নীল শাড়ি

নীল শাড়ি

মিলিকে গত সপ্তাহে একটা শাড়ি উপহার দিয়েছিলাম।উপহার হিসেবে শাড়ি পেয়ে একটু অবাকই হয়েছিল।শাড়িটা হাতে নিয়ে বলেছিল,

-আমি তো শাড়ি পড়তে পারিনা,

যখন শাড়ি পড়তে শিখে যাবে তখন পড়ো। আসলে মিলিকে শাড়িতে দেখার আমার খুব ইচ্ছা,তাই ওকে শাড়ি গিফট করা। মিলিকে কখনোই শাড়ি পড়তে দেখেনি। তাই আমার মনে হয়েছে নীল শাড়িতে মিলিকে কোন পরীর চেয়ে কম লাগবেনা,যদিও পরী দেখিনি আমি তবুও। তাই খুঁজে বেছে নীল শাড়ি গিফট করেছি।

শাড়ি গিফট করার প্রায় মাস ছয়েক হয়ে গেছে, তবুও ওকে এখনো শাড়ি পড়া অবস্থায় দেখতে পারিনি।যদিও এ বিষয়ে কখনো আমি মিলিকে জোর করিনি।আমার সাথে রিলেশন হওয়ার পর মিলি প্রায় নিজের সব কিছুই বদলে ফেলেছে।জিন্স টপস এর জায়গায় এখন সেলোয়ার কামিজ পরে। তবুও আমার মন মানছিল না, আমার মন তো ঐ নীল শাড়িতেই আঁটকে ছিল। তবে আজ মনে হয় আমার মনের আশাটা পূরণ হবে।কাল রাত্রে মিলি হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,

-নীল শাড়ি, নীল টিপ, হালকা লিপস্টিক, আর তার সাথে খোলা চুলে আমাকে কেমন লাগবে?

আমি প্রথমে ওর প্রশ্নের কোন জবাব দেইনি। আসলে বিষয় টা বুঝতেই পারিনি,,,,, আমি এসব শুনে একটু অবাকই হলাম। যে মেয়ের জিন্স ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আগ্রহ নেই , সে সত্যি কি শাড়ি পড়বে।ও কি শাড়ি পড়া শিখেছে?

-কি হল, বলো কেমন লাগবে?
-জানিনা তো, দেখতে হবে আগে,
-আচ্ছা,কাল দেখে তারপর বলিও,
-সত্যি কি শাড়ি পড়বে কাল?

মিলি আমার প্রশ্নের জবাব দিল না,শুধু একটু হাসল। আমি কল্পনা করতে লাগলাম,ওকে নীল শাড়ি,নীল টিপ,হালকা লিপস্টিক কেমন লাগবে ? কি অদ্ভুত সব চিন্তা এল মাথায়,আমি ওর মত সুন্দর মেয়ে কখনো দেখিনি।এটুকুই হয়ত যথেষ্ট হবে ওর মায়ায় সারাজীবন পড়ে থাকার জন্য, ওকে নিজের চাইতে বেশি ভালবাসার জন্য ।এই খুশি তে সারা রাত ঠিকমত একটুও ঘুম হলনা।তবে এর মধ্য একটা শঙ্কা আছে ?ও কি সত্যি শাড়ি পড়বে নাকি ঢপ দিল।মজা করার অভ্যাস খুব ভাল আছে ওর। ঘুম থেকে উঠেই ওর হলের সামনে চলে এলাম, অপেক্ষা করছি প্রায় আধাঘন্টা ধরে।অবশ্য মিলি জানেও না যে আমি অপেক্ষা করছি। জানলে সাথে সাথে চলে আসবে।আমি চাই ও সময় নিয়ে সাজুক,সুন্দর করে শাড়ি পড়ুক ঠোটে হালকা লিপস্টিক দিক,কপালে নীল টিপ দিক,চুল গুলো খোলা রাখুক।এরকম একটা মিলিকে দেখার জন্য কত দিন অপেক্ষা করেছি আর কয়েক টা ঘন্টা অপেক্ষা করতে পারব না?

মিলি হল থেকে বেরোবার আগে সব সময় আমাকে ফোন দিয়েই বের হয়,আজো তার ব্যাতিক্রম হল না।আমি ফোন ধরে বললাম,

-বেরিয়েছ?
-না বেরোব,তুমি কি ঘুমে?
-না, আমিও বেরুচ্ছি,
-আচ্ছা,

মিনিট দুয়েক যেতেই মিলি ওর হল থেকে বের হয়ে এল।হুম,আমার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।ও শাড়ি পড়ে এসেছে।শুধু একটা জিনিষ মিস,ওর চুল বাঁধা।ওকে নীল শাড়িতে দেখে মনে হল এটা দেখার জন্যই হয়ত বেঁচে ছিলাম,এখন মরে গেলেও ক্ষতি নেই। মিলি আমাকে দেখেনি তাই ও সোজা হেঁটে গিয়ে রিকশা ঠিক করল,যেই ও রিকশায় উঠে বসেছে সাথে সাথে আমিও গিয়ে রিকশায় বসলাম।

-তুমি?
-হুম,আমি।
-কই ছিলা?
-তোমার কাছেই?
-দেখলাম না যে,
-লুকিয়ে ছিলাম তোমাকে দূর থেকে দেখবো বলে।
-হি হি হি
-মামা টানেন,রিকশাওয়ালা আমার কথা শুনে রিকশা টানা শুরু করল।মিলি আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
-কেমন লাগতেছে?

আমি ওর মুখের দিকে তাকালাম,সত্যি এত সুন্দর কি কেউ হতে পারে?খাতা কলম থাকলে কবিতা লিখতে বসতাম।কে জানে দু একটা কবিতার বই ও লেখা হয়ে যেত। আমি আস্তে করে বললাম,

-হুম,ঠিকঠাক লাগতেছ,
-শুধু ঠিকঠাক,
-না একটু সমস্যা আছে?
-আমি ওর চুল থেকে ক্লিপ টা খুলে নিয়ে চুল গুলোকে মুক্ত করে দিয়ে বললাম,
-এখন সব ঠিকঠাক আর তুমি এত সুন্দর কেন? মিলি আমার প্রশ্নের জবাব দিলনা। আমি আবার বললাম,
-কয় কেজি ময়দা মাখছ মুখে? মিলি আমার দিকে রাগ হয়ে তাকাল তারপর আমার হাত নিয়ে ওর মুখে স্পর্শ করিয়ে বলল,
-দেখ কোন কিছু পাও নাকি, আমি হাত সরিয়ে নিয়ে হাসতে হাসতে বললাম,
-এমনি মজা করলাম, মিলি রাগ করে অন্য দিকে তাকাল।আমি আবার বললাম,
-শুনবে না তোমাকে কেমন লাগছে? আমার দিকে মুখ না ফিরিয়েই বলল,
-বলো, আমি বলতে লাগলাম,
-সবাই প্রেয়সীর রুপের বর্ণণা দেয় চাঁদের সাথে আমি তোমার রুপের বর্ণণা দেব জীবনের সাথে। কারণ পৃথিবীতে জীবনের চাইতে সুন্দর আর কিছুই নেই।

মিলি তাও মুখ ফেরাল না।ওর খোলা চুল এখন বাতাসে উড়ছে,কি দারুন লাগছে দেখতে।আমি সমস্যায় পড়ে গেলাম, কিভাবে ওর বণর্ণা করি। কোন ভাবেই সম্ভব না।তবুও বললাম, “বর্ণণা কি দেব, কল্পনা কি করব? সবই চূর্ণ বিচূর্ণ তোমার ওই স্নিগ্ধ খোলা চুলে।” এবার মিলি মুখ ফেরাল আমার দিকে।আমার দিকে সন্দেহ চোখে তাকিয়ে বলল,

-ঢপ দাও,
-অদ্ভুত কথা,সত্য বললেও দোষ?
-হুম,দোষ।তুমি ভাল করে কিছু বল,
-তোমাকে নীল পরীর মতো লাগতেছে,,,,,
-আমি নীল পরী,,,হা হা হা,,,
-এভাবে হেঁসো না ললনা।এই হাঁসি আমি নিতে পারবো না।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত