ভালোবাসা অবিরাম

ভালোবাসা অবিরাম

:- আমার প্রচন্ড ঘুম ধরেছে।(মীম)
:-তো ঘুমাও।(আমি)
:-কোথায় ঘুমাবো শুনি?(ভ্রু কুঁচকে জবাব দিলো)
:-ওই একদম ভ্রু কুঁচকে তাকাবেনা বলে দিলাম!
:-১০০বার তাকাবো তাতে তোমার কী?
:-আমার অনেক কিছু। তোমাকে এভাবে ভ্রু কুঁচকে থাকাতে দেখলে আমি বারবার তোমার প্রেমে পরে যায়।
:-ওমা তাই বুঝি! তাহলে আজ থেকে আরো বেশি থাকাবো..?
:-না তাকাবেনা।
:-তাকাবো।
:-আচ্ছা তাকাবে।এবার চুপ করো।
:-হুম।
:-আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাও।
:-এখন আর ঘুমাবোনা। তুমি ঝগড়া করে ঘুমিয়ে দিলেকেনো?
:-ওই কী বললে তুমি?ঝগড়া আমি করেছি? তুমি ঝগড়া করেছো..?
:-মোটেও না।তুমি ঝগড়া করেছো।
:-তুমি করেছো।
:-তুমি একটা ঝগড়াটে ছেলে।
:-আমি ঝগড়াটে হলে তুমি হ্যাঁ, তুমি একটা ঝগড়াটে মেয়ে।
:-আচ্ছা এভাবে ঝগড়াই করবে শুধু?
:-তুমিইতো করছো।
:-আচ্ছা আমিই করেছি।তোমার ফোন দাওতো।
:-ফোন কী করবে?
:-বাসায় ফোন দিবো।দেখি আম্মু ওষুধ খেয়ে কীনা।

আমি পকেট থেকে ফোন বের করে মীমের হাতে দিলাম।মীম বাসায় ফোন দিলো।আমি রাসেল।পড়ালেখা শেষ করে একটা কলেজে শিক্ষকতা করছি।আর যার সাথে এতসময় ঝগড়া করলাম তার নাম মীম।আমারা দুজন স্বামী-স্ত্রী । আমরা দুজন একই কলেজে শিক্ষকতা করছি।আমরা ট্রেনে করে আমার শুশুর বাড়ি মানে মীমদের নিজের বাসায় যাচ্ছি।আমাদের বিয়েটা লাভ ম্যারেজ। ৫বছর রিলেশনের পর বিয়ে।

:-এই আম্মু তোমার সাথে কথা বলবে।(মীম)
:-দাও।(আমি) মীমের হাত থেকে ফোন নিলাম
:-আম্মু তুমি ওষুধ খেয়েছো?(আমি)
:-তোর বউয়ের জ্বালায় না খেয়ে উপায় আছে। (আম্মু)
:-আব্বু ঘুমিয়ে গেছে?
:-না।তোর আব্বু এখনো বাসায় আসেনি।
:-এনামুল,নাহিদ কোথায়?(আমার দুই ছোট ভাই)
:-ওরা ঘুমিয়ে পড়েছে।
:-তাহলে ঘুমাও তুমি এখন।আমি পরে আবার ফোন দিবো।
:-আচ্ছা দিস।সাবধানে যাস।আর বউমাকে বাইরের কিছু খেতে দিস না।আমি ট্রিফিন বাটিতে খাবার দিয়ে দিয়েছি সেগুলো খেতে বলিস।
:-ঠিক আছে রাখছি। আমি ফোন রেখে দিলাম।
:-ওই তুমি ফোন রাখলে কেনো?(মীম)
:-কথা বলা শেষ তাই রেখে দিয়েছি।(আমি)
:-ওই তোমাকে কী রাখতে বলেছি?আমার কথা বলা শেষ হয়নি।
:-আচ্ছা তোমরা বউ শাশুড়ি এত কী কথা বলো শুনি?
:-সেটা তোমাকে বলবো কেনো শুনি? বলবোনা তোমাকে।
:-আচ্ছা বলতে হবেনা তোমাকে।এখন ঘুমাও।
:-হুম।

মীম আমার কাঁধে মাথা রাখলো।আমি অপলকদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি মীম এর দিকে। মীমকে পেয়ে আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। আমার পরিবারের সবার খুব খেয়াল রাখে ও। একটা মেয়ে তার শুশুর শাশুড়িকে এতটা ভালোবাসে সেটা ওকে না দেখতে বুঝতামই না।এখনকার যুগে বউ শাশুড়িতে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকে।কিন্তু মীম এর ক্ষেএে সেটা ভিন্ন।আমার আব্বু আম্মুকে মীম যতটা ভালোবাসে ততটা মন হয় আমিও বাসিনা।

:-ঘুমিয়ে গেছো?(আমি)
:-নিশ্চুপ।

আমি দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম ঘুমিয়ে গেছে।ঘুমন্ত অবস্থায় মীমকে ঘুম সুন্দর লাগছে। মীম এর সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো ফেসবুকের মাধ্যমে।প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর রিলেশন।আমাদের রিলেশনের শুরুতে কেউ কাউকে দেখিনি।না দেখেই ভালোবেসেছিলাম।ত বে যেদিন দুজন দুজনার পিক দেখি সেদিন দুজন দুজনাকেই ভালো লেগেছিলো।আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো ৩বছর রিলেশনের পর।আমার বাসা ঢাকা আর মীম এর বাসা ছিলো মুন্সীগন্জ। এত দুরুত্বের কারণেই সামনা সামনি দেখা করা হয়ে ওঠেনি। মীমের কাশির শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।আমি কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই মীম আমার গায়ে বমি করে দিলো।

:-সরি সরি।আমি ইচ্ছে করে এমন করিনি(মীম)
:-এই পাগলী সরি বলার কী আছে।তোমার বরের গায়ে তুমি বমি করেছো এতে সরি বলার কী আছে?(আমি)
:-তবুও।তোমার সব পোশাক নোংরা করে দিলাম।
:-পরে কথা বলো আগে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলো।

আমি ব্যাগ থেকে পানি বের করে দিলাম।মীম পানি নিয়ে মুখ ধুয়ে নিলো।আমি মীম এর উপর কখনোরাগারাগি করতে পারিনা।মেয়েটার মুখের দিকে তাকালেই সব কষ্ট রাগ ভুলে যায়।একবার আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।৫দিন একটানা জ্বর ছিলো। ওই ৫দিনে বুঝেছিলাম মীম আমাকে কতটা ভালোবাসে।৫দিন আমার কাছ থেকে একটুও দুরে সরেনি।আমাকে সুস্থ করতে গিয়ে ও নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো।

:-তুমি ওয়াশরুমে গিয়ে পোশাক চেন্জ করো আসো।(মীম)
:-লাগবেনা।প্রায়তো চলেই এসেছি।আর ১০মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবো।(আমি)
:-তবুও যাও।স্টেশনে নামলে কত মানুষজন থাকবে। খারাপ দেখাবে।শুধু শার্টটা চেন্জ করে আসো।
:-আচ্ছা যাচ্ছি।

আমি ব্যাগ থেকে আলাদা পোশাক বের করে ওয়াশরুমে গেলাম।ঢাকা কলমাপুর থেকে যে ট্রেনগুলে ছাড়ে প্রায় সবগুলোতেই ছাএীদের জন্য ওয়াশরুমের ব্যাবস্থা আছে। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসলাম।

:-এবার হয়েছে?(আমি)
:-না হয়নি।(মীম)
:-আবার কী?
:-বসো দেখাচ্ছি।

আমি ওর কথামতো শিটে বসলাম।মীম ওর ব্যাগ থেকে চিঁরুনি বের করে আমার চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে বললো

:-এবার ভালো লাগছে।(মীম)
:-আচ্ছা আমি কী বিয়ে করতে যাচ্ছি যে এত সাঁজতে হবে?(আমি)
:-বিয়ে করতে যাচ্ছোনা কিন্তু শুশুর বাড়িতো যাচ্ছো।হি হি হি হি হি মীম হাসছে আর আমি মুগ্ধ হয়ে সেই হাসি দেখছি আর বারবার ওর প্রেমে পড়ছি।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত