আমি তোকে ভালবাসি

আমি তোকে ভালবাসি

–বউ ও বউ?
–তোরে না বলছি আমাকে বউ বলবি না।
–তাহলে কাকে বউ বলবো?
–ওই শয়তান আমি কোন কালের তোর বউ হলাম!
–হস নাই তবে হবি।
–তোরে কইছে?
–হুম আমার শশুর আব্বু বলছে।
–আমার আব্বু তো পাগল হইছে, বান্দরের হাতে আমাকে তুলে দিবে।
–তুই আমাকে বাদর বললি?

–হুম।
–তুই দেখিস তোকে একদিন এই বাদরের গলাই ঝুলতে হবে।
–কেনরে দেশে কি ছেলের অভাব হইছে!
–আমার মতো কিউট ছেলের অভাব আছে।
–দোস্ত তোর এই কথা দেশের বাকি ছেলেরা শুনলে গালাই দড়ি দিব।
–তোরে কইছে..?
–হুম।
–তোর সাথে কথাই কমু না যাঃ।
–কই যাস।
–গলাই দড়ি দিতে।
–বেস্ট অফ লাক দোস্ত।
–তুই আমাকে আটকাবি না দোস্ত।
–না।কেন আটকাবো শুনি।তাছাড়া তুই একটা শুভ কাজে যাবি।সেখানে আটকানো টা কি ঠিক।আমি এত খারাপ না বুঝলি!

–তুই এমন কেন রে..?
–কেমন শুনি..?
–আমি তোকে ভালবাসি এটা বুঝোছ না কেন।
–তুই ভালবাসিস সেটা তোর বিষয় এখানে আমি কি করব বল..?
–তোর অনেক কিছুই করার আছে।
–কি?
–আমাকে ভালবাসার।
–হি হি হি হি।
–হাসিস কেন?
–তোকে কোন দুঃখে ভালবাসতে যাবো রে।
–দুঃখে ভালবাসতে কে বলছে সুখে ভালবাসবি।
–তুই চুপ করবি…?
–কেন চুপ করবো?
–তুই যদি আর এই বিষয়ে একটা কথা বলিস তাইলে তোকে ঘুসি দিয়ে তোর নাক ফাটাই দিব।

–ঘুসিই যখন দিবি নাকে দিবি কেন পিঠে দে..!!
–আচ্ছা দোস্ত তোকে কিভাবে আর বলবো, আমি তোকে ভালবাসি না ।
–কেন ভালবাসবি না আমাকে?
–কারন তুই আমার দোস্ত।
–এটা কারন নাকি অন্য কোনো কারন আছে।
–মানে?
–তুই কি অন্য কাউকে ভালবাসিছ?
–না।
–তাহলে আমাকে ভালবাসতে সমস্যা টা কোথাই?
–তুই থাক আমি বাসাই গেলাম।
–কেন আর একটু পরে যা..?
–আর একটু পরে গেলে আম্মুর কথা শুনতে হবে।আর তাছাড়া এখানে বসে বসে তোর পেচাল শুনতে ভাল লাগছে না.. ।
–তোর আম্মু কে বলিস তুই তোর হবু বরের সাথে ছিলি।
–আবার…??
–আচ্ছা আমি কি আগাই দিব তোকে..?
–না থাক।আমাকে আগাই দিতে হবে না।

এই মেয়েটাকে আমি কিভাবে বুঝাই আমি ওকে কতটুকু ভালবাসি। যতবারই প্রপোজ করছি ততবারই ওই এক কথা বলছে।কিভাবে বুঝাবে বন্ধুদের মাঝেও রিলেষন হয়।আর সেই রিলেষনটা হয় সবচেয়ে মজবুদ।তারা বুঝতে পারে এক অন্যের আবেগ টা।যা অন্য রিলেষনে অতটা সম্ভব হয়না।চোখে কিছুতেই ঘুম আচ্ছে না।রাত তো অনেক হইছে তাও চোখে কেন যে ঘুম আচ্ছে না কে জানে।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম রাত ১টা বাজে।পাগলি টা নিশ্চই এখন ঘুমাই আছে।একটু জালাই ওকে ।যেই ভাবা সেই কাজ।দিলাম ফোন।রিং হচ্ছে।

–বউ তুমি কি কর?
–তোমার জন্য বসে আছি তুমি জানো না গো।
–বউ সত্যিই তুমি আমার জন্য বসে আছো।তুমি একটু দাড়াও আমি এখনই আইতাছি।
–ওই হারামি তুই এত রাতে ফোন দিয়ে আমার সাধের ঘুমটা নষ্ট করলি কেন।
–আমার ঘুম আচ্ছে না তাই তোর সাথে ফোনে কথা বলবো বলে ফোন করছি।
–তোর ঘুম আসছেনা এখানর আমি কি করবো?
–তুই ঘুমপারানি গানটা বলে আমাকে ঘুম পাড়া।
–তুই ফোন কাটবি না আমি কাটবো?
–তুই সবসময় এমন করিস কেন আমার সাথে। আচ্ছ ফোন কাটছি তার আগে আই লাভ ইউ বল?
–তোরে কাছে পাইলে জুতা দিয়ে পিটাইতাম।
–তোরে কাছে পাইলে আমি তোকে কিস করতাম।
–হারামি ফোন কাটবি।
–কাটবো তো তার আগে একটা ফ্লাইং কিস দে?
–আমার জুতাটা কই গেল…!!
–জুতা দিয়ে কি করবি?
–তোরে ফ্লাইং কিক দিমু কুত্তা।

টুট টুট টুটহা হা হা ফোনটা কেটে দিছে।যাক এখন ঘুমানো যাক।

–দোস্ত কি করিস?
–এতো সময় লাগে আসতে তোর?
–হুম লাগে মেয়েদের একটু বেশি সময় লাগে।তাতে তোর কোন সমস্যা?
–প্রবলেমের জন্যই তো বলছি।জানিস না তোরে না দেখলে আমি অস্থির হয়ে পরি!
–ওই তোর বাংলা ছবির ডাইলগ বাদ দিবি।
–এখন বুঝবি না যখন আমি তোকে ছেড়ে চলে যাবো তখন বুঝবি।
–হ্যা তা যা না।
–অকে ভাল থাকিস।
–আমি ভালই থাকবো।বরং তুই ভাল থাকিস।

না আর এত ইনস্লাট সজ্জো হয়না।আমি এত ভালবাসি অথচ মেয়েটা বুঝার চেষ্টাই করছে না।না ও যদি সত্যিই আমাকে না চায় তবে আমি আর ওকে ভালবাসার কথা বলে বিরক্তি করবো না। বাসাই চলে আসলাম।ফোনটাও অফ করে রাখলাম।কি হবে ফোন অন করে যার সাথে কথা বলতাম সেই তো চায় না আমাকে। পাচ দিন হলো ফোন বন্ধ।বন্ধুদের সাথেও যোগাযোগ করি নাই।এমন কি ক্যম্পাসেও যাইনি।তাই ভাবছি আজকে ভার্সিটি থেকে ঘুরে আসি। ভার্সিটিতে এসে মুনের সাথে কথা বলছি। পিছুনের দিকে তাকিয়েই দেখি সিমি পিছুনে দাড়িয়ে আছে। তাই মুনকে বললাম চলো ওই পাশে গিয়ে বসি।

–এই সাদ শুন?
–……
–আমি ডাকছি শুনতে পাসনা?
–হুম বল কি বলবি তবে তাড়াতাড়ি।
–ফোন অফ রাখছিস কেন?
–এমনি?
–এমনি মানে..?
–ভাল লাগেনা তাই অফ রাখছি।আর তোকে বলতে হবে কেন আমি ফোন অফ রাখছি।( বুঝ কেমন লাগে যখন আমি তোর পিছনে ঘুরছি আর তুই এই ভাবে ইগনোর করতি।)
–ও।তাই তো আমি তোর কে হই।
( মনে হয় এখনই কান্না করবে।যতই কান্না কর আমি ভুলবো না।এক মাঘেই শীত যাই না সোনা)
–হুম সেটাই।আচ্ছা আমি আসি মুন আমার জন্য বসে আসে।আর হ্যা ভাল থাকিস।

আমি ওখান থেকে চলে আসলাম। একবার পিছন ফিরে তাকাতে চাইলাম।দেখতে চাইলাম ওর এখন কি অবস্থা।কিন্তু তাকালাম না জানি সবুরে নেওয়া ফল।বিকালের দিকে মুন কে নিয়ে ভার্সিটি থেকে বাসাই আচ্ছি।এমন সময় সিমি পিছন থেকে ডাক দিল।

–হুম।কিছু বলবি?
–আমার সাথে একটু ঘুরতে যাবি?
–নারে আমি পারবোনা।মুন কে নিয়ে ঘুরতে যাবো।
–তুই হঠাৎ করে চেন্জ হয়ে গেছিস।
–চারপাশের লোকজন যখন চেন্জ হয় তখন আমি কেন নিজেকে চেন্জ করবোনা।
–কে চেন্জ হইছে শুনি?
–নিজেকেই প্রশ্ন কর।
–আই লাভ ইউ
–হা হা হা
–হাসিস কেন?
–হাসার মত কথা বলছিস তাই হাসলাম।

–আমি সত্যি তোকে ভালবাসি।এই কয়দিন তোকে কাছে না পেয়ে
আমি খুব মিস করছি ।আমি বুঝতে পারছি তোকে ছাড়া আমি এক মূহুর্ত চলতে পারবোনা। তোর শূর্নতা বুঝিয়ে দিয়েছে তুই আমার কতটা জুরে আছিস।
–দেখ আমি মুনকে কথা দিছি আমি ওকে ভালবাসি।(আমাকে জরাই ধরে কান্না শুরু করল সিমি।মনে মনে বলছি আরে পাগলি আমি তো তোকেই ভালবাসি।)

–একি ছাড় আমাকে মুন দেখলে কি ভাববে
–প্লিজ সাদ আমাকে এভাবে ফেলে যাস না।
–দেখ আমি বাদর পোলা।আমার সাথে তোর যাবে না।
–আমার বাদর ছেলেকেই দরকার।
–কিন্তু আমি তোকে চাইনা।(মাইয়া কেমন লাগছে এখন)
–এই কোথাই যাস
–মরতে?
–কেন?
–তুই মুন কে ভালবাসিস তাই।
–ও।
–ওই ছাড়।তোর মুন দেখবে!
–দেখলে দেখুক!
–কেন ও না তোর গার্লফ্লেন্ড ।তুই ওকে ভালবাসিস।
–ওটা তো তোর মন থেকে আসল কথা বের করানোর জন্য বলছি।

–কি??
–হুম
–তুই আসলেই একটা বাদর।
–হুম তোর বাদর।
–হি হি হি
–এখন তো দে…?
–কি?
–ওই যে ওটা
–খারা দিতাছি
–ওই কি খুজোস
–আমার স্যান্ডেলটা

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত