোকে একটুকো ভালোবাসি না।ইভা এবার তিতাসের হাতে চিমটি কাটলো।তিতাস বললো তবে এই চিমটি কাটা বাঘিনি মেয়েটাকে একটু বেশিই ভালোবাসি।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত