প্রাপ্তি

প্রাপ্তি

সামনে মাসের ১০ তারিখ নীলুর বিয়ে। পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা এই সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ বছরের সম্পর্ক আমাদের। কিন্তু নাহ্, বিয়েটা আমার সাথে না। নীলুর বাসা থেকে যখন পাত্র পক্ষের সাথে কথা বলছে তখন কথাটা আমাকে জানালো। খুব স্বাভাবিক, প্রেমিক হিসাবে বিয়েটা আটকানোর জন্য নিজেই নিজের বিয়ের পয়গাম নিয়ে বাসায় হাজির। যথারীতি বেশকিছু জ্ঞানমূলক কথা শুনিয়ে এক কাপ চা খাইয়ে বিদায় করে দিলো। কথাবার্তা খুবই স্বাভাবিক সব মেয়ের বাবা মেয়ের প্রেমিকদের যা বলে আমাকেও ঠিক তেমনটাই বলা হলো। এই ধরুন,,”দেখো বাবা, তোমাদের বয়স কম আবেগ বেশি এই সময় একটু আধটু প্রেম ভালোবাসা থাকতেই পারে। তাই বলে তো আর সারাটা জীবন এইভাবে চলে না। ”

তারপর…..

“তুমি চাকরি-বাকরি কিছু করো না, আমার মেয়ে খাওয়াবে কী? ” উনার এই কথা শুনে মনে মনে বেশ হাসলাম। উনি যেভাবে বলছেন মেয়েকে খাওয়াবো কী? কথা শুনে মনে হলো রাজ্যের খাবার নীলু একাই খাবে। যদিও এতদিনে জানি যে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে নীলুর মাঝে কোন আগ্রহ দেখিনি কখনো। তবুও যে নীলুর বাবা এই কথাটা কেন বললেন সেটা আমার জানা নেই। সে যাই হোক প্রতিটা বাবা চান উনার মেয়ে ভালো থাকুক, কিন্তু যে ছেলেটার সাথে মতের বাইরে একপ্রকার মানসিক চাপ দিয়েই বিয়েটা দেয় সেখানে কি আসলেই মেয়েটা সুখি হয়? সেটা আমার জানা নেই। হয়তো রাতের অন্ধকারে বালিশে মাথা রেখে নিঃশব্দে চোখের পানি ঝরায়। আর দিনের আলোতে একটা মিথ্যা হাসির অভিনয়। এটা আমাদের সমাজে প্রায় চোখে পরে। আর অনেকদিন পর যখন মেয়েকে দেখতে এসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,”কি রে মা ভালো আছিস? “আর তখন মেয়েটা বাবার বুকে মাথা রেখে চুপ। আমাদের সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে, “নিরবতায় সম্মতির লক্ষণ। ” কিন্তু আসলেই কি তাই? ও হ্যাঁ আরেকটা কথা অবশ্য বলেছিলো যে কথাটা আমার খুব মনে ধরেছিলো।

-“নীলুর কাছে শুনলাম, ও বলছিলো তুমি নাকি টুকটাক লিখালেখি করো? “মাথা নিচু করেই উত্তরে বলেছিলাম।
-জ্বী আংকেল।

-তা বাবা এই লিখালিখি করে আর কতদিন? তাছাড়া ভবিষতে কী করবে? নাহ্, তাই বলে ভেবো না যে এটা ভালো কাজ না। অবশ্যয় বেশ সম্মানের কাজ এটা। কিন্তু বাবা, দুই একটা বই বা পত্রিকায় নিজের লেখা ছাপিয়ে তো আর পেট ভরে না।

হুমম কথাটা বেশ যুক্তিসম্মত। এইভাবে পেটের ক্ষুধা না মিটলেও মনের ক্ষুধা টা ঠিক মিটে যায়। কিন্তু মনের ক্ষুধা আর পেটের ক্ষুধা তো আর এক না। মনের ক্ষুধা না মিটালেও মানুষ দিব্যি চলতে পারে কিন্তু পেটের? ও হ্যাঁ আরেকটা কথা বলেছিলো,,

-দেখো বাবা আমি চাই যে আমার মেয়ের একটা ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হোক।আর আমি যে ছেলেকে দেখেছি, ছেলে ভালো অামেরিকায় থাকে, ভালো সেলারি, পরিবার ভালো আমার মেয়ে বেশ ভালো থাকবে। আর প্রতিটা বাবা এটাই চায়।

হুমম কথা সত্য, আমাকে বলা সব কথার বেশ যৌক্তিকতা অাছে। সে ব্যাপারে আমার কোনো রাগ বা অভিযোগ নেই। আমিও চাই নীলু সুখেই থাকুক। কিন্তু আসলেই থাকবে কি সুখে? নাকি শুধুই অভিনয়? আমাদের কথার মাঝখানে নীলু দুইকাপ চা দিয়ে গেল। আমার দিকে চায়ে কাপ দিতে দিতে একটা হাসি দিলো। আমিও শুকনো হাসি দিয়ে হাত থেকে কাপটা নিলাম।

-ও হ্যাঁ শোন বাবা, আমার আবার আজ জরুরি কাজ আছে। বোঝোই তো একমাত্র মেয়ের বিয়ে কত কাজ। তুমি একটু নীলু মাকে বুঝিয়ে বলো কেমন? আর হ্যাঁ বিয়েতে কিন্তু তোমাকে থাকতেই হবে। তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। বেশ নম্ন ভদ্র সব মিলিয়ে ঠিক ঠাক। তাইলে আজ উঠি? আমার যদি ভুল না হয় তবে নীলু তোমাকে ইশারা করে কি যেন বলে গেল। ইয়াং ম্যান, যাও নীলুর সাথে কথা বলে বিষয়টা ঠিক ঠাক করো। মাত্র একবার চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই উঠতে উঠতে কথাটা বললো নীলুর বাবা। একটু পর পিছন ফিরে এসে বললো,,

-ও হ্যাঁ তোমাকে তো একটা কথা বলা হয়নি। তোমরা চাইলে কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করতে পারো। এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাস তুমি তা করবে না

কথাটা বলেই একটা মৃদু হাসি হেসে ভদ্রলোক রুম থেকে বাইরে গেলেন। চায়ের কাপটা টেবিলের অন্যপাশে পরে আছে। নীলুর বাবা চা শেষ না করলেও আমি বেশ আরাম করেই চা খেলাম। ভাবছি শেষের কথাগুলো কি আমার ভালোর জন্যই বললো? নাকি আমার সততা দেখার জন্য? বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারলাম না। পুরো চা শেষ করে কাপটা টেবিলে রাখতেই নীলু পাশে এসে বসলো। এসেই বেশ হাসিমুখে প্রশ্ন করলো,

-তা বাবা কী বললো? দেখে তো বেশ ভালোই মনে হচ্ছিলো।
-হুমম, ভালোই। আমাকে তার খুব পছন্দ হয়েছে। তোমার বিয়েতে দাওয়াতও পেয়েছি কিন্তু। আর আমি যদি চাই তবে তোমার বিয়ের সব দ্বায়িত্ব তিনি আমাকেই দিবেন।

বুঝলাম কথাটা শুনেই নীলুর মুখটা শুকিয়ে গেল। তারপর আমতা আমতা করে বললো,,,

-কিন্তু বাবা তো বললো তোমার সাথে কথা বলতে।
-হুমম তোমাকে বোঝানোর জন্য বললো ।
-কোন বিষয়ে?
-তুমি যেনো বিয়েতে রাজী হও।
-তুমি কি বললে?
-এখনো কিছু বলিনি।
-দেখো আমি বুঝতে পারছি বাবা রাজি হবেন না, তুমি রেডি থেকো আজ রাতে আমরা পালিয়ে যাবো।
-হুমমম এই কথাও বলেছেন
-মানে?
-মানে আমরা চাইলে পালিয়ে বিয়ে করতে পারি। এতে উনার কোন আপত্তি থাকবে না।
-হুমম আর আমরা সেটাই করবো।
-নীলু তুমি জানো কথাটার অর্থ কত গভীর?
-দেখো আমি এতো কিছু বুঝতে চাই না, আজ রাতে পালাবো এটাই সত্য। তুমি রেডি থেকো।
-এটা কি ঠিক হবে?
-কেন? হবে না কেন? তুমি আসলে কি বলতে চাচ্ছো বলতো?
-ওমম তুমি বরং তোমার বাবার পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করো।

কথাটা শুনে যেনো নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না নীলু, সেটা ওর চেহারার অবস্থা দেখেই বুঝতে পারলাম।

-আর তুমি?
-আমি আর কী? তোমার বাবার কোন ছেলে নেই,, তাই বিয়ের সব দ্বায়িত্ব নিজেকেই দেখতে হবে। আর তোমার বাবাও সেটা চান।
-এটা তোমার শেষ কথা?
-না এটা শেষ কথা হবে কেন? বিয়ের তো আরো কয়েকদিন বাকি।

আর কোন কথা হয়নি। সেইদিন চুপচাপ বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। কথাগুলো খুব স্বাভাবিক ভাবে বললেও বুকে আমার ঠিকই রক্তক্ষরণ হয়েছিল। খুব কষ্ট হয়েছে প্রতিটা কথা উচ্চারণ করতে। তবুও বেশ গুছিয়ে কথাগুলো বলেছি। এতে নীলু সাময়িক ভুল বুঝলেও ঠিক বুঝবে এক সময়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মেয়েটা আমাকে খুব বোঝে। খুব মানে একটু বেশিই বোঝে।

তারপর আর কি? শুরু হলো বিয়ের কেনাকাটা,, গেট সাজানো প্যান্ডেল। খাওয়ার দাওয়ার মেনু এক কথায় সব দ্বায়িত্ব আমার। এর মধ্যে নীলু বাবা যে আমার কাজের দক্ষতা আর ব্যবহারে খুশি হয়েছে সেটা দেখলেই বোঝা যায়। কখনো কখনো আমার পাশে বসে বেশকিছুক্ষণ গল্প গুজব করে যায়।কথায় কথায় একবার তো প্রশ্ন করেই বসলো,

-আচ্ছা তোমাকে এই কয়েকদিনে যা দেখলাম তুমি বেশ কর্মঠ ছেলে, আর বেশ দ্বায়িত্ববানও, কিন্তু তুমি কেন এইভাবে বেকার থাকো বলো তো? আর নীলু বলেছিল তোমার রেজাল্টও খুব ভালো, তো কিছু একটা করছো না কেন?
-না আংকেল তেমন কোন কারণ নেই, তাছাড়া চাকুরি যে করবো কোন অভিক্ষতা তো নেই।
-আহা একবারে কি গাছের মাথায় উঠা যায়? তাছাড়া চাকুরিই যদি না পাও তবে অভিক্ষতা কিভাবে হবে?
-হুমমম সেটাই তো।

-না না তুমি এক কাজ করো, নীলুর বিয়েটা হয়ে গেলে তো আমি বেশ ফাকা তখন তোমার কাগজ-পত্রগুলো নিয়ে এসো তো দেখি কিছু করা যায় কিনা।

মাথা নেড়ে সম্মতি ছাড়া আর কী করার আছে? তিনি আমাকে খারাপ বলছে না, বরং বেশ কর্মঠ আর দ্বায়িত্ববান বলছেন কিন্তু সেই ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে তার এত আপত্তি।

বিভিন্ন কাজে বাসার ভেতরে যেতে হয়, কখনো নীলুর দেখা মিলে আবার কখনো মিলে না। যখন দেখা মিলে তখনি দেখি নীলুর চোখ জলে ভরা। বুকটা মোচর দিয়ে উঠে। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখেছি। খুব সহজে আবেগপ্রবণ হই না। সব সময় মুখে একটা হাসি থাকাই চাই। আবার কখনো দেখি দুর থেকে নীলু আবার দিকে তাকিয়ে আছে। বিষয়টা নীলুর বাবার কানে যেতে খুব একটা দেরি হলো না।

রাতে কাজ করছি, বিয়ের আর দেরি নেই। কিন্তু এইদিকে রাজ্যের কাজ বাকি। বুঝলাম পিছনে কেউ একজন দাড়িয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। পিছনে তাকাতেই দেখি নীলু দাড়িয়ে।

-আরে তুমি এতো রাতে এখানে কেন? দেখো কেউ দেখলে সমস্যা হবে তুমি যাও।

কথাটা বলা শেষ না হতেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে অারম্ভ করলো। নিজেকে আর নিয়ন্ত্রনে রাখি কি করে? আমিও তো মানুষ নাকি? আর কত এইভাবে থাকবো? চোখটা বেশ ঝাপসা হয়ে এসেছে এইটুকু সময়ে।

-চলো না পালিয়ে যাই? আচ্ছা বলতো তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে? একটুও কষ্ট হবে না? জানি পারবে না। প্রতিদিন জানালার কাছে গিয়ে দাড়িয়ে কাঁদো আমি দেখি তো। যখন থাকতেই পারবে না তখন কেন যেতে দিচ্ছ বলতো? আর আমার সুখ? আমি কি সুখি হতে পারবো বলো?

ফুপিয়ে ফুপিয়ে কথাগুলো বলেই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। গাল বেয়ে পানি পড়লেও কোনো শব্দ নেই আমার কান্নার। রোজ রাতে যখন নীলুর রুমের জানালার কাছে গিয়ে দাড়াই ওর মুখটা ভেসে উঠে। নিজেকে ধরে রাখবো কি করে?

-নীলু কেউ দেখে ফেলতে পারে তুমি যাও।

কথাটা বলতে এতটা কষ্ট হচ্ছিলো যা বোঝাতে পারবো না। কথাটা শুনেই বুঝলাম নীলু আস্তে আস্তে আমাকে ছেড়ে দিচ্ছে। একটা সময় পুরোটাই ছেড়ে দিয়ে আমার দিকে বেশ অবাক হয়ে তাকালো। চোখের পানি আগেই মুছে নিয়েছি। সেটা দেখার ভয় নেই। মুখে একটা হাসি এনেছি। বেশ দক্ষ অভিনয় শিল্পী কিন্তু আমি। নীলু আর কোন কথা বললো না দৌড়ে নিজের রুমের দিকে। বুক ফেটে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

-আচ্ছা বাবা, একটা কথা বলতো? আমি কি কোনো ভুল করছি?

কথাটা শুনেই চমকে উঠলাম। পিছনে ঘুরতেই দেখি নীলুর বাবা দাড়িয়ে। তার মানে এতক্ষণের সব তিনি দেখেছেন।

-না মানে আংকেল হয়েছে কী আপনি আসলে যা ভাব……
-আমাকে একটু কথা বলার সুযোগ দিবে?

আমার কথা শেষ না হতেই বললেন। এখন আমার মাথা নিচু করে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। কিইবা বলবো? আর তিনি সব কিছু নিজের চোখে দেখার পরেও এটা বিশ্বাস করবেন কী? এবার নীলুর বাবা খুব আরাম করে একটু দুরে পরে থাকা চেয়ারে গিয়ে বসতে বসতে আবার প্রশ্ন করলো,,

-আমি কী কোন ভুল করছি?
-না না আংকেল আপনি কেন ভুল করবেন?

-উমম না না, কেন জানি মনে হচ্ছে আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটাই করতে যাচ্ছি। দেখো আমি সব সময় চাইতাম যে আমার একমাত্র মেয়েটার বিয়ে হোক আমার মত কোন এক বৃত্তশীলের ছেলের সাথে, তেমনটাই করছি। কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটা আমার সুখি হবে না। ও যখন খুব ছোট, তখনি মাকে হারিয়েছে। কিন্তু একটা মূহুর্তের জন্যও আমি ওকে মায়ের অভাব পূরণ করতে দিইনি। যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছি। যেদিন তোমার কথা বললো, খুব কষ্ট পেয়েছিলাম ওকে বুঝতে দিইনি। তারপর তোমার সাথে কথা বললাম। বেশ ভালো লাগলো, সত্যি বলতে কী আমি তখন ভেবেছিলাম মেয়েটা ভুল করেছে, আর যেমনটা হয় আরকি সবার মত আমিও ভেবেছিলাম যে আমার টাকা পায়সার দিকে তোমার নজর।

কিন্তু তোমার সাথে দেখা করার পর ধারণা পাল্টে গেল। কেন জানি মনে হচ্ছে এতটাকা পয়সা দিয়েও মেয়ের জন্য সারাজীবনের সুখটা কিনতে পারলাম না। মেয়েটা আমার আগের মত হাসে না, আমার সাথে কথা বলে ঠিক তবে বুকে একচাপা কষ্ট নিয়ে। আমি বুঝি, বাবা তো তাই। কিন্তু আজ যখন নীলু তোমার সাথে কথা বলছিলো দুর থেকে শুনলাম। মনে হলো আমার মেয়েটা যা চায় সেটা টাকা নয় একটু সুখ যা তুমিই দিতে পারো। তাই ভেবে নিয়েছি, বিয়েটা হবে আর হ্যাঁ ১০ তারিখেই তবে তোমার সাথে। তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। কথাটাগুলো বলতে বলতে উঠে এসে শেষ কথা বলার পরই আমার কাঁধে হাতটা রাখলেন। বুঝতে পারছি না কি বলা উচিত আমার। চোখ দুটো ভিজে যাচ্ছে। নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছি না।

-যাও, মেয়েটা হয়তো কাঁদছে।

আর দেরি নয়। এক দৌড়ে নীলুর রুমে। বিছানায় শুয়ে কান্না করছে। আমাকে দেখেই চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,

-কি হলো দেখতে এসেছো কি করছি?
-না তোমার বাবা বললো আমাকে নাকি উনার খুব পছন্দ হয়েছে।

আর তাছাড়া ছেলে তোমাকে নিয়ে বিদেশে চলে যাবে এটা তিনি পছন্দ করছেন না। আর বড় কথা হলো তিনি এমন একটা জামাই চান যে দু-একটা কবিতা আর গল্পের বই করবে আর মেয়েকে সুখে রাখবে। তাই আসলাম কণের মতামত নিতে। আমার কথাটা শুনেই নীলুর চোখে জল থাকলেও মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এই কান্না হয়তো প্রাপ্তির তাই বাঁধা দিলাম না।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত