বৌ এর ভালোবাসা

বৌ এর ভালোবাসা

“বিরিয়ানির চাল কিনে এনে যখন বৌ এর হাতে তুলে দিলাম, বৌ টু শব্দও করেনি৷ তখন অতটা গুরুত্ব না দিলেও বুঝতে পারছি বৌ আমার রেগেছে ভীষণ৷ কিন্তু এই কয়েক মিনিটে কি এমন অঘটন ঘটিয়েছি যে রাগ করা লাগবে৷ বিকেলে বৌ যখন বাপের বাড়ি থেকে বাসায় ফিরলো৷ আমি তখন ফুল সাউন্ডে বিটিভি দেখছিলাম৷ বৌ আসার খবর শুনে সকাল থেকেই অবশ্য বিটিভি দেখছিলাম৷ বৌ আমার বড্ড চালাক৷ আসবে বলেছিল ঠিকই৷ কিন্তু সময়টা বলেনি৷ সেই কারণে দাঁত দাঁত চেপে সারাক্ষণবিটিভি দেখে গেলাম! দেখা বললে ভুল হবে অবশ্য৷ শুনেছিলাম৷”

এই বিটিভি দেখার কারণ আছে বটে৷ বৌ আমার একটু রাগী হলেও প্রচুর ভালোবাসে আমাকে৷ বৌ এর ধারনা বিটিভির সব সংবাদ পাঠিকাগুলো আন্টি টাইপের৷ সেহেতু আমি যদি সারাদিন খবর দেখি তাতেও কোনো মেয়ে, না মহিলার উপর মুগ্ধ হবো না৷ অন্যান্য চ্যানেলের সংবাদপাঠিকাগুলো নাকি একটু কিউট টাইপের৷বৌ এর পাশে বসে বসে তাদের বকবকানি দেখবো এটা বৌ এর সহ্য হয় না৷ আর মাঝেমধ্যে নাটক দিলেও, সে নাটকের নায়িকারাও যথারীতি সংবাদ পাঠিকার কাছাকাছি বয়সের৷ আন্টি টাইপ নায়িকা৷ বৌ বাপের বাড়ি যাওয়ার আগে ফোনটাও সাথে করে নিয়ে গিয়েছে৷ বদলে নকিয়া ১১০০ মডেলের বাবার আমলের ফোনটা দিয়ে গিয়েছে৷ আমি যখন কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বললাম,

-বাবু এটা কি হলো? আমি যখন তোমাকে মিস করবো৷ তখন ভিডিও কল কিভাবে দিবো? বৌ আমার নাক টেনে বলেছিল,

-মিস করলে অফিস শেষে আমাকে দেখে আসবা বাবু৷ এখন আমার শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে দাও৷ মনে মনে বললাম, আমিতো লুঙ্গিই ভালোমতৌ পরতে পারি না৷ আবার আঁচল ঠিক করবো! আঁচল অবশ্য ঠিকই ছিল৷ বৌ একটু ভালোবাসা দেখালো আরকি৷ সেই ভালোবাসার জের ধরে ন্যাকা ন্যাকা গলায় বললাম, আচ্ছা তুমি যখন ব্যস্ত থাকবা৷ আমি তখন কীভাবে সময় কাটাবো বলো?” আমার কথা শুনে বৌ মুচকি হেসে বলেছিল,

-অমা! ফোনে সাপ খেলা আছে জানো না তুমি? সাপখেলা খেলবা৷ হাইস্কোর করবা তুমি৷ আর বাপের বাড়ি থেকে এসে আমি সেটা ভাঙবো৷” বৌ এর কথাশুনে আমি কিছুক্ষণ দাঁতে দাঁত শক্তকরে খিঁচে রেখেছিলাম৷” যাওয়ার সময় বৌ যখন দু’গালে দু’টো চুমু দিয়ে গেল৷ সেই খিঁচুনিটা দুই চুমুতেই ছুটে গেল! বৌ ঘরে ঢুকতেই বিটিভির সাউন্ড শুনেই আবেগে গদগদ হয়ে গেল৷ আমি সামনে যেতেই টুপ করে জড়িয়ে ধরলো৷ আমিও ভালোবাসায় গদগদ হয়ে যখন টুপ করে একটা চুমু দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, বৌ তখন চিমটি দিয়ে দিল৷ আমার মনেই ছিলনা পাশে শালাবাবু ছিল৷ তারপর বৌ এর নরম হাতখানা আমার হাতের মধ্যে নিয়ে মালিশ করে দিতে দিতে বললাম,

-শুনো না৷ আমার বিরিয়ানী খেতে ইচ্ছে করছে৷ অনেকদিন খাইনা৷ রান্না করবা?” এবার বৌ কথা রেখেছে৷ ফ্রি হয়ে রান্না শুরু হবে৷ বাসায় নাস্তা ছিল না৷ বাইরেই খেয়েছিলাম এতোদিন৷ শালাবাবুকে রুমে বসিয়ে নাস্তা আনতে গেলাম৷

শেষে খাইয়ে দাইয়ে বিদায় করলাম তারাতারি৷ শালাকে বিদায় করতে না পারলে ঘুম হবে না আমার৷ যেদিন বৌ বিরিয়ানী রাঁধে, সেদিন বাসায় রোমান্টিক আবহাওয়া বিরাজ করে৷ বৌ রান্না করবে আর আমি বৌ কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখবো৷ বৌ কে এরকম জড়িয়ে ধরলে বিরিয়ানী মজা বেশী হয়৷ তাই মাঝে মাঝে পেটে অসুখ হওয়া সত্ত্বেও বৌ বিরিয়ানী রাঁধতে বলি৷” আজকে রোমান্টিকের বদলে গুমোঢ় আবহাওয়া বিরাজ করছে৷ অনেকক্ষণ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখার পরও কারণ বের করতে পারলাম নাহ৷ তারপর গুটি গুটি পায়ে রান্না ঘরের সামনে গেলাম৷ ভাবলাম বিরিয়ানীর সুভাষ পাবো৷ আমার আশায় জল ঢেলে বিরিয়ানীর বদলে অদ্ভূত একটা পোড়া গন্ধ আসছে৷ আস্তে আস্তে গিয়ে বৌ টুপ করে জড়িয়ে ধরতেই বৌ চ্যাত করে উঠলো৷ পাশ থেকে রুটি বানানোর খুন্তিটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলল,

-এটা কি দেখেছিস?
-বৌ তুমি কি বিরিয়ানীর চাল দিয়ে রুটি বানাচ্ছো? হাতে খুন্তি কিসের জন্যি? বৌ এবার দ্বিগুণ রেগে বলল,

-তোর মাথা ফাটানোর জন্য৷ আর শোন, বিরিয়ানী রাঁধবোনা৷ পিয়াজ পুড়াচ্ছি৷ পিয়াজ পোঁড়া দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়াবো তোকে!” বৌ এর রাগ দেখে আমি নিরাপদ দূরত্বে এসে মিনমিন করে বললাম,

-বাবু আমিতো পোঁড়া জিনিস খেতে পারিনাহ৷ সেটা তো জানোই৷” বৌ এবার চারগুণ রেগে বলল,

-পোঁড়া খেতে পারিস না? যেখানে দাঁড়ানো ঐখানেই দাঁড়া৷ নয়তো খবর আছে৷” আমি আর এগুলোম না৷ বৌ আমার হাত ধরেটেনে টেনে রুমে নিয়ে গেল৷তারপর সিগারেটের সদ্য নতুন প্যাকেটটা দেখিয়ে বলল,

-তোকে এসব খেতে মানা করেছিলাম?

প্যাকেট দেখে আমি আকাশ থেকে পড়লাম৷ আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই বৌ লাইটারটা বের করে বলল, বাহ! লাইটারও দেখছি দামি দেখে কিনেছে!” আমি বৌ কে টুপ করে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফেললাম৷ ভালোবেসে না অবশ্য৷ সেফটি হিসেবে৷ বৌ আমার জোরাজুরি করছে ছাড়ানোর জন্য৷ অনেক কষ্টে বৌ কে শান্ত করে বললাম,

-বিশ্বাস করো আমি এসব খাই নাহ৷ আমিও জানিনা এসব কেমনে আসলো৷ যদি বিশ্বাস না হয়, তুমি আমাকে চুমু দিয়ে দেখো!” এই কথা শুনে বৌ আবার জ্বলে উঠলো৷ বৌ কে বিশ্বাস করানো গেলো না৷ বৌ কে বললাম,

-আচ্ছা আমার ফোনটা দাও৷ আমার বন্ধুদের কাছে জিজ্ঞেস করো তুমি৷” বৌ তার বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়া ফোনটা আমার হাতে দিল অবশেষে৷ ডাটা অন করতেই টুং করে মেসেন্জারের শব্দ৷ বৌ আমার এক ঝটকাতেই ফোনটা কেড়ে নিল৷” আমি বসেই রইলাম৷ আজকে আমার রেহাই নেই৷ বৌ এবার ফোন ঘাটাঘাটি করে আমার দিকে তাকালো৷ এবার আর অগ্নি দৃষ্টিতে না! বৌ এর এহেন লুক দেখে আমি শিহরিত হলাম৷ তারপর বৌ কাঁদো কাঁদৌ গলায় বলল,

-বাবু আমি না সরি৷ না বুঝে কত কি বলে ফেলেছি৷ সিগারেটের প্যাকেটটা আমার ভাই ফেলে গিয়েছে৷ এই দেখো মেসেজ পাঠিয়েছে তোমাকে৷” আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম হ্যা শালাবাবু মেসূজ পাঠিয়েছে৷ “আপুর কাছ থেকে হেফাজতে রেখো প্যাকেটটা৷ জানলে খুন করে ফেলবে” জবাবে আমি লিখেছি, করুক৷ আরেকটু হলেই আমাকে মেরে দিতো তোর বোন৷” বৌ কে বললাম,

-চলো রান্না ঘরে চলো৷ বৌ উঠে রুমের দরজায় গিয়ে আবার ফিরে এসে আমার শার্টের কলার ধরে ভ্রু কুঁচকিয়ে বলল ,
-আচ্ছা লাইটার তো বেডের নিচে পেয়েছি৷ এটা কিভাবে আসলো৷
-কয়েল জ্বালিয়েছি এটা দিয়ে ৷ এতো সন্দেহ করো ক্যান?
-ভালোবাসি তাই৷

বৌ হাসলো অবশেষে৷ গুলুগুলু গালে টোল পরেছে৷ আমি আর দেরী না করে টুপ করে চুমু বসিয়ে দিলাম বৌ এর গালে৷”তারপর বিরিয়ানী রান্না হলো, তারপর তারপর…..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত