নতুন পথচলা

নতুন পথচলা

অনেকদিন পরে বেড়াতে যাচ্ছি বোনের বাসায়। আপু বলেছিল বাস স্টান্ডে ভাগিনাকে পাঠিয়ে দিবে,কিন্তু আমি নিষেধ করেছি।বলেছি একাই আসতে পারব। কিন্তু এখন এসে মনে হচ্ছে ভাগিনা আসলেই ভালো হত।

আমি এসেছি প্রায় ৪ বছর আগে। তখন আর এখন এর মধ্যে বিরাট পার্থক্য। তাই চিন্তে না পেরে আপুকে কল দিলাম। আপু বললো যে, রোড নং ৯,বাড়ি১৭,ফ্লাট হচ্ছে চারতলার A।রাস্তা নতুন নতুন লাগলেও ঠিকানা অনুযায়ী বাসা খুজে বের করলাম। লিফ্টে উঠে চার প্রেস করে দাড়ালাম। লিফ্ট থেকে নেমে দেখি একপাশে A আরেকপাশে B।তো কলিংবেল চাপদিতেই দেখি একটা মেয়ে দরজা খুলে দিল। আমি আপুর বাসা মনে করে, কিছু না বলেই ভিতরে ঢুকে পরলাম।মেয়েটা অবাক হয়ে বলতেছে আপনি কে? আমি আরফিন এর মামা।আপু, কোথায় ?  মেয়েটা হেসে দিয়ে বলতেছে আরফিনদের বাসা তো চারতলা আর আপনি এসেছেন পাঁচতলা। আমি বোকার মত সরি বলে বের হয়ে আসলাম। আপুর বাসায় এসে আপুকে বলতেই হেসে শেষ। আসলে আপুদের বাসার লিফ্ট টার ৩য় তলা মানি বিল্ডিং এর ৪তলা।

সারাদিন আপুর সাথে অনেক মজার সময় কাটিয়ে বিকাল বেলা আরফিনের সাথে ছাদে গেলাম। বিকাল বেলা ছাদে সময় কাটানো আমার একরকম অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। মামা ভাগিনা যখন দুষ্টামিতে ব্যাস্ত তখন দেখলাম ছাদের আরেক পাশে থেকে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। দেখে মনে পড়ল যে আজকে ভুলে তাদের বাসায় চলে গিয়েছিলাম। অনেকটা সময় চলে গেল আরফিনের সাথে মজা করে। মাগরিবের আযান দিচ্ছে তাই আরফিন কে নিয়ে ছাদ থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলাম,উপরে ছাদে তাকিয়ে দেখলাম সে মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।রাতে বাসায় বসে ফেসবুকে গল্প পরতেছি, তো দেখলাম নতুন একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসছে। নাম অবন্তিকা ইসলাম।গল্প পড়ায় মনযোগী থাকায় আর প্রফাইল চেক করিনি এক্সেপ্ট ও করিনি। পরের দিন যখন ছাদে গেলাম আরফিন রে নিয়ে তখন দেখলাম সেই মেয়েটি ছাদের এক কর্ণারে কানে হেডফোন দিয়ে আছে।গান শুনতেছে হয়ত,অথবা কারো সাথে কথা বলে। তাই আমরা অন্য একপাশে গিয়ে গল্প করতেছিলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি মেয়েটি আমাদের কাছে এসে দাড়ালো। তখন আরফিন হঠাৎ করে বলে উঠলো

আরফিনঃমামা তুমি কি নূহা আন্টিদের বাসায় ভুলে চলে গেছিলা?

আমিঃ হেসে দিয়ে বললাম নূহা কে?

আরফিনঃএইযে,ইনিই নূহা আন্টি, আমাদের উপরের তলায় থাকে।

আমিঃ হ্যা তাদের বাসায় ই চলে গেছিলাম, কিন্তু আরেকটা কথা কি জানো!

আরফিনঃ কি মামা?

আমিঃ আমি যখন ভুলে তাদের বাসায় চলে গেছিলাম তখন তোমার নূহা আন্টি তোমার জন্য আনা কিটকাট আর ডেইরি মিল্ক এর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল(মজা করে তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলাম) মেয়েটি রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। তাই আরো রাগানোর জন্য বল্লাম চলো আরফিন বাসায় চলে যাই নাহলে তোমার নূহা আন্টি আমাকে কিটকাট আর তোমাকে ডেইরি মিল্ক মনে করে খেয়ে ফেলবে। বলেই হাসতে হাসতে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় আসার পরে আরফিন বলতেছে, মামা নূহা আন্টি আমাকে প্রত্যেকদিন অনেক চকলেট দেয়। আমাকে অনেক আদর করে। আরফিন এর কথা শুনে আপুও বলা শুরু করলো মেয়েটা অনেক ভালো। আমাদের বাসায় মাঝে মাঝেই আসে।

তারপর সবার সাথে গল্প করে রাতের খাবার খেয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে নেট চালু করতেই দেখি মেসেজ রিকুয়েস্ট আসছে অবন্তিকা ইসলাম আইডি থেকে,সে লিখেছে নিজেকে কি ভাবেন? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট? রিকু ঝুলিয়ে রাখছেন কেন? অন্য মেয়েদের সাথে চ্যাটিং করতে করতে বুঝি সময় পাননি? আর আপনাকে আমি পরে বুঝাবো আজকের মজা।

আমি কিছুটা বোকা হয়ে গেলাম মেসেজ দেখে। আমি সাধারনত ছেলে নামের আইডি থেকে রিকু আসলে এক্সেপ্ট করে নেই কিন্তু মেয়ে নামের আইডি অপরিচিত বা ফেক মনে হলে ঝুলিয়ে রাখি। তাই আমি অবন্তিকা ইসলামের আইডির প্রফাইলে গিয়ে তেমন কিছু পাইনি, তার কোনো ছবি দেয়া নেই।সুধু সুন্দর সুন্দর ফুলের ছবি দেয়া। তাই ভাবলাম কোনো বন্ধু হয়ত মজা করার জন্য এমন করতেছে। আজকে মেসেজ সিন করে একটা রিপ্লে দিলাম অপরিচিত কারো রিকু এক্সেপ্ট করিনা। সাথে সাথে সে রিপ্লে দিলো,পরিচিত হতে তো আগে বন্ধু হতে হয়। এক্সেপ্ট করলাম। তারপরের মেয়েটা মেসেজ দিলো,

অবন্তিকাঃ আপনাকে মানুষটা ভালো ভেবেছিলাম

আমিঃ আমি কি করলাম?যার কারনে মানুষটাই খারাপ হয়ে গেলাম।

অবন্তিকাঃঅনেক কিছু করেছেন,পরে বলব।

আমিঃ আচ্ছা আমি কি আপনাকে চিনি বা আপনি আমাকে?

অবন্তিকাঃ পরে বলব

আমিঃসব যেহুতু পরেই বলবেন তো এখন কি বলবেন?

অবন্তিকাঃআচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ডের নাম তো তানহা তাইনা।

আমিঃ সরাসরি জিগ্গেস করলেই পারেন গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা।

অবন্তিকাঃ আপনাকে আমি যেরকম ভেবেছি তার সবই উল্টো হয়ে যাচ্ছে।

আমিঃ আপনি আবার আমাকে কেমন ভেবেছেন? আর আমাকে ভেবেছেন কেন?

অবন্তিকাঃভেবেছিলাম যে,সহজসরল, বোকাসোকা, নরম ভদ্র একটা মানুষ।

আমিঃ কিভাবে ভাবলেন? আমাকে কোথায় দেখেছেন?

অবন্তিকাঃ পরে বলব।

আমিঃ আমি আপনাকে ভালোবাসি

অবন্তিকাঃকি!!!??? পাগল হয়ে গেলেন নাকি???

আমিঃ পরে বলব। একটা হাসির ইমু দিয়ে ডাটা অফ করে ঘুমিয়ে পরলাম।

পরেরদিন সকালে ছাদে গিয়ে দেখি সেই মেয়েটি মানি নূহা কানে হেডফোন দিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে হেডফোন খুলে ফেল্লো,  তো আমি একটু ফাজলামি করে আস্তে করে বল্লাম যে,এখন দেখছি বাড়িওয়ালারা ছাদ পাহারা দেওয়ার জন্য মানুস রাখে। মেয়েটা শুনে আমার কাছে এসে বলতেছে, হ্যা ছাদ পাহারা দিতে হয় যাতে করে আপনার মত ফাজিল পোলাপানে কিছু চুরি করে নিয়ে যেতে না পারে। বাহ মেয়েটাও দেখছি কিছুটা হলেও ফাজিল, একা একা ফাজলামি করতে ভালো লাগেনা। তারপরে আমিও আস্তে করে বল্লাম সাবধান থাকবেন,পরের বাসা পাহারা দিতে গিয়ে নিজের মন হারাবেন না। তারপরে নূহা বল্লো মিঃ চোর পারলে চুরি করে দেখান। মেয়েটা দেখতে মাশাল্লাহ সুন্দর, সাথে কিছুটা হলেও গ্রিন সিগনাল দিচ্ছে। ভাবতেই অবাক লাগে। দুপুরে লাঞ্চ করে ফেসবুকিং করতেছিলাম তখন দেখি অবন্তিকা অনলাইনে

আমিঃ হাই

অবন্তিকাঃহ্যালতে পারব না

অবন্তিকাঃহ্যালা লাগবেনা আপনার,অলরেডি একজন পেয়ে গেছি হেলানো

অবন্তিকাঃ কিহ!? কাকে পেলেন তা?

আমিঃ নামটা হচ্ছে নূহা,দেখতে মাশাল্লাহ,আমার আপুর বাসার উপরে বাসা।

অবন্তিকাঃবাহ সুন্দর তো।আপনি কি সিউর যে আপনি তাকে পেয়ে গেছেন?

আমিঃ হুম সে আমাকে অনেক ভালোবাসে,আজকে দুইটা লিপকিস করেছে।জড়িয়ে ধরে ভালোবাসি বলেছে

অবন্তিকাঃকিহ? আপনি কি সত্তিই পাগল?

আমিঃ কেন আপনার বুঝি জেলাস হচ্ছে?

অবন্তিকাঃ উফ অসহ্য। বলেই মেয়েটা অফলাইনে চলে গেল।

আসলে আমার মনে সন্দেহ হচ্ছিল যে অবন্তিকা আবার নূহা নয়ত,তাই মিথ্যে কিছু কথা বল্লাম যাতে বুঝা যায় অবন্তিকা নূহা কিনা। সারাদিন বাসায় ভাগিনা,আপুর সাথে কাটানোরর পরে বললাম যে কালকে বাসায় চলে যাব। কিন্তু আপু মানতে চাচ্ছেনা তার এক কথা যে এতদিন পরে আসছি ১সপ্তাহ না থেকে যাওয়া যাবেনা। অনেক বুঝিয়ে রাজি করালাম যে কিছুদিন পরে আবার আসব আপাতত কালকে সকালে চলে যাব। বিকালে আরফিন রে নিয়ে ছাদে গিয়ে দেখি নূহা দাড়িয়ে আছে। আমি আর আরফিন ছাদে প্রবেশ করতেই নূহা বল্লো,আরফিন তোমার জন্য অনেক গুলো কিটকাট এনেছি আমার রুমে আছে,তুমি চাইলে গিয়ে নিয়ে আসতে পার। নূহা চকলেটের কথা বলার সাথে সাথেই আরফিন দৌড়ে চলে গেল। আমি আর নূহা ছারা ছাদে আর কেউ নেই। নূহা আমার দিকে এসে বলতে শুরু করলো

নূহাঃআপনাকে আমি ভালোবাসি? দুইটা কিস করেছি? জরিয়ে ধরেছি?

আমিঃ আপনাকে এসব কথা কে বলছে?

নূহাঃ আপনি এসব কেন বলেছেন সেটা আগে বলুন

আমিঃ নাহ পরে বলব।

নূহাঃকোনো পরে বলা হবেনা এখন বলতে হবে(ছাদের একপাশের আরফিনের ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে)

আমিঃ আ,,আ,,আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাই বলেছি।আর আমি এটাও জানি যে অবন্তিকা ইসলাম আপনার আইডি।

নূহাঃ কিভাবে জানলেন যে অবন্তিকা ইসলাম আমার আইডি?

আমিঃ আপনার আইডির প্রফাইল পিক আর আপনার ফোনের প্রফাইল পিক সেম তাই।

নূহাঃ আমি যে সিঙ্গেল সেটা কিভাবে বুঝলেন?

আমিঃ যখনই ছাদে আসছি দেখেছি আপনার কানে হেডফোন, প্রথমে ভেবেছি বিএফ এর সাথে হয়ত কথা বলেন কিন্তু আপনি যখন রেলিং এ ফোন রেখে গান শুনতেন তখন নোটিফিকেশন এর কারনে আপনার ফোনের ডিসপ্লে জ্বলে উঠে।আর বিকালে ফ্রি থাকা সত্তেও যেহুতু বিএফ এর সাথে কথা বলেন নাই তাই সিউর হয়েছি যে আপনি সিঙ্গেল।

অবন্তিকাঃ কত বুদ্ধি আপনার।ভালো কাজে লাগান উন্নতি করতে পারবেন।

আমিঃ তোমাকে দিয়েই নাহলে শুরু করলাম। হবে কি আমার?

অবন্তিকাঃ হতে পারি কিন্তু!

আমিঃ কিন্তু কি?

অবন্তিকাঃ ফাজলামি চালিয়ে যেতে হবে,সেটা সুধু আমার সাথে।আর কারো সাথে না।কারন আপনার এই ফাজলামির কারনেই আপনাকে আমি আসতে আসতে ভালোবাসতে শুরু করেছি। নতুন করে নাহয় শুরু হোক নতুন ভাবে পথচলা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত