সাথী

সাথী

আবির পড়ছিল,টেরই পায়নি নিলা কখন এসে ওর পেছনে দাড়িয়েছে।
_ কিছু বলবে?
_হ্যা,মানে আপু ডাকছে।( নিলা অনেক কথা বলে সবার সাথে,কিন্তু আবিরের সামনে এলেই কেনো জানি ও কথা বলতে পারেনা।)
_ঠিক আছে।ভাবিকে বলো আমি একটু পর আসছি।
_ ভাইয়া একটু তাড়াতাড়ি আসবেন কিন্তু।

বলেই এক দৌড়ে ওখান থেকে চলে গেলো নিলা। আবিরের সামনে ফাইনাল পরিক্ষা, সেইজন্য একটু চিন্তিত আছে।নিলা ওর ভাবির ছোট বোন,এইবার ইন্টার পরিক্ষা দিল। কোচিং করার জন্য আবিরদের বাসায় এসেছে।ওকে নিয়েই আজ সবাই চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাবে।

গ্রামে থাকে কখনো ঢাকা শহর ওইভাবে ঘুরে দেখেনি।আবিরের যাওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না।কিন্ত ওর ভাবির কথা ও ফেলতে পারবে না। কেননা,আবির ছোট থাকতেই ওর বাবা- মা দুজনেই একটা দুর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর ওর বড় ভাই বিয়ে করে,তারপর থেকে আবিরের কাছে ওর ভাবিই ওর সব। মা,বাবা,বোন,ফ্রেন্ড সব।ভাববেই বা না কেনো,ওর ভাবি ওকে নিজের ছেলের মতই মানুষ করেছে,কখনো কোনকিছুর অভাব বুঝতে দেয়নি।ওনার ছেলে রিহান এইবার ক্লাস সেভেনে উঠল।ও মাঝে মাঝে ওর আম্মুকে বলে যে,”আম্মু আমার চাইতে চাচ্চু কে বেশি ভালবাসে”,ওর আম্মু হেসে বলে,”বাসবইতো। আবির আমার বড় ছেলেনা।” সবাই মিলে চিরিয়াখানায় ঘুরতে যায়। আবির আছে ওর পরিক্ষার চিন্তায়,তারপর ও কেনো যেন ওর ভালোই লাগছিল সবার সাথে ঘুরতে।

বিশেষ করে নিলার ভাব দেখে ওর খুব হাসি পাচ্ছিল।যখনি শুনতে পেয়েছে সামনের দিকে সাপ আছে ও আর এক পাও এগোয়নি। সবাই কত বলল যে ওই সাপগুলো ওর কোন ক্ষতি করতে পারবে না,ওরা বন্দি আছে।কিন্ত তারপর ও কেউ ওকে ওইদিকে নিতে পারল না।আবার বাঘের খাচা দেখেই অনেক দূর দূর দিয়ে হাটতে লাগল।বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। বাইরে থেকেই সবাই আজ খেয়ে আসল। রিহান বায়না করছিল চিকেন ফ্রাই খাবে আর নিলাও এর আগে রেস্টুরেনটে যায় নি।শেশ পর্যন্ত আবিরের দিনটা ভালই কাটল। রাতে হঠাৎ আবিরের ঘুম ভেঙে গেল।মনে হচ্ছে কেউ কাদছে।বুঝতে পারছে ওইটা নিলাই হবে।কিন্ত এত রাতে একটা মেয়ের রুমে যাওয়া ঠিক হবেনা ভেবে ঘুমিয়ে পরল। পরেরদিন আবির ভাবল নিলার সাথে একটু কথা বলা উচিৎ। মেয়েটা ওকে খুব ভয় পায়,ভয়টা ভাঙানো উচিত।

_ কাল রাতে কাঁদছিলে কেন?
_(নিলা চুপ)
_ কি হল,আমি কিছু জানতে চাচ্ছি(একটু ধমকের সুরে)
_আসলে আমার বাড়ির সবার কথা খুব মনে পরছিল ( কাঁদোকাঁদো হয়ে)
_বাড়িতে কথা বলেছ?
_ হুম।
_ আচ্ছা তুমি কি আমাকে ভয় পাও?
_ না,মানে একটুআধটু।
_আচ্ছা আমি বাঘ না ভালুক যে আমাকে ভয় পাও। একদম ভয় পাবেনা ওকে।ফ্রেন্ড ভাববে।আর এখন একটু পড়াশোনায় মন দাও।

নিলা শুধু মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলল। এরপর নিলা সাভাবিক ভাবেই আবিরের সাথে কথা বলত।আবিরের পরিক্ষাটা ভালোভাবেই শেষ হল। নিলার পড়াশোনা ও ভালই চলছিল। কিন্তু আবিরের ভাবি একটা জিনিস খুব ভালো করেই বুঝতে পারল যে আবির আর নিলা দুইজন দুইজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যাপারটা যাতে বেশি দূর না গড়ায় তাই নিলাকে উনি গ্রামে পাঠিয়ে দিলেন।আবির বাইরে থেকে এসে দেখে নিলা নেই। রিহানের থেকে জানতে পারে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।আবির ওর বুকের বামপাশে একটা শুন্যতা অনুভব করে,ও বুঝতে পারে ওই শুন্যতাটার নাম নিলা।কিন্তু ওর মা সমতুল্য ভাবিকে ও কষ্ট দিতে পারবে না। ওইদিকে বাড়ি থাকতে চাওয়া দুরন্তপনা মেয়েটাও নিরব হয়ে গেছে।ওই ও বুঝতে পারে ওর সরল মনটা অনেক আগেই আবির জয় করে নিয়েছে। আবির অসুস্থ হয়ে পরে। জরের ঘোরে আবোল তাবোল বকতে থাকে,,,

_নিলা তুমি চলে যাও। ভাবি তোমাকে আমার সাথে দেখতে চায়না।আর আমি ভাবিকে কষ্ট দিতে পারব না। আবিরের ভাবি আর শুনতে পারছিল না।মুখে কাপড় গুজে কাঁদতে কাঁদতেতে আবিরের রুম থেকে বের হয়ে গেল।সেদিন সারাদিন আবির ঘুমিয়ে ছিল। ডাক্তার এসে দেখে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে গেছিল। রাতে আবির চোখ খুলে অবাক।নিলা ওর সামনেই বসে আছে।ও নিজের চোখকেই বিস্মাস করতে পারছিল না।ও নিলাকে কিছু বলার আগেই ওর ভাবি চলে আসল,

_ কিরে আমি নাকি তোর মা।মাকে কেউ কখনো কিছু লুকায়। আবির কিছু বলতে যাচ্ছিল, ওকে থামিয়ে দিয়ে ওর ভাবি বলল” থাক অনেক সময় পাবে আমাকে বুঝানোর,এখন আমি খাবার আনছি,খাবারটা খেয়ে নাও।এই বলে ওর ভাবি খাবার আনতে চলে গেল। আবির এক দৃস্টিতে নিলার দিকে চেয়ে আছে।নিলা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিল।আবির নিলার হাত ধরে বলতে লাগল,,” তুমি কি হবে আমার অসুখ বিসুখের সাথী!!!!!

নিলা আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে।কি বলবে বুঝতে পারছে না।আবির আবার বলতে লাগল আমি অসুস্থ জন্য দেখতে এসেছ তাইনা।আমি সুস্থ হলেই আবার চলে যাবে।তার জন্যই বলছি আমি সব সময় অসুস্থ থাকতে চাই।তোমাকে পাশে পাবার জন্যথাকবেতো? একদম চুপ।বেশি কথা বলেন কেন।একেতোঅসুস্থ, তারউপর আবোলতাবোল বকছে।আমি কে আপনার পাশে থাকার হুম। আবির এইবার কি বলবে ভাষা খুজে পাচ্ছেনা।আসলেইতো নিলা ওর কে!! কি জবাব দেবে ও ভেবে পায়না।এমন সময়ওর ভাবি খাবার নিয়ে রুমে আসে।দেখে দুইজনেই চুপচাপ।

সামনের মাসেই নিলার বিয়ে। ছেলেপক্ষদেখেগেছে।সো কালকেই ওকে গ্রামে ফিরতে হবে। (আবিরের ভাবি) কথাটা শুনেই নিলা ওখান থেকে উঠে চলে গেল।আবির আর কিছু বলতে পারছে না। পরেরদিন আবির কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠল। নিলাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিল।আবির কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না যে নিলার বিয়ে হয়ে যাবে।তাহলে ওর ভাবি যে ওকে বলল উনি সব জানে।তাহলে এই কাজটা কীভাবে করবে। নিলাকে অন্য কারো হাতে তুলে দিবে।

আবির বাইরে থেকে আসতেই ওর ভাবি বলল যে ওর রুমে টেবিলের উপর নিলার বিয়ের কার্ড রাখা আছে কেমন হয়েছে দেখে যেন জানায়।আবির কোন কথা না বলে হনহন করে রুমে চলে গেল।লাল রঙ এর কার্ডটা ভালোই লাগছে কিন্তু আবিরের মনে হচ্ছে কার্ডটা এক্ষুনি আগিনে পুড়িয়ে ফেলে।তারপরেও কার্ডটা হাতে নিয়ে খুলতেই বরের নামের উপর ওর চোখটা আটকে গেল। বর:আবির রায়হান ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।মনে হচ্ছিল যে ও যেন পৃথিবীর সব চাইতে সুখী মানুষ।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত