আবির অবনি

আবির অবনি

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ডাক্তার বললেন হাওয়া বদলানোর কথা, তাই কোনকিছু না ভেবেই আবির চালে গেল বান্দরবান তার খালার বাড়িতে ।

এখানকার রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে বসে একমনে পাহাড়ের চুড়ার মাথায়,মনি-মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করা আলোয় আর চঁাদের আলোয় নিজেকে বিলিন করে,একমনে তার স্বরচিত্র গান গেয়ে চলা।।। আবির অনুভব করে তার এই সঙ্গীহীন জীবনে কাউকে ভিষণ ভাবে প্রয়োজন, যে তার চন্দ্রবিলাসিতার সঙ্গী হবে, যার চুলের সুগন্ধে সে হারিয়ে যাবে ঐ সূদুর পাহাড় ও ঘন স্তব্ধ বনে জঙ্গলে।। কিন্তু হয়ে ওঠেনা এখনও কাউকে তেমনভাবে মনে ধরার মতো। আবিরের একমনে গান গেয়ে চলায় বাধা সাধলো একটি মেয়ালি কন্ঠ,আবির পিছনে ফিরে দেখলো পাশের বাড়ির ছাদে একটি মেয়ে দাড়িয়ে আছে। মোটা চশমার আড়ালে এক জোড়া মায়াবি চোখ,,

— আপনার নাম আবির রহমান তাই না?? ক্ষনিকের মুহুর্তে আবিরের বিষ্ময়ের সীমা রইলো না,বান্দরবান এই প্রথম এলো,অচেনা অজানা শহরে কেউ তার নাম জানতে পারে এটা তার ধারনার বাইরে ।

— জ্বি!আপনি কিভাবে জানলেন?? মেয়েটা স্ফীত হাসি হেসে বলল” আমি আন্টির কাছ থেকে জেনেছি।

— ওহ্
— আমি অবনি
— খুব সুন্দর নাম। আবির আবার তারা দেখায় মন দিলো। অবনি একটু বেশিই অবাক হলো কেননা তার সাথে কথা বলার জন্যে কত ছেলে পাগল আরে সে যেচে এসে কথা বলছে তার সাথে তবুও আবিরের কোন আগ্রহ নেই।

— আপনার কি মন খারাপ? আবির মুখ না ঘুরিয়েই বলল কই নাতো। অবনি চোখের সামনের চুল গুলো সরাতে সরাতে বলল, তাহলে এভাবে বিষন্ন হয়ে বসে আছেন কেন? আবির একটু হেসে বলল শরীরটা খারাপ তাই।।

–আপনার গানের গলাটা ভারি মিস্টি।
— হয়তোবা।
—আপনি কি প্রেম করেন?
— না তোহ।
–করবেন?
–কার সাথে
— আমার সাথে ।কেন? আমাকে কি পছন্দ হয়না!

আবির অবাক হয়ে চোখ দুটি প্রসারিত করে অবনিকে আর একবার দেখে নিলো। এক ঢোক গিলে বলল্ল আজ তাহলে ভেবে দেখি কেমন;ভালো থাকবেন? অবনি প্রতিদিন ছাদে এঠে আবিরের সাথে কথা বলতে কিন্তু আবির পালিয়ে যায় কোন রকম টালবাহানা করে। অবনি খুবই লজ্জিত, লজ্জা শরমের মাখা খেয়ে সেদিন অন্তত ওইসব বলা ঠিক হয়নি তার। আজ অবনি আবিরকে হাতে নাতে পেয়েছে, ছাদের দরজাটা তালা লাগিয়ে এগিয়ে গেলো চুপিসারে।এদিকে আবির আপনমনে গান গেয়ে চললে,,,, আবির আমাকে গিটার বাজানো শিখাবেন? ক্ষনিকটা চমকে, ফিরে তাকালো আবির। কি হলো যে চমকে গেলেন আমি বাঘ না ভাল্লুক হাসতে হাসতে বলল অবনি।আবির দাড়াতে দাড়াতে বলল আপনি বসে চাঁদ দেখেন আমি আজ উঠি, অবনি চুপচাপ ছাদ থেকে দুপা ঝুলিয়ে চাঁদ দেখতে লাগলো।

–এইযে শুনছেন?অবনি বিব্রত ভাব দেখিয়ে বলতে লাগল কি হলো আবার ফিরে আসলেন যে?
–চাবিটা দেন ?
–কিসের চাবি?
–চাবিটাতো আমি নিচে

ফেলে দিয়েছি। আবির একবার নিচে তাকিয়েই অবনির গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো, রাগে গিজ গিজ করে বলতে লাগ্লো আপনি আমার সাথে পেয়েছেন টা কি, খালি ফাজলামি করেন আমার সাথে। নিরবে দুগাল বেয়ে চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে অবনির, হাতে থাকাচাবিটা আবিরের হাতেদিয়ে মুখ লুকিয়ে কাদতে লাগল॥ আজ পাচ দিন হয়ে গেল অবনি আর ছাদে আসে না, সত্যি বলতে কি অবনি যখন লুকিয়ে লুকিয়ে ছাদে এসে আবির কেদেখতো তখন দারুণ লাগতো।

অবনিকে sorry বলাটা বিশেষ দরকার, আজকে যেহেতু আবির চলে যেতে চাইছে।আসলেথাকার কথা আরও এক সপ্তাহ কিন্তু এখানে থেকে কেনজানি অবনির প্রতি টানবেড়েই চলছে সাত পাচভেবেই আবির চলে গেল অবনির কাছে, এ কয়দিনে মেয়েটার চেহারা শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে। আবির কে দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে অবনি। ইতস্তত আবির বলল সেদিনের ব্যাপারটার জন্যে আমি খুবেই দুঃখিত ভালো থাকবেন আমি আজ বিকেলে চলে যাবো। আবির রুমে বসে ব্যাগ গোছাচ্ছিল আর মনে মনে অবনির কথা ভাবছিল। আবিরের খালাতো বোনটা একটা চিঠি নিয়ে আসলো বললো. ভাইয়া এটা অবনি আপু দিলো।বিষন্ন মন নিয়ে তাই আর চিঠিটা খুলে দেখলো না আবির, চলে আসার সময় অবনির চোখ দিয়ে ছলছল করে পানি ঝরছিলো। ট্রেনে বসে boring হচ্ছিল আবির তাই চিঠিটা খুলে পড়তে লাগলো, “আবির মানে জানো রঙ, ভালোবাসার রঙ;খুবই সুন্দর নাম তাই না।

আমি জানতাম মেয়েদের চেহারাই শুধু কিউট হয়, কিন্তু তোমাকে দেখার পর আমার সে ধারণা পাল্টে গেছে।,প্রথম দেখার পরই তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। সেদিন আসলে এই ফিকে শহরটায়, তোমার ভালোবাসার আবির মাখানো খোয়ায়েশটা,দমিয়ে রাখতে পারিনি। তাই ভালোবাসি বলে ফেলেছিলাম।একটা কথা কি জানো? মানুষের সব চাওয়া পাওয়াই কখনও পূর্ণ হয় না, আমার চাওয়াটা না হায় অপূর্ণই থেকে যাক।আর হ্যাঁ তোমার গানের গলাটার মতো তোমার হাতের লেখাটাও কিন্তু দারুন, আমার একটা ইচ্ছের কথা বলে রাখলাম পারলে পুরন করিও, আমায় নিয়ে একটা গান লিখবে? আনমনে একলা বসে চাঁদকে শুনিয়ে গান গেয়ে যেও।

আমি না হয় তোমার মুখে নাই শুনলাম ঐ চাদের ভরা জোছনায় তোমার গানের সুর ঠিকি আমার কর্ণকুহরে আঘাত করবে। ইতি,,’তোমার কেউ না,, নিজের অজান্তেই চোখদিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলো। না এ মেয়েকে কখনও কস্ট দেওয়া চলবে নাহ।পড়ের স্টেশনে নেমে, ফিরতি ট্রেনে আবার বান্দরবান চলে এলো আবির ।রাত ১২:৩০ আবির দেখতে পেলো এখনও সেই আগের মতই ছাদের কিনারে একা একা পা ঝুলিয়ে চাদের দিকে তাকিয়ে আছে অবনি,,পিছনে ফিরে আবির কে দেখতে পেল অবনি। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো সে , কিছুক্ষণ নিশব্দে আবিরের শার্ট ভিজিয়ে , বুক থেকে মাথা উঠিয়ে অবনি বলল,,,,,,,,

–কেউ সঙ্গী হতে পারে তবে একটা শর্ত আছে?
–কি শর্ত?
–আজীবনের জন্যে তোমার চন্দ্রবিলাসীতার সঙ্গী করতে হবে
—পারব নাহ!
—কিহহ বললি আবার বলতো
–নাহ মানে, সারাজীবন কি বসে বসে চন্দ্রবিলাসিতা করবো?
—তো কি করতে চাও?
–নাহ মানে প্রেম-ট্রেম করব।
— ইশ! সখ কত,পারব না?
–কেন?
–মুড নাই
–তবে রে অবনিকে কোলে নিলে একটা চুমু একে দিলো আবির।
–এখন?
—প্রেম করতে পারি তবে সারাজীবন এভাবে ভালোবেসে যেতে হবে।
–যথাআজ্ঞা মহারাণী

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত